Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে আমেরিকার স্বাধীনতা এক অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী ঘটনা। ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই মূলত টমাস জেফারসনের ‘Declaration of Independence’-এর ওপর ভিত্তি করে আমেরিকার স্বাধীনতার দর্শন গড়ে ওঠে। জেফারসন ও অন্যান্য সমসাময়িক স্বাধীনতা-আন্দোলনকারীরা ইয়োরোপের ‘Enlightenment’-এর মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, যে মতাদর্শের অন্যতম প্রবক্তা ইংরেজ দার্শনিক জন লক। তাঁর ‘Two Treatises of Government’-এর মতে, প্রত্যেক মানুষ-ই জন্মগতভাবে স্বাধীন। তাই তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার কারও নেই।
আমেরিকা ব্রিটিশের উপনিবেশে পরিণত হয় রানি এলিজাবেথের আমলে। তবে তা নিতান্তই প্রাথমিক পর্যায়, যখন স্যার ওয়াল্টার রেলে ১৫৮৫ সালে আমেরিকায় যান ও রানোকে দ্বীপ দখল করে তার নাম রাখেন তৎকালীন রানি প্রথম এলিজাবেথের নামে,– ভার্জিনিয়া। এলিজাবেথ চিরকুমারী, তাই ভার্জিনিয়া।
কিন্তু এই অভিযান শেষপর্যন্ত সফল হয়নি। ১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।
উপনিবেশের বিরুদ্ধে আমেরিকানদের প্রতিবাদের কারণ মূলত আমেরিকানদের ওপর ক্রমাগত কর বৃদ্ধি। পাল্টা দাবি তাদের, ‘No taxation without representation’। জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে এই কারণেই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে শুরু হল লড়াই।
এর পশ্চাৎপটে অবশ্য আমেরিকার বুধজনদের অনুপ্রেরণা কম ভূমিকা রাখেনি। টমাস পেইন-রচিত ‘Common Sense’ এক যুগান্তকারী রচনা, যা আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনকে গতিজাড্য দেয়। অনুরূপভাবে আইনজীবী এডামস-ও তাঁর অবদান রাখেন নিঃসন্দেহে। স্বাধীনতার প্রশ্নের সঙ্গে সংবিধানের যোগ সুনিবিড়। এক্ষেত্রে হ্যামিল্টনের ‘The Federalist Papers’ গুরুত্বপূর্ণ লেখা। তাছাড়া ছিলেন বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, আইনজীবী ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এডামস, সংবিধানের অন্যতম স্থপতি জেমস ম্যাডিসন, যিনি দেখিয়েছিলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য, ‘Checks and Balance’ ঠিক কীভাবে কাজ করে। এদের বলা হয় স্বাধীনতার অগ্রদূত, ‘Founding Father’s of United Sfates’।
স্বাধীনতার ঘোষণা হয়েছিল ৪ঠা জুলাই, ১৭৭৬-এ। কিন্তু আমেরিকা সে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করে, ১৭৮৩-তে। জর্জ ওয়াশিংটনের দেশপ্রেম ও সৈন্যাধ্যক্ষ হিশেবে তাঁর সাফল্যই আমেরিকার স্বাধীনতা-অর্জনে কার্যকরী ভূমিকা নেয়। সে স্বাধীনতার ধারাবাহিকতায় ফরাসি বিপ্লব বিরাট অনুপ্রেরণা লাভ করে। রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণে কেবল ফ্রান্স নয়, ইয়োরোপের অন্যান্য দেশ-ও আদর্শগতভাবে প্রবুদ্ধ হয়েছিল এই স্বাধীনতা অর্জনের দ্বারা।
আজ আমেরিকা বিশ্বের উন্নত এক দেশ। তার পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে পৃথিবী বহুলাংশে চালিত। তার একথা অতএব মনে রাখা দরকার, যা আমেরিকার অন্য এক মহান রাষ্ট্রপতি তথা মনীষী আব্রাহাম লিঙ্কন সেদেশের দাসব্যবস্থা তুলতে গিয়ে বলেছিলেন, As l would not be a slave, so l would not be a master.

Advertisement

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − six =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »