Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

জাতপাতের বিরোধিতায় বঙ্কিমচন্দ্রের ‘সাম্য’

মাঝেমধ্যেই ট্রায়াল চলে। উনিশ শতকে বাংলার নবজাগরণের কীর্তিমান পুরুষদের বিচার করেন কয়েকজন ‘ঘোরতর সত্যানুসন্ধানী’। ওই কীর্তিমানেরা বিরাট উঁচু, আমরা নেহাতই বামন (খর্বট, খল্লাটদের মত)। তাঁদের উচ্চতার ধারেকাছে যাওয়া সম্ভব নয়, কারণ তা পরিশ্রমসাধ্য। তাই সেই কীর্তিমানদের টেনে নামানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা চলে। না, নীচু তাঁরা হন না, আমরাই আরও ছোট হই। তাঁদের কীর্তির শ্বেতপাথরের মিনারে আমাদের ফেলা পানের পিক ইতরবিশেষ ঘটায় না।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) ছিলেন সেই কীর্তিমানদের একজন। সুতরাং তাঁরও বিচার হয়েছে। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ।

১. তাঁর প্রথম অপরাধ সম্ভবত তিনি ব্রাহ্মণসন্তান (সুতরাং স্বভাবতই ব্রাহ্মণ্যবাদী হবেন),
২. তিনি ডেপুটির চাকরি করতেন (ঔপনিবেশিক শোষণের সহায়ক ছিলেন তাই),
৩. ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক (‘নেড়ে’ ইত্যাদি শব্দ লিখেছেন),
৪. ধর্ম ও ভাববাদী নানা লেখাপত্র লিখেছেন।

বঙ্কিমচন্দ্রর বিরাট অবদানের তুলনায় এই সমস্ত অভিযোগ নেহাতই তুরুশ্চু। বঙ্কিমচন্দ্র শুধু বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের অন্যতম জনকই ছিলেন না, বাংলায় বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির প্রথম যুগের একজন লেখক এবং বাংলায় প্রগতিশীল লেখাপত্রর একজন পথিকৃৎ। হ্যাঁ বঙ্কিমচন্দ্র, যাঁকে প্রতিক্রিয়াশীলের তকমা লাগাতে পারলেই আমরা খুশি হই।

বঙ্কিমের ‘সাম্য’ বইটি বেরোয় ১৮৭৯ সালে। পাঁচটি পরিচ্ছেদ। সেগুলি আলাদা আলাদা করে ‘সাম্য’ ও ‘বঙ্গদেশের কৃষক’ নামে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় বেরিয়েছিল। আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও এইসব ক্ষেত্রে সাম্যনীতি প্রয়োগের কথা বলে লেখা এই বই। অবশ্যই সীমাবদ্ধতা অনেক, কিন্তু তাতে লেখকের উদ্দেশ্যের কোনও হানি হয় না। বঙ্কিমচন্দ্র নিজের দেশের মানুষের আর্থিক দুর্দশা এবং অশিক্ষা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। একটি তত্ত্বে নিজের মত করে বিশ্বাস করতেন, দেশের মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা না বাড়লে দুর্দশার হাত থেকে মুক্তি নেই।

‘সাম্য’-র ভূমিকায় লিখেছিলেন, ‘স্বদেশীয় সাধারণ জনগণকে এই তত্ত্বটি [সাম্যতত্ত্ব] বুঝাইবার জন্য লিখিয়াছি। সুশিক্ষিত যদি ইহাতে কিছু পঠিতব্য না পান, আমি দুঃখিত হইব না। অশিক্ষিত [=ইংরিজি না-জানা] পাঠকদিগের হৃদয়ে এই নীতি অঙ্কুরিত হইলে আমি চরিতার্থ হইব।’ অর্থাৎ বঙ্কিমচন্দ্রের উদ্দেশ্য, এই বইয়ের মাধ্যমে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাম্যনীতি প্রণয়নের জন্যে সাধারণের মধ্যে প্রোপাগান্ডা করা। কী আছে ‘সাম্য’-য়? আর্থিক বৈষম্য, জাতপাত, নারীপুরুষ বিভেদের বিরোধিতা আছে, বাংলার কৃষকদের দুরবস্থার বর্ণনা আছে, বুদ্ধ-যিশু এবং রুশোর মতবাদের কথা আছে, ফরাসি বিপ্লবের কথা আছে, আর আছে কমিউনিজমের কথা।

