Search
Generic filters
Search
Generic filters
Picture of মঈনুল হাসান

মঈনুল হাসান

মঈনুল হাসানের জন্ম ১৯৭৮ সালের ৪ আগস্ট (বাংলা ২০ শ্রাবণ, ১৩৮৫ বঙ্গাব্দ) ঢাকার তেজগাঁওয়ে। ঢাকার বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন। পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের পর যুক্তরাজ্যের University of Bedfordshire থেকে MA in International Human Resource Management বিষয়েও ডিগ্রি অর্জন। বর্তমানে উপসচিব হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। প্রকাশিত ছোটদের গ্রন্থ: ‘ফুলকুড়ানি মেয়ে’, ‘রাঙা শালুক’। গল্পগ্রন্থ: ‘বাস্তুসাপ’, ‘সন্ধ্যা নামার আগে’, ‘জলসংসার’, ‘শরফুন ও এক শহরের বৃত্তান্ত’, ‘শঙ্খজীবন’। উপন্যাস: ‘নোনা মাটি ধূলিফুল’। সম্পাদনা: ‘কল্পে গল্পে ইলিশ’, ‘শিল্পী-সাহিত্যিকের স্মৃতিতে বঙ্গবন্ধু’।

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ

পবিত্র সরকারের বিশেষ রচনা

বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটু বেশি দুর্বলতা আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে যত কিছু, তাঁদের কাছেও তত কিছু তো বটেই, কিন্তু তারও চেয়ে অনেকটা বেশি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে, আয়ুব শাহি ফরমানে রেডিয়োতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষেধ আর রবীন্দ্র-শতবার্ষিকীর ওপর ফতোয়া জারি থেকে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক

মীরাতুন নাহারের প্রবন্ধ

হিন্দু-সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলমান-সাম্প্রদায়িকতা উভয়কেই তিনি যুক্তি ও তথ্যদ্বারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ধ্বংসাত্মক বলে বোঝাতে চেয়েছেন দেশবাসীকে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত দেশবাসীকে তিনি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল 'সাম্প্রদায়িকতার বিষ' দেশবাসীর মন থেকে নিষ্কাশন করে দেশকে বিপন্মুক্ত করা।

গৌতম ঘোষের প্রবন্ধ

চলচ্চিত্রের ধর্ম হল সময়কে ধরে রাখা, সময়ের স্মৃতিমালাকে ধরে রাখা। সেই পদ্ধতি, সেই প্রক্রিয়া কিন্তু চলতেই থাকবে। এখন আমাদের আরও মানবিক হতে হবে। চলচ্চিত্র যারা তৈরি করবেন তারা শুধুমাত্র সস্তার বিনোদন সরিয়ে রেখে একটু মানবিক ছবি করবেন। যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক, মানুষ ও সমাজের সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

বস্তুত সুকান্ত কবিতার চাইতে বড়। তিনি এক প্রতীকচিহ্ন। সারা ভারতে যখন কবিকে ভাবা হয়েছে জনতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে, তখন সুকান্তকেই ভাবা হয়েছে। তামিল বা হিন্দি সিনেমাতেও হয়েছে। যেমন রাজেশ খান্নার ‘অনুরোধ’ নামের ছবিটিতে যে কবিটি রাজেশের বন্ধু ছিলেন তার নাম সুকান্ত। অথবা অতদূরে কেন যাই, বাংলায় উত্তম-তনুজার ‘দেনা পাওনা’ ছবিতে

কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা

একটি রাত্রি কা লী কৃ ষ্ণ গু হ প্রতিটি রাত্রিকেই নতুন মনে হয়— অচেনা লাগে। আজকের রাত্রিটা যেন চির-অচেনা যেন কিছু ঘটার ছিল যা ঘটেনি ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে প্রেম-বিরহের সমর্থনে মৃদু হাওয়া বইছে। মনে হয়, কারা যেন আকাশ পারাপার করছে। ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে আর কী কী ঘটছে? ভোর হয়ে এল…

অভিজিৎ সিরাজের ছোটগল্প

ফরেস্ট বাংলো অ ভি জি ৎ সি রা জ শঙ্কর দত্তকে আমি শেষ দেখি আনন্দপুরে মাদুরদহের একটা স্কুল বাড়িতে। অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল সেদিন। বাড়ির খোলা ছাদে বসে গান শুনছিলাম আমরা। দ্বাদশী চাঁদের আলোয় শঙ্করের স্ত্রী গাইছিল, তুমি কোন কাননের ফুল/তুমি কোন গগনের তারা।… শঙ্করকে কতকটা আনমনা লাগছিল। তার দৃষ্টি

বিভাস রায়চৌধুরীর কবিতা

বি ভা স রা য় চৌ ধু রী চালুন্দিয়া শ্যামলেশকে একটা কবিতা পাঠাতে হবে ভাবতেই মনে পড়ে শ্যামলেশের কবিতা আমাকে প্রথম দেয় একটি বিষণ্ণ ধ্বনি— লুপ্ত নদী চালুন্দিয়া আজকাল এইসব হয় ভবিষ্যৎ মরে গেলে অতীত বিষয় এসে আমাদের খোঁজে… খুব কলরব করে… অমিতকে নিয়ে চালুন্দিয়া দেখতে গিয়েছি বারবার খাবলে-খুবলে নেওয়ার

সাত্যকি হালদারের ছোটগল্প

প্রহ্লাদ পাত্রর কাহিনি সা ত্য কি হা ল দা র তাকে প্রথম যখন দেখি, তখন তার খানিকটা বয়স হয়ে গেছে। আউটডোরে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার কিছু লোক থাকে। কোনও কারণে গঞ্জে এসেছে, মনে হল এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু না হোক দুটো গ্যাসের বড়ি নিয়ে যাই। এমন কিছু মুখ সব সরকারি

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

বি শ্ব দে ব মু খো পা ধ্যা য় দেশলাই ও কলের গান গুড়ি মেরে বাঘটি এগিয়ে যাচ্ছে আর কিছু দূরে কোনও এক নির্জন নদীর তীরে জল খাচ্ছে একটি হরিণ। দেশলাই বাক্সের উপরে ছবিটি এই। এক কোণে ইংরেজি অক্ষরে লেখা থাকত ‘ডিয়ার অ্যান্ড টাইগার’। যতদূর মনে পড়ে বিংশ শতকের প্রায়

অনিন্দিতা মণ্ডলের প্রবন্ধ

জীবনের অসীম বিস্ময়: অপু ও বিভূতিভূষণ অ নি ন্দি তা ম ণ্ড ল জীবন সম্পর্কে আমাদের মনের মাঝে একটা লক্ষ্য অনুসারে নির্দিষ্ট ছক কাটা থাকে। সেই ছক অনুসরণ করে দিনগত পাপক্ষয়ের মতন আমরাও পৃথিবীর মতন ঘুরে চলি। আমাদেরও আহ্নিক গতি বছরে গড়ায়, এক এক করে বছরগুলো পার করে দেয় জীবনসীমা।

অরণি বসুর কবিতা

অ র ণি ব সু আহূতি অ্যাম্বুল্যান্স থেকে নেমে আগুনের ভিতর দিয়ে সকল আধার কার্ড পেরিয়ে তুমি চলে গেলে। শূন্যতা পাহারা দিচ্ছি আমি। একা একা কথা বলি, একা একা শুনি। লকলক করে আগুন, চরাচর কাঁপতে থাকে। নির্জনে নিজেকে আহূতি দিই রোজ। °°° চিত্রণ: সৌজন্য চক্রবর্তী

প্রচেত গুপ্তের স্মৃতিকথা

রেলগাড়িতে রোমাঞ্চ প্র চে ত গু প্ত বুক ধক্ ধক্ করছে। উল্টোদিকের সিটে বসা পুষ্করকে জিজ্ঞেস করলাম— সে আমার যমজ ভাই হলে কী হবে, আমার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান আর সাহসী— কাঁপা গলায় বললাম, ‘ছোটমামা কি উঠতে পারবে? নাকি তার আগেই ট্রেন ছেড়ে দেবে?’ পুষ্কর জানলার শিকের ওপর মুখ ঠেকিয়ে,

মন্দাক্রান্তা সেনের কবিতা

ম ন্দা ক্রা ন্তা সে ন সাইট সিইং লামাহাটায় গিয়ে তোমাকে ফোন করেছিলাম। তুমি বললে, সাইট সিইং কেমন হচ্ছে? এদিকে আমি তো বসে আছি অরণ্যের নিথর কোলে। ঠেলে সরালেও নড়ে বসব না। ভালই হল, বুঝে গেলাম তুমি অস্থির। চঞ্চল। আমি মনের মধ্যে নড়ে বসলাম। মনে মনে অস্থির তো আমিও। তোমাকে

ঝুমুর পাণ্ডের ছোটগল্প

যাত্রা ঝু মু র পা ণ্ডে আকাশে শব্দ করে একঝাঁক পাখি উড়ে গেল। চমকে তাকালেন সুমন। হ্যাঁ সুমন দত্তরায়। শহরে ছাদের ওপর এই ছোট্ট একটুকরো আকাশ। এটাই যেন অনেক শান্তি এনে দেয় সুমনকে। উঁচু উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িতে ঢেকে যাচ্ছে পুরো শহরটা। বাড়ি কোথায়, সব যেন বাক্স। এই যে সামনে বিরাট ফ্ল্যাটটা।

গৌতম চৌধুরীর কবিতা

গৌ ত ম চৌ ধু রী হাতচিঠি বজ্রের মতো লিকলিকে রেখাগুলি হেঁটে যাচ্ছিল অকুতোভয়, অন্ধকার ঝোপঝাড় মাঠ দিগন্ত পার হয়ে। যেন সত্যিই আগুন থেকে উঠে-আসা পূত অস্ত্র! যার জন্য কত না সাধ্যসাধনা। আজও কাসুন্দে-খুরুটে আরও সব চিপা চিপা স্যাঁতসেঁতে গলিতে ঘ্রাণ মিশে আছে। উন্মত্ত বাজার ফণা তুলে নাচ শুরু করেনি

তৃষ্ণা বসাকের ছোটগল্প

যখন অন্য মন, অন্য আশা তৃ ষ্ণা ব সা ক কলকাতায় শীত বলে কোনও ঋতু নেই, শুনেছিল দেবী। এবার দেখল তা পুরো সত্যি নয়। ডিসেম্বরের শেষে জমিয়ে শীত পড়ল কলকাতায়। কলকাতার শীতের একটা আলাদা মজা আছে। এর আগে এইসময় আগের বছর ও মায়ের কাছে চলে গেছিল। সংক্রান্তি নাকি কাটাতে নেই

নাসরীন জাহানের কবিতা

না স রী ন জা হা ন ভ্রমণে যাও তোমাকে বলেছি— বিদায়! তুমি ভ্রমণে যাও। সবুজ অলৌকিক অব্দি খেয়ে ফেলছে ব্ল্যাকহোল! আমি ফিরে এলাম, আমি, উড়তে পারলাম না। সোডিয়াম বাতিগুলো অব্দি বাদামি বেশ্যার অপেক্ষায় থাকে, মরা মাছির চোখের মতো, কাঠপেন্সিলের মতো বিগ্রহ নিয়ে বাজারে চলবে? বাতাসে কোথায় আর সন্তর্পণ? তুমি

শতাব্দী দাশের ছোটগল্প

মায়ের নাম শ তা ব্দী দা শ সুহাসিনী ভারি অপ্রস্তুতে পড়লেন। দুই ছেলে আপিসে বেরিয়েছে। কর্তা দুপুরের ঘুম দিচ্ছেন। এ ব্যাপারটা কীভাবে যে একা সামলাবেন, বুঝে উঠতে পারলেন না৷ সমুখে তাঁর মেয়েটিও হতবাক। ঘেমেনেয়ে একসা হয়ে আছে সে। কাঠফাটা গরমে মেয়েমানুষের বেরোনো ঠিক নয় মোটে— একথা সুহাসিনী তাঁর বড় নাতনিকে