Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছোটগল্প: আদম সুরত

আমগো লুকমানের চোখগুলি আছিল ক্যামুন কালা ডাঙ্গর। আর শইল্যের রংডা আছিল ঠিক বগার মতোন সাদা। মাডি দিয়া খেললেও কুনোদিন কালি লাগত না শইল্যের মইধ্যে। তুই হেই রং পাইছসরে মাইয়া…

কী যে কও দাদী, যেই মানুষডার চেহারা ঠিকমতোন মনে নাই, কুনোদিন দেখিও নাই তার রং বগার মতোন না কালা কাউয়া এইসব মিলাই ক্যামনে? এইসব আন্দাজি কতা বাদ দ্যাওসে এইবার।

দৌলতির কণ্ঠে নিষেধ থাকলেও মনে মনে চাপা আনন্দভরা অবিশ্বাসের সুর। তবু আরও কিছু শোনার বাহানা করে উসকে দেয় নবীতুননেসাকে। অন্য সব রাতের মতো বুড়ির গল্পও যেন ফুরাতে চায় না।

বাপরে, দেখছনি। এদ্দুরা মাইয়া ক্যামুন ফাল পারে। আন্দাজি কতা না রে বইন। খালি শইলডা না, লুকমানের মনের মইধ্যেও ছিল খালি মায়া আর মায়া। ভাত খাওনের সময় জরা বানায়া ভাত খাইত। এক জরা খাইত, আর এক জরা ছিডাইয়া দিত কাউয়ারে। আদর কইরা যখন ডাক দিত মুরগা আইয়া কড়কড়াইয়া বইত অর পায়ের কাছে। আমার সহজ সরল পুলা লুকমান— ঠিক য্যান আমগো সুলেমান নবী।

দাদী তুমার কতার কুনো আগা-মাথা নাই। এইসব আজব কতা কিছুই বুঝি না। এইবার খেমা দ্যাও।

নবীতুননেসা থেমে যায়। আদর করে বুকে টানতে গিয়েও মিছেমিছি রাগ করে ঠেলে দেয় দৌলতিকে।

থাক, তোর বুঝন লাগত না। উপরে তাকাইয়া চুপ কইরা খালি আসমান দ্যাখ। বেশুমার তারা ছড়াইয়া রইছে আসমানে— ওইহানে মাইনষের সুরত নিয়া যে খাড়াইয়া রইছে হেইডা একবার দ্যাখ। মনে হয় ওইডা বুঝি আমগো লুকমান।

দরদমাখা ঘোরলাগা কণ্ঠ মুহূর্তে থমকে যায় নবীতুননেসার। বাতাসের ফিসফিসানির মধ্যে যাঁতায় পেষা চাপা একটা আবেগরুদ্ধ ঘরঘরানি ওঠে কোথাও। সে আওয়াজ ওঠে আসলে তার বুকে। উঠোনের পাটিতে চিত হয়ে শুয়ে চোখজোড়া রাতের আসমানে ঠেলে দিয়ে বিড়বিড় করে আরও কী সব যেন বলে ওঠে নবীতুননেসা!

আশ্বিনের জোছনাধোয়া রাত। ঘরের পেছনের চালতা গাছের ওপর দিয়ে চাঁদের মুখটা দেখা গেল রথখোলা মাঠের পুবে। ঝকমকে আলোয় থৈথৈ শূন্য প্রান্তর, ধূপকাশি খালের বুক। ধামসোনা গাঁয়ের সব কালি ধুয়ে দিয়ে সে আলো হেসে উঠল নবীতুননেসার জনশূন্য ঘর-উঠোনে। এ আলো এতটাই স্বচ্ছ যে একলহমায় পরিশুদ্ধ করে দিতে পারে মানুষের অন্তরের ভেতরটা। তাই তো দৌলতি ঠিক বুঝতে পারে নবীতুননেসার উতলা মনের ছন্নছাড়া এসব গল্প। শুনতে শুনতে বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজের মধ্যে নিশ্চুপ তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে— যেদিকে আঙুল উঁচিয়ে ইঙ্গিত করে কী যেন প্রায়শ দেখাতে চায় নবীতুননেসা।

কী ওটা? কী আছে ওখানে? মানুষের আকার নিয়ে কে পাহারা দেয় অমন অথৈ শূন্যতায়? অসীম আসমানের দুনিয়ায় কেবল অগুনতি তারার শত কোটি সমুদ্র আর গহীন কালো গহ্বর ছাড়া আর কীইবা থাকতে পারে সেখানে!

