Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

সম্প্রতি প্রকাশিত অঙ্কোলজির অধ্যাপক এবং চিকিৎসক বিষাণ বসুর ‘চিকিৎসা: বিজ্ঞান / কাণ্ডজ্ঞান’ বইটিতে ‘বিজ্ঞানমনস্কতার আড়ালে অন্ধ বিজ্ঞানবাদিতা’-র ভক্তবৃন্দের প্রসঙ্গে লেখকের তীব্র অস্বস্তি, শ্লেষ এবং কটাক্ষবাণ চোখে পড়ল। দ্বিতীয়ত, হোমিওপ্যাথি এবং তার পথিকৃৎ হ্যানিম্যান বা কান্টকে না পড়েই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে দড়দের, ডক্টর বসুর বইটা ক্ষতবিক্ষত করবে বলে মনে হয়। এ প্রসঙ্গে ভারতের অন্যতম হোমিওপ্যাথি জার্নালে প্রকাশিত মনু কোঠারি (বর্তমানে প্রয়াত) এবং লোপা মেহতার প্রায় ১২০টি নিবন্ধ পাঠের সুবাদে এটা বুঝতে অসুবিধে হয়নি যে, ডক্টর বসু বিজ্ঞানমনস্কতার আড়ালে অন্ধ বিজ্ঞানবাদীদের হীনমন্যতা, উপরচালাকিকে আন্তরিকভাবে ঘেন্না করেন।

উপরে যে দুটি বিন্দুর উল্লেখ করেছি, তার কেন্দ্রীয় বিষয় হল বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়? ডক্টর বসুর মতে, “একথা অনস্বীকার্য যে, একদিকে যদি ভেল্কি বা মির‍্যাকলের আশা, তবে আরেকদিকে অজস্র হাইপ, উচ্চকিত ঘোষণা ইত্যাদিতে জারিত আমাদের বিজ্ঞান-বিশ্বাস। হ্যাঁ, বিজ্ঞানমনস্কতা বা যুক্তিবোধ নয়— নিখাদ বিজ্ঞানবিশ্বাস।… মুখে বিজ্ঞানমনস্ক বলে বড়াই করতে ভালবাসলেও, বেশ গোঁড়া ধর্মাচারীর সঙ্গে আমাদের অধিকাংশের বিজ্ঞান মানার কোনো মূল গত ফারাক নেই।’’ তিনি লিখছেন, “বিজ্ঞান ঠিক কীভাবে এগোয়,… বিশিষ্ট বিজ্ঞান-দার্শনিক কার্ল পপার এঁর মতে— বিজ্ঞান হলো তাই যাকে ভুল প্রমাণ করা যায়। অর্থাৎ, যে কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতার মূলই হলো তাকে নিরন্তর চ্যালেঞ্জ করে যাওয়া, তাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্য নতুন নতুন পরীক্ষার মধ্যে ফেলা। অর্থাৎ, নতুন নতুন পরীক্ষা বা নতুন করে প্রশ্ন করে চলাটা বিজ্ঞানের স্বরূপগত ধারণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।” (পৃষ্ঠা ৪১-৪২)।

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি (পৃষ্ঠা ৫৭-৭৮) তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

কিন্তু আমার মূল আগ্রহের বিষয়, যা আমি ক্যানসার চিকিৎসক বিষাণ বসুর বই থেকে খুঁজে পেতে চাই, তা হল— সায়েন্স, আর্টস আর কমার্স— এই অর্ডারের ঠিক বিপরীতমুখী অবস্থানে দণ্ডায়মান শ্রেষ্ঠী-নিয়ন্ত্রিত ক্যানসার চিকিৎসার অভিমুখ সম্পর্কে, বিজ্ঞানমনস্কতার মাপদণ্ডে কমার্স, আর্টস, সায়েন্স চক্রব্যূহের বাইরে বেরিয়ে আসার পথের সন্ধানে ডক্টর বিষাণ বসুর অভিমতটা ঠিক ভাবে জানা বোঝা।

এর একটি অধ্যায় হোমিওপ্যাথি (৫৭-৭৮ পৃষ্ঠা) মন দিয়ে পড়লে, আর কিছু না হোক সাধারণভাবে বঙ্গ মার্ক্সবাদীদের এবং বিশেষ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মার্ক্সবাদী চিকিৎসক সংগঠনের নেতা-নেত্রীদের অন্তত বোধোদয় হওয়া উচিত বলে মনে হয়। অবশ্য আগেই আমি সুস্পষ্টভাবে বলেছি, তার সম্ভাবনা খুব কম। বরং তেনারা ডক্টর বসুকে ‘ব্রাত্য’ বলে দাগিয়ে দিতেই পারেন।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের প্রতি যথোচিত সম্মান প্রদান করে দুশো বছরের পুরনো হ্যানিম্যানীয় চিন্তাভাবনাকে, বিগত দুশো বছরে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আমূল পরিবর্তিত ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে ভাবার জন্য আন্তরিক অনুরোধ করেছেন ডক্টর বসু। ভুঁইফোঁড়, বিজ্ঞানবাদীদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, তথাকথিত অ্যালোপ্যাথি (নামকরণটা হ্যানিম্যান সাহেবেরই করা) চিকিৎসা বীভৎস নীতি সিদ্ধান্ত অনুসারী থাকাকালীন, বীতশ্রদ্ধ হ্যানিম্যান তাঁর নতুন চিকিৎসা প্রণালী প্রতিপাদন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার হাল কী ছিল আজ থেকে দুশো বছর আগে? ডক্টর বসু তার বর্ণনা দিয়েছেন— তৎকালীন চিকিৎসার হালত কী ছিল, তার উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রক্তক্ষরণ বা ব্লাডলেটিংয়ের কথা, যেখানে অসুখবিসুখে শরীর থেকে খানিকটা রক্ত বের করে দিলে ‘‘অসুখবিসুখ সেরে যাবে, এটাই অন্যতম চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে মান্য ছিল।’’ (পৃষ্ঠা ৬২)

Advertisement

এমতাবস্থায় তামার খনি অঞ্চলে মজুরদের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে তিতিবিরক্ত হ্যানিম্যান প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর বিশ্বাস হারালেন। আর শুরু করলেন নিজস্ব চিকিৎসাপদ্ধতি, যা কিনা এক ভিন্ন চিকিৎসা-দর্শনও বটে। (পৃষ্ঠা ৬৩)। এর পরেই লেখক বলছেন— প্রায় একক প্রয়াসে প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থার বিপক্ষে গিয়ে নতুন ভাবনার যে বৈপ্লবিক দুঃসাহস— যে প্রয়াস বিপুল জনপ্রিয়তা পেতে থাকল কয়েক দশকের মধ্যেই— তা এই বিগত দুশো বছরে দমবন্ধ জলাশয়ে পরিণত হলো কোন পথে! (পৃষ্ঠা ৬৩)। ডক্টর বসু মূলত দুটি কারণ দেখিয়েছেন। প্রথমটি আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি, অর্থাৎ অ্যালোপ্যাথিকে রাষ্ট্র সর্বান্তঃকরণে সমর্থন জানাল আর বাকি ‘প্যাথি’-কে হেয় প্রতিপন্ন করার সাথে সাথে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিল। লেখক ‘প্রাতিষ্ঠানিক নেকনজর’ থেকে বঞ্চিত করার কথা বলেছেন। লিখেছেন— প্রতিষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই যে চিকিৎসাপদ্ধতির উদ্ভব ও বিকাশ, সে যে প্রাতিষ্ঠানিক আনুকূল্য পাবে না, এ তো জানাই কথা। (পৃষ্ঠা ৬৩)

দ্বিতীয় কারণটা, মূলত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের ভেবে, উত্তর খোঁজার জন্য আন্তরিক অনুরোধ করেছেন লেখক। যে মূল বিন্দুগুলি উল্লেখ করেছেন, তা অবশ্যই যথাযথভাবে গ্রহণযোগ্য উত্তরের দাবি করে। কেন পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে হ্যানিম্যানকে প্রায় ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তকে ধর্মমতের স্তরে পৌঁছে দিলেন হোমিওপ্যাথির শাস্ত্রীরা? হ্যানিমানের ‘অর্গ্যানন’ নামক পুস্তকটির বিভিন্ন সংস্করণের উল্লেখ করেছেন লেখক। দেখিয়েছেন যে, হ্যানিম্যান নিজেই বার বার তাঁর রচনার পরিমার্জন করেছেন। ১৮১০-১৮৪২ পর্যন্ত মোট ছ’টি সংস্করণ তো তাঁর জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়েছিল। লেখক সবিনয়ে উল্লেখ করেছেন— প্রথম এবং ষষ্ঠ সংস্করণে বিস্তর ফারাক তো অস্বীকারের উপায় নেই। তাঁর বিনম্র কিন্তু সুস্পষ্ট অভিমত হুবহু তুলে দিচ্ছি— “তাহলে হ্যানিম্যানের অনুসারীরা, সেই অর্গ্যাননকেই অভ্রান্ত, প্রায় ‘বাইবেল’, ‘কোরান’-তুল্য ধর্মগ্রন্থের সমতুল, এমনটি ধরে থেমে থাকলেন কেন? কেন প্রশ্ন করার, পরীক্ষা করার যুক্তিবোধ হোমিওপ্যাথি থেকে হারিয়ে গেল? বা, আরও রূঢ় ভাষায় বললে, কেন হোমিওপ্যাথি থেকে মেধা বিদায় নিল।” (পৃষ্ঠা ৬৫)

ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, তথাকথিত আধুনিকতম চিকিৎসা বিজ্ঞান আদপেই বিজ্ঞান অনুসারী কি না, সেই প্রশ্ন সরাসরি না তুললেও, বিষাণ বসুর বইয়ের পরতে পরতে মহার্ঘ ক্যানসার চিকিৎসা পরিণতি যে বিষাদ ভরা, ডক্টর বসু সে-কথা অস্বীকার করতে পারেননি বা চানওনি। লেখক ‘হসপিস’ অর্থাৎ ঘরে রেখে, চেনামুখের সান্নিধ্যে, ‘কেয়ার গিভার’-দের টিম ওয়ার্ক, প্যালিয়েটিভ ট্রিটমেন্ট-এর ওপর নির্ভরশীল ক্যানসার চিকিৎসার কথা বলেছেন। ক্যানসারমুক্ত স্বপ্নসৌধ নির্মাণের দিবাস্বপ্ন দেখাবার প্রচলিত ‘কমার্স ফার্স্ট সায়েন্স লাস্ট’ পথে হাঁটার পক্ষে নন তিনি। পাঁচতারা ক্যানসার হাসপাতালের বাস্তবিকতা যে বিল হাতে পাওয়া মাত্র দিনদুপুরে তারা ঝলমল আকাশ দেখা-ই— সে প্রসঙ্গ সরাসরি না বললেও, তার যথেষ্ট আভাস দেবার ব্যাপারে তিনি কার্পণ্য করেননি।

এই প্রসঙ্গে, দুনিয়া ব্যাপী মার্ক্সের উত্তরসূরিদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেও প্রায় দুই শতাব্দী প্রাচীন দার্শনিক প্রবচনই। মাওয়ের দেশে ‘বিড়ালের রং নয় তার ইঁদুর ধরার দক্ষতা’-র তথাকথিত প্রাগম্যাটিজম বলুন, অথবা আমাদের দেশে আঞ্চলিক ক্ষমতাধারী বা শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্রছায়ায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রচেষ্টায় সমর্পিতদের দেখেই বুঝুন। ইতিহাসের ডাস্টবিনে কবেই নিক্ষিপ্ত ‘দ্য পয়েন্ট ইজ হাউ টু চেঞ্জ দ্য সিস্টেম’! সেই জুমলা আওড়ানোর দিন শেষ হয়েছে কবেই।

শ্রদ্ধেয় চিকিৎসক বিষাণ বসুকে অশেষ ধন্যবাদ। সততার সঙ্গে অনেক কিছুই যে নতুন করে কেঁচে গণ্ডূষ করার অভ্যাস রপ্ত করা আশু প্রয়োজন, তিনি সেদিকে তাকিয়ে দেখার শালীন আবেদন জানাতে খামতি রাখেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বুদ্ধ: অন্ধকারে আলোর দিশারী

তিনি বলেন গেছেন, হিংসা দিয়ে হিংসাকে জয় করা যায় না, তাকে জয় করতে প্রেম ও ভালবাসা দিয়ে। মৈত্রী ও করুণা— এই দুটি ছিল তাঁর আয়ুধ, মানুষের প্রতি ভালবাসার, সহযোগিতার, বিশ্বপ্রেমের। তাই তো তাঁর অহিংসার আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছিল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে,— চীন, জাপান, মায়ানমার, তিব্বত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানে। এই বাংলায় যে পালযুগ, তা চিহ্নিত হয়ে আছে বৌদ্ধযুগ-রূপে। সুদীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে সমগ্র বাংলা বুদ্ধ-অনুশাসিত ছিল। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ বৌদ্ধ কবিদের দ্বারাই রচিত হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

স্যার রোনাল্ড রস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য

রোনাল্ড রসকে তাঁর গবেষণার সহায়তাকারী এক বিস্মৃত বাঙালি বিজ্ঞানীর নাম কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৭৭-১৯২৯)। তাঁর অবদান কিন্তু খুব কম নয়। তিনি ছিলেন রস-এর অধীনে সহ-গবেষক। রস নোবেল পেলে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, শিবনাথ শাস্ত্রী, আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ কিশোরীনাথের ভূমিকার বিষয়টি বড়লাট লর্ড কার্জনকে জানান। কার্জন এ-বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের গোচরে আনেন। এর ফলে ১৯০৩ সালে যখন দিল্লিতে দরবার বসে, তখন ডিউক অফ কনট-এর মাধ্যমে কিশোরীনাথকে ব্রিটিশরাজ সপ্তম এড‌ওয়ার্ড-এর তরফ থেকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরে কলকাতা
র সেনেট হলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সভাপতি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

দুই হুজুরের গপ্পো

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শতবর্ষী বাঙালি

বাঙালিদের মধ্যেও শতায়ু লোক নেহাত কম নেই। একটা কথা মনে রাখা জরুরি, বিখ্যাত ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ মানুষের আয়ু নিয়ে বিশেষ কোনও গবেষণা থাকে না। আবার একটু বেশি বয়স্ক মানুষকে শতায়ু বলে চালিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ-ও রয়েছে। তবে শতবর্ষের আয়ুলাভ যে মানুষের কাঙ্ক্ষিত, তা উপনিষদের‌ একটি বাক্যে সুন্দরভাবে ধরা পড়েছে— ‘জীবেম শরদঃ শতম্’, অর্থাৎ শতবর্ষ বাঁচতে ইচ্ছে করবে। কেবল অলস জীবন নিয়ে বাঁচবার ইচ্ছে করলেই হবে না, কর্ম করে বাঁচার কথাও বলা হয়েছে সেখানে— ‘কুর্বেন্নেবেহ কর্মাণি জিজীবিষেচ্ছতম্ সমাঃ’।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আশা ভোসলে ও তাঁর বাংলা গান

সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গীতের সুধায় ভরিয়ে দিয়েছেন কেবল ভারত বা এই উপমহাদেশকেই নয়, বিশ্বকে। পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর, যেমন কয়েক বছর আগে হয়েছিল তাঁর স্বনামখ্যাত অগ্রজা লতা মঙ্গেশকরের। আশা ভোসলে তাঁর সমগ্র জীবনে বারো হাজার গান গেয়ে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন। একদিকে ধ্রুপদী সঙ্গীত, অন্যদিকে লঘু, পপ, এমনকী চটুল গানেও তাঁর সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমসাময়িক কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে এজন্য অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »