
অবিন্যস্ত
দুনিয়া কারও ইচ্ছে মতো চলে না। দুনিয়া চলে তার নিজের ইচ্ছে মতো। আমি যতই যা কিছু ভাবি না কেন, ক্ষমতা নেই যে সে সবগুলো করি।

দুনিয়া কারও ইচ্ছে মতো চলে না। দুনিয়া চলে তার নিজের ইচ্ছে মতো। আমি যতই যা কিছু ভাবি না কেন, ক্ষমতা নেই যে সে সবগুলো করি।

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

ইঞ্জিন থামতেই ড্রাইভার ঝাঁপিয়ে পড়ল, ছুটে গিয়ে ইঞ্জিনের নীচে থেকে পিণ্ডাকার দেহকাণ্ড বুকে করে বের করে আনল। মৃতদেহ লাইনের পাশে শুইয়ে দিয়ে সহকারীকে বলল “তুমি গাড়ি নিয়ে যাও, আমি আর যেতে পারব না।”

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩। ‘‘ফাঁকা ছাত খাঁ খাঁ করছে। রাস্তার আলোর প্রতিভাসে আবছায়া ছাত যেন ভয় দেখাচ্ছে। কতক্ষণ আর বৃথা ঘোরাঘুরি করা যায়। আবার ক্লান্তপদে নেমে এলেন দোতলায়। খানিকটা এঘর ওঘর করে উৎকণ্ঠায় অবসন্ন দেহ এলিয়ে দিলেন চেয়ারে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা চরমে উঠে ক্রমে তাকে গ্রাস করল এক পরম নির্লিপ্তিতে।’’ নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প।

India’s First Bengali Daily Journal. যা জিদ্দি তাই সিদ্ধি। ভোরেই বেরিয়ে পড়া গেল, কিন্তু কে বেরিয়ে পড়ল! আমাকে তো কোন চেষ্টাই করতে হচ্ছে না— আমি তো পথ চলছি না, পদক্ষেপ করছি না, যেন ভেসে যাচ্ছি পথের ওপর দিয়ে, সে পথ জঙ্গলের ওপর দিয়ে, জলের ওপর দিয়ে পাহাড়পর্বতের ওপর দিয়ে তরতর করে বয়ে চলেছে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে। বন আমাকে ডাকছে আয়, আয়। পর্বত আমাকে সাদর অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। আমাকে কোন আয়াস করতে হচ্ছে না, আপনা থেকেই এগিয়ে যাচ্ছি। যাচ্ছি, যাচ্ছি, কত কাল ধরে চলে চলে শেষ পর্যন্ত এক শহরে গিয়ে হাজির।

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।