চিন্মোহন সেহানবীশ বলেছেন, ‘‘‘কম্যুনিজম’, ‘সোশিয়ালিস্ট’, ‘কম্যুনিস্ট’ প্রভৃতি শব্দ এইভাবে প্রথম ব্যবহার করলেন স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র। আর ‘প্রথম আন্তর্জাতিক’ অর্থে ‘ইন্টারন্যাশনাল’ শব্দের প্রয়োগও এ-দেশে প্রথম তাঁরই হাতে।” এসেছে ওয়েন, লুই ব্ল্যাঁ, কাবে, সেন্ট সাইমন, ফুরিএর, প্রুধো প্রভৃতিদের সাম্যমূলক মতবাদের কথা। মার্কস-এঙ্গেলসের কথা আসেনি। সেই সময় মার্কস-এঙ্গেলসের নাম বা লেখাপত্রর সঙ্গে ভারতীয়দের তেমন পরিচয়ই সম্ভবত ছিল না।

‘সাম্য’-র দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফটা আবার পড়া যাক। বঙ্কিমচন্দ্রর বক্তব্য বুঝতে সুবিধে হবে।

‘বড় লোকে ছোট লোকে এ প্রভেদ কিসে? রাম বড় লোক, যদু ছোট লোক কিসে? তাহা নিন্দক লোকে এক প্রকার বুঝাইয়া দেয়। যদু চুরি করিতে জানে না, বঞ্চনা করিতে জানে না, পরের সর্ব্বস্ব শঠতা করিয়া গ্রহণ করিতে জানে না, সুতরাং রাম বড় লোক। অথবা রাম নিজে নিরীহ ভালো মানুষ, কিন্তু তাহার প্রপিতামহ চৌর্যবঞ্চনাদিতে সুদক্ষ ছিলেন; মুনিবের সর্ব্বস্বাপহরণ করিয়া বিষয় করিয়া গিয়াছেন, রাম জুয়াচোরের প্রপৌত্র, সুতরাং সে বড় লোক। যদুর পিতামহ আনিয়া আপনার খাইয়াছে— সুতরাং সে ছোট লোক। অথবা রাম কোনো বঞ্চকের কন্যা বিবাহ করিয়াছে, সেই সম্বন্ধে বড় লোক। রামের মাহাত্ম্যের উপর পুষ্পবৃষ্টি কর।’

এবার আসা যাক ‘সাম্য’-য় জাতপাত প্রসঙ্গে। বঙ্কিমচন্দ্র বুঝেছিলেন এ দেশের সবচেয়ে বড় অভিশাপ এই জাতপাত— যা হল হিন্দুধর্মর মূল ভিত্তি। হিন্দুধর্ম মোটেই কোনও ধর্মগ্রন্থভিত্তিক ধর্ম নয়। যেমন কোরানভিত্তিক ইসলাম কিংবা বাইবেলভিত্তিক খ্রিস্টধর্ম। বেদবেদান্ত গীতা থাকলেও হিন্দুধর্মর মূল জীবনীশক্তি জাতপাত। সেই ১৮৭৩-এ বঙ্কিমচন্দ্র লিখছেন,

‘পৃথিবীতে যত প্রকার সামাজিক বৈষম্যের উৎপত্তি হইয়াছে, ভারতবর্ষের পূর্ব্বকালিক বর্ণবৈষম্যের ন্যায় গুরুতর বৈষম্য কখন কোন সমাজে প্রচলিত হয় নাই। অন্য বর্ণ অবস্থানুসারে বধ্য— কিন্তু ব্রাহ্মণ শত অপরাধেও অবধ্য। ব্রাহ্মণে তোমার সর্ব্বপ্রকার অনিষ্ট করুক। তুমি ব্রাহ্মণের কোনোপ্রকার অনিষ্ট করিতে পারিবে না। তোমরা ব্রাহ্মণের চরণে লুটাইয়া তাহার চরণরেণু শিরোদেশে গ্রহণ কর— কিন্তু শূদ্র অস্পৃশ্য। শূদ্রস্পৃষ্ট জল পর্য্যন্ত অব্যবহার্য। এ পৃথিবীর কোন সুখে শূদ্র অধিকারী নহে, কেবল নীচবৃত্তি তাহার অবলম্বনীয়। জীবনের জীবন যে বিদ্যা, তাহাতে তাহার অধিকার নাই। সে শাস্ত্রে বদ্ধ, অথচ শাস্ত্র যে কি, তাহা তাহার স্বচক্ষে দেখিবার অধিকার নাই। তাহার নিজ পরকালও ব্রাহ্মণের হাতে। ব্রাহ্মণ যাহা বলিবেন তাহা করিলেই পরকালে গতি। নহিলে গতি নাই। ব্রাহ্মণকে দান করিলেই পরকালে গতি, কিন্তু শূদ্রের সেই দান গ্রহণ করিলেও ব্রাহ্মণ পতিত। ব্রাহ্মণের সেবা করিলেই শূদ্রের পরকালে গতি। অথচ শূদ্রও মনুষ্য, ব্রাহ্মণও মনুষ্য। প্রাচীন ইউরোপের বন্দী এবং প্রভু মধ্যে যে বৈষম্য, তাহাও এমন ভয়ানক নহে।’

আজকাল এসব কথা বললে প্রশংসা পাওয়া যায়, পিঠ চাপড়ানি জোটে, প্রগতিশীল ইমেজ তৈরি হয়। কিন্তু তখন এইসব কথা বলতে গেলে কলজের জোর লাগত। এইসব কথা লেখার জন্যে বিরাট ক্ষতি হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সত্যি কথা বলার সৎসাহস দেখানো থেকে পিছপা হওয়ার মানুষ বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন না। এক সময়ের মানবসভ্যতার পীঠস্থান ভারতের অবনতির মূলেও যে এই জাতপাতের বিভাজন সে-কথাও তিনি স্পষ্টই ঘোষণা করেন। বঙ্কিমচন্দ্র লিখছেন,

‘এই গুরুতর বর্ণবৈষম্যের ফলে ভারতবর্ষ অবনতির পথে দাঁড়াইল। সকল উন্নতির মূল জ্ঞানোন্নতি। পশ্বাদিবত ইন্দ্রিয়তৃপ্তি ভিন্ন পৃথিবীর এমন কোন একটি সুখ তুমি নির্দ্দেশ করিয়া বলিতে পারিবে না, যাহার মূল জ্ঞানোন্নতি নহে। বর্ণবৈষম্যে [জাতপাত] জ্ঞানোন্নতির পথরোধ হইল। শূদ্র জ্ঞানালোচনার অধিকারী নহে; একমাত্র ব্রাহ্মণ তাহার অধিকারী। ভারতবর্ষের অধিকাংশ ব্রাহ্মণেতরবর্ণ। অতএব অধিকাংশ লোক মূর্খ হইল।’

এরপর ব্রাহ্মণদের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র শুধু জুতোপেটা করাই বাকি রেখেছেন।

‘সকল বর্ণর প্রভু হইয়া, তাঁহারা [ব্রাহ্মণরা] বিদ্যাকে প্রভুত্বরক্ষণীরূপে নিযুক্ত করিলেন। বিদ্যার যেরূপ আলোচনায় সেই প্রভুত্ব বজায় থাকে, যাহাতে আরও বৃদ্ধি হয়, যাহাতে অন্য বর্ণ আরও প্রণত হইয়া ব্রাহ্মণ পদরজ ইহজন্মের সারভূত করে, সেইরূপ আলোচনা করিতে লাগিলেন। আরও যাগযজ্ঞের সৃষ্টি কর, আরও মন্ত্র, দান, দক্ষিণা, প্রায়শ্চিত্ত বাড়াও, আরও দেবতার মহিমাপূর্ণ মিথ্যা ইতিহাস কল্পনা করিয়া এই অপ্সরানূপুরনিক্কননিন্দিত মধুর আর্য্যভাষায় গ্রন্থিত কর, ভারতবাসীদিগের মূর্খতাবন্ধন আরও আঁটিয়া বাঁধ। দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সে সবে কাজ কি? সেদিকে মন দিও না। অমুক ব্রাহ্মণখানির কলেবর বাড়াও— নূতন উপনিষদখানি প্রচার কর— ব্রাহ্মণের উপর ব্রাহ্মণ, উপনিষদের উপর উপনিষদ, আরণ্যকের উপর আরণ্যক, সূত্রের উপর সূত্র, তার উপর ভাষ্য, তার টীকা, তার টীকা, তার ভাষ্য অনন্তশ্রেণী। বৈদিক ধর্মের গ্রন্থে ভারতবর্ষ আচ্ছন্ন কর। বিদ্যা?— তাহার নাম ভারতবর্ষে লুপ্ত হউক।’

দামোদর ধর্মানন্দ কোসম্বীর বহু দশক আগেই বঙ্কিমচন্দ্রই বলে গেছেন কীভাবে সংস্কৃত ভাষাকে কুক্ষিগত করে, সে ভাষাকে পবিত্র অতএব সকলের অধিকার নেই এমন ঘোষণা করে ব্রাহ্মণ্যবাদ কীভাবে অন্য বর্ণর মানুষের ওপর শোষণ-শাসনের একটা পাকাপাকি বন্দোবস্ত করেছিল, আর জ্ঞানচর্চাকে শুধুই অর্থহীন অধ্যাত্মচর্চায় সীমাবদ্ধ করেছিল।

তারুণ্যের আতিশয্যেই কি বঙ্কিমচন্দ্র এসব লিখেছিলেন? মনে হয় না। তখন তাঁর বয়েস ৩৫ বছর। রক্ত ক্রমশ ঠান্ডা হচ্ছে। ‘সাম্য’ যখন বই হয়ে বেরয় তখন তাঁর বয়েস ৪১। এখানে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন বঙ্কিমচন্দ্র তো তাঁর ‘সাম্য’-র বক্তব্য থেকে শেষজীবনে অনেকটাই ঘুরে গিয়েছিলেন। সে-কথা সত্যি, কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। সৃষ্টিকেই দেখতে হবে, স্রষ্টার ব্যক্তিগত মত পরিবর্তন তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। লেখক পরবর্তী জীবনে মত পরিবর্তন করলেই তাঁর আগের লেখাগুলি মিথ্যে হয়ে যায় না। শিল্প আর শিল্পীকে গুলিয়ে ফেলা একটি দোষই বটে। মনে রাখতে হবে প্রত্যেক মানুষই তাঁর নিজস্ব সময়ের বাঁধনে বাঁধা। তার ওপর সেই বাঁধন কতটা দৃঢ়— সে-বিচার তত জরুরি নয়। গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে সময়ের সেই বাঁধনকে তিনি কতটা কাটতে পেরেছিলেন বা কাটার চেষ্টা করেছিলেন— সেই বিষয়টা।

‘সাম্য’-র মূল্যায়ণ করতে গিয়ে রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেছেন,

‘‘বঙ্কিমের গৌরব এইখানেই যে, সমস্ত পুরনো সংস্কার ঝেড়ে ফেলে তিনি গণতন্ত্র ও সমাজবাদ-এর মূলকথাগুলি সহজভাষায় গুছিয়ে শুধুই-বাংলা-জানা পাঠক-পাঠিকার সামনে রাখলেন। তার সবটাই নির্ভুল ছিল না। এও ঠিক যে, পরে তাঁর নিজের মতামত ১৭৯ ডিগ্রি ঘুরে যায়। কিন্তু ‘সাম্য’-র আবির্ভাব— আগমন বা প্রকাশ বললে ঘটনাটিকে ছোটো করা হয়— বাঙালি হিন্দু সমাজের ইতিহাসে মনে রাখার মতো ঘটনা, আর শুধু হিন্দুসমাজ কেন, ধর্মনির্বিশেষে গোটা বাঙালি সমাজের পক্ষেই এটি স্মরণীয় রচনা।”

একটি ঐতিহাসিক লেখাকে কীভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করতে হয়ে তার একটি আদর্শ মডেল হতে পারে রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যর ‘বঙ্কিমের সাম্য-ভাবনা, বাঙলায় সমাজবাদ-চর্চা’ নামের ছোট পুস্তিকাটি (২১তম চন্দনকুমার ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতা, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বইটির প্রকাশক কাউন্সিল ফর পোলিটিকাল স্টাডিজ, দাম কুড়ি টাকা)। এই পুস্তিকাতে বঙ্কিমের ‘সাম্য’ সম্বন্ধে অনেক কাজের কথা জানা যাবে। আগ্রহী পাঠক অশেষ উপকৃত হবেন।

বঙ্কিমচন্দ্রের সমস্ত উদ্ধৃতি ‘বঙ্কিম রচনাবলী’, সাহিত্য সংসদ, ১৩৮৪ বঙ্গাব্দ থেকে নেওয়া।

চিত্র: গুগল
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »