
বিশেষ নিবন্ধ: সিদ্ধার্থ মজুমদার
‘একাকী মহিলা যাঁর কোনও জীবিকা ছিল না’ প্রত্যেক মেয়ের স্বপ্নপূরণ আর সাফল্যের যাত্রাপথে দু’ধারে লেখা থাকে অজস্র টানাপড়েনের অন্ধকার কাহিনি। অনেক বঞ্চনা, অবজ্ঞা আর বৈষম্যের

‘একাকী মহিলা যাঁর কোনও জীবিকা ছিল না’ প্রত্যেক মেয়ের স্বপ্নপূরণ আর সাফল্যের যাত্রাপথে দু’ধারে লেখা থাকে অজস্র টানাপড়েনের অন্ধকার কাহিনি। অনেক বঞ্চনা, অবজ্ঞা আর বৈষম্যের

India’s First Bengali Daily Journal. যুগান্তকারী একটি আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই কীর্তিমান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিকের নাম। জীবনের আশ্চর্যময় যে অণু, যার পোশাকি নাম ‘ডিএনএ’— তার আণবিক গঠন উন্মোচনের অন্যতম একজন নায়ক তিনি। আমরা আজ সকলেই জানি, ‘ডিএনএ’-র মধ্যেই থাকে বংশগতির উপাদান, যা জীবনের মূল চাবিকাঠি। গগনচুম্বী মাইলফলক তাঁদের এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞানের দুনিয়ায় আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। ১৯৫৩ সালের ২৫-এ এপ্রিল ‘নেচার’ গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয় সেই দিকপ্লাবী আবিষ্কারের ফলাফল।

India’s First Bengali Daily Journal. ১৯৬৩ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন বিদ্যা নিয়ে ডি.এসসি ডিগ্রি পান। হারভার্ড মেডিক্যাল স্কুলে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছেন। স্বচ্ছন্দে বিদেশে গবেষণা করে জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন তিনি। কিন্তু না, নিজের দেশে বিজ্ঞান গবেষণার কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ফিরে আসেন দেশে। দেশে ফিরে এলেন ঠিকই, কিন্তু তখন তাঁর হাতে কোনও চাকরি ছিল না। এখানে আর-একটা কথা উল্লেখ করতে হয়, অমরনাথের বিশ্বাসে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল মার্ক্সীয় জীবনবোধ এবং আদর্শ।

India’s First Bengali Daily Journal. প্রথম বায়োলজিক্যাল অণুর ত্রিমাত্রিক গঠন জানা সম্ভব হয়েছে পেরুৎজ-এর হাত ধরে। প্রোটিন কেমিস্ট্রি গবেষণায় তথা আণবিক জীববিদ্যায় তাঁর যুগান্তকারী আবিষ্কার নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। সেই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬২ সালে রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান পেরুৎজ। পেরুৎজের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার পান তাঁর সহযোগী গবেষক ব্রিটিশ বায়োকেমিস্ট জন কেন্ড্রু-ও। প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক আণবিক গঠন আবিষ্কারের ফলেই পরবর্তী সময়ে প্রোটিনের একাধিক কার্যকারিতা জানা সম্ভব হয়েছে।

India’s First Bengali Daily Journal. যুদ্ধ চলছিল। তাই ব্যাসেলের রাস্তায় যাতায়াত করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বহাল ছিল। সুতরাং সেদিন বাইসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। সেই সাইকেল-যাত্রায় তাঁর চেতনার ওপর যে অভূতপূর্ব শক্তিশালী প্রভাবের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন হফম্যান, যাকে বলা চলে সাইকেডেলিক অভিযাত্রা। LSD-র প্রভাবে হফম্যানের চেতনার ওপর সেই যে অভূতপূর্ব প্রভাবের অভিজ্ঞতা— সেখান থেকেই পৃথিবীতে নিয়ে এল এক নতুন যুগ। হফম্যানের স্মরণীয় সেই অভিজ্ঞতার ১৯-এ এপ্রিল দিনটি চিহ্নিত হয়ে গেল ‘বাইসাইকেল ডে’ হিসেবে।

India’s First Bengali Daily Journal. ওয়ার্ডসওয়ার্থের বাড়িতে কবি-সাহিত্যিকদের যাতায়াত থাকবে সেটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু হাম্ফ্রি ডেভি-র মত একজন উদ্ভাবক এবং কিংবদন্তি রসায়নবিদ ও দার্শনিকের কী করে কবির সঙ্গে বন্ধুত্ব হল? শুধু কি কবির বাড়িতে যাতায়াতই? পরবর্তী সময়ে দেখা গিয়েছে, ডোভ কটেজে বিখ্যাত ইলেক্ট্রোকেমিস্ট স্যার হাম্ফ্রি ডেভির (১৭৭৮–১৮২৯) তেলরঙে আঁকা একটি পোর্টেট রয়েছে! কবির বাড়িতে বিজ্ঞানীর ছবি! আশ্চর্য লাগলেও এটাই সত্যি।

India’s First Bengali Daily Journal. আধুনিক ওষুধ, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রাণরসায়ন বিদ্যার ভিত্তিই হল মেনটেনের আবিষ্কার। তবু মেনটেন সম্পর্কে আজও কাউকে জিজ্ঞেস করলে, অন্য প্রান্ত থেকে পাল্টা প্রশ্ন আসে: ‘কে তিনি?’ আসলে, সেই অগ্র্গামী গবেষক-চিকিৎসকের কথা সকলের বিস্মৃতির অন্ধকার আড়ালে চলে গিয়েছে। তবে ১৯৯৮-এ মেনটেনকে মরণোত্তর ‘কানাডিয়ান মেডিক্যাল হল অফ ফেম’ প্রদান করা হয়, তা সম্ভবত এই বিস্ময়কর প্রতিভাময়ীকে বিস্মরণের কিছুটা পাপস্খালনের চেষ্টা।

India’s First Bengali Daily Journal. কোপার্নিকাসের যুগান্তকারী বইটি প্রথম প্রকাশের ৭৩ বছর পরে, ১৬১৬ সালের ৫ মার্চ বইটি নিষিদ্ধ করে ক্যাথলিক চার্চ। পাদ্রীদের হুকুমে কোপার্নিকাসের সমস্ত বই পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সমস্ত চিহ্ন মুছে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুর তিনশ বছর পরে প্রাগ-এ তাঁর বইয়ের মূল পাণ্ডুলিপিটির হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। আজ সেই অন্ধকার আর কলঙ্কিত সেই দিন। যেদিন ধর্মের অসুররা, বিজ্ঞানের রাস্তা আটকেই শুধু দাঁড়ায়নি, বিজ্ঞান আর সত্যের ওপর চরম আঘাত নিয়ে এসেছিল। রক্তাক্ত করেছিল সত্য আর বিজ্ঞানকে।

India’s First Bengali Daily Journal. গ্রাহামের মৃত্যুর পরে তাঁর সম্মানে শব্দ (সাউন্ড)-এর একক হয় ‘বেল’। আর ‘বেল’-এর এক দশমাংশ মাত্রাকে বলা হয়ে থাকে ‘ডেসিবেল’। ‘নয়েজ’-এর মাত্রা হিসেবে এই ‘ডেসিবেল’ একক আমাদের সকলের কাছে পরিচিত। মৃত্যুর দুদিন পরে যেদিন তাঁর দেহ শায়িত করা হয়েছিল মাটির মধ্যে, সেদিন উত্তর আমেরিকা ও কানাডার সমস্ত টেলিফোন এক মিনিটের জন্যে বন্ধ করে রাখা হয় গ্রাহামের সম্মানে। ষাট হাজার টেলিফোন অপারেটর কাজের জায়গায় কোনও ফোন সংযোগের কাজ না করে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।

India’s First Bengali Daily Journal. সূর্যই যে সৌরজগতের কেন্দ্র— কোপার্নিকাসের এই তত্ত্বকে সমর্থন করেছিলেন ব্রুনো। বৈজ্ঞানিক সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে প্রচলিত ধর্মমত ও সংস্কারের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। ধর্মীয় নেতারা মেনে নিতে পারেননি তাঁর এই বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ। ঈশ্বরের বিধানকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এই অভিযোগে পাদ্রীদের রোষের আগুনে কী নির্মম পরিণতি হয়েছিল ব্রুনোর, তা আজ আমাদের স্মরণ করার দিন।

India’s First Bengali Daily Journal. বিজ্ঞানের জগতে যাঁর এই বিশাল মাপের অবদান, যাঁর সমস্ত ধ্যানজ্ঞানে শুধুই রসায়ন, তাঁর জীবনেও উথালপাথাল করে দেওয়ার মত প্রেম আসা সম্ভব? সত্যিই এ কথা ঠিক মেলানো যায় না। যাঁর ছবি দেখে, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তাঁর জীবন হবে রসকষহীন আত্মভোলা একজন মানুষের। যখন জানতে পারি তিনিও আবেগে তাড়িত হন, তিনিও প্রেমে পড়েন, তখন আশ্চর্য লাগে বৈকি! প্রেমের জোয়ারে বিজ্ঞানী দিমিত্রির জীবন কীভাবে ভাসিয়ে, ডুবিয়ে একেবারে পাগল করে তুলেছিল, এবার সেই কথা বলব।

India’s First Bengali Daily Journal. পোখরানে সফলভাবে পারমাণবিক পরীক্ষার পরে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সর্বপ্রথম বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল, ‘বুদ্ধা ইজ স্মাইলিং’, বুদ্ধ হাসছেন। আর প্রধানমন্ত্রীকে এই বার্তাটি যিনি দিয়েছিলেন তিনি ভাবা রিসার্চ সেন্টারের তৎকালীন অধিকর্তা রাজা রামান্না। ভারতের প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষার সাফল্য দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। যার ফলে বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে উঠে আসে ভারতের নাম৷ এই মিশনের পোশাকি নাম ছিল ‘পোখরান-১’।

India’s First Bengali Daily Magazine. মাইক্রোওয়েভ এবং অ্যান্টেনা ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণায় রাজেশ্বরী অন্যতম পথিকৃৎ। এই বিভাগে তিনি রেখে গেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর উদ্ভাবিত একাধিক প্রযুক্তি আজও প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ব্যবহৃত হয়। উপগ্রহ কিংবা বিমানের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘অ্যান্টেনা’ বিষয়ক গবেষণা ও উদ্ভাবনার জন্যে এবং বিশেষজ্ঞ হিসেবে রাজেশ্বরী একটি সুপরিচিত নাম। ভারতবর্ষে মহিলা বিজ্ঞানী এবং ইঞ্জিনিয়ারদের পথচলার যে রাস্তা, তা মসৃণ করে তুলেছিলেন তিনিই।

India’s First Bengali Daily Magazine. জেমস ওয়াটের মৃত্যুর দুশো বছর পেরিয়ে এসেছি। এই ব্রিটিশ ‘ম্যাথেমেটিক্যাল-ইন্সট্রুমেন্ট-মেকার’ ও ইঞ্জিনিয়ারকে আজ অন্তত একবার মনে করা দরকার। আরও একাধিক মেশিনারি উদ্ভাবনের সঙ্গে স্টিম ইঞ্জিনের আমূল পরিবর্তন করে নতুন রূপ দিয়েছেন তিনি। ‘লেটেন্ট-হিট’-এর (লীন তাপ) ধারণা দিয়েছেন উদ্ভাবনকারী ও ইঞ্জিনিয়ার জেমস ওয়াট। তাঁর উদ্ভাবনার সময়কাল থেকেই শিল্পবিপ্লবের শুরু হিসেবে ধরা হয় এবং ‘Father of the industrial revolution’ হিসেবে তাঁকে মান্যতা দেওয়া হয়।

India’s First Bengali Daily Magazine. বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, যে মানুষটি ‘ব্ল্যাকহোল’ সম্পর্কে বা ‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ড’ সম্পর্কে আমাদের সমস্ত ধারণা বদলে দিয়েছিলেন, সেই হকিং স্কুলে একদম সাধারণ মানের ছাত্র ছিলেন এবং পরীক্ষাতে ভাল নম্বরও পাননি কখনও। এমনকি আট বছর বয়স পর্যন্ত ভাল করে পড়তে পর্যন্ত পারতেন না তিনি। তাঁর বৈপ্লবিক গবেষণার ফলাফল উপহার দিয়েছেন, তবু নোবেল পুরস্কারের জন্যে কখনও নমিনেটেড হয়নি তাঁর নাম।

India’s First Bengali Daily Magazine. তাঁর নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে একটি ছবি ফুটে ওঠে। ঘোড়ার পিঠে বসা একজন নারী, যিনি তাঁর শরীর ঢেকে রেখেছেন তাঁর খোলা চুলে। পনেরোশো শতকের আঁকা ছবি, ভাস্কর্য, কবিতা, গদ্য বা আধুনিক চকোলেট প্যাকেটের ওপরে লেডি গোডিভার ঘোড়ার পিঠে বসা সেই ছবি মানুষের কল্পনায় জীবন্ত করে রেখেছে বহু শতক ধরে। কে ছিলেন এই লেডি গোডিভা? কী জন্যে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন? সেই কথা-ই বলব এই লেখায়। তাঁর কাহিনিকে এককথায় ‘ন্যাকেড ট্রুথ অ্যান্ড দ্য ন্যুড রাইড’ বলা যেতে পারে।

India’s First Bengali Daily Magazine. মাত্র তিরিশ বছরের স্বল্প জীবন সিলভিয়া প্লাথের। ১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, জীবনের কাছে হেরে গিয়ে নিজের ইচ্ছায় তিনি বেছে নিয়েছিলেন মৃত্যুকে। লক্ষ্য করা যায়, আত্মহননকারী যদি মহিলা হয়, সেক্ষেত্রে মানসিক ভারসাম্যহীন, হতাশাগ্রস্ত, স্যাডিস্ট ইত্যাদি শব্দের দিয়ে আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় মেধা, সৃজনশীলতা, কবি বা শিল্পীসত্ত্বা, কীর্তি ইত্যাদি গুণ ও প্রতিভার পরিচয়গুলি। সিলভিয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হল না। তাঁর ‘প্রতিভাময়ী’ পরিচয়টি ‘হতাশাগ্রস্ত’ এই জীবনচর্যার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে বার বার।

India’s First Bengali Daily Magazine. তুমি কি দেখেছ, ভূমধ্যসাগর জলে, অন্ধকারনিকষে তরঙ্গবিক্ষোভ?/ কীভাবে নিস্তরঙ্গ মাঝমাঠ ঘাসে ‘মধ্যরাত’ নেমে আসে,/ দ্রুতচারী খল, ছলেবলে ভেঙে দেয় মেরাপ-ছাদন,/ তেড়ে আসে ভয়ের পিস্তল… ছুড়ে ফ্যালে এক গলা জলে।// জানি, এইসব তিমির-মধ্যমা দ্যাখোনি কখনও তুমি…// ‘মধ্যমা’ মানে নিরাপদ নয় শুধু। হতে পারে মিথ্যাচরণ।/ চরাচর জুড়ে অপরাহ্ন মেঘের আড়ালে অনুক্ষণ ওঁৎ পেতে থাকে ক্রূর,/ উদ্বাহু পিশাচিনী মধ্যরাত হলে নেচে ওঠে কপট মুদ্রায়।

India’s First Bengali Daily Magazine. জুপিটারের প্রেমিকাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ‘আইয়ো’। সেই আইয়ো-র প্রেমে পড়ে তখন হাবুডুবু খাচ্ছে জুপিটার। স্ত্রীকে এড়িয়ে প্রেম করার জন্যে এইসময় সে বেছে নিয়েছে একটি দারুণ কৌশল। স্ত্রী যাতে চিনতে না পারে, সেজন্যে জুপিটার কালো মেঘের আদলে নিজের রূপ পরিবর্তন করে নিত। এইভাবে নিজেকে মেঘের আড়ালে রেখে, স্ত্রী জুনোকে লুকিয়ে আইয়োর সঙ্গে মিলিত হত জুপিটার।

India’s First Bengali Daily Magazine. পদার্থবিজ্ঞানে ‘থার্মাল আয়োনাইজেশন’ তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিখ্যাত মেঘনাদ বিশ্ববন্দিত। শুধু সমীকরণ আবিষ্কারেই কাজ শেষ হয়ে যায়নি, পরীক্ষাগারে সেসব কিছু নির্ণয় করে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন ড. সাহা। তাঁর আবিষ্কৃত ‘সাহা আয়োনাইজেশন সমীকরণ’ নক্ষত্রের রাসায়নিক ও ভৌত ধর্মাবলি ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়। পরমাণু বিজ্ঞান, আয়ন মণ্ডল, পঞ্জিকা সংস্কার, বন্যা প্রতিরোধ ও নদী পরিকল্পনা বিষয়ে গবেষণা করেন। তাপীয় আয়নবাদ (Thermal Ionaisation) সংক্রান্ত তত্ত্ব উদ্ভাবন করে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে মেঘনাদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।

এককালে পর্তুগিজ-মগরা আমাদের নিম্নবঙ্গ থেকে দাস সংগ্রহ করত মালয়-বার্মাতে শ্রমিকের কাজের জন্য, ইংরেজ সাহেবরাও কিনত গোলাম। আজ আবার মানুষ সস্তা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসকের দরকার নেই। খোলাবাজারে নিজেরাই নিজেদের কিনছে দেশের মানুষ। মানুষ বিক্রির মেলা বসে এখন গ্রামগঞ্জের হাটে হাটে।

গ্রামশি-বর্ণিত ও পরবর্তীতে বহুলচর্চিত ‘সাব অলটার্ন’-এর আগেই মহাশ্বেতার লেখায় ব্রাত্যজনসংহিতা মূর্ত; ‘অরণ্যের অধিকার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৭-এ। আর সাব অলটার্ন-তত্ত্ব প্রথম দানা বাঁধছে ১৯৮২-তে জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে, রণজিৎ গুহ, গৌতম ভদ্র, শাহেদ আমিন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্কলন প্রকাশের মাধ্যমে। অবশ্য তার বহু আগেই ইতিহাস রচনায় সাব অলটার্ন চেতনায় স্থিতধী দেখা গেছে রবীন্দ্রনাথকে। স্বামী বিবেকানন্দ মূর্খ, চণ্ডাল ও দরিদ্র ভারতবাসীর মাহাত্ম্য বুঝিয়ে গেছেন, আর বিভূতিভূষণকেও আমরা সামগ্রিক বিচারে প্রান্তিক মানুষের কথাকার রূপেই পাই। কিন্তু মহাশ্বেতা আরও ব্যাপক, গভীর, তন্ময়, নিবিড়, ও নিঃসন্দেহে দলিত জনতার কথাকার।

ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়ে ও বধূ হয়ে তিনি কিনা মুসলমান ঘরামি আমজাদকে খেতে দিয়ে তার এঁটোকাটা নিজের হাতে পরিষ্কার করেন! বিধর্মী খ্রিস্টান নিবেদিতার সঙ্গে বসে আহার করেন! আর তাঁর চেয়েও বড় কথা, সে যুগের বিচারে বিপ্লবাত্মক ঘটনা, স্বামীর মৃত্যুর পর যে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বেঁচেছিলেন তিনি, বিধবাবিবাহের প্রবর্তক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-ও যা কল্পনায় আনতে গেলে নির্ঘাত মূর্ছা যেতেন, লালপেড়ে শাড়ি আর সোনার বালায় ভূষিতা থাকতেন তিনি! আজকের উচ্চশিক্ষিত সমাজেও ক’জন পারবেন এ-কাজ করতে, বা নিদেন এ কাজকে সমর্থন করতে?

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।