জঙ্গলে ভালবাসা
জঙ্গলে জংলিরা থাকে, সুসভ্য মানুষ থাকে শহরে ও গ্রামে
নগ্নপদে চলে ওরা, মাটির কোমল ছায়া জংলির শরীরে
নরম ঘাসের বুকে পদক্ষেপ জংলিদের, সুসভ্যেরা চড়ে বাসে-ট্রামে
বিষাক্ত ধোঁয়ার জ্বালা বুকে নিয়ে নাগরিক হিংসায় আকুল
গ্রামীণেরা মত্ত ঈর্ষা দলাদলি নিয়ে শুধু গতানুগতিক
রুপোর পূর্ণিমা চাঁদ জ্যোৎস্নায় ভেজায় জংলি নারীদের চুল
মাদলের শব্দে দেহে মাদক স্পন্দন, নাচে জংলিরা বিভোর
মহুয়ার গন্ধে নেশা, পুরুষ নারীরা মাতে সহজিয়া কামে
শহরের বারে বারে বিকৃত সুরার স্রোত, সুসভ্যেরা বাসনায় ঘোর
শরীরের বিক্রিবাটা প্রকাশ্যে, এছাড়া হয় অবাধে ধর্ষণ
শাল পিয়াশালে দেয় উঁকিঝুঁকি নক্ষত্রেরা, জংলিদের রাত
এভাবে মধুর হয়, দিনে সূর্য ভরে দেয় উজালায় জংলি গৃহকোণ
রক্তপাত হানাহানি নিয়েই মানুষ দিব্য বেঁচে আছে গ্রামে ও শহরে
এসবই এখন সহ্য সহজেই, সুসভ্যেরা আনন্দেই আছে
পবিত্র শিশিরে ঘাস স্নাত হয় আজ শুধু জঙ্গলের ভোরে
অনেক সভ্যতা হল, চড়া হল ট্রেন প্লেন দ্রুতগতি যানে
মন্থর গতিতে বাকি জীবনটা কাটে যদি, এমন কী ক্ষতি
হবে আর, ভালবাসা শেখাবে জংলিরা, যাব জঙ্গলে সন্ধানে।
চিত্রণ: ক্রিস্তিনা সাহা






One Response
কি চাবুকের মতো কবিতা! অরণ্য ফিরিয়ে দেবার রবিঠাকুরের সেই কবেকার আর্তি যে আজও জীবন্ত, সুজিত বসুর এই কবিতা সেই প্রাসঙ্গিকতাকে প্রাঞ্জল করেছেন। কবি যে সমাজ বিচ্ছিন্ন স্বপ্নচারী কবি নন, সেকথা তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিতে ব্যক্ত থাকে। শহুরে নানান আবর্তের মধ্যেও যে মানুষের সহজ প্রকৃতিকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জাগরুক, সেই সত্যটিকেই “চিরকালীন” বলে দিলেন যেন! ক্রিস্তিনার অলঙ্করণ যথাযথ ও নান্দনিক।