Search
Generic filters
Search
Generic filters
সুজিত বসু

সুজিত বসু

ড. সুজিত বসু তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করে পিএইচ ডি প্রাপ্ত হন মস্কো থেকে। দেশে ফিরে তিনি কর্মরত হন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার শাখা অফিস আমেদাবাদের অন্তরীক্ষ উপযোগ কেন্দ্রে। সেখানে তিনি তিন দশক কর্মরত ছিলেন। অবসরের পরেও দুবছর তিনি সাম্মানিক অধ্যাপক ছিলেন প্রথমে ওই কেন্দ্রে ও পরে ইন্দাস বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর কাজ ছিল কৃত্রিম উপগ্রহ প্রাপ্ত তথ্যের সাহায্যে ব্যবহারিক গবেষণা, যার মূল বিষয় ছিল আবহবিদ্যা ও সমুদ্রবিজ্ঞান। তিনি সুপরিচিত বিজ্ঞানী ছিলেন। গবেষণালব্ধ ফল তাঁর শতাধিক প্রবন্ধের মাধ্যমে দেশবিদেশের প্রভাবশালী বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত এবং বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ উচ্চ প্রশংসিত। বিজ্ঞান যদি তাঁর পেশা হয়ে থাকে তাহলে কবিতা তাঁর নেশা। তাঁর প্রথম কবিতাগুচ্ছ প্রকাশ পায় তদানীন্তন বিখ্যাত কবিতা পত্রিকা ‘অজ্ঞাতবাস’-এ। সাতের দশকে এবং আটের দশকের প্রথম ভাগে তাঁর কবিতা বাংলা ভাষার অনেক প্রথম সারির পত্রিকায় প্রকাশিত হত যদিও এই সময়ের বেশিরভাগই তিনি বিদেশে ছিলেন শিক্ষাগত কারণে। তাঁর বেশ কিছু কবিতা সাধারণ পাঠক এবং কয়েকজন খ্যাতনামা কবিদের কাছেও আদরণীয় হয়েছিল। নয়ের দশকে এবং তার পরে তিনি খুব বেশি না লিখলেও বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কিছু কবিতা পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রবাসের বেশ কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত। এমনকি তিনি আমেরিকার প্রবাসী বাঙালিদের পত্রিকাতেও বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন। তাঁর দুটি কবিতার বই আছে।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

দিন হয় রাত হয় রাত থেকে দিন হয় রাতদিন দিন/ জলপাই গাছের ঘন পাতাগুলি স্থির হয়ে ঘন বনস্থলী/ ঝিরঝির ঝরে যাওয়া বৃষ্টির ফোঁটার মতো আলোর পিদ্দিম/ নিথর জ্বালাও তুমি জাদুকর, আর আমি চলে যাই, চলি/ সঘন ধূমের গন্ধে চোখ জলে ভরে আসি, দেখে নিই ক্ষীণ/ মুখরিত নগরীর রাজপথে মৃত্যুমুখী এক চাঁপাকলি।

Read More »

সুজিত বসুর তিনটি কবিতা

তারপরে একদিন আকাশে মেঘের সাজ, মুখরিত ধারাবারিপাত/ রঙিন ছাতার নিচে দু’গালে হীরের গুঁড়ি, মন মেলে ডানা/ আরো নিচে বিভাজিকা, নিপুণ শিল্পীর হাতে গড়া দুই উদ্ধত শিখর/ কিছুটা অস্পষ্ট, তবু আভাসে ছড়ায় মায়া বৃষ্টিস্নাত নাভি/ তখনই হঠাৎ হল ভূমিকম্প, পাঁচিলের বাধা ভাঙে বেসামাল ঝড়/ ফেরা যে হবে না ঘরে মুহূর্তে তা বুঝে যাই, হারিয়েছি চাবি/ অনেক তো দিন গেল, অনেক ঘুরেছি পথে, বিপথে অনেক হল ঘোরা/ তাকে তো দেখেছি, তাই নাই বা পড়ুক চোখে অজন্তা ইলোরা।

Read More »

সুজিত বসুর কবিতা

জঙ্গলে ভালবাসা জঙ্গলে জংলিরা থাকে, সুসভ‍্য মানুষ থাকে শহরে ও গ্রামে নগ্নপদে চলে ওরা, মাটির কোমল ছায়া জংলির শরীরে নরম ঘাসের বুকে পদক্ষেপ জংলিদের, সুসভ‍্যেরা

Read More »

সুজিত বসুর গুচ্ছকবিতা

বিলাপ অভিসার জল আনতে চল রে সখী, জল আনতে চল নিভু নিভু আলোর সাজে সূর্য অস্তাচলে শেষবিকেলের রশ্মিমালায় বুকে ব্যথার ঢল লজ্জা আমার আবির হয়ে

Read More »

কবিতা: জীবনের নানা দিক

ট্রেনের জানালা থেকে চোখে পড়ে ঘাসের গালিচা/ কোমল রোদের স্নেহে ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চল শান্তির নিদ্রায়/ সমুদ্রে দ্বীপের মতো ছোট ছোট বাড়িগুলি ঘাসের শয্যায়/ অতি দ্রুত বদলে যায় দৃশ্যাবলি, ট্রেন থামে ব্রাসেলস স্টেশনে/ বেলজিয়ামের মোহ দূরে রেখে ট্রেন চলে স্থির নিশানায়/ অভ্রান্ত লক্ষ্যের দিকে, আমস্টারডাম ডাকে কুহকী মায়ায়/ নগরে পৌঁছেই এক নয়নাভিরাম দৃশ্য, সুন্দরী ট্রামেরা/ হাতছানি দিয়ে ডাকে, বহু বহুদিন পরে প্রিয় বাহনের/ ডাকে সাড়া দিয়ে আমি পৌঁছে যাই মহার্ঘ নিবাসে

Read More »

সুজিত বসুর দুটি কবিতা

তারার আলো লাগে না ভাল, বিজলীবাতি ঘরে/ জ্বালাই তাই অন্তহীন, একলা দিন কাটে/ চেতনা সব হয় নীরব, বেদনা ঝরে পড়ে/ যজ্ঞবেদী সাজানো থাকে, জ্বলে না তাতে ধূপ/ রাখে না পদচিহ্ন কেউ ঘরের চৌকাঠে/ শরীরে ভয়, নারীরা নয় এখন অপরূপ/ তারারা সব নিঝুম ঘুমে, চাঁদের নেই দেখা/ অর্ধমৃত, কাটাই শীত ও গ্রীষ্ম একা একা

Read More »

সুজিত বসুর কবিতা: কিছু কিছু পাপ

শৈবাল কে বলেছ তাকে, এ যে বিষম পাথরে/ সবুজ জমা, গুল্মলতা পায়ে জড়ায়, নাগিনী/ হিসিয়ে ফণা বিষের কণা উজাড় করো আদরে/ তরল হিম, নেশার ঝিম কাটে না তাতে, জাগিনি

Read More »

সুজিত বসুর একগুচ্ছ কবিতা

কতকাল যেন তোমার সঙ্গে কতটি কাল যে/ দেখা সাক্ষাৎ হয়নি আমার, ওষ্ঠের মিল/ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসরে কবে ওয়ালজে/ ঘূর্ণনে ঘোরা চকিত নৃত্যে, রক্তপদ্ম/ ঊরুর মিনারে ফুটে উঠেছিল, সরু হাইহিল/ ভ্রষ্ট বুকের পাষাণে একটি কুয়াশাবিন্দু/ রেখে গিয়েছিল বিষণ্ণতায়, ওই সরোবর/ এখন মৃণালে হয় বহুভুজ, যুদ্ধ আঙিনা।

Read More »

সুজিত বসুর কবিতা

ওপারে, ভাইকে মারার জন্য উদ্ধত বন্দুক/ এপারে তখন, বনলতা সেন নাটকে দেখান মুখ/ ওপারে, শক্তি সুনীল এখনও প্রায়শই প্রকাশিত/ বাংলা বলার লজ্জায় ভয়ে এপারে অনেকে ভীত/ এপারের প্রতিভার উল্লেখ ওপারে নাটকে ঘটে/ ওপারে বাংলা নিজ মহিমায়, নিশ্চিত সংকটে/ এপারে বাংলা, ওপারে নাটকে বাংলার গৌরব/ জ্বালিয়ে রাখেন নিশ্চিতরূপে করিম মোশাররফ।

Read More »

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Journal. ঘুমিয়ে থাকে ঘুমিয়ে থাকে দরজা ধরে দাঁড়ানো/ রাজপুত্র দুর্গদ্বারে, বিভ্রান্তি ক্ষণিকে/ জলবালুকা হয়ে কি তাকে টেনে নিয়েছে ঘোরানো/ সিঁড়ির ষড়যন্ত্রে ক্রূর, চেনেনি সে কি খনিকে/ যা ছিল এত কুহকে ভরা, ধূসর কোনো অতীতে/ খনন করে সন্ধানীরা খুঁজে নিয়েছে স্বর্ণ,/ ধাতব পীত উজ্জ্বলতা, শোকাগ্নিও যে গীতে

Read More »

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Journal. রাকস্যাক কাঁধে নিয়ে ঘোরাফেরা রাজপথে, সীমিত মুদ্রায়/ কলা রুটি কোক দিয়ে প্রাতরাশ দুপুর ও রাতের আহার/ সেবারে নিয়মমতো, উপভোগ অজানাই থেকে যেত প্রায়/ পকেটে পাউন্ড দিত অতি লঘু চাপ, বুকে বিষাদ পাহাড়/ এবারে আমার কাছে রানির হাসিতে মাখা অনেক কাগজ/ শ্বেতাঙ্গিনী ওয়েট্রেস স্যার নামে সম্বোধনে জানায় সম্মান/ ইসলিংটনে দেখি ধবল ঊরুর শোভা নারীদের রোজ/ এখন স্টেশনে আর শুতে হয় না, হোটেলের বাথটবে স্নান

Read More »

সুজিত বসুর গুচ্ছকবিতা

India’s First Bengali Daily Journal. ‘তীব্র গতিতে নীলাঞ্জনার শাড়ির আঁচলে মেঘ’/ একটি লাইন লিখেছি মাত্র, হঠাৎ গর্জে ওঠো,/ অলীক ওসব রূপকথা ছাড়ো, অসহ্য গতিবেগ/ স্পিডোমিটারের কাঁটা মাপে শুধু, ঘরের দুয়ারে ছোট/ শিশির বিন্দু কেঁপেছে বাতাসে, যেই নিতে যাব চোখে/ অমনি বজ্রপাতের শব্দে কাঁপিয়ে সারাটি ঘর/ বেজে ওঠে কারো গম্ভীর স্বর, কী বলবে বলো লোকে/ শ্মশানে নিষেধ জলের প্রবেশ, রূপকথাগুলো জ্বর/ দগ্ধ শরীরে উঁকিঝুঁকি দেয়, হারানো ছোট্ট নীল/ পাখিটা এভাবে আসবে যে ফিরে কখনো ভাবিনি আগে

Read More »

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Journal. নিষেধ আলোয় জড়াও শরীর, দূরের বড় হোটেল থেকে/ তীব্র শিহর বিজলিবাতি, লম্বা নখে একটু ছিঁড়ি/ তন্তুজালের বিহ্বলতা, রিস্টওয়াচে প্রহর গোনা/ হরিণীদের প্রহর গোনা, ধনুক হাতে মৃগয়া কে/ করতে পারো লক্ষ্যভেদী, মস্কো নদী জলের লহর/ বাজাও এত সর্বনাশা, শরীর জুড়ে এ যন্ত্রণা/ আমায় বড় ব্যাকুল করে, হাতের থেকে ধাতুর গুলি/ ছিটকে পড়ে আত্মঘাতে, সুজিত তুমি একটু কি জোর/ দিচ্ছ আমায় সমর্থনে, শিকারটুকু গুছিয়ে তুলি।

Read More »

সুজিত বসুর গুচ্ছকবিতা

India’s First Bengali Daily Journal. এখনও অম্লান হাসে নবজাত শিশুদের দল/ সবুজ কিশোরী মুখ ভেজা আজও ভোরের শিশিরে/ আজও স্বপ্নে ভেসে আসে মায়াবী যুবতী/ এখনও পবিত্র আছে বৃষ্টিধারা, ঝরনাদের জল/ অহল্যা অরণ্য কিছু বিষাক্ত নয় আজও মানুষের ভিড়ে/ জীবন মেশায় আজও মিঠেকড়া লাভ আর ক্ষতি/ হলুদ ভোরের ঘুম ভাঙায় এখনও এসে নীলকণ্ঠ পাখি/ এখনও অনেক যুদ্ধ জয় করা বাকি।

Read More »

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Magazine. আগুন ঘিরে সেই আমাদের প্রথম অঙ্গীকার/ সপ্তপদী ভালবাসার রেশমি মায়াজাল/ অটুট থাকবে সারাজীবন, স্বচ্ছ অমলিন/ সুখের দিনে বৃষ্টি স্নেহের, দুঃখ রোখার ঢাল// পাখির পালক জীবন তখন, দিনগুলি মসৃণ/ রোজই তখন শুক্লপক্ষ, জ্যোৎস্না সারারাত/ চাঁপার সুবাস চতুর্দিকে, বাতাস ছুঁয়ে উড়ি/ জানতাম না প্রস্তুতিতে অদূরে আঘাত// প্রেমের রঙে ঘর রাঙানোর সেই যে প্রতিশ্রুতি/ দিয়েছিলাম তা ভুলিনি, মনোহারী কথা/ রাতপোশাকে সাজিয়ে রাখি, হয়নি কোনো ত্রুটি/ তবে কেন এখন ঘরে পাষাণ নীরবতা

Read More »

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Magazine. কেবল নিজের সঙ্গে, এ খেলার গোলঘরে রুমালচুরির/ বৃত্ত ঘুরে চলাফেরা, ভিয়েনার ট্রেন এসে সরল ঋজুতা/ দেখাবে বাঁকানো তার বাজপাখি ঠোঁট দিয়ে, সে তার কিছুটা/ মুখাগ্র আড়ালে রাখে, ঝমঝম ঝমঝম বর্ষা মেঘ তীর/ সহসা ফুটেছে চোখে কৃষ্ণসার অন্ধকারে, গোধূলি গোধূলি/ ভেনিস স্টেশন জুড়ে, ফিকে নীল পুরু পরদা দোলনা ঝুলনে/ ঝুলেছে নিঃসাড় চুপ, এ রাসপূর্ণিমা এই বৃন্দাবন ধূলি/ মেখেছ বৈষ্ণব গায়ে, তারই ঝড় বৃষ্টিধারা ভেনিস স্টেশনে/ শরীরে তোমার ঝরে কুয়াশার বর্শা হয়ে, ভিয়েনার ট্রেন/ এ থেকে কতটা মুক্তি দিতে পারে, চারিদিকে সমুদ্র সফেন।

Read More »

সুজিত বসুর কবিতাগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Magazine. ছেঁড়া ছেঁড়া সুখ দুঃখ দিয়ে হয় জীবনের নকশিকাঁথা বোনা/ অদৃশ্য শত্রু বা বন্ধু ঘৃণা হিংসা স্নেহ প্রেম মায়ার অলীক তাস বাঁটে/ রঙের টেক্কাটা শুধু পাইনি কখনো, ব্যথা সেঁটে বসে আমার কপাটে/ কাঁসর ঘণ্টার শব্দ এখনও ভোলায় তবু অনেক যন্ত্রণা// মনোরম দৃশ্যাবলি, সাঁতারে যুবতী মুখ, হাঁসেরা মন্থর ভাসে জলে/ পবিত্র শাঁখের শব্দ শুনি আজ কদাচিৎ, নিভৃতে তবুও মনে বাজে/ ঝকঝকে দাঁতের সারি প্রেমিকা উজ্জ্বল হেসে নির্জনে প্রেমের কথা বলে/ অদৃশ্য দড়ির ফাঁস রোজ অনুভব করি, ভয় পাই বোমার আওয়াজে

Read More »

সুজিত বসুর গুচ্ছকবিতা

India’s First Bengali Daily Magazine. মস্কো নগরীর বন বনান্তর ভরে গেছে হিম কুয়াশায়/ শুকনো পাতারা সব ঝরে যায় ক্রমাগত তুহিন মর্মরে/ এ সব বেদনাঘন দিনে লিজা মনে হয় তুমি যে কোথায়/ কোন সুদূরের সুইডেনে যেন নির্বাসনে নির্জন বন্দরে;/ কোথায় ঈশ্বর আজ, ঘণ্টা বাজে ঝমঝম হিমেলি নির্জনে/
আমার পাপীর মনে কেন শুধু পাকায় যে ময়ালকুণ্ডলী/ আমার ঈশ্বর আমি পদতলে লুটিয়েছি, বিষের অঞ্জলি/ তোমাকে নিজেকে দেব একদিন ঠিক জেনো, মনে রেখো মনে;

Read More »

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »