Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

পবিত্র সরকারের বিশেষ রচনা

রাজশাহিতে রবীন্দ্রনাথ

প বি ত্র  স র কা র

আসল আমন্ত্রণটা এসেছিল রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি থেকে। না, শ্বশুরবাড়িতে এখন কেউ নেই, এমনকী রবীন্দ্রনাথের শ্যালিকারাও নেই। যদ্দুর মনে হয়, তখনও ছিল না। কিন্তু তাই বলে খুলনার ফুলতলির অদূরে দক্ষিণডিহি গ্রামের ওই ছোট্ট কিন্তু বেশ দেখনদার বাড়িটি আর খণ্ডহর হয়ে পড়ে নেই আজ, তা দিব্যি ঝকমকে হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। সেখানেই এখন প্রতিবছর খুব ধুমধাম করে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করা হয়, পাশের মাঠে একটি লোকমেলাও বসে। কাছের আর দূরের থেক তিনদিনের অনুষ্ঠানে হাজার-হাজার লোক আসে, গ্রামের বিশ্ববিখ্যাত জামাইকে শ্রদ্ধা জানাতে। বিকেল থেকে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান রাত বারোটার ওদিকে গড়িয়ে যায়।

কিন্তু আমাকে এই আমন্ত্রণ থেকে প্রায় হাইজ্যাক করে নিয়ে গেলেন অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার, রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএস বা ইন্‌স্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের অধ্যাপক। সেখানে আগে একটি বক্তৃতা দিতে হবে, তবে আমি খুলনা যেতে পারব।

তা বক্তৃতা আমি খুব দিতে পারি। বক্তৃতা করেই তো খাই, সেটাই তো আমার চাকরি। এক ঘণ্টার বক্তৃতা, পঞ্চাশ মিনিটের বক্তৃতা, পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বক্তৃতা। কখনও দুটো ক্লাস এক সঙ্গে পড়ে গেলে দু’ঘণ্টার বক্তৃতাও হয়ে যায়। কিন্তু আমার শত্রুরাও যা স্বীকার করে, আমাকে সময় বেছে দিলে আমি তা মেনে চলি, বলার আগে একবার আর শেষ করার আগে একবার হাতঘড়ি দেখে নিই। আমি সে রকম নই যে, ‘আজ আমি বেশি কিছু বলব না’ বলে ঝাড়া তিন ঘণ্টা চালিয়ে যাব, শ্রোতারা আওয়াজ করে হাই তুলবেন, বুকের ওপর মাথা নুইয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন বা চেয়ার ছেড়ে চা খেতে উঠে যাবেন। কিংবা, শুনেছি ভূপেশ গুপ্ত যেমন নির্দেশ দিতেন, এই, প্লেন ধরতে হবে, আমি সময় পেরিয়ে গেলে আমার পাঞ্জাবির পকেট ধরে টান দেবে। শুধু টানে অনেক সময় হত না, পকেট ধরে ঝুলে পড়তে হত। স্বাধীন ভারতের প্রথম দিকে আমাদের রাষ্ট্রসংঘের মহামান্য দূত কৃষ্ণ মেনন একটানা ছয় ঘণ্টা বক্তৃতা দিয়েছিলেন বলে শুনেছি— তার পরে সম্ভবত (আমার স্মৃতিও দুর্বল হয়ে এসেছে) নিজেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, নাকি শ্রোতারা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, আমার ঠিক মনে নেই। বক্তৃতার ওই এভারেস্ট শিখর আমি কোনও দিন ছুঁতে পারব বলে মনে হয় না।
তবু বক্তৃতা করতে আমার ভাল লাগে, এ কথা বলতে আমার কোনও লজ্জা নেই। কিছু মানুষ মুখোমুখি কথা শুনছেন, ভাল না লাগুক, হাততালি দিয়ে থামিয়ে দিচ্ছেন না, ভাল লাগলে কাছে এসে বলছেন— এই সব ঘটনায় আমার জীবনের দম আর দাপট বেড়ে যায়। আমার বাড়ির লোকেদের মতামত অবশ্য অন্যরকম, তাঁরা কেউ কেউ বলেন, বক্তৃতার গন্ধ থাকলে আমাকে বাড়িতে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। কাজেই স্বরোচিষকে বললাম, ঠিকাছে, যাব রাজশাহি।

২

কিছুটা পথ পর্যন্ত আমার যাত্রাসঙ্গী ছিল ছাত্র সৌমিত্র বসু, ছাত্রী সুমিতা, প্রিয় দম্পতি, নাটকে দু’জনেরই ডাকসাইটে অবস্থান। আর ছিল গায়ক শুভশংকর জোয়ারদার আর তার মেয়ে ডানা। ওরা যাবে দক্ষিণডিহি। বেনাপোল সীমান্ত থেকে আমাদের বিচ্ছেদ হল। আমার জন্যে রাজশাহির যান নিয়ে এসেছিলেন স্বরোচিষের ছাত্র ড. দিব্যদ্যুতি সরকার, তার সঙ্গে ভেসে পড়া গেল। ঘটনাচক্রে সরকার পদবির একটু আধিক্য ঘটছে, স্বরোচিষ, দিব্যদ্যুতি, পবিত্র। পরে রাজশাহির নাট্যবিভাগেও দু’-দু’জন সরকারকে পাব, তারা সেখানে অধ্যাপক। এর পেছনে আমার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। যাব বেনাপোল থেকে ঝিকরগাছা হয়ে যশোর, যশোর থেকে ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া, সেখান থেকে পদ্মাপার হলাম লালন সেতুতে, তার পর ঈশ্বরদি থেকে পাবনা জেলা ফুঁড়ে, নাটোরের পাশ কাটিয়ে রাজশাহি। সিধে রাস্তা, কলকাতা, ডায়মন্ড হারবার, রানাঘাট, তিব্বত।

বাংলাদেশের রাস্তায় শহরের বাইরে বেরোলে বেশ মজা লাগে। সবুজ এসে যেন চোখের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু তারও আগে সবারই যা চোখে পড়ে, বাংলাভাষার বিপুল ব্যবহার। ইংরেজি কথা, বাংলায় লেখা— ট্রাকের গায়ে ‘অক্ষয় ট্রেডিং কোম্পানি’, ‘হাজী ট্রেডিং কোম্পানি’। বা বাস কম্পানির নাম নদীর নামে ‘গড়াই’। ট্রাকের পেছনে লেখা— ‘সংকেত দিন’ ও ‘ধন্যবাদ’। কিংবা ‘১০০ হাত দূরে থাকুন’। এ-সব আগেও দেখেছি, তবে মাঝখানে অনেক দিন স্থলপথে আসা হয়নি, তাই এই বাংলার রাজ্যে ভূতলপথে যাত্রী হয়ে আর-একবার বেশ আরাম লাগল। বাংলাদেশের নাম দু’দিক থেকে সার্থক। বাঙালির দেশ, বাংলাভাষারও দেশ।

সবুজের কথা বলছিলাম। বাংলাদেশে বনায়ন চলছে পুরোদমে। স্লোগানটি বেশ, ‘গাছ লাগান, দেশ বাঁচান।’ বেনাপোলের পর বেশ খানিকটা পর্যন্ত সেই শেরশাহের আমলের অতি প্রবীণ শিরিষ গাছ, যেগুলির বিশাল গুঁড়ি বহু ইতিহাসের সাক্ষী, রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের তো বটেই। ডালপালা কাটা গেছে অনেকের, কিন্তু তাদের বিশালত্ব এখনও মাটি আর আকাশ দখল করে আছে। কিছুদূর গিয়ে দেখি শিরিষেরা নতুনদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে, রাস্তার ধারে এক পায়ে খাড়া সিসু, বাবলা, আম, আকাশমণি এই সব গাছ ঝাঁকড়া হয়ে দাঁড়িয়ে বলছে ‘এসো, এসো’। মাঝখানে গেরস্থের বাড়ির কলাগাছও উঁকি দিচ্ছে, একটি-দু’টি খেজুর গাছ একটু বেখাপ্পা সংকোচ নিয়ে দেখা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে সংখ্যালঘুর বিপন্নতা। ছোট্ট একটুখানি খেত মাঝখানে রেখে দাঁড়িয়ে আছে নারকেল গাছের সারি, সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্সের মতো, আর কত যে মেহগনি গাছ সটান কাণ্ড আর ঝকঝকে পাতা নিয়ে বাহিনীর মতো দাঁড়িয়ে গেছে তার ইয়ত্তা নেই। মাঝখানে হঠাৎ হঠাৎ দু’-একটি কৃষ্ণচূড়া মুখভর্তি রঙিন হাসি নিয়ে দেখা দিচ্ছে, মিলিয়ে যাচ্ছে, আর চোখ টিপে বলছে, পথে আরও কৃষ্ণচূড়ার দেখা পাবে, মনখারাপ কোরো না। দু’পাশেই অরণ্য যেন জমাট বেঁধে দিগন্ত রক্ষা করছে। যশোরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাত নাড়িয়ে চলে গেল উজ্জ্বল হলুদ ফুলের ঝরনা নিয়ে কয়েকটি সোঁদাল গাছ, সংস্কৃতে যার নাম কর্ণিকার। এ দিকটায় পেঁপে আর কলার চাষ হয় প্রচুর, তার খেত পড়ল দু’পাশে, ট্রাকে ভ্যানে কাঁদি কাঁদি কলাও আমাদের পাশে চলেছে বা উল্টো মুখ থেকে এসে চলে যাচ্ছে। দু’পাশে পুকুর আছে প্রচুর, আবার ইটভাঁটিও বেখাপ্পা গোঁয়ার্তুমি নিয়ে খাড়া হচ্ছে কম নয়।

আবার উল্টো ছবিও আছে। পথে যেতে যত বাজার গঞ্জ পড়ল, সর্বত্রই রাস্তার পাশে পড়ে আছে অজস্র কাটা গাছের গুঁড়ি ও ডাল, মৃত গাছের দেহাবশেষ। কোত্থেকে এল এত গাছ, যা আর গাছ নেই, কাঠ মাত্র, মানুষের ‘সভ্যতা’য় নানা নির্মাণের উপকরণ? রাজশাহিতে গিয়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার হল। সপ্তাহখানেক আগে ভয়ংকর একটা ঝড়বৃষ্টি হয়ে গেছে এ অঞ্চলে, তাতে অজস্র গাছে ধরাশায়ী হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই শেকড় উপড়ে পড়ে আছে কত কত মহাকায় গগনশিরিষ গাছ, রাস্তা আটকে, বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে, বাড়ির গাড়িবারান্দার ছাদ ধসিয়ে। দেখে বেশ কষ্ট হল। আমি যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিন বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

৩

প্রকৃতিবর্ণনার পালা এই পর্যন্ত। পরের দিন আইবিএস-এ বক্তৃতা, ‘নারীস্বীকৃতি ও রবীন্দ্রনাথ’। আগেই ই-মেল করা হয়েছিল বক্তৃতা, স্বরোচিষ খুব সুন্দর পুস্তিকা করে ছাপিয়েছেন। ওখানকার বিখ্যাত অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা সভাপতিত্ব করলেন। মজা হল মন্তব্যের সময়। আমি রবীন্দ্রনাথের কিছু দ্বিধা ও দোলাচলতার কথা বলেছিলাম মেয়েদের সামাজিক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে। এক সময় তিনি বাল্যবিবাহ সমর্থন করেছিলেন, বৈধব্যকে অনুচিত মনে করেননি। অবশ্যই পরে ওই অবস্থান থেকে সরে এসেছিলেন। কিন্তু ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় কিছু কিছু কথা এসেই পড়ে, যা নিয়ে আমরা প্রশ্ন করতেই পারি।

কিন্তু এখানে যাঁরা মন্তব্য করলেন, দেখে ভালও লাগল যে, তাঁরা রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে কোনও নেতিবাচক কথা শুনতে চান না। ইংরেজি হোক, ইতিহাস হোক, দর্শন হোক— সকল বিষয়ের অধ্যাপকেরাই একবাক্যে বললেন, তাঁকে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে না দেখা ভুল। আমি বললাম, আমি তো সময়ের প্রেক্ষিতেই দেখেছি। তাঁর ওই সময়েই তাঁর এক দাদা তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে ফিটন গাড়িতে চড়ে বেড়িয়েছেন, আর-এক দাদা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে গড়ের মাঠে গেছেন। তাঁরই সময়ে এবং পরিবারে এই সব দৃষ্টান্ত সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথে এ রকম কোনও দৃষ্টান্ত দেখি না কেন? সে-প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তাঁরা আমাকে এক রবীন্দ্রনিন্দুক হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেন আর কী।

বোঝা গেল, বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটু বেশি দুর্বলতা আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে যত কিছু, তাঁদের কাছেও তত কিছু তো বটেই, কিন্তু তারও চেয়ে অনেকটা বেশি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে, আয়ুব শাহি ফরমানে রেডিয়োতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষেধ আর রবীন্দ্র-শতবার্ষিকীর ওপর ফতোয়া জারি থেকে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক মহাশক্তিধর যোদ্ধা, তাঁর সম্বন্ধে এঁরা তাই এত স্পর্শকাতর। রবীন্দ্রনাথ তাঁদের আত্মপরিচয়ের অনেকটা নির্মাণ করে আছেন বলেই এই প্রতিরোধ। সমালোচিত হলেও আমার তো বেশ ভালই লাগল ব্যাপারটা।

আমি অবশ্য জানি, বাংলাদেশের আর-একটা অন্ধকার স্তরে, জামাতি মৌলবাদীদের মধ্যে, রবীন্দ্রনাথকে হাস্যকর করে তোলার অন্তহীন ও নিষ্ফল ষড়যন্ত্র চলে। তাদের ‘সংগ্রাম’, ‘নয়া দিগন্ত’ পত্রিকায় ভারতীয় গাধাদের মতোই লেখা হয় রবীন্দ্রনাথ পঞ্চম জর্জের বন্দনা করে ‘জনগণমন’ রচনা করেছিলেন, এমনকী তাঁর ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে’ও নাকি পঞ্চম জর্জের বন্দনা। এই রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়েই শুনলাম কয়েক বছর আগে রবীন্দ্রজয়ন্তী নিষিদ্ধ ছিল। গাছের পৈঠাতে দু’টি ছেলেমেয়েকে এক সঙ্গে বসে থাকতে দেখলে কোনও স্বনির্বাচিত নীতিরক্ষক মোল্লাসাহেব তাদের গিয়ে চড় লাগাত, কিংবা ক্যাম্পাসের পুলিশ লেলিয়ে দিত। সুখের বিষয়, এখন সে-সব দিন তিক্ত স্মৃতিমাত্র।

নাটক বিভাগের ছেলেমেয়েরা ওইদিন সন্ধ্যায় রবীন্দ্রজয়ন্তী আর বিভাগের স্বাধিকার-লাভ (নাটক বিভাগ সঙ্গীত বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে এসেছে ক’দিন আগে), উদ্‌যাপন করল। সেনেট হলের পাশের মঞ্চে তারা নাচে গানে অভিনয়ে ছয় ঋতুর বন্দনা করল, তাতে রবীন্দ্রনাথের গানই বেশি। শরতের ছবিতে একটি মেয়ে মা দুর্গা হয়ে, মূকাভিনেতার মতো আঁটোসাঁটো কালো পোশাক পরা অসুরের বুকে পা রেখে ত্রিশূল নিয়ে দাঁড়াল। আর অনুষ্ঠানের শেষে সকলের হাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে তারা যখন ‘আগুনের পরশমণি’ ধরল, দর্শক-শ্রোতারাও সকলে গাইতে লাগল মোমবাতি দুলিয়ে দুলিয়ে, তখন সবকিছু কেমন অন্যরকম হয়ে গেল। যেন এই প্রার্থনা উচ্চারিত হল, হে আগুন, হে পাবকশিখা, আমাদের ভিতর আর বাইরের সব অন্ধকার দূর করো, আমাদের পবিত্র করো। রবীন্দ্রনাথ তুমি তোমার অগ্নিমন্ত্র নিয়ে চিরকাল আমাদের পাশে থাকো।

আমার সাতাত্তর বছরের জীবনে এ রকম রবীন্দ্রজয়ন্তীর অভিজ্ঞতা আমার হয়নি।

চিত্রণ: সৌজন্য চক্রবর্তী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + eleven =

Recent Posts

পবিত্র সরকার

পবিত্র সরকারের বিশেষ রচনা

বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষদের রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে একটু বেশি দুর্বলতা আছে। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে যত কিছু, তাঁদের কাছেও তত কিছু তো বটেই, কিন্তু তারও চেয়ে অনেকটা বেশি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন সেনাপতি। বাহান্নর ভাষা-আন্দোলনের সময় থেকে, আয়ুব শাহি ফরমানে রেডিয়োতে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষেধ আর রবীন্দ্র-শতবার্ষিকীর ওপর ফতোয়া জারি থেকে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের এক মহাশক্তিধর যোদ্ধা, তাঁর সম্বন্ধে এঁরা তাই এত স্পর্শকাতর।

Read More »
মীরাতুন নাহার

মীরাতুন নাহারের প্রবন্ধ

হিন্দু-সাম্প্রদায়িকতা এবং মুসলমান-সাম্প্রদায়িকতা উভয়কেই তিনি যুক্তি ও তথ্যদ্বারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ধ্বংসাত্মক বলে বোঝাতে চেয়েছেন দেশবাসীকে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত দেশবাসীকে তিনি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষ’ দেশবাসীর মন থেকে নিষ্কাশন করে দেশকে বিপন্মুক্ত করা।

Read More »
গৌতম ঘোষ

গৌতম ঘোষের প্রবন্ধ

চলচ্চিত্রের ধর্ম হল সময়কে ধরে রাখা, সময়ের স্মৃতিমালাকে ধরে রাখা। সেই পদ্ধতি, সেই প্রক্রিয়া কিন্তু চলতেই থাকবে। এখন আমাদের আরও মানবিক হতে হবে। চলচ্চিত্র যারা তৈরি করবেন তারা শুধুমাত্র সস্তার বিনোদন সরিয়ে রেