কল্যাণ সেনগুপ্ত

কল্যাণ সেনগুপ্ত

কল্যাণ সেনগুপ্ত ১৯৭৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে। পাওয়ার প্ল্যান্ট ডিজাইন ও মেটেরিয়াল হ্যান্ডলিংয়ের কাজের সূত্রে নাইজেরিয়া, টার্কি, বেলজিয়াম, বাংলাদেশে থেকেছেন। একাধিক বার জার্মানি, চিন, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে গিয়েছেন ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশনের কাজের সূত্রে। তাঁর একাধিক লেখা জয়ঢাক, একপর্ণিকা, চালচিত্র, মাধুকরী, মেঘের পালক, ওহ কলকাতা, উড়ো পাতা প্রভৃতি ম্যাগাজিনে প্রকাশ পেয়েছে।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

কল্যাণ সেনগুপ্তের ছোটগল্প

ছিঁড়ে যায় নাড়ি হেলিকপ্টার সার্ভিস কোম্পানির ক্যাপ্টেন কাপুর সবে আবুজার সশস্ত্র ডাকাতির অভিজ্ঞতাটা বলতে শুরু করেছেন ওদের পোর্ট হারকোর্টের ক্যান্টিনে বসে। এমন সময় দেবেন মৌলিকের

Read More »

ছোটগল্প: অশিক্ষিত

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| বইয়ের নেশায় জানার আগ্রহে লোকটা চলাফেরায় অন্যমনস্ক, খ্যাপার মত হয়ে গেল। হাতে লাঠির বদলে উঠে এল বই, সর্বক্ষণের জন্যে। প্রথম তাগিদ ছিল বাবু বলেছে। পরে হয়ে গেল নতুন নতুন জানার আগ্রহ। বয়েসকালের জ্ঞানের নেশা হাজার নেশার ওপরে। লিখেছেন কল্যাণ সেনগুপ্ত।

Read More »

ছোটগল্প: বৃদ্ধাবাস

India’s First Bengali Daily Journal. তালগোলে আশ্রম ব্যাপারটা একটু আবছা হয়ে গিয়েছিল। তাহলে বোধহয় এখন চাপা পড়েছে। আবার হাঁটাহাঁটি শুরু করেছেন। সেদিন সন্দীপ বাড়িতে, তরুণবাবু হেঁটে এসে বসার ঘরে বসেছেন। বউমা, ছেলে দুজনই টিভি দেখছে। তরুণবাবু আড়চোখে খেয়াল করলেন সেই বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে সিরিয়ালটা হচ্ছে। উনি আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছিলেন। এমন সময় ছেলে বলে উঠল, ‘বাবা, যেয়ো না। অনেকদিন ধরে তোমাকে একটা কথা বলব বলে ভাবছি কিন্তু কোনও না কোনও কারণে বলা হচ্ছে না।’

Read More »

ছোটগল্প: বাস্তবিক রূপকথা

India’s First Bengali Daily Magazine. মুখে মাস্ক আর টুপি পরে নিয়েছি। আয়নায় নিজেকে দেখেও চিনতে পারছি না। বেশ বইতে পড়া ডিটেকটিভ মনে হচ্ছে। সকাল থেকে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পা ব্যথা। অবশেষে মাধুরী রায় বেরোল। আজ দেখতে আরও সুন্দরী লাগছে। সাধারণ একটা সুতির শাড়িতে লাল ডুরে। শাড়ির সঙ্গে লাল হাতা ব্লাউজ। কপালে কালচে লাল বড় টিপ। গলায় কালো পাথরের মালা। লম্বা, ছিপছিপে চেহারা। লম্বা উঁচু গলা। হেঁটে যাচ্ছে সোজা হয়ে সাদা রাজহাঁসের মত।

Read More »

ছোটগল্প: দাগ

India’s First Bengali Daily Magazine. এ কী? প্রথমে পুনু চমকে ওঠে। তারপর শেখর আর সুরমার চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য! স্টেজে দাঁড়িয়ে উনি তো সেই চামার অনল স্যার। কাকে স্টেজে তুলেছে এরা? এরা কি জানে ওর অন্য রূপ? একমুখ দাড়ি নিয়ে লাজুক মুখে মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে আছেন। শেখর-সুরমার মনের ভিতরে উথালপাথাল হতে থাকে।

Read More »

আজগুবি হিসেব

India’s First Bengali Daily Magazine. আজ আবার ‘টাকা ফেরত ডে’। এই এক অদ্ভুত দিন হয়েছে। প্রথম প্রথম মাইক করে পাড়ায় পাড়ায় বলা হয়েছিল পার্কে পার্কে দেওয়া হবে। তাতে এমন ভিড় হল পার্কের আশেপাশে রাত থেকে যে, বেশ কিছু মানুষ অফিসে যেতে পারল না, কিছু রুগি মারা গেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া গেল না। কলকাতায় জ্যামের রেকর্ড হয়ে গেল। প্রথমে জড়ো হল— তারপর যে যার জায়গায় গেল। সারাদিন এমনকি রাত অবধি জ্যাম রইল। তাই ঠিক হয়েছে এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে ফেরত টাকা।

Read More »

স্বামীজি এসেছিলেন

India’s First Bengali Story Portal. উঠে গঙ্গার দিকের জানলাটা খুলে দাঁড়ালেন। চারিদিকে চেয়ে দেয়ালে হাত বুলিয়ে বললেন, ‘অনেক সংস্কার করা হয়েছে। দরজা, জানলা সেসব আর নেই। শুধু কাঠামোটাই আছে। এমনকি সেই লাল মেঝে যার ওপর আমি শেষ শুয়েছিলাম, সেটাও নেই। শুধু কিছু সামান্য চকচকে কাঠের আসবাব। আমারও মনে নেই এইসব তখন ছিল কিনা। এত পয়সা কি ছিল? মনে হয় না। যেমনকার তেমন রাখতেও আমাদের কার্পণ্য। সাহেবরা কিন্তু দেখেছি একেবারে হুবহু তুলে রাখে। মনে হবে লোকটা মনে হয় এখুনি উঠে গেছে ঘর থেকে।’

Read More »

একটা বাজে লোকের পাল্লায়

India’s First Bengali Story Portal. সেই প্রশ্নটা আবার তুললাম, ‘তাহলে কি আমাদের সম্পর্কগুলো নদীর শাখাপ্রশাখার মত বেঁচে থাকে? নদী যদি শুকিয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে শাখাও বুজে যাবে। আমি এখন থেকে স্বাগতার সঙ্গে দেখা হলে মুখ ফিরিয়ে চলে যাব? এইটাই কি মানুষের মানুষে সম্পর্কের ভিত?’ এতগুলো কথা বলে একটু দম নিলেন, ‘হ্যাঁ যেটা জিজ্ঞেস করা হয়নি। আপনি থাকেন কোথায়?’’

Read More »

দুলু মাসির নববর্ষ

আমি দুই স্টেপ নিচে দাঁড়িয়ে দেখছি মাসি মিলিয়ে গেল ভিড়ের মধ্যে। কিছুক্ষণ বাদে কায়দা করে সেই ক্যালেন্ডার, মিষ্টির বাক্স নিয়ে বেরিয়ে এসে বললে, ‘কী অসভ্য লোক দেখ। যেতেই দিচ্ছে না। আমি তেমন দিলাম দুজনের কোমরে ক্যাতুকুতু। ব্যস চিচিং ফাঁক।’ এই বলে আমার হাতে সব তুলে দিতে গিয়ে পাশে চোখ পড়াতে মুখ ব্যাজার হয়ে গেল। কাঁদো কাঁদো স্বর ভেসে এল, ‘আমাদের সরবত?’ ওইখান থেকেই চেঁচাতে লাগল, ‘বাবলুবাবু, বাবলুবাবু সরবত?’

Read More »

আমার বাড়ি

যে ঘরে আমি পড়াশুনা করতাম, শুতাম, দেখি সেই ঘরটা কাঠের পার্টিশন করে ছোট একফালি ঘর হয়েছে। দুটো জানলায় দামি পর্দা। সামনের টেবিল-চেয়ারও বেশ দামি। আমাদেরটা দামি ছিল না। শিয়ালদহ থেকে সস্তা কাঠের কেনা। পর্দাগুলো রংওঠা জ্যালজ্যালে কাপড়ের, তাও দুয়েক জায়গায় মায়ের সেলাই করা। ঘরে ঢুকেই অচেনা হয়ে গেল বাড়িটা। বুড়ো ভদ্রলোক বললেন, ‘জল খাবেন?’ মেয়েটি বিরক্ত হয়ে ভিতরে চলে গেছে। বৃদ্ধ আমার সম্মতি পেয়ে এক গ্লাস জল এনে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘আসলে যে বাড়িতে প্রথম জ্ঞানের উদ্রেক হয়, সেই বাড়িটিই নিজের বাড়ি। বাকি সব আসাযাওয়া।’

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »