
ছাত্র-যুব-মজুরদের মরণপণ লড়াই: কলকাতার রশিদ আলি দিবসের শহিদেরা
১৯৪৬ সালের ১১-১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার রাজপথে লেখা হয়েছিল ছাত্র-যুব-মজুরদের সংগ্রামের এক ‘নয়া ইতিহাস’। ইতিহাসে এই সংগ্রাম রশিদ আলি দিবসের সংগ্রাম নামেই পরিচিত । নেতাজি সুভাষচন্দ্র

১৯৪৬ সালের ১১-১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার রাজপথে লেখা হয়েছিল ছাত্র-যুব-মজুরদের সংগ্রামের এক ‘নয়া ইতিহাস’। ইতিহাসে এই সংগ্রাম রশিদ আলি দিবসের সংগ্রাম নামেই পরিচিত । নেতাজি সুভাষচন্দ্র

India’s First Bengali Daily Magazine. বৃদ্ধ বড়লোকেরা বোকা নন। কিন্তু তাদের অনেকের মধ্যেই ভোগের লোভ অতি প্রবল। বয়েস বাড়ছে, শরীর ভাঙছে। প্রচুর টাকা থাকা সত্ত্বেও এই বয়েসে আর সুখভোগ সম্ভব হচ্ছে না। এই যন্ত্রণা তাদের অনেককেই কুরে কুরে খায়। তবে আর এত টাকা করে লাভ কী হল? এদের মনের এমন অবস্থার খবর সুনীল-নির্মলের মত ব্রিটিশ ঠগের কাছে অজানা নয়। তারা টোপ ফেলে। বৃদ্ধ বড়লোকের কেউ কেউ জ্যাকপটের টিকিট কাটার মত একটা জুয়া খেলেন। পরের জন্মে গরিব হয়ে জন্মানোর ভয় তো তাদের বিলক্ষণ আছে।

India’s First Bengali Story Portal. গত দেড়শ বছর ধরে ভারতের রাজনীতিতে— ধর্ম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, ওতে আঘাত দেওয়া যাবে না ইত্যাদি যুক্তি দেখিয়ে— ধর্মকে আতুতুতু করে রাখা হয়েছে। ফলাফল প্রতি ২৫-৩০ বছর অন্তর দেশ দুটো ভাগে নিয়মিত বিভক্ত হয়েছে। কখনও দেশভাগ কখনও দাঙ্গা। ধর্মবিশ্বাসকে নিও-নাটাল একটা বিশ্বাস ধরে চলতে গিয়ে সংখ্যাগুরুর ফ্যাসিস্ট মনোভাব আর সংখ্যালঘুর উগ্রপন্থার মনোভাবকেই কেবল উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। “ধর্ম হচ্ছে জনগণের আফিম” এই বাক্যর ভুল ব্যাখ্যা সমস্যা আরও বাড়িয়েছে।

India’s First Bengali Story Portal. শিক্ষা কমিশন কোনও ওষুধের কোম্পানি নয় যে অঙ্ক ইংরেজি শেখার বড়ি তৈরি করবে। শিক্ষক-শিক্ষিকরাও তো নার্স নন যে, সেই বড়ি ছাত্রছাত্রীদের খাইয়ে দেবেন। শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনও বিষয় বুঝিয়ে দিতে পারেন, কী করতে হবে সেটা বলে দিতে পারেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের পরিশ্রম করেই শিখতে হবে। কোনও বিকল্প নেই। না খাটলে শিখতে পারবে না। নামতা বা বানানের মেড ইজি হয় না। খেটেই সেসব শিখতে হয়, মনে রাখার মত কষ্ট করতেই হবে।

India’s First Bengali Story Portal. পরাধীন ফরাসি-ভারতের মানুষদের সংগ্রামের কথা ভারতের আধুনিক যুগের ইতিহাসে এক উপেক্ষিত অধ্যায়। অথচ ফরাসি অধিকৃত চন্দননগর ছিল ভারতের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম ঘাঁটি আর ভারতে বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নের এক অন্যতম কেন্দ্র ছিল ফরাসি অধিকৃত পণ্ডিচেরী। ১৯৩৬ সালে কমিউনিস্ট নেতা বরদারাজুলু কৈলাস সুব্বিআ-র নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে পণ্ডিচেরীর কাপড়কলের মজুররা এশিয়ার মধ্যে প্রথম আট ঘণ্টা কাজের অধিকার আদায় করেন। এই আন্দোলনে শহিদ হয়েছিলেন ১২ জন মজুর।

India’s First Bengali Story Portal. বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য বা শূদ্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। নামের পরে পদবি ছাড়া জাত আর কোত্থাও নেই। চারবর্ণ ছাড়াও ভারতীয়দের রক্তে মিশে আছে ম্লেচ্ছ আর যবনদের রক্তও। বুখারা সমরখন্দ পারস্য পর্তুগাল ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের রক্তও যে ভারতীয়দের মধ্যে মিশে নেই, এমন কথা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবেন না। অথচ জাতপাত নিয়ে এখানে প্রতিদিন কী নিষ্ঠুরতা। একটি দলিত মেয়ের ধর্ষণ হলে সে নীচুজাত অর্থাৎ ধর্ষণের যোগ্য বলে অভিহিত করা হয়। শরীরের সব বর্ণর মিশ্রিত রক্ত নিয়েও ব্রাহ্মণ পদবির জোরে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেন।

রতন ঘোষ দীর্ঘদিন বড়বাজারের মারোয়ারিদের গদিতে অর্ডার সাপ্লাই করেছেন। তিনি দুম করে কেনাবেচার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেন না। দু-চারদিন অপেক্ষা করেন। ফলে চুপ করে রইলেন। চক্রবর্তীমশাই বিধাতার বিধানে বিশ্বাসী। যৌবন পুনরুদ্ধারের ম্লেচ্ছ উপায়ের প্রতি তাঁর কোনও মোহ নেই। তিনিও চুপ করেই রইলেন। আর দুজনেই অপেক্ষা করতে লাগলেন কখন হরিনাথ মুখুজ্জের মুখঝামটা এসে আছড়ে পড়ে এই গোলগালের ওপর। কিন্তু দুজনকে অবাক করে মুখুজ্জেবাবু বললেন, ‘কই দেখাও তো ভাই তোমার ওই ফো-তি।’

লড়াই তো নয় সমন্বয়ের/ লড়াই তো নয় সমঝোতার/ সব হারানো দলের লড়াই/ লড়াই চলে সব জেতার।// মুষ্টিমেয়র মুষ্টি থেকে/ লাগামখানি ছিঁড়ে/ মুক্তিপথের বার্তা দিলেন/ মেহন্নতির ভিড়ে।// ইতিহাসের নতুন ধারা/ অর্থনীতির আলো/ ব্যাখ্যা তো নয়, বদলানো চাই/ চিন্তাটা জমকালো।// দর্শনেরই রাজপ্রাসাদের/ সকল আগল খুলে/ অস্ত্র করে সর্বহারার/ হাতেই দিলেন তুলে।// তিনি মানেই প্রজ্ঞা এবং/ পুঁজির সর্বনাশ/ শ্রমিক শ্রেণির উত্তরণেই/ বেঁচে থাকেন মার্কস।

মূর্তি তুমি গুঁড়িয়ে দিতে পারো/ ইতিহাসকে পুড়িয়ে দিতে পারো/ বুলডোজারে শক্তি কত থাকে?/ মূর্তি যদি মনন জুড়ে থাকে?// দগ্ধডানায় উড়বে তবু পাখি/ বঞ্চিতদের মুক্তি যখন বাকি/ হাওয়ায় তুমি পাতলে পরে কান/ শুনতে পাবে লেনিন নামের গান।// স্পর্ধা তোমার আকাশ ছুঁতে পারে/ বাঁচতে পারো নিবিড় অন্ধকারে/ কিন্তু যাঁরা আলোর দিকে যায়/ লেনিন হাঁটেন তাঁদের পায়ে পায়।// মেহনতীর বুকের ভীষণ কাছে/ সে নাম তোমার দুঃস্বপ্নে বাঁচে/ পাথর কোঁদা মূর্তি শুধু নয়/ লেনিন মানে তোমার চোখে ভয়।

আধুনিক যুগের দেশ-বিদেশের পনেরোজন অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বকে নিয়ে পনেরোটি লেখা জড়ো করা হয়েছে দুই মলাটের মধ্যে। এই পনেরোজনের কাজের ক্ষেত্র আলাদা আলাদা, মতবাদও বিভিন্ন কিন্তু একটি বিষয়ে মিল আছে— এঁরা প্রত্যেকেই নিজের নিজের কাজের জগতে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অবদান রেখেছেন। বিভিন্ন মতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষদের নিয়ে আলাদা আলাদা আলোচনা থাকায় কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের দেখা উচিত— সেটি পরিষ্কার করে বুঝতে বইটি খুবই সহায়ক।

বাংলা সাহিত্যের স্বঘোষিত ইজারাদার বড় বড় প্রকাশনা সংস্থা আর মিডিয়া হাউসগুলো ভাড়াটে সাহিত্যিকদের নিয়ে বাংলা সাহিত্যকে কতটা এগোতে পারলেন? টাকার জোরে ‘সাহিত্য-ফাহিত্য কিনে নেওয়া’ যদি এতই সহজ হত তবে রামকৃষ্ণবাবুর মতে প্রতিবছর শারদীয় সংখ্যাগুলোতে একটা করে ‘গোরা’ কিংবা ‘কপালকুণ্ডলা’-র মানের উপন্যাস ছাপা হত। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রগতির কাজটা আসলে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন লেখক, অনেকগুলি ছোট পত্রিকা আর প্রকাশক।

প্রেততত্ত্ব বা স্পিরিচুয়ালিজম নিয়ে লেখক পরশুরামের ব্যুৎপত্তি ছিল। সায়েব এবং হিন্দু ভূত নিয়ে তাঁর কথাবার্তা একেবারে একশো শতাংশ ঠিক। কিন্তু নাস্তিক ভূতেদের সম্বন্ধে তিনি সঠিক লিখে যাননি। নাস্তিক মরলে নাইট্রোজেন অক্সিজেন এই সমস্ত গ্যাসে পরিণত হয় এমন ধারণা ঠিক নয়। নাস্তিক মরলে গোড়াতে ভূতই হয়। ওঁরা ভূত-ভগবান-শয়তান ইত্যাদি কিছুতেই বিশ্বাস করেন না বলে ভূত সমাজে ওঁরা অদ্ভুত নামেই পরিচিত।

রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য জোর দিয়েছেন মার্কসবাদ যে আসলে একটি পদ্ধতি সেটি প্রমাণ করার ওপরে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এমনকি মার্কস বা এঙ্গেলসের বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তোলা যায়। মনে রাখতে হবে যতই পণ্ডিত হোন না কেন মার্কস-এঙ্গেলস ছিলেন উনিশ শতকের মানুষ, বিজ্ঞান ইতিহাস অর্থনীতি নিয়ে সমসময়ের জ্ঞানই তাঁদের সম্বল। যত প্রতিভাশালীই হোন না কেন মানুষ তাঁর সমসময়ের নিগড়ে বাঁধা। মার্কস-এঙ্গেলসও তাই সবসময় অভ্রান্ত ছিলেন না।

পুঁজিবাদী গণমাধ্যম জনমানসে এই কথাটা গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করে যে, যে-কোনও বিক্ষোভ, আন্দোলন আর বিপ্লব হল শান্তির পরিপন্থী তাই অবশ্যই সেই পথ পরিত্যাজ্য। বাস্তব কিন্তু অন্যরকম। পুঁজিবাদ নিজের সর্বোচ্চ লাভের জন্যে দেশে দেশে যুদ্ধ লাগায়, দেশের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাধায়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আছিলায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর নামে দিব্বি সামরিক অভিযান চালানো হয়। তখন শান্তির কথা ওঠে না। কিন্তু মজুররা তাঁদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলনে নামলেই তা নাকি হয়ে ওঠে সর্বনাশী অশান্তি।

তাঁর সত্যাগ্রহর ব্যাপারে বাংলার ঋণের কথা গান্ধীজি নিজেও স্বীকার করেছেন। কিন্তু খুব পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের এই অবদানকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। প্রচারের চেষ্টা হয়েছে গান্ধীজিই প্রথম অহিংস অসহযোগের পথ ভারতে আমদানি করলেন। ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত তাই একবার আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, ‘হায় দুর্ভাগা বাঙ্গলা দেশ। রাজনীতিতে তাহার সমস্ত কর্ম, অপরের মৌলিক কৃতিত্ব বলিয়া ক্রমাগত জাহির করা হইতেছে এবং ভারতের রাজনীতিক ইতিহাস বইতে তাহার সমস্ত অবদান মুছিয়া ফেলা হইতেছে।’— এ কথা একেবারে একশো শতাংশ সত্যি।

বিকেল হলেই শশীবাবু সাইকেল নিয়ে চলে আসতেন বরো অফিসে। তার ডিউটি নেই। তবু আসতেন আর এসে আড্ডা জমাতেন কন্ট্রোলরুমে। কন্ট্রোলরুমে তখন একটিই টেলিফোন। বিকেলে যত টেলিফোন আসত শশীবাবুই শশব্যস্ত হয়ে ধরতেন। মূলত বড়কর্তাদের টেলিফোনই আসত। তাঁরা জানতেন ডিউটির পরেও শশী কন্ট্রোলরুম সামলাচ্ছেন। আসলে শশীবাবু যেতেন আড্ডা মারতে। নানান সাধকদের নানান আশ্চর্য গল্প জানতেন তিনি।

ব্রাহ্মণ্য ধর্মে তিনটে জল-অচল কামরা আছে, কর্মকাণ্ড, জ্ঞানকাণ্ড আর ভক্তি। ও তিনে মেলে না। কিন্তু ‘গীতা’-য় তিনটেই স্বীকৃত। বেদস্তুতি চান? ‘গীতা’-য় পাবেন। বেদনিন্দা চাই? তা-ও ‘গীতা’-য় আছে। ‘গীতা’ অনুযায়ী চার ধরনের লোক কৃষ্ণর কাছে আসতে পারেন, আর্ত (বিপদগ্রস্ত), জিজ্ঞাসু (তত্ত্বজ্ঞান-ইচ্ছুক), অর্থার্থী (টাকাকড়ি পেতে চান) আর, জ্ঞানী। কেন সবেতেই এমন মিলিঝুলির বন্দোবস্ত রয়েছে ‘গীতা’-তে? যাগযজ্ঞ আর ব্রহ্মচিন্তা দুই-ই জায়েজ। জ্ঞানী আর টাকাকড়ির প্রত্যাশীর মধ্যে কোনও ভেদ নেই।

আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও এইসব ক্ষেত্রে সাম্যনীতি প্রয়োগের কথা বলে লেখা এই বই। অবশ্যই সীমাবদ্ধতা অনেক, কিন্তু তাতে লেখকের উদ্দেশ্যের কোনও হানি হয় না। বঙ্কিমচন্দ্র নিজের দেশের মানুষের আর্থিক দুর্দশা এবং অশিক্ষা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। একটি তত্ত্বে নিজের মত করে বিশ্বাস করতেন, দেশের মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা না বাড়লে দুর্দশার হাত থেকে মুক্তি নেই।

চার্বাক দর্শনের কোনও প্রামাণ্যগ্রন্থ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে এই দর্শনের একটি মূলগ্রন্থ ও অন্তত তিনটি টীকার অস্তিত্ব ছিল। চার্বাক দর্শনের কথা অন্যান্য দার্শনিকদের লেখা থেকেই জানা যায়। তাঁরা সকলেই অবশ্য চার্বাকদের প্রতিপক্ষ। খণ্ডন করার জন্যে চার্বাকদের মতামত আগে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এবং অবশ্যই খণ্ডনের সুবিধের জন্যে মূল চার্বাকমতগুলোকে হামেশাই বিকৃত করাও হয়েছে।

‘গালিলেও-র জীবন’ কালজয়ী নাটক হিসেবে চিহ্নিত হল কিন্তু নাট্যকারের উদ্দেশ্য হল সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এর কারণ কী? সে নিয়েই বইটিতে এসেছে নানান আগ্রহ-জাগানো আলোচনা। ব্রেশট্ নিজেই বিভিন্ন দৃশ্যে গালিলেওকে এমনভাবে গড়েছিলেন যে পরে স্রেফ ভাল খাওয়া-পরার লোভেই গালিলেও আপস করলেন সে-কথা বলতে চাইলেও দর্শকমনে গালিলেওকে নিয়ে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হল না। এপিক থিয়েটারের জনক দর্শককে ভাবাতে চাইলেন কিন্তু নাটক দেখে দর্শক ভেসে গেলেন সমানুভূতির বন্যায়।

