Search
Generic filters
Search
Generic filters
সায়ন্তনী বসু চৌধুরী

সায়ন্তনী বসু চৌধুরী

সায়ন্তনী বসু চৌধুরীর জন্ম কলকাতায়। বর্তমানে পেশা ও বিবাহসূত্রে প্রবাসী। স্কুলজীবন থেকে লেখালিখির শুরু। ২০০৭-২০০৮ থেকে বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে কবিতা ও গদ্য প্রকাশ পেতে থাকে। বিগত বছরগুলোতে আনন্দবাজার পত্রিকা, আনন্দমেলা, উনিশ কুড়ি, সানন্দা, বিকেলের প্রতিদিন, আজকাল, একদিন, যুগশঙ্খ, ফেমিনা, এই সময়, কথাসাহিত্য, লংজার্নি, গৃহশোভা, জাগো বাংলা, ভাষানগর ইত্যাদি নানা সংবাদপত্র ও পত্রপত্রিকায় লিখেছেন। একাধিক কবিতা ও গল্পসংকলন প্রকাশিত।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছোটগল্প: অন্য সমীকরণ

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| তুহিনার হাতে চওড়া স্ক্রিনের অতি আধুনিক সেলফোন। একটা ছবি মৃণালের নাকের ডগায় তুলে ধরেছিল মেয়েটা। মৃণালের পাদুটো থরথর করে কাঁপছিল। তার মা একটা রেস্টুরেন্টে বসে রয়েছে সুশোভন আঙ্কলের সঙ্গে। দুজনেরই মুখে হাসি, হাতে হাত। বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি মৃণালের। লিখেছেন সায়ন্তনী বসু চৌধুরী।

Read More »

ছোটগল্প: উড়ান

India’s First Bengali Daily Magazine. হলঘরের জানলা থেকে টিনটিনদের ছাদের দিকে তাকাল বিশাখ। এই তো ক’মাস আগে দেখা সেই শ্যামলা পরিটা এখন বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে হাতের তালুতে সাবান ঘষছে। এইবার হয়তো টুপ করে ঢুকে পড়বে বড়সড় একটা রঙিন সাবানের ফেনার ভিতরে! বিশাখের চোখের সামনেই উড়ে উড়ে বেড়াবে। তারপর জানলা গলে টিনটিনদের খোলা ছাদ, ছাদ পেরিয়ে নীল আকাশ, আকাশপথে একলা চাঁদকেও ছুঁয়ে ফেলতে পারে। দুবাইতে বসে পুপুলি কি দেখতে পাবে ঝুমকোর এই উড়ান?

Read More »

প্রত্যাবর্তন

India’s First Bengali Daily Magazine. বিরূপাক্ষর সঙ্গে শেষ দেখার বিকেলটা ছিল অদ্ভুত। রোদের পড়ন্ত আলো গায়ে মেখে টিপটিপ জল ঝরছিল অবিরাম। বুদ্ধিমান ছেলেটাকে বোঝানোর মত কোনও যুক্তি সাজাতে পারছিল না টুয়া। আনমনে তাকিয়ে ছিল সুমেলিদের আমবাগানের দিকে। সবুজ বলে সবুজ! ঝড়বাদলের দিনে বাগানটা কেমন ঘোর কালচে লাগে। আর অন্যরকম বিকেলগুলোতে লাগে রহস্যময়। বাইরে থেকে বোঝা যাবে না কী আছে ভেতরে! টুয়াও নিজেকে সাজাচ্ছিল যাতে বাইরে থেকে ওর অন্তরের কান্না, ক্ষত কিছুই দেখা না যায়।

Read More »

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »

নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার…

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।

Read More »

গরিব হওয়ার সহজ উপায়

এককালে পর্তুগিজ-মগরা আমাদের নিম্নবঙ্গ থেকে দাস সংগ্রহ করত মালয়-বার্মাতে শ্রমিকের কাজের জন্য, ইংরেজ সাহেবরাও কিনত গোলাম। আজ আবার মানুষ সস্তা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসকের দরকার নেই। খোলাবাজারে নিজেরাই নিজেদের কিনছে দেশের মানুষ। মানুষ বিক্রির মেলা বসে এখন গ্রামগঞ্জের হাটে হাটে।

Read More »

মহাশ্বেতা দেবী: স্বনামে চিহ্নিত অনশ্বর প্রতিভা

গ্রামশি-বর্ণিত ও পরবর্তীতে বহুলচর্চিত ‘সাব অলটার্ন’-এর আগেই মহাশ্বেতার লেখায় ব্রাত্যজনসংহিতা মূর্ত; ‘অরণ্যের অধিকার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৭-এ। আর সাব অলটার্ন-তত্ত্ব প্রথম দানা বাঁধছে ১৯৮২-তে জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে, রণজিৎ গুহ, গৌতম ভদ্র, শাহেদ আমিন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্কলন প্রকাশের মাধ্যমে। অবশ্য তার বহু আগেই ইতিহাস রচনায় সাব অলটার্ন চেতনায় স্থিতধী দেখা গেছে রবীন্দ্রনাথকে। স্বামী বিবেকানন্দ মূর্খ, চণ্ডাল ও দরিদ্র ভারতবাসীর মাহাত্ম্য বুঝিয়ে গেছেন, আর বিভূতিভূষণকেও আমরা সামগ্রিক বিচারে প্রান্তিক মানুষের কথাকার রূপেই পাই। কিন্তু মহাশ্বেতা আরও ব্যাপক, গভীর, তন্ময়, নিবিড়, ও নিঃসন্দেহে দলিত জনতার কথাকার।

Read More »

সারদাদেবী: এক অনন্যা মাতৃরূপা

ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়ে ও বধূ হয়ে তিনি কিনা মুসলমান ঘরামি আমজাদকে খেতে দিয়ে তার এঁটোকাটা নিজের হাতে পরিষ্কার করেন! বিধর্মী খ্রিস্টান নিবেদিতার সঙ্গে বসে আহার করেন! আর তাঁর চেয়েও বড় কথা, সে যুগের বিচারে বিপ্লবাত্মক ঘটনা, স্বামীর মৃত্যুর পর যে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বেঁচেছিলেন তিনি, বিধবাবিবাহের প্রবর্তক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-ও যা কল্পনায় আনতে গেলে নির্ঘাত মূর্ছা যেতেন, লালপেড়ে শাড়ি আর সোনার বালায় ভূষিতা থাকতেন তিনি! আজকের উচ্চশিক্ষিত সমাজেও ক’জন পারবেন এ-কাজ করতে, বা নিদেন এ কাজকে সমর্থন করতে?

Read More »

জীবনচক্রের মহাকাব্য নবান্ন: শ্রম, প্রকৃতি ও নবজন্মের দ্বান্দ্বিকতা

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

Read More »