Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রচেত গুপ্তের স্মৃতিকথা

রেলগাড়িতে রোমাঞ্চ

প্র চে ত  গু প্ত

বুক ধক্ ধক্ করছে।
উল্টোদিকের সিটে বসা পুষ্করকে জিজ্ঞেস করলাম— সে আমার যমজ ভাই হলে কী হবে, আমার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান আর সাহসী— কাঁপা গলায় বললাম, ‘ছোটমামা কি উঠতে পারবে? নাকি তার আগেই ট্রেন ছেড়ে দেবে?’
পুষ্কর জানলার শিকের ওপর মুখ ঠেকিয়ে, প্ল্যাটফর্মে ছোটমামাকে খুঁজতে খুঁজতে ভয় পাওয়া গলায় বলল, ‘কই দেখতে পাচ্ছি না তো! ট্রেন ছেড়ে দেবে না তো!’
এবার আমার কান্না পেল। এই অজানা, অচেনা রেলস্টেশনে ছোটমামাকে ফেলে যদি ট্রেন চলে যায়, তা হলে কী হবে?
এই রোমাঞ্চকর গল্প বহু বছর আগের। তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। সেই সময়ের রেলগাড়িতে ভ্রমণ ছিল নানারকম রোমাঞ্চকর গল্পে ভরা। তারই একটা-দুটো বলবার জন্য বসেছি।
এখন দেশ-বিদেশের নানা রকম ট্রেনের খবর পাই। যাকে আমরা আগে বলতাম রেলগাড়ি— বালকবয়সে যাকে শুধু ‘রেলগাড়ি’ বলেই জানতাম। শব্দটার মধ্যেই যেন একটা আলাদা মায়া ছিল। এখন সেই ট্রেনের খবরে থাকে— খুব জোরে ছুটবে, আরও জোরে ছুটবে, চালক লাগবে না এমন চালকবিহীন, হাইড্রোজেন ট্রেন। খবর আসে খবরের কাগজে, মোবাইল ফোনের নানা নিউজ ফিডে, ইউটিউবে। প্রযুক্তি আর আধুনিকতায় রেল কত দূর এগিয়ে গেছে, তার ইয়ত্তা নেই। মোবাইল ফোনের কল্যাণে এখন সারা পৃথিবীর কত রকম ট্রেনকে যে চোখের সামনে পাই, তার হিসেব আমার কাছে নেই। চোখের সামনে মেট্রো রেল হল। এটাও একটা মজার ব্যাপার— মেট্রোকে কেউ মেট্রো ট্রেন বলে না, মেট্রো রেলই বলে। এখন সেই মেট্রো আবার গঙ্গার নীচ দিয়েও চলেছে! এই সময় দাঁড়িয়ে তাই খুব মনে পড়ে আমার পুরনো দিনের রেলপথের কথা।
আসলে, রেলগাড়ি আমাদের ছোটবেলায় একটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার ছিল। উত্তেজনার, রোমাঞ্চের। আমরা নিজেরাও তো ‘কু ঝিকঝিক’ খেলতাম। এখনকার ছেলেমেয়েরা খেলে কি না, জানি না। আমরা বাচ্চারা একে অন্যের কোমর ধরে মানব-রেলগাড়ি বানাতাম। নিজেরাই রেলগাড়ি সাজতাম। এমনকী আমাদের ছোট ছোট খেলনা রেলগাড়িও কিনে দেওয়া হত। নিজেরাই লাইন বানিয়ে সেই খেলনা রেলগাড়ি চালাতাম। কী যে আনন্দ পেতাম!
সেই আবেগ, সেই ছেলেমানুষি এখনকার ছেলেমেয়েদের আছে কি না, আমার জানা নেই।
তখন ‘চলছে রেলের গাড়ি’ গান শুনলে কী যে ভাল লাগত! মনে হত, গানটা যেন আমাদেরই কথা বলছে। নিজেদের সেই রেলগাড়ির মধ্যে মিলিয়ে ফেলতে পারতাম। এইসব কিছু মিলিয়েই আমার বাল্যকাল। আমার বাল্যকালে রেলগাড়ির ছিল মস্ত ভূমিকা।
আমার খুব পুরনো একটা স্মৃতি মনে পড়ছে। এটাকে শুধু স্মৃতি বলব না, পুরনো রোমাঞ্চ বলব। রেলগাড়িতে চড়ে বেড়াতে যাওয়ার সেই রোমাঞ্চ এখন আর কোথায়? জল ভরবার গল্পটাই বলি। রেলগাড়ি থেকে নেমে ওয়াটার বটলে জল ভরবার কায়দা ছিল শিল্পের পর্যায়ে। যাকে বলে একটা আর্ট। তখন রেলে বোতলের জল বলে কিছু পাওয়া যেত না। বাড়ি থেকেই জলের বোতল নিয়ে যেতে হত। রেলযাত্রার জন্য আলাদা ওয়াটার বটলও কেনা হত। জলের বোতল তো নিয়ে যাওয়া হল। কিন্তু জল পাব কোথা থেকে? দীর্ঘ যাত্রা। দেড় দিনের, দু’দিনের। কখনও দু’রাতেরও। রাত-দিন গাড়িতে থাকতে হবে। জল পাওয়ার একমাত্র উপায় স্টেশনের ‘পানীয় জল’–এর কল। সেই সময় গাড়ি থেকে স্টেশনে নেমে যারা জল ভরতে পারত, আমার মনে হত তারা নিশ্চয় এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। রেলগাড়ি একটা স্টেশনে দাঁড়াত। সেই স্টেশনে খাবার জলের আলাদা কল থাকত। এবার নিমেষের মধ্যে ট্রেন থেকে নেমে আড়াই থেকে সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যে দুটো জলের বোতল ভরে নিয়ে আসতে হবে। ভিড়ের মধ্যে দিয়ে ছুটে যেতে হবে, কল খুঁজে বের করতে হবে, জল ভরতে হবে, তারপর রেলগাড়ি ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে নিজের কামরায় উঠে পড়তে হবে। এ শিল্প ছাড়া আর কী! এখনও ভাবলে মনে হয়, যারা এ-কাজে দক্ষ ছিলেন, শুধু তারাই পারতেন।
আমার ছোটমামা ছিল এরকম একজন জল এক্সপার্ট মানুষ।
বড় বড় ট্যুর হত আমাদের। দশ দিনের জন্য, পনেরো দিনের জন্য, কখনও এক মাসের জন্য। হয়তো পুরীতে বাড়ি ভাড়া করে থেকে যাব বা কাশীতে হলিডে হোম অথবা দেওঘরে। শুধু নিজের বাড়ির কয়েকজন নয়, পরিবার বলতে তখন অনেকে বোঝাত। কত আত্মীয়স্বজন যে জুড়ে থাকত। রেলের কামরা গমগম করত। এতগুলো মানুষের জল তো লাগবে। সেই জল কে আনবে? সঙ্গে ছোটমামা থাকলে এই কাজটা নিয়ে আর কোনও চিন্তা ছিল না। ছোটমামা থাকলে জল তোলার দায়িত্ব তারই। মামা এই কাজটি করত অতি নিপুণভাবে।
এবং এই কাজে তার প্রধান অস্ত্র ছিল টাইমটেবিল। যেখানে রেলগাড়ির সময় সারণি থাকত। ওয়াটার বটলে জল কমে আসছে দেখলেই ছোটমামা টাইমটেবিল খুলে বসত। সামনের স্টেশন আসতে কত দেরি, সেই স্টেশন ছোট, বড়, নাকি মাঝারি— গাড়ি সেখানে কতক্ষণ থামবে— সে-সবই খুঁজে বের করতেন। তারপর হিসেব করতেন— কোন স্টেশনে নেমে দুটো বোতল ভরতে কতটা সময় লাগতে পারে, যদি তিনটে বোতল ভরতে হয়, তা হলেই বা কত সময় লাগবে— সময়কে তিন দিয়ে ভাগ করলে কি বোতলপিছু সময় পাওয়া যাবে, কোথায় নামা নিরাপদ, কোথায় গাড়ির হল্টের সময় কম, এরকম নানা হিসেব কষত।
স্টেশনে সিমেন্টের তৈরি জলের জায়গা। চারপাশে গোল করে কল। তিনটে, চারটে। কোথাও টিউবওয়েলও থাকত। আবার অনেক স্টেশনে কিছুই থাকত না। গাড়ি থেকে নেমে ওখানেই ছুটতে হবে। জলের সম্ভার কতটা নিয়ে রেলে চলা উচিত, সেটাও একটা হিসেবের ব্যাপার ছিল। জল তো ফুরিয়েই যাবে। দেখতাম, গাড়ি প্ল্যাটফর্মে ঢোকবার সময়ই অনেকে জানলা দিয়ে দেখে নিচ্ছে, কোন দিকে জলের কল? কোথায় ‘পানীয় জল’ লেখা। কোথাও ‘Drinking Water’, কোথাও ‘পিনে কা পানি’। কোন দিকে গেলে জল পাওয়া যাবে, আগে থেকেই দেখে নেওয়াটা জল এক্সপার্টদের কাজ ছিল। দিক ভুল হলে মুশকিল। একবার এপাশ, একবার ওপাশে ছোটছুটি করতে হবে। ছোটমামা কামরার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আগে লক্ষ্য স্থির করত। তারপর গাড়ি ‘ঘচাং ঘচ্’ করে থামলেই লাফ। ছোট লাফ, কিন্তু দিগভ্রষ্ট যেন না হয়। লাফের পর, জলের কলের দিকে ‘কল কল’ রবে ধেয়ে যেত। আমরা জানলা দিয়ে বিস্মিত হয়ে দেখতাম, মামা যেন কোনও অভিযানে যাচ্ছে। জল অভিযান। জল শিকার বললেও ভুল হয় না।
অবশ্য ভুলও হত অনেক সময়। গিয়ে দেখা গেল, ওই দিক কলে আছে, জল নেই। তখন আবার ফিরতে হবে। এদিকে গার্ডের ঘড়িতে সময় কমছে। আমার বেশ মনে পড়ে, মামার আসতে দেরি দেখে আমি মুখ ভেটকে কেঁদেও ফেলেছি। মনে হত, মামা বোধহয় আর গাড়িতে উঠতে পারবে না। একা পড়ে থাকবে স্টেশনে। কী খাবে? শুধু জল খেয়ে কতদিন থাকতে পারবে? আমার চোখ মোছা দেখে মা ধমক দিচ্ছে, বাবা ধমক দিচ্ছে, দাদা চোখ পাকাচ্ছে। বলছে, ‘ঠিক পারবে।’ কখনও বাবা হয়তো নিজেই নেমে পড়েছেন তাঁকে সাহায্য করার জন্য। এই নিয়ে কত মজার ঘটনা ঘটত।
শেষ পর্যন্ত ছোটমামা ভিড়ের মধ্যে থেকে জল নিয়েই ফিরত হাসিমুখে, বুক ফুলিয়ে, যেন বাঘ শিকার করেছে। ফিরে এসে বলত, ‘বুঝলে, এ ব্যাপারে আমি ট্রেনিং নিয়েছি।’ আমরা খুব অবাক হতাম। ট্রেনিং! ট্রেন থেকে নেমে জল ভরে নিয়ে আসার আবার ট্রেনিং হয় নাকি? মনে মনে বিশ্বাসও করতাম। ছোটমামা যখন বলছে, নিশ্চয়ই হয়। মামা ছিল পাকা জলশিকারি। আর আমাদের কাছে হিরো।
এমনও হয়েছে, ছোটমামা হয়তো বাংকে শুয়ে ঘুমোচ্ছ। হঠাৎ তাকে ডাকা হল।
‘ওঠো, সামনে স্টেশন আসছে। জল ফুরিয়ে গেছে।’
ছোটমামা নির্বিকার ভাবে উঠে পড়ত। তখন তো গাড়িতে ভেস্টিবিউল ব্যবস্থা ছিল না। থাকলে অল্প। এক কোচ থেকে অন্য কোচে চট করে যাওয়া যত না। উচ্চশ্রেণির কামরা ছাড়া খুব কমই ছিল। আমরা যেতাম সেকেন্ড ক্লাস থ্রি-টিয়ারে। মধ্যবিত্ত বাঙালির পক্ষে দূরের যাত্রায় সেটাই ছিল সবচেয়ে সুবিধাজনক রিজার্ভেশন। লম্বা রেলযাত্রায় তিনতলা বাংকে উঠে পড়তাম। একবার বাবাও জল নিতে নেমে কেলেঙ্কারি করলেন! জল ভরতে গিয়ে এদিক-ওদিক করতে করতে ট্রেন ছেড়ে দিল।
আমরা জানলাম, আমাদের বাবা স্টেশনে হারিয়ে গেছেন। হাতে একটা ওয়াটার বটল নিয়ে আমার বাবা হারিয়ে গেলেন। স্টেশনের নামও আমরা পড়তে পারিনি, বুঝতে পারিনি। আমরা তো ছোট। কী করব জানি না।
আমার মা এবং বাকিরা সবাই খুব উদ্বিগ্ন। চিন্তিত। কী হবে? চেন টানা হল, কিন্তু চেন কাজ করল না। বাবা পরের গাড়িতে আসতে পারবেন কি না, সেই চিন্তা। চল্লিশ মিনিট উৎকণ্ঠার চরম। পরের স্টেশন আসতেই আমার দরজার কাছে ছুটে গেলাম। দেখি আসতেই জলের বোতল হাতে বাবা হাসিমুখে এদিকে আসছেন। তিনি সামনে যে কামরা পেয়েছিলেন, তাতেই উঠে পড়েছিলেন। তখনকার রেলযাত্রায় এমন ঘটনা বেড়ানোর রোমাঞ্চ। পরবর্তীকালে দেখেছি, মা বড় গোল পাত্র, যার সামনে কল থাকত, সেটা নিয়ে গাড়িতে উঠছে। কেউ কেউ কুঁজো নিয়ে উঠত।
মনে আছে, আমার ঠাকুমা একবার বলেছিলেন, তাঁর কুঁজোই লাগবে। পুরী যাওয়ার সময়। মাটির কুঁজো ছাড়া জল খাবেন না। খেতেন না।
‘আমি কুঁজো ছাড়া যেতে পারব না।’
বলা হল, ‘তোমাকে পুরীতে গিয়ে কুঁজো কিনে দেওয়া হবে।’
ঠাকুমা বললেন, ‘না। রেলেও কুঁজো ছাড়া জল খাব না।’
তাঁর পানের ডিবে লাগবে। কুঁজো লাগবে। শেষ পর্যন্ত ঠাকুমার জন্য কুঁজো নিয়ে যাওয়া হল। সবাই আপত্তি করলেও মা ঠাকুমার পক্ষ নিল। মা বলেছিল, ‘যখন উনি চাইছেন, এইটুকু তো সামান্য চাওয়া।’
সেই কুঁজো গেল। কুঁজো রাখার বিড়ে গেল। আজকের দিনে এসব নিয়ে আর কেউ চিন্তা করে না। যাওয়ার সময় একটা জলের বোতল কিনে নিলেই হল। তবে এখন সবাই যে বোতল কিনতে পারে, তা-ও মনে হয় না।
আজও যদি রাজস্থান-টাজস্থানের দিকে কোনও লম্বা রেলযাত্রা হলে, সাধারণ মানুষ, গ্রামের মানুষ— তাঁরা কিন্তু বোতল নিয়ে সেই পানীয় জলের সন্ধানে নেমে পড়েন। তাই রেলগাড়ির সঙ্গে জলের সম্পর্কটা বোধহয় পুরোপুরি শেষ হয়নি। শুধু তার রূপটা বদলে গেছে।
রেলযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল গরম চা। পাওয়া যেত মাটির ভাঁড়ে। এখন মাটির ভাঁড়ে দেয় কি? জানি না। মনে হয়, কাগজের কাপই হয়। এখনকার বেশির ভাগ ট্রেনে ফ্লাস্ক নিয়ে এসে চা দিয়ে যায়। রেলগাড়িতে মাটির ভাঁড় না থাকলে যেন সে রেলযাত্রা রেলযাত্রাই নয়। স্টেশনে ভোরবেলা ঘুম ভাঙবে। অচেনা কোনও স্টেশন। জানলার বাইরে তখনও আধা অন্ধকার কিংবা ভোরের আবছা আলো। আর সেই সময় দূর থেকে ভেসে আসবে— ‘গরম চা… গরম চা…’।
তখন রেলগাড়ি শুধু এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় নিয়ে যেত না। রেলগাড়ি আমাদের নিয়ে যেত একটা অন্য জগতে। সেখানে ছিল রোমাঞ্চ, উৎকণ্ঠা, আনন্দ, ভয়, হাসি, আত্মীয়স্বজনের ভিড়, মাটির কুঁজো, জলের বোতল, টাইমটেবিল, গরম চায়ের হাঁক— আর ছিল ছোটমামার মতো মজার মানুষদের জলশিকার।
আজ প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে। ট্রেন অনেক দ্রুত হয়েছে। গঙ্গার নীচ দিয়ে মেট্রো চলে। চালক ছাড়াই ট্রেন চলছে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তের ট্রেনের ছবি আমরা মোবাইল দেখতে পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, সেই পুরনো রেলগাড়িটা কোথায় গেল? যে রেলগাড়িকে ঘিরে একটা শিশুর চোখে এত স্বপ্ন ছিল, এত বিস্ময় ছিল, এত উত্তেজনা ছিল, সে গেল কই? যে রেলগাড়িতে জল ফুরিয়ে গেলে একজন মানুষ বুক চিতিয়ে নেমে পড়ত জলশিকারে, আর জানলার ধারে বসে থাকা আমরা ভাবতাম— এই বুঝি সে আর ফিরবে না! মাঝে মাঝে এখনও কল্পনায় সেই রেলযাত্রা দেখতে পাই। দূরে অচেনা স্টেশন। গাড়ি থামছে।
জলের কল খুঁজতে একজন মানুষ ছুটে যাচ্ছে। জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আমরা তাকিয়ে আছি। কোথাও একজন চা-ওয়ালা হাঁকছে, ‘গরম চা… গরম চা…’।
রেলগাড়ি আসলে শুধু রেলগাড়ি ছিল না। সে ছিল আমাদের বাল্যের একটা টুকরো।

°°°

চিত্রণ: সৌজন্য চক্রবর্তী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 − five =

Recent Posts

প্রচেত গুপ্ত

প্রচেত গুপ্তের স্মৃতিকথা

রেলগাড়িতে রোমাঞ্চ প্র চে ত  গু প্ত বুক ধক্ ধক্ করছে। উল্টোদিকের সিটে বসা পুষ্করকে জিজ্ঞেস করলাম— সে আমার যমজ ভাই হলে কী হবে, আমার

Read More »
গৌতম চৌধুরী

গৌতম চৌধুরীর কবিতা

গৌ ত ম  চৌ ধু রী হাতচিঠি বজ্রের মতো লিকলিকে রেখাগুলি হেঁটে যাচ্ছিল অকুতোভয়, অন্ধকার ঝোপঝাড় মাঠ দিগন্ত পার হয়ে। যেন সত্যিই আগুন থেকে উঠে-আসা

Read More »
মন্দাক্রান্তা সেন

মন্দাক্রান্তা সেনের কবিতা

ম ন্দা ক্রা ন্তা  সে ন সাইট সিইং লামাহাটায় গিয়ে তোমাকে ফোন করেছিলাম। তুমি বললে, সাইট সিইং কেমন হচ্ছে? এদিকে আমি তো বসে আছি অরণ্যের

Read More »
ঝুমুর পাণ্ডে

ঝুমুর পাণ্ডের ছোটগল্প

যাত্রা ঝু মু র  পা ণ্ডে আকাশে শব্দ করে একঝাঁক পাখি উড়ে গেল। চমকে তাকালেন সুমন। হ্যাঁ সুমন দত্তরায়। শহরে ছাদের ওপর এই ছোট্ট একটুকরো

Read More »
বেবী সাউ

বেবী সাউয়ের কবিতা

যাজ্ঞসেনী বে বী  সা উ এই যে সুসময়, অথবা কদাকার তাহাকে তুমি ডাকো শ্রী নন্দিনী! আঁচল ভরা ফুলে, মাথায় চুড়োখোঁপা তুমি কি তাহাকেও ডুবাবে প্রেমে?

Read More »
তৃষ্ণা বসাক

তৃষ্ণা বসাকের ছোটগল্প

যখন অন্য মন, অন্য আশা তৃ ষ্ণা  ব সা ক কলকাতায় শীত বলে কোনও ঋতু নেই, শুনেছিল দেবী। এবার দেখল তা পুরো সত্যি নয়। ডিসেম্বরের

Read More »