দরজায় আটকানো কাগজটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল বিজয়া। ওসব আইনের বুলি তার মুখস্থ। নতুন করে আর শেখার কিছু নেই। এরপর, লিফটের দিকে না গিয়ে সে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে উঠে বসল গাড়িতে। চোখের সামনে পরপর ভেসে উঠছে স্মৃতির জলছবি। নিজের সুখের ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ‘ডিফল্ট ইএমআই’-এর নোটিস পড়তে মনের জোর চাই। অনেক কষ্ট করে সে দৃশ্য দেখে নিচে নেমে আসতে হল বিজয়াকে।

তালিবান। জঙ্গিগোষ্ঠী বলেই দুনিয়াজোড়া ডাক। আফগানিস্তানের ঊষর মরুভূমি, সশস্ত্র যোদ্ধা চলেছে হননের উদ্দেশ্যে। মানে, স্বাধীন হতে… দিনান্তে তাঁদের কেউ কেউ কবিতা লিখতেন। ২০১২ সালে লন্ডনের প্রকাশনা C. Hurst & Co Publishers Ltd প্রথম সংকলন প্রকাশ করে ‘Poetry of the Taliban’। সেই সম্ভার থেকে নির্বাচিত তিনটি কবিতার অনুবাদ।

দূর পাহাড়ের গায়ে ডানা মেলে/ বসে আছে একটুকরো মেঘ। বৈরাগী প্রজাপতি।/ সন্ন্যাস-মৌনতা ভেঙে যে পাহাড় একদিন/ অশ্রাব্য-মুখর হবে, ছল-কোলাহলে ভেসে যাবে তার/ ভার্জিন-ফুলগোছা, হয়তো বা কোনও খরস্রোতা/ শুকিয়ে শুকিয়ে হবে কাঠ,/ অনভিপ্রেত প্রত্যয়-অসদ্গতি!

আরও উপযুক্ত, আরও আরও সাশ্রয়ী, এসবের টানে প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে চলে। সময়ের উদ্বর্তনে পুরনো সে-সব আলোর অনেকেই আজ আর নেই। নিয়ন আলো কিন্তু যাই যাই করে আজও পুরোপুরি যেতে পারেনি। এই এলইডি আলোর দাপটের সময়কালেও।

দুটো জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম তাঁর। এক, তিনি কথা বলার সময় আত্মমগ্ন থাকতেন। কারও দিকে তাকিয়ে কথা বলতেন না। তাকাতেন হয় সুদূরে, আর নয়তো চোখ বুজে কথা বলতেন। আর দ্বিতীয় যা, তা হল ঋত্বিকের চোখ। এত উজ্জ্বল আর মরমী, এক-ই সঙ্গে জ্যোৎস্নাপ্লাবিত আর লুব্ধক নক্ষত্রের মতো দীপ্ত, তা আর কারও মধ্যে দেখিনি। সত্যজিৎ-মৃণালের মধ্যেও না, যদিও ঘটনাচক্রে ওই দু’জনের সঙ্গে আমার মোলাকাত হয়েছিল অনেক বেশি।

ঋত্বিক ঘটকের জীবনের প্রথম বাইশ বছর (১৯২৫-১৯৪৭) কেটেছে মূলত পূর্ব-বাংলায়, যা এখনকার বাংলাদেশ। তাঁর জন্ম ঢাকার ২,ঋষিকেশ দাস রোডের ঝুলন বাড়িতে। ১৯৪৭, অর্থাৎ দেশভাগ ও স্বাধীনতা প্রাপ্তির আগে পর্যন্ত তিনি মূলত পূর্ব-বাংলায় কাটান। আমরা দেখব, পূর্ব-বাংলা যেমন রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল, সে-দেশ, সে-ভূমির প্রভাব তদনুরূপ ঋত্বিকেরও পড়েছিল তাঁর চলচ্চিত্রে।