ইঞ্জিন থামতেই ড্রাইভার ঝাঁপিয়ে পড়ল, ছুটে গিয়ে ইঞ্জিনের নীচে থেকে পিণ্ডাকার দেহকাণ্ড বুকে করে বের করে আনল। মৃতদেহ লাইনের পাশে শুইয়ে দিয়ে সহকারীকে বলল “তুমি গাড়ি নিয়ে যাও, আমি আর যেতে পারব না।”
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| সব সময় যিনি বলতে থাকেন শরীর ভাল নেই, সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত, সেই তিনিই যখন গ্রামের বাড়ি যেতে চাইলেন, আর তাও আমাদের সবাইকে ছেড়ে, একা একা, তখন পরিবারের সবাই আঁৎকে উঠল এবং গোলটেবিল বৈঠকে বসল। কিন্তু যেতে না দেবার সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে নিজের ব্রিফকেসটা হাতে একদিন বাসে চড়ে বসলেন আর ঠিক ঠিক পৌঁছেও গেলেন। লিখেছেন মোহাম্মদ কাজী মামুন।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩ || টেবিলেই একটি জেলপেন পাওয়া গেল। ড্রয়ার থেকে সঠিক কলম খুঁজে বের করে লেখালেখি করা কী করে সম্ভব হল বাবার পক্ষে, ভেবে পেলাম না। যে-মানুষটা ঠিকমতো চিন্তা করতে বা হাত নাড়াতে পারত না, গভীর রাতে উঠে একা-একা কীভাবেই-বা সে এমন বয়ান লিখে থাকতে পারে? লিখেছেন দেবাশিস দাশ।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩। বাঁ-দিকে টার্ন নিতেই পলাশ চমকে উঠল। মাসিমার ঘর কোথায়? তার বদলে একটা ছিপছিপে একতলা ঘর দেখা যাচ্ছে। মাসিমা কি এখানে থাকেন না? অবিশ্বাসের দোলায় সে একটু দুলল। কী করবে সে বুঝতে পারল না! লিখেছেন দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| স্কুলে ঢুকেই বিষয়টা আমাদের অসহ্য লাগতে শুরু করেছিল। অন্যান্য ছেলেরা চোখমুখ বুজে নেমে পড়েছিল প্রতিযোগিতায়, শুধু আমরাই পারিনি। কেন পারিনি, তা খুঁজতে যাওয়া বৃথা। তবে মনে হয়, আমরা সকলেই কোনও না কোনওভাবে ছিলাম বিপন্ন। এই বিপন্নতা আমাদের প্রশ্ন করতে শিখিয়েছিল। লিখেছেন দীপ শেখর চক্রবর্তী।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| রুমার ভিতর তোলপাড়। কিন্তু স্থির থাকল। অর্পির ওপর রাগ করে লাভ নেই। নিজের দাদার ইমেজ ঠিক রাখতে চাইছে। রুমা কারও করুণা পেতে চায় না। যে অনি স্ত্রীকে এত তুচ্ছ করতে পারে, তাকে এত ইমপর্ট্যান্স দেবার দিন শেষ। আকাশে আমলকী রঙা রোদ্দুর ঝিলিক দিচ্ছিল তখন। রোদ্দুরের ঝলক রুমার শরীর ছাপিয়ে মনের ভিতর। লিখেছেন মিতা নাগ ভট্টাচার্য।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| আমি লাইক দেখছি। স্যরকে দেখছি। কমেন্ট। লাইক। তারপর আবার স্যর। স্যরের মাথা নিচু। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিতে কালো ভগীরথ স্যর এখন আরও অনেক বেশি কালো। একটু যেন নড়লেন। তাকালেন আমার দিকে। লম্বা হাতটা বাড়িয়ে আমার কানটা একশো আশি ডিগ্রি মুলে বললেন, ‘ট্রিক দেখাচ্ছিস! হতচ্ছাড়া ফাঁকিবাজ!’ লিখেছেন শঙ্খদীপ ভট্টাচার্য।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| ‘তুমি বয়সে আমার থেকে অনেক ছোট, তারপরে বাইরের লোক, সব কথা তো বলা যায় না। তবে জানো, আমার বিয়ে হয়েছে একটা শিশুর সাথে। সেই বউভাতের রাত থেকে আমার চোখের জল পড়া আরম্ভ হয়েছে, এখনও পড়ছে, যতদিন বাঁচব হয়তো ততদিন পড়বে।’ লিখেছেন ঋভু চট্টোপাধ্যায়।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| তুহিনার হাতে চওড়া স্ক্রিনের অতি আধুনিক সেলফোন। একটা ছবি মৃণালের নাকের ডগায় তুলে ধরেছিল মেয়েটা। মৃণালের পাদুটো থরথর করে কাঁপছিল। তার মা একটা রেস্টুরেন্টে বসে রয়েছে সুশোভন আঙ্কলের সঙ্গে। দুজনেরই মুখে হাসি, হাতে হাত। বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি মৃণালের। লিখেছেন সায়ন্তনী বসু চৌধুরী।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩। তূর্য কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল। তারপর বলল, আমি নিজেকে চিনি অনীশ। তৃষাকেও চিনি, তবে সেটা আমার মতো করে। কিন্তু কী করে তোদের বোঝাই, ভালবাসা বলতে তোরা যেটা মিন করিস, সেটা আমার কল্পনার সঙ্গে মেলে না। লিখেছেন অরুণ কর।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| হঠাৎ করে স্কুলে আলাদা মর্যাদা পেয়ে যাওয়ায় ভালই লাগছে। লেখালেখি করছেন কম দিন তো নয়! যখন কলেজের ছাত্র তখনই অঘোরবাবুর লেখা ছাপা হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। তারপর স্কুলে ঢুকলেন। লেখা এবার চলতে লাগল জোরকদমে। কিন্তু এর জন্য আলাদা কোনও মর্যাদা স্কুলে ছিল না। লিখেছেন সুদীপ জোয়ারদার।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| চালতার কাণ্ডে হাত রাখতেই টিপটিপ করে দুটো পাকা চালতা পড়ল তার সামনে। আরণ্যক একটু হেসে, চালতাদুটো হাতে নিয়ে তার বন্ধুর দিকে কিছু সময় চেয়ে দেখল। মনে মনে বলল, ‘আসি বন্ধু, আবার কবে দেখা হবে জানি না!’ লিখেছেন শিবরাম দে।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩।। নাসির হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে নৌকার পাশে। আস্তে আস্তে পরম মমতায় নৌকার গায়ে হাত বোলায়। উঠে গিয়ে নোঙরটা মোটা গাছের সঙ্গে ভাল করে বেঁধে দেয়। আরও দু’-একটা গাছের সঙ্গে বাঁধা কাছিগুলোর বাঁধন পরীক্ষা করতে করতে নাসির মনে মনে ভাবে, পৃথিবীতে প্রেমের বাঁধনই সবচেয়ে শক্ত বাঁধন। লিখেছেন দীপক সাহা।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| সীমাহীন বিস্ময়ে অসীমবাবু কয়েক মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে গেলেন। তার মুখের পেশিগুলো শক্ত হয়ে উঠল। শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে ফেটে পড়তে গিয়েও শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিলেন তিনি। অধ্যাপকসুলভ গাম্ভীর্য মুখে এনে চিবিয়ে চিবিয়ে তিনি বললেন, ‘অশান্ত ছাত্রসমাজ যে কোথায় চলেছে তার জ্বলন্ত নিদর্শন স্বয়ং তুমি।’লিখেছেন সামিরুল হক।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| সুদীপের পরিষ্কার কানের কাছে যেন তখনও বেজে চলেছে, ‘তুই কি শকুন নাকি! ওভাবে মানুষের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলি! যাঁদের পরিবারের মানুষের অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের কথা একবারও চিন্তা হয় না! কী নরপিশাচ হয়েছিস তুই!’ এর বেশি কিছু মনে পড়ছিল না সুদীপের।
ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| বইয়ের নেশায় জানার আগ্রহে লোকটা চলাফেরায় অন্যমনস্ক, খ্যাপার মত হয়ে গেল। হাতে লাঠির বদলে উঠে এল বই, সর্বক্ষণের জন্যে। প্রথম তাগিদ ছিল বাবু বলেছে। পরে হয়ে গেল নতুন নতুন জানার আগ্রহ। বয়েসকালের জ্ঞানের নেশা হাজার নেশার ওপরে। লিখেছেন কল্যাণ সেনগুপ্ত।
India's First Bengali Daily Journal. দৌলতি এখন অনেক কিছুই বুঝতে পারে। নবীতুননেসা আগে সুলেমান নবীর যে কিসসা শোনাত কিংবা সেই তেজী ঘোড়ার খুরের আওয়াজ ওঠা গল্প, তা মাইজপাড়ার মঠের কাছে রথখোলার মাঠে নয়। সে দপদপানি আসলে উঠত নবীতুননেসার বুকে, বুকের শূন্য জমিনে। নবীতুননেসার কথায় তাই নিজের মতো করেই বুঝে নিয়েছে নিজের জীবনের ভাগ্য ও পরিণতিকে। বাপকে চোখে দেখেনি কোনওদিন, মায়ের ছবিও মনে পড়ে আবছা কুয়াশার মতো।
India's First Bengali Daily Journal. উৎসবের দিনগুলিতে আমি পড়ে পড়ে মার খেতাম। দূরে রকেট ছাড়ত কেউ। রংমশালের আলো। হাউইবাজি শিস দিয়ে আকাশে উঠে যেত। তারাবাজি আলো হয়ে ফুটত। আর মাটিতে খালিপেটে আমার চুলের মুঠি টেনে ধরত বাবা। সামান্য কারণে হাত চালানোর সুযোগ পেলেই শরীরে বেল্টের দাগ পড়ত। আমাদের ব্যাপারে কেউ আসত না। যে ঘরের মা পালিয়ে যায়, সেই ঘরে কেউ আসে না। আমি মারের দাগ লুকিয়ে স্কুল যেতাম। বন্ধুরা হাসত, ‘তোর মা পালিয়ে গেল কেন!’