দৌলতি জানে, মানুষ মরে গেলে বা হারিয়ে গেলে বাসিন্দা হয় সেই সাত আসমানের জমিনে। তার প্রাণটুকু বাতাসের পিঠে চাবুক মেরে ঘোড়ার মতো সওয়ার হয় মেঘের চরাচরে। বাতাসের কুণ্ডলী হয়ে যায় শূন্যরথের ঘোড়া। এমন কত গল্প শুনেছে! আর এতদিন এ বুঝটাই তো দিয়ে আসছিল নবীতুননেসা। কিন্তু আজকাল যে আজব কথাগুলো শুনছে তার মানেটাই বা কী? আর নবীতুননেসার কথায় মনে মনে এটাও ভাবছে একদিন ঠিকঠাক পথঘাট চিনে ওই রথখোলা মাঠের ধূধূ চরাচরে নামতে পারবে তো সেই সাদা ঘোড়া?

ভাবতে না ভাবতেই নবীতুননেসা হঠাৎ চমকে দেয়। বুঝলি রে মাইয়া, আশ্বিনের জোছনা রাইতে আসমানের গাঙ্গে যখন চান্দের আলো চিকচিক করে, তার মইধ্যে তারার বুটি যখন ঝকমকাইয়া হাসে তখন আসমান থেইকা নাইম্যা আসে মস্ত সেই তেজী ঘোড়া। মাথা থেইকা ঘাড় পর্যন্ত নামানো দুধসাদা ঝালর। তার কালা চোখ দুইডায় বেজায় মায়া। ওই যে রথখোলার মাঠডা আছে না, হেইখানে দপদপাইয়া নাইম্যা আসে। তারপর আমগো গেরাম থেইকা চইলা যায় দূরদেশের অন্য কুনো গেরামে। খলবলাইন্যা জোছনার মইধ্যে আমি সব দেখতে পাইরে দৌলতি। অনেক দূর থেইকাও শুনতে পাই তার পায়ের আওয়াজ।

দৌলতির মনে আচমকা ধাক্কা লাগে। ছেলের শোকে তার দাদী কি সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গেল? নবীতুননেসা যখন ঘোরের মধ্যে আসমান থেকে নেমে আসা ঘোড়ার সঙ্গে দূর-বহুদূর চলে যায় আর তার বুকের মধ্যে ঘোড়ার খুরের শব্দ ঠকঠক করে বাজে তখনই দৌলতি খুব করে ভাবতে চেষ্টা করে তার বাপ লোকমানের চেহারা। যে চেহারা কখনও মনের মধ্যে খোদাই করা ছিল না তা কল্পনা করতে গিয়ে অসহায়ত্বে কেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে দৌলতি। অদৃশ্য ঘোড়ার পিছু পিছু একটা ভাঙা ভাঙা নামের ডাক উঠোন পেরিয়ে ছুটে যায় সেই দূরের অন্য কোনওখানে। রথখোলার মাঠ পেরিয়ে শেষে আরও দূরের কোনও মাঠের দিকে, মঠের কাছে। একসময় আবেশ কাটিয়ে সম্বিৎ ফিরে এলে আরও ঘন হয়ে লেপ্টে থাকে দাদীর বুকের কাছে। নবীতুননেসার অস্থিরতা আজকাল তার কাছেও এসেছে। তবু সকরুণ চোখে তাকিয়ে দেখে দাদীর অস্থির মুখ।

আর কী দেহো দাদী? হেই ঘোড়া কি খালি রথখোলার মাঠেই দাপাইয়া বেড়ায়? আমগো উডানের কাছ দিয়া যাইবার সময় কি আমগো ডাক দিয়া গেছে কুনোদিন? আইচ্ছা দাদী, আমগোরে নিয়া কি একবার সাত আসমানে যাইতে পারে না? কী, চুপ কইরা রইছ ক্যান? আমারে তাড়াতাড়ি কও।

দৌলতি বোঝে, নবীতুননেসার গল্প এরপর শেষ হয়ে যাবে। ওদের উঠোনের পাশ দিয়ে ধূপকাশির খাল ডিঙিয়ে রথখোলার মাঠের শেষে গিয়ে থেমে যাবে খুরের শব্দ। মাইজপাড়ার মঠের কাছে শেষ হবে সেই ঘোড়ার কাল্পনিক গন্তব্য। তবু কাহিনির এ পর্যায়ে নবীতুননেসার করুণ মুখ আবারও প্রসন্ন হয়ে উঠবে হঠাৎ। সেটা দেখার অপেক্ষায় আশ্বিনের হিমছড়ানো রাতে নবীতুননেসার গলা জড়িয়ে বুকের ওম ভাগ করে নেয় দৌলতি।

নিজেকে সামলে নিয়ে নরম গলায় বলে, তারপরে কী হইল হেইডা তাড়াতাড়ি কও দাদী।

আরে, অত অস্থির ক্যারে? খাড়া কইতাছি। গলাডা শুকাইয়া আসতাছে। পানির তিরাস লাগছে মনে হয়। আইচ্ছা, তারপর হুন… হেই ঘোড়ার লাগাম ধইরা পিঠে কে বইসা থাকে জানস, তোর বাপ। আমগো লুকমান। আজ এতডি বছর পরেও ঠিক আগের মতোনই অর চেহারা। একদিন আমারে দেইখা পাশ কাডাইয়া ক্যামুন উডানের ধার দিয়া চইলা গেল। পিছন ফিরা একবারও তাকাইল না। আর আইলও না।

দৌলতির চোখগুলো তখন আনন্দে চকমক করে। সাথে সাথে অনিশ্চয়তার এক কালো ছায়াও নামে চোখে। জন্মের পর থেকে আজ কতগুলো বছর কেটে গেছে। বাপকে সে যতটুকু দেখেছিল তা এখন অনেকটাই ঝাপসা। সে মুখের আদল কিংবা শরীরের মাপ পুরোটাই বিলীন হয়ে গেছে। এখন যতটা নিজে ভাবছে কিংবা দেখছে-শুনছে সবটাই দাদী নবীতুননেসার চোখ দিয়ে। তাই তো বুড়ি যখন বলে, তুই মাইয়া হইছস ঠিক তোর বাপের মতোন, শুনে দৌলতির আনন্দ হয় খুব। সেই আনন্দ খানখান হয়ে ভেঙেও যায় হঠাৎ যখন দূরের মাঠে খুরের শব্দের সাথে সাথে আশাটাও মিলিয়ে যায়।

দৌলতি জানে ওর বাপ কোনওদিন আসবে না। তবু নবীতুননেসার কথায় কল্পনার আশ্চর্য সেই তেজী ঘোড়ার পেছন পেছন সওয়ার হয়ে অচেনা পথে ছুটতে তার ভালই লাগে। ছুটতে ছুটতে আকাশের সবগুলো পথ ঠাওর করে তার চোখগুলো একসময় নেমে আসে অন্ধকার উঠোনের কোনায় কোনায়। তারপর সেখান থেকে পালাতে পালাতে উঠোনের গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে রথখোলার বিস্তীর্ণ সীমানার কাছে গিয়ে আটকে যায়। ওখানে উঁচু পুরানো মঠ— মঠের চূড়ায় সোনারঙা বিজয়-দণ্ড। আরও আছে জোড়া শিমুল গাছ, টিয়া পাখির সবুজ ঝাঁক। টিয়ার ডাকের মতো দৌলতির মন ট্যাঁ ট্যাঁ করে ডেকে উঠে জয়ের আনন্দে মঠের মাথার বিজয়-দণ্ডের ওপর দিয়ে সাত আসমানের ওপর পাক খেয়ে কোথায় জানি চলে যায়।

নবীতুননেসার পুরানো আশার ক্ষয়-ধরা চোখে যে মানুষটার ছায়া, সে ছায়া দৌলতির চোখে আকার পায় ভিন্ন এক মানুষের। কিন্তু কেউ জানে না সে ছায়া একই মানুষের কি না! কখনও ঝাপসা আলোয় হয়তো দৌলতির অস্থির চোখ দুটো দেখা যায় না, কিন্তু তার চোখের তারার কল্পনায় ঠিক ধরা দেয় কোনও অদেখা অজানা মানুষের সুঠাম কোনও সুরত। যে কি না অপার বিশ্বাসে দূর থেকেও আগলে রাখে তাদের। নবীতুননেসার কথায় সে সুরত যখনই আকার ধরতে শুরু করে আবার তা হুস করে উড়েও যায় মুহূর্তে অবিশ্বাস অনিশ্চয়তার খেলায়। দৌলতি এর মানে বোঝে না। কল্পনার সে তেজী ঘোড়ার খুরের ঠকঠক শব্দে কী আশ্বাস, নির্ভরতা না অজানা শঙ্কা মেশানো আছে তাও ঠিকমতো অনুমান করতে পারে না দৌলতি।

আশ্বিন শুরু হয়ে চলে গেল অনেকগুলো দিন। রাত গভীরে আকাশে কুয়াশার পাতলা সুড়ঙ্গ হয় যখন পাতায়-ডালে-ডালে বিন্দু বিন্দু হিম জমে। ধামসোনার উঠোন-ঘর-প্রান্তরজুড়ে কুয়াশার সাথে কেমন রহস্য জমে ভয়ের। বাড়ির পেছনের ছনগাছের ঝোপে যেখানে কুরুয়া পাখি ভয়ের সুর ধরে গমগম করে ডাকে সেখানে কোনও কোনওদিন খসখসে অচেনা শব্দও শুনতে পায় নবীতুননেসা। ওটা কি কোনও পায়ের শব্দ? না কি ঘোড়ার খুরের থেমে যাওয়া আওয়াজ? পাহারাশেষে সেই আগন্তুক নেমে এল বুঝি সাত আসমান থেকে? পিঠের ওপর বসে থাকা সেই মানুষটা কি নবীতুননেসার কল্পনায় থাকা সুলেমান নবী? সেই কি তার ফিরে আসা লোকমান?

আশ্বিনের রাতদুপুরে তাই নবীতুননেসার কী জানি হয়! হিমবাতাসেও বুকটা হুহু করে, চোখ দুটোতেও জ্বালা ধরে ভয়ানক। তাই হঠাৎ কখনও উঠোনের পাটিতে ধড়মড়িয়ে জেগে উঠে দৌলতিকে বুকের কাছে আরও লেপটে ধরে যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে!

দুই

নবীতুননেসার জীবনে আর কোনও গল্প নেই। বহু বছর আগে যে গল্পটা অন্যভাবে শুরু হতে পারত তা আজ বহু বিবর্ণ মলিন এক রূপকথা। সেসব দিনের কথা আজও মনে পড়লে কেবল শূন্যতাই বাড়ে, হাহাকার ওঠে বুকে।

একদিন রাতে লোকমান নবীতুননেসার কাছে গিয়ে বলে, আম্মা আমি বিদেশ যামু। এই দেশের কাম-কাজ আর ভাল লাগে না।

নবীতুননেসার চোখ কপালে ওঠে। ওমা, তুই এডি কী কস লুকমান? বাড়িতে আছে কেডা তুই আর আমি ছাড়া? আর এত্তগুলি ট্যাকা কেডা দিব তোরে?

তোমার চিন্তা আমি কইরা রাখছি। কোহিনূররে বাড়িত নিয়া আমু।

মাইজপাড়ায় যাতায়াতের সুবাদে কোহিনূরের সাথে আলাপ-পরিচয়। সেখান থেকে একটু ভাব-ভালবাসাও হয়েছিল লোকমানের। এ কথা সেভাবে জানত না নবীতুননেসা।

তোর ব্যাপারডি কী একবার খোলাসা কইরা ক দেহি আমারে? তোরে এত ট্যাকা দিব কেডা? আমার তো শুইন্যা কিছুই ভাল লাগতাছে না।

সব ব্যবস্থা করব ইব্রাহিম্যা। কোহিনূরের মামাতো ভাই। আমি খালি খালপাড়ের জমিডি বেচমু। মেলা ট্যাকার দরকার এহন।

লোকমানের মুখে জবাব প্রস্তুত ছিল একেবারে। চটজলদি উত্তরে নবীতুননেসাও বাকশূন্য। বিদেশ যাবার কথা সেই শুরু, সেই শেষ। পরের ছয় মাসের মধ্যে দ্রুত সবকিছুর পাকা বন্দোবস্ত করে রথখোলার মাঠের খাল-লাগোয়া পাঁচ গণ্ডা ভিটি জমি বিক্রি করে খেজুরবাগানে কাজের ভিসা নিয়ে ওমানে পাড়ি দিয়েছিল লোকমান।

নবীতুননেসার প্রথমে ইচ্ছে ছিল না মোটে। নির্ঝঞ্ঝাট একা বাড়ি। জমি-জিরেত আছে। লোকমানের বাপ একেবারে অভাবে রেখে যায়নি। এদিকে আশপাশে আর কোনও ভিটা বা বাড়ি নেই। জনশূন্য ধূধূ মাঠের মধ্যে একা মরে পড়ে থাকলেও দেখবার কেউ নেই। কিন্তু লোকমানকে কিছুতেই বোঝানো গেল না। তার চোখে তখন কত স্বপ্ন, আশা আর বিত্ত-বৈভবের বিস্তর আকাঙ্ক্ষা! সবকিছুর মধ্যে জ্বলজ্বল করে উজ্জ্বল এক হীরকখণ্ডের মতো একা জ্বলে উঠছিল কোহিনূর। তাই নবীতুননেসার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে মাইজপাড়ার ইব্রাহিমের শলাপরামর্শেই এক রাতে ঘরে এনে তুলেছিল কোহিনূরকে। তার অল্প ক’দিন বাদেই পাড়ি দিয়েছিল ওই মরুর দেশে।

মরুর দেশের খেজুরবাগান। প্রথম প্রথম রুজি-রোজগার একেবারে মন্দ ছিল না। নবীতুননেসার জন্যে ভালই টাকাপয়সা পাঠাত লোকমান। সব এনে কোহিনূরের হাতে দিয়ে যেত ইব্রাহিম। আরও কত খবর নিয়ে আসত লোকমানের। নবীতুননেসা শুনত আর চোখ দিয়ে পানি পড়ত ঝরঝর করে। ইব্রাহিমের মুখ থেকে তবু লোকমান আর মরুর গল্প শুনে যেত চুপচাপ।

নবীতুননেসার ভিটায় দিন দিন যাতায়াত বেড়ে গেল ইব্রাহিমের। এসেই হানা দিত কোহিনূরের ঘরে। আত্মীয়-কুটুম বলে কিছুই বলত না নবীতুননেসা। যে চোখ একদিন পরম ভরসা আর বিশ্বাস নিয়ে তাকিয়েছিল ইব্রাহিমের দিকে সেটাও যেন বদলে যেতে শুরু করল আস্তে আস্তে। কোহিনূরের কাছে তখন লোকমান হয়ে গেল বহু দূরের মানুষ। আর নিজের আপনজন হয়ে উঠল ইব্রাহিম। নবীতুননেসার মনে এটা-সেটা উঁকি দিলেও চুপ করে রইল শুধু লোকমানের কথা ভেবে।

নবীতুননেসার বেশি সময় লাগেনি ইব্রাহিমকে চিনতে। দিনে দিনে তার আসল চেহারা বেরিয়ে এল সবার সামনে। আগের মতো এখন আর নতুন কোনও খবর পায় না তার মুখ থেকে। শুধু খবর আসে ইব্রাহিম আর কোহিনূরের গোপন সম্পর্কের। সেসব কথা বাড়ি বয়ে কানে এলে নবীতুননেসার না শুনে কোনও উপায় থাকে না। খালের ধারের যে জমি বিক্রি করেছিল বশির মণ্ডলের কাছে সেখানে কাজে লেগেছিল তারই দুই ছেলে দয়াল আর নিজাম। জমির আগাছা সাফ করতে গিয়ে দুজনে কথা বলছিল নবীতুননেসাকে ইঙ্গিত করে।

দয়াল বলে, চাচী এক্কেরে সহজ সরল ভালা মানুষ। লুকমানের সাথে যে মাইজপাড়ার ইব্রাহিম্যার কোহিনূররে নিয়া গণ্ডগোল চাচীর চোখে হেই আলামত মনে হয় এহনও ধরা পড়ে নাই। ইব্রাহিম্যা যে কীসের লাইগা ঘন ঘন আহে চাচী এখনও বুঝতাছে না। দোকানে বইলে নানান কতা ঘাঁডাঘাঁডি হয়।

মাটির ঢেলা ভাঙতে গিয়ে শুকনো মরা ডাল দিয়ে বিড়বিড়িয়ে গায়ে ওঠা চ্যালা মারে নিজাম। বিরক্তি নিয়ে বলে, হুইনলাম অনেকদিন হইল লুকমাইন্যার কুনো খবর নাই। হে না কি নিজেই বাড়ির এইসব অশান্তি শুইন্যা খবর দেওয়া বন্ধ কইরছে। চাচীও আইজকাল খালি আবোলতাবোল বকে।

ছোটভাইয়ের কাণ্ড দেখে দয়াল চিল্লিয়ে ওঠে। আরে, ইডি মারস কিত্তি? ইডি কামড়ায় না। যেডি পুটকি উপরের দিকে দিয়া হাঁডে হেডির মইধ্যে বিষ। ইব্রাহিম্যারে দেহস না ট্যাকার গরমে ক্যামুন পুটকি উঁচা কইরা হাঁডে। লুকমাইন্যা যে ট্যাকা পাঠায় সব হুনছি অর পেডেই গেছে। অর দুই দিক দিয়াই লাভ। সাপও মইরল আবার লাডিও ভাইঙল না।

দূর থেকে ছন ঝোপের কাছে নবীতুননেসাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হঠাৎ চুপ হয়ে যায় দুজন। কথা শুনে নবীতুননেসাও বাড়ির দিকে এগোয়। বেশ কিছুদিন বাদে ইব্রাহিম এসে কোহিনূরের কাছে খবর দেয় লোকমান বাড়ি আসছে। ওমানে কথা হয়েছে তার সাথে। এবার আসলে মাসখানেকের ছুটি নিয়েই আসবে।

নবীতুননেসার অসুখের কথা শুনে শেষমেশ চার বছরের মাথায় বাড়ি এসেছিল লোকমান। দেড় মাসের ছুটি নিয়ে এলেও এই লোকমান যেন আগের মতো নয়। আগের সে দাপিয়ে বেড়ানো তেজী ঘোড়াটি আর নেই। কোনও কিছুতে আর মন টিকে না তার। যে কোহিনূরকে এত শখ করে আহ্লাদ দিয়ে বাড়ি এনে তুলেছিল তার সাথেও খিটমিট লেগে থাকে প্রতিদিন। এদিকে ইব্রাহিমের কাছ থেকে ধার-কর্জ করে যে টাকা নিয়েছিল লোকমান সুযোগ বুঝে তা শোধ দেওয়ার জন্যও ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছিল সে। তাছাড়া ইব্রাহিমের মাধ্যমে সমস্ত লেনদেন হলেও বাড়িতে পাঠানো টাকার কোনও হিসাব দিতে পারে না কোহিনূর।

একদিন সকালে তুলকালাম কাণ্ড বেধে গেল ইব্রাহিমকে নিয়ে। আত্মীয়তার সুবাদে ওর আসাযাওয়ার কথা বিদেশ বসেই জানত লোকমান। কিন্তু একমাস বাড়ি থাকার পর যখন জানল কোহিনূর মা হবে আর এ নিয়ে বাজার থেকে ফিরল দুই কান ভারী করে সেই রাতেই হাত তুলল কোহিনূরের গায়ে। এমন হুজ্জোত-হাঙ্গামার দুদিন পর কাউকে কিছু না বলে আবার ফিরে গিয়েছিল ওমানে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝামাঝি নিজেকে ঝুলিয়ে রেখে বাড়ির মানুষগুলোর সাথে যাবতীয় হিসাব অনিষ্পন্ন রেখে সেই যে লোকমান ফিরে গেল আর বাড়ি আসেনি কোনওদিন।

ওমান ফিরে যাবার আট মাসের মাথায় দৌলতির যখন জন্ম হল তখনও খুব একটা খুশি হতে পারেনি লোকমান। নবীতুননেসা অবশ্য ভেবেছিল একদিন মেয়ের মুখ দেখলে নিশ্চয় লোকমানের মন গলে যাবে, সকল রাগ-ক্ষোভ পানি হয়ে যাবে। কিন্তু দিন দিন বাড়ির সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিল লোকমান। ওর মনের পাথর টলাবার কোনও সুযোগই আর কেউ কোনওদিন পেল না।

পরের বছর তিনেক পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল বাড়ির সাথে, নবীতুননেসার সাথে। দৌলতির বয়স যখন চার তখনই দুঃসংবাদ এল একদিন বাড়িতে। খেজুরবাগানে কাজ করতে গিয়ে দড়ি ছিঁড়ে গাছ থেকে পড়ে কোমর ভেঙেছে লোকমান। তারপর মাসখানেক হাসপাতালে থাকার পর কী যে হল আর কোনও হদিস পাওয়া যায়নি লোকমানের।

তিন

অনেকদিন কেটে গেছে। আজকাল কেমন মুষড়ে পড়েছে নবীতুননেসা। পুরাতন সেইসব গল্প এখন আর টানে না তাকে। তার অবর্তমানে দৌলতিকে নিয়ে চিন্তাটা বড় বেশি উসকে উঠছে দিন দিন। দৌলতির যখন ছয় বছর বয়স হল মামার বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়েছিল কোহিনূর। তার কিছুদিনের মধ্যে আদম পাচারের মামলা আর জাল-জালিয়াতিতে নিজেও ফেঁসে গিয়েছিল ইব্রাহিম। সবাই জানে দশ বছরের জেল হয়েছে তার। সাজা খাটছে জেলার কারাগারে। কিন্তু সেসব কিছু ঘটবার আগে কঠিন সত্যটা নবীতুননেসাকে ঠিকই জানিয়ে দিয়েছিল কোহিনূর। তারপর থেকে যেন আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরতে চাইছে দৌলতিকে।

একটা গল্প কওসে দাদী, আজকাল দৌলতির এমন আবদারে নবীতুননেসা আরও চুপসে যায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, সাত আসমানের দিকে চাইয়া দ্যাখরে মাইয়া। ওই যে আসমানের থালভরা তারা ওর মইধ্যে আদমসুরতডাও আছে। তার কোনও নড়ন-চড়ন নাই। চুপচাপ ওইখান থেইকা আমগোরে পাহারা দিতাছে। তোর কোনও ডর নাইরে বইন।

ছলছল চোখে দাদীর মুখপানে চেয়ে থাকে দৌলতি। বুকের গভীর কষ্ট ঠেলে ঠেলে ছলকে আসে নবীতুননেসার। বলে, সম্পর্ক বড় মিছা জিনিস। বিশ্বাসও হাওয়াই মিডাইর মতোন। দেহোস না মাইনষে ক্যামুন চোখ উল্টাইয়া কথা কয়। মাইনষের সুরত এমন বদলাইয়া যায় ক্যান কইতে পারস? মানুষ বদলাইয়া যায় ঠিক, কিন্তু আদমসুরত বদলায় না।

দৌলতি এখন অনেক কিছুই বুঝতে পারে। নবীতুননেসা আগে সুলেমান নবীর যে কিসসা শোনাত কিংবা সেই তেজী ঘোড়ার খুরের আওয়াজ ওঠা গল্প, তা মাইজপাড়ার মঠের কাছে রথখোলার মাঠে নয়। সে দপদপানি আসলে উঠত নবীতুননেসার বুকে, বুকের শূন্য জমিনে। নবীতুননেসার কথায় তাই নিজের মতো করেই বুঝে নিয়েছে নিজের জীবনের ভাগ্য ও পরিণতিকে। বাপকে চোখে দেখেনি কোনওদিন, মায়ের ছবিও মনে পড়ে আবছা কুয়াশার মতো। পরম নির্ভরতার জায়গা যে নবীতুননেসার মায়াভরা কোল আর এ বাড়ির ঘর-উঠোন এটা দৌলতি জানে।

ধূপকাশি খালের পর থেকেই শুরু বিস্তীর্ণ রথখোলা মাঠের। সেই মাঠ এখন আর ধূধূ বিরান নেই। মাঠের পশ্চিমে ভূষণ্ডির মতো দাঁড়িয়ে যে জোড়া শিমুলগাছ সেখানেই উঁচু রথখোলা মঠ। নবীতুননেসার উঠোন থেকে দাঁড়িয়ে গাছপালার ফাঁক দিয়ে দূরের সেই মঠের চূড়া দেখা যায় কোনওমতে। আরও দেখা যায় দূরে মিশে যাওয়া কালো সড়কের চিহ্ন হালকা দাগের মতো।

নবীতুননেসা কেন দৌলতিও সেদিন গল্প শুনেছিল জমিদারের লোকজন এককালে ঘোড়া ছুটিয়ে ইচ্ছেমতো দাপিয়ে বেড়াত ধামসোনার চরাচর জুড়ে। সে শব্দে শিমুলের ডাল আর মঠের খোড়ল থেকে ট্যাঁ ট্যাঁ করে উড়ে যেত সবুজ টিয়ার ঝাঁক। স্কুলে যাবার পথে দৌলতি এখনও মাঝেমধ্যে অমন করে উড়ে যেতে দেখে সেই টিয়ার ঝাঁককে।

একদিন স্কুল থেকে ফিরে কী যেন দেখে হঠাৎ চিৎকার করে ডেকে ওঠে দৌলতি। বলে, হুনছ দাদী। কয়দিন ধইরা দেহি মাইজপাড়ার মঠের মইধ্যে পাগল কিসিমের একটা লোক আইয়া বইয়া থাকে। ক্যামুন আলাভোলা চোখ। বাড়িত ফিরনের সময় খালি চাইয়া থাকে আমার দিকে। কী চায় বেডা কে জানে!

নবীতুননেসার শঙ্কা বাড়ে। বলে, খবরদার বইন কাছে যাইস না। পাগলটাগল হইব মনে হয়। কুনদিন না জানি কুন বিপদ ঘইটা যায়।

আরে না দাদী, আমি কই অন্য কতা। তুমি তো আর তোমার পুতেরে এহন দেহো না। হেই ঘোড়া মনে হয় রথখোলার মাডে আইয়া নামছে। ক্যান, তুমি কুনো ঠকঠক আওয়াজ পাও নাই? বলেই দৌলতি খিলখিল করে হাসে।

আমার রক্ত হিম হইয়া যায় আর তুই মাইয়া হাসস? কাইল থেইকা আর স্কুলে যাওয়ার দরকার নাই।

হুনো দাদী, রথখোলার মঠের ভিতরে যে বেডা আইছে হেইডা তোমার লুকমান কি না যাও গিয়া একবার দেইখা আসো।

নারে ছেরি। কী আবোলতাবোল কথা কস? এদ্দিন বাদে লুকমান কোত্থেইকা আইব? আমার মন কইতাছে হেই বেডা অন্য কেউ? তোর মার কথাই মনে হয়…

চুপ হইয়া গেলা ক্যান দাদী? মা-র কী কতা আমারে কও। হেইদিন ইস্কুল থেইকা আসনের সময় আমারে হাত ইশারা কইরা ডাকছিল। ক্যামুন আউলা ঝাউলা মানুষ। তার চেহারা দেখলে ডর করে।

থাক ভালা হইছে। আর মাঠ পার হইয়া স্কুলে যাওনের কাম নাই।

দৌলতি এবার বলে, হেইদিন মাইনষের পায়ের আওয়াজ পাইয়া মঠের চূড়া থেইকা টিয়া পাখির ঝাঁক য্যান ট্যাঁ ট্যাঁ কইরা ছুটল। টিয়া পাখির মতোন শেষমেশ আমিও ছুটলাম বাড়ির দিকে। তবে মানুষটা পাগল হইলেও তার চোখ ক্যামুন ঠান্ডা।

নবীতুননেসার বয়স সত্তর পেরিয়েছে। এ বয়সে নিজের জীবনে যে কত কাহিনি, কতরকম কিসসার আবাদ করেছে সব কি আর মুখ ফুটে বলা যায়! নিজের বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সত্য-মিথ্যাটাকেও ভাল-মন্দের বিচারে মাপতে হয় নতুন করে। ধামসোনা গাঁয়ের এ পোড়ো বাড়িতে মানুষ আর ক’জন? দৌলতি, গাছগাছালির ছায়া আর পাখপাখালির অবিরাম বুলি ছাড়া চারদিকের সব কেমন যেন সুনসান, স্থির। দিনরাত যে আওয়াজ ওঠে সেটাও বাতাসের সাথে গাছপালার নেচে ওঠা পাতা-ডালের। সেই সাথে ওঠে ঢিপঢিপ বুকের কাঁপুনি।

পুবের উঠোন ছাড়িয়ে কয়েক কদমের মধ্যে যে নিচু জমা সেখানে দমধরা কালো পানিতে হাঁটুসমান জংলা। চৈত্রের খর রোদে তেতে পুড়ে কচু ঝোপের পাতাগুলো সব পোড়াটে হলদে— যেন কুটুমপাখির মস্ত ডানা। কচু-কলমির দঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো বেগুনি ফুল ফোটে ঠিক কিন্তু নির্বিষ ঢোঁড়ার নিঃশব্দ চলন দেখেও আজকাল ভয় পায় নবীতুননেসা।

পানাপচা সেই নিচু জলা পেরিয়ে গেলে ধূপকাশির লম্বা খাল। ওখানে একটা বাঁশের মাচা আছে। একদিন বিকেলে তার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিল পাগলা কিসিমের সেই মানুষটাকে। উঠোনের গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে নবীতুননেসাকে ডেকে দেখিয়েছিল দৌলতি। নবীতুননেসার চিনতে ভুল হয়নি। হ্যাঁ, অবিকল সেই সুরত।

সেদিন রাতে দৌলতিকে বুকে জড়িয়ে উঠোনে পাটি পেতে শুয়ে ছিল নবীতুননেসা। ফুরফুরে বাতাস বইছে। অনেক দূরের মঠের কাছ থেকে টিয়া পাখির ঝাঁকের ট্যাঁ ট্যাঁ আওয়াজ উঠছে সজোরে। একটা দপদপানি উঠছে বুঝি রথখোলার মাঠের মধ্যে। শোঁ শোঁ বাতাসের সাথে ঘরের পেছনের ছনগাছের ঝোপে মচমচে খসখসে আওয়াজ উঠল থেমে থেমে। এদিকে চৈত্রের চরাচরজুড়ে ধবল জোছনার বাধাহীন ছোটাছুটি। একটা মানুষের ছায়া আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে কেমন থমকে গেল নবীতুননেসার ঘরের কোণে। শরীর পায় না ছায়াটা, তাই বোঝাও যায় না ঠিকমতো।

নবীতুননেসার মন বলছে কে এসেছে। কোহিনূর যেমনটি বলেছিল, আম্মা, একদিন হে আইব দৌলতির কাছে। সমস্ত বুঝ আপনার। আমার কিছু কওনের নাই।

ঘরের কোণে কেডা? কেডা খাড়াইয়া রইছস? ছায়া দেখা যায় কিন্তু রাও করস না ক্যারে? চেঁচিয়ে ওঠে নবীতুননেসা।

ধামসোনা আর রথখোলার মাঠ ছাপিয়ে চৈত্রের বাতাসের দপদপানি ছোটে ঘোড়ার খুরের শব্দের মতো। বাতাসের সাথে পাল্লা দিয়ে জোছনার খলবলানি ওঠে অবিরাম। আসমানের আদমসুরত নিচে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু জোছনার আলোয় উঠোনের কোনায় কোনও সুরত দেখা যায় না। সেদিক থেকে কেবল ভাঙা ভাঙা ডাক আসে, চাচী… আমি… ইব্রাহিম…।

চিত্রণ: মুনির হোসেন
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »