বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাষার একজন প্রধান কবি ও প্রাবন্ধিক হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর কবিতা যেমন তেমনই তাঁর প্রবন্ধও সুগভীর বৈদগ্ধ্যে উজ্জ্বল। তাঁর মননের জগৎ দর্শন, বিজ্ঞান ও সঙ্গীতের প্রজ্ঞায় ভাস্বর, যার পটভূমিকা রচিত হয়েছে এক অনন্ত আধ্যাত্মিক চেতনায়। জন্ম ১৯৪৬-এর ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায়, কিন্তু মনে মনে আজীবন বসবাস বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে। তাঁর মাতৃ-পিতৃভূমি কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্করের গ্রাম। বিশ্বদেব তাঁর দৌহিত্র। তাঁর মা গঙ্গাদেবী এবং বাবা শান্তিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ছায়া যার দশদিক’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৫-এ। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং প্রবন্ধ সংকলন পাঠকমহলে বিশেষরূপে সমাদৃত হয়েছে।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা

অপেক্ষা জানালার ধারে সারা রাত একা বসে থাকেন কবিষ্ক। লেখেন। তাঁর কাঁধের ওপরে কিছু নেই মেঘের মতো শুধু অন্ধকার আকাশ… .         

Read More »

বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

India’s First Bengali Daily Magazine. কত বর্ষ ভজি নাই আহা বঙ্গ নাম/ মজিনি কীর্তন ঢপে!… শোভাবিষ্ট গ্রাম/ উঠোনে রসালো আমসত্ত্ব, রজো, তমো—/ ত্রৈগুণ্যবিষয়া অঙ্গ… নমো, বঙ্গ নমো।// আষাঢ়, শ্রাবণ… ক্রমে ভাদ্র মাস গতে/ লেপন করিয়া নিত্য পরতে পরতে/ পুতের বাৎসল্য আর পতির শৃঙ্গার/ সর্ব রসে রসনার স্বর্ণবর্ণ সার।// অন্ততত্ত্ব, বিশ্ব কয়, নাহি যার সম/ বধূর মধুর রস, বঙ্গ নারী নমো।

Read More »

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »