আবদুল্লাহ আল আমিন

আবদুল্লাহ আল আমিন

আবদুল্লাহ আল আমিনের জন্ম বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটী গ্রামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। বর্তমানে মেহেরপুর সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অনুসন্ধিৎসু গবেষক। তাঁর চর্চা ও অনুসন্ধিৎসার বিষয় সাহিত্য-ব্যক্তিত্ব, আঞ্চলিক ইতিহাস, লোকধর্ম ও লোকজ সংস্কৃতি। গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটিতে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘ব্রাত্যজনের রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’, ‘বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি: মেহেরপুর’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালির সম্প্রীতি সাধনা’, ‘বাঙালি মুসলমান সমাজের সংস্কৃতি-ভাবনা’, ‘ভাটপাড়া নীলকুঠি ও উনিশ শতকের বাংলাদেশ’ ইত্যাদি।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

কেন লালন ও গান্ধীজি আজও প্রাসঙ্গিক

‘আমি বিশ্বের সকল মহান ধর্মে বিশ্বাসী। যতক্ষণ না আমরা পরধর্মকে শুধু সহ্য করতেই নয়, বরং নিজের ধর্মের মতো সম্মান করতে শিখব, পৃথিবীতে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো

Read More »

কবিগান: সমাজবাস্তবতা, বিষয়বৈভব ও রূপবৈচিত্র্য

এমন লোকপ্রিয় বিষয় বাংলা সাহিত্যে আর দ্বিতীয়টি নেই। বাংলা ভাষা, সঙ্গীত ও সাহিত্যে কবিগান ও কবিয়ালদের অবদানের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবিগান সংগ্রহ এবং এ বিষয় পাঠ্যতালিকাভুক্ত করেছে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য, রাষ্ট্রীয়ভাবে কবিয়ালদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান কিংবা কবিগানকে সংরক্ষণে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আলোচ্য গ্রন্থের লেখক এ গানকে সংরক্ষণ করার সুপারিশ করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এই গানের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে লোকায়ত বাংলার সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা দিক যার অধিকাংশই অনালোচিত ও অনালোকিত রয়েছে অদ্যাবধি।

Read More »

মাহমুদ দারবিশের কবিতায় ফিলিস্তিনি মুক্তিসংগ্রাম

যুবা-তরুণ-বৃদ্ধ, বাঙালি, এশিয়ান, আফ্রিকান যারাই তাঁর কবিতা পড়েছেন, তারাই মুগ্ধ হয়েছে। তাঁর কবিতা কেবল ফিলিস্তিনি তথা আরব জাহানে জনপ্রিয় নয়, সারা বিশ্বের ভাবুক-রসিকদের তৃপ্ত করেছে তাঁর কবিতা। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক পঠিত নন্দিত কবিদের একজন।

Read More »

তৃতীয় প্রজন্মের ভাবনা: দেশভাগ ও বাঙালি সমাজ

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩। কেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা ভিটেমাটি, জমিজিরাত, গোরু-বাছুর ফেলে গণপ্রব্রাজনের মিছিলে সামিলে হলেন? ম্যালেরিয়া-কলেরা-মহামারী-রাষ্ট্রীয় রোষানলের শিকার কী শুধু পূর্ববঙ্গের হিন্দুরাই হয়েছিলেন? পূর্ব পাকিস্তানগামী মুসলমানরাও কী নিপীড়নের শিকার হননি? এসব বিষয় নিয়ে উল্লেখ করার মতো সাহিত্য বা চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। ফলে মুসমানদের উদ্বাস্তু জীবনের কাহিনিটা একেবারেই অজানা রয়ে গেছে। লিখেছেন আবদুল্লাহ আল আমিন।

Read More »

লালন ও পাগলা কানাই: মাটির নায়ক

India’s First Bengali Daily Journal. কবিয়াল ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি যে-অর্থে সেলিব্রিটি ছিলেন, সেই একই অর্থে পাগলা কানাইও তাঁর সমকালে সেলিব্রিটি গায়ক ছিলেন। তিনি তাঁর সমকালে এত জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন যে, এক পর্যায়ে কিংবদন্তিতুল্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। লালনও তাঁর সমকালে সঙ্গীত রচয়িতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন, তবে জনপ্রিয়তার নিরিখে পাগলা কানাইয়ের সমতুল্য ছিলেন না। বাংলাগানের শ্রোতা-সাধারণের রুচির ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, পাগলা কানাইয়ের গানের প্রতিতুলনায় লালন ফকিরের গানের বিনোদনমূল্য ও সমাদর বেশ কম ছিল।

Read More »

বলরাম হাড়ি ও লালন: নিপীড়িত মানুষের নেতা ও ত্রাতা

India’s First Bengali Daily Journal. তিনিও লালনের মতো গৃহত্যাগ করেন, তবে চিরদিনের জন্য নয়। বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করে তিনি মেহেরপুরে ফিরে এসেছিলেন। তবে জমিদারতন্ত্রের পৃষ্ঠপোষিত-নিয়ন্ত্রিত ভদ্রসমাজে নয়। তিনি ফিরে আসেন ভিন্ন সাজ-পোশাকে, ভিন্ন রূপে-চেহারায়। উচ্চধর্ম ও উচ্চবর্ণের বিরুদ্ধে গড়ে তোলেন বলরামি সম্প্রদায়। সনাতন ধর্মের পরিমণ্ডলের বাইরে ভৈরবের তীরে গড়েন ভিন্নধারার মন্দির। বাউলদের মতো বলরামের অনুসারীরাও শাস্ত্রের প্রাণহীন নিরসতত্ত্ব মেনে নেননি।

Read More »

‘এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তুর্য’

India’s First Bengali Daily Journal. আমাদের জাতি ও সমাজকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করার জন্য তাঁকে জীবনের নানাপর্বে নানা ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। কখনও কবি, পত্রিকা-সম্পাদক, কখনও অভিনেতা, চলচ্চিত্রকার কিংবা সমাজ সংস্কারক হিসেবে। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ মহত্তম বাঙালি কবি; যিনি বাঙালির সামগ্রিকতা, সম্প্রীতি ভাবনা, সমন্বয়বাদী ধর্মচিন্তা ধারণ করতে পেরেছিলেন। আজ চারদিকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অন্ধ অপশক্তিকে প্রতিহত করতে কাজী নজরুল ইসলাম হতে পারেন প্রধান সহায়ক ও সারথি।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের ‘নতুন বউঠান’ কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুরহস্য

India’s First Bengali Daily Journal. মৃত্যুর পর এত বছর পার হয়েছে, কিন্তু বাঙালির স্মৃতিপট থেকে মুছে যাননি কাদম্বরী দেবী, বরং ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন। দিন যতই যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যেমন আমাদের আগ্রহ বাড়ছে, তেমনই কৌতূহল বাড়ছে রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরীর সম্পর্ক নিয়ে। তাঁদের দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে ইতিমধ্যে বাঙালিদের মধ্যে একটা মিথ তৈরি হয়ে গেছে। কবির বিয়ের মাত্র চারমাসের মধ্যে কাদম্বরী আত্মহত্যা করেছিলেন! এই প্রশ্নটা আজও সবার মধ্যে ঘুরপাক খায়, কেন তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন?

Read More »

‘কৃষকের পোলা’ চিন্তানায়ক সরদার স্যার

India’s First Bengali Daily Journal. তিনি স্বপ্নের মানবিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য ‘হাজার বছর’ লড়াই করতেও প্রস্তুত ছিলেন। খরা, বন্যা, মারি মড়ক, ফসলহানিতেও একজন কৃষক ধৈর্য্যচ্যুত হন না, তেমনই সরদার স্যারও জীবনযুদ্ধে ধৈর্যহারা হননি। ‘কৃষকের পোলা’ হিসেবে ‘শুধু বাপের ঋণ শোধ করতে’ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন সারাজীবন। তিনি সবাইকে পূর্বপুরুষের ঋণ শোধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে তাগাদা দিয়ে গেছেন বারবার। কালিতে-কলমে, বর্ণে-বর্ণনায়, সভায়-সেমিনারে। মানুষের অমিত শক্তি ও সম্ভাবনার জয়গান গেয়েছেন।

Read More »

বাঙালি সংস্কৃতি ধর্মবিরোধী নয়, বরং ধর্মসহিষ্ণু

India’s First Bengali Daily Journal. কেন পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা যাবে না? কেন মঙ্গল শোভাযাত্রার সমাগমে শরিক হওয়া যাবে না? এসব লোকায়ত উৎসবের সঙ্গে ইসলাম ধর্মের কি কোনও বিরোধ আছে? বর্ষবরণ উৎসবের নামে আমরা কি জনমনে কোনও বিভেদ-বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চলেছি? তাহলে কেন পহেলা বৈশাখকে ইসলামবিরোধী কৃত্য আখ্যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে? দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, এসব উৎসব ইসলামের মূল স্পিরিটের পরিপন্থী তো নয়ই, বরং সহগামী।

Read More »

সনজীদা খাতুন: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা

India’s First Bengali Daily Journal. নব্বইতে পা রাখলেন সনজীদা খাতুন। এ বয়সেও তিনি প্রাণৈশ্বর্যে ভরপুর এক তরুণী, সত্যভাষণে অকপট ও ঋজু। জীবনের প্রভাতবেলায় বাঙালি সংস্কৃতির বৃক্ষছায়ায় দাঁড়িয়ে ‘রবীন্দ্রনাথের হাতে হাত রেখে’ যে প্রতিজ্ঞামন্ত্র তিনি উচ্চারণ করেছিলেন, সেই প্রতিজ্ঞামন্ত্র জীবনের অপরাহ্ন বেলাতেও ভুলে যাননি তিনি। সংস্কৃতিকে বেছে নিয়েছেন জীবনের পাথেয় হিসেবে, সত্য-সুন্দর-প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শাণিত হাতিয়ার হিসেবে। নবতিপর জন্মদিবসে বাঙালি সংস্কৃতির অভিভাবক সনজীদা খাতুনের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

Read More »

লালন ও বাঙালির যুক্তি-তর্ক

India’s First Bengali Daily Journal. লালনের অনেক গানেই বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। দারিদ্র্যপীড়িত নির্জন-নিভৃত পল্লিতে বসবাস করেও তিনি এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন যেখানে ধর্মের নামে ভেদাভেদ ও শোষণ বঞ্চণার কোনও জায়গা নেই। সমতা ও ন্যায়বিচারের কথা তিনি গানে গানেই ব্যক্ত করতে চেয়েছেন। গানের হাতিয়ার দিয়েই তিনি সাম্প্রদায়িক প্রজাপীড়ক রাজন্যবর্গকে বিনাশ করতে চেয়েছেন।

Read More »

ব্রাত্য লালন ও কবিয়াল কুবির গোঁসাই: লোকধর্মের ভাব-ভাবুকতা

India’s First Bengali Daily Journal. হয়তো একদিন সাহেবধনী সম্প্রদায়ের কথা মানুষ ভুলে যাবে, কিন্তু কুবির গোসাঁই-এর বিশাল গানের জগৎ বেঁচে থাকবে। তিনি কেবল সাহেবধনী সম্প্রদায়ের জন্য গান রচনা করেননি, বাংলার লোকগানের ভাণ্ডারকেও সমৃদ্ধ করেছেন। শ্যামাসঙ্গীত বা শাক্ত গানে রামপ্রসাদ, বাউল গানে লালন শাহ, কবিগানে ভোলা ময়রা, কীর্তনে মধুকান, মারফতি গানে হাসন রাজা, ফকিরি গানে পাঞ্জুশাহ, কঠিন দেহতত্ত্বের গানে হাউড়ে গোসাঁই, কর্তাভজাদের গানে লালশশী এককভাবে ভাবুক-রসিকদের অনুমোদন পেয়েছেন যেভাবে, ওই একইভাবে সাহেবধনীদের গানে অবশ্য উচ্চার্য নাম কুবির গোসাঁই।

Read More »

বাঙালির নবান্ন উৎসব: ‘অঘ্রান এসেছে আজ পৃথিবীর বনে’

India’s First Bengali Daily Journal. নবান্ন মূলত ভূমি-নির্ভর বাংলার একটি লোকায়ত উৎসব, ধর্মের সঙ্গে এর কোনও বিরোধও নেই, সম্পর্কও নেই। এর সবটাই বাঙালির চিরায়ত জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ উপলক্ষে ঘরে ঘরে উপাদেয় খানাপিনার আয়োজন করা হয়। লেখক দীনেন্দ্রকুমার রায় তাঁর ‘পল্লী বৈচিত্র্য’ (১৯০৫) গ্রন্থে লিখেছেন, ‘বঙ্গের অধিকাংশ পল্লীতেই নবান্ন অগ্রহায়ণ মাসের একটি আনন্দপূর্ণ প্রয়োজনীয় গার্হস্থ্য উৎসব। পল্লীবাসীগণের মধ্যে হিন্দু মাত্রেই পিতৃপুরুষ ও দেবগণের উদ্দেশ্যে নূতন চাউল উৎসর্গ না করিয়া স্বয়ং তাহা গ্রহণ করেন না।’

Read More »

উপমহাদেশে ধর্মীয় সমন্বয়বাদের ঐতিহ্য

India’s First Bengali Daily Journal. হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ ও নবায়ন করা দরকার। সারা বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়কে একপ্রাণ, একজাতি ভাবা যেমন ইতিহাসসম্মত নয়; তেমনই এক জল-হাওয়ায় পরিপুষ্ট, একই গাত্রবর্ণের হিন্দু-মুসলমানকে আলাদা ভাবাটাও অনৈতিহাসিক। ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, নৃতাত্ত্বিক গঠনের নিরিখে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক বিবেচনা করা দরকার।

Read More »

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্কেচে লালন ফকির

India’s First Bengali Daily Magazine. প্রতিকৃতিটি দেখে নিজেকে যেন চিনতেই পারেন না লালন। কিন্তু জ্যোতিরিন্দ্রনাথের চোখেমুখে ফুটে ওঠে এক অপার্থিব আনন্দ। তিনি জীবনে অনেক প্রতিকৃতি ও ছবি এঁকেছেন, কিন্তু এমন প্রাণময়-জীবন্ত ছবি সম্ভবত একটিও আঁকতে পারেননি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি ও লালন চিরকাল বেঁচে থাকবেন না, কিন্তু ছবিটি বেঁচে থাকবে। আগামী দিনে এই ছবি দেখে মানুষ লালনকে চিনবে এবং জানবে। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কীই বা হতে পারে!

Read More »

তর্কে-প্রতর্কে দুই মহাত্মা: লালন ও গান্ধীজি

India’s First Bengali Daily Magazine. হালফিলে দেশে দেশে গান্ধীজির ভাস্কর্য ভাঙার আন্দোলন চলছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় লালনের ভাস্কর্যও ভাঙা হয়েছে। বিগত শতাব্দীর সত্তরের বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্যও ভাঙা হয়েছিল। যারা বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভেঙেছিল তাদের ক’জনকে আমরা মনে রেখেছি? বরং বিদ্যাসাগর মহাশয় স্বমহিমায় বিদ্যমান। তবে হ্যাঁ, লালন-গান্ধী কোনও ত্রুটিহীন অ-বিতর্কিত মানুষ ছিলেন না। তাঁদের চিন্তা-দর্শন ও জীবনাচরণের মধ্যে ফাঁকফোকর, বিচ্যুতি থাকতে পারে। তাঁদের ভাবনাচিন্তা সেকেলে-অবাস্তব, কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রগতিবিরোধীও মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁদের উপেক্ষা করা যায় না।

Read More »

প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর কেন অবজ্ঞাত উপেক্ষিত রইলেন

India’s First Bengali Daily Magazine. নানা কারণে বাঙালি সমাজ তথা ভারতবর্ষের মানুষ প্রিন্স দ্বারকানাথের কাছে ঋণী। ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন, সংবাদপত্রের উন্নতি সাধন, শিক্ষা-সংস্কৃতি বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে রেলপথের রূপকল্প প্রণয়ন— এসব কিছুর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর। জমিদার হিসেবেও ছিলেন দক্ষ ও প্রবল প্রতাপশালী। সাহাজাদপুর ও বিরাহিমপুর পরগনায় নিয়োগ করেন ইউরোপীয় ম্যানেজার। রায়ত-প্রজা, নায়েব-গোমস্তাদের কাছে দোর্দণ্ড দাপুটে জমিদার হলেও দান-দক্ষিণায়, ভদ্রতা-শিষ্টাচারে ছিলেন অতুলনীয়। ছিলেন উদার মনোভাবাপন্ন যুক্তিবাদী মানুষ।

Read More »

লালন ও কাঙাল হরিনাথ মজুমদার: মরমি ও মানবদরদি

India’s First Bengali Daily Magazine. সমকালে ফিকিরচাঁদের গানের কাছে ফকির লালনের গান পাত্তাই পায়নি। লালনের গান হয়তো-বা কালের গর্ভে হারিয়ে যেত যদি না রবীন্দ্রনাথ এগুলি সংগ্রহ করে ছাপতেন। তবে লালন ও কাঙাল হরিনাথ ছিলেন পরস্পর অকৃত্রিম বন্ধু ও সুখ-দুঃখের সাথি। দুজনই ছিলেন পরাধীন দেশের মানুষের ব্যথায় ব্যথিতজন ও দুখি মানুষের দুঃখে ঝলসে-ওঠা অগ্নিপুরুষ— যাঁরা কালের অগ্নি ও উত্তাপকে মনের গহন গভীরে ধারণ করতে পেরেছিলেন। দুজনেই একাধারে মরমি ও মানবদরদি।

Read More »

লালনের স্বপ্ন, লালনের জেহাদ

India’s First Bengali Daily Magazine. তিনি মনে করেন, মৃত্যু যেমন অনিবার্য, তেমনই জীবনও তুচ্ছ নয়। মৃত্যু যেমন সত্য, তেমনই জীবনও সত্য। জীবনকে অস্বীকার করার অপর নাম পলায়ণবৃত্তি। মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা মেনে নিয়েই জীবনকে সুন্দর করার জন্য এগিয়ে যেতে হয়। হাহাকার আর হতাশা ছড়িয়ে লাভ নেই। ব্যর্থতা-হতাশা ছড়িয়ে বেড়ানো কিংবা সন্ন্যাসজীবন বেছে নেয়াকে তিনি কাজের কাজ মনে করতেন না। তাই তাঁর গানে প্রস্ফূটিত হয়েছে স্বচ্ছ জীবনবেদ, প্রতিবাদ আর প্রশ্ন-জিজ্ঞাসা।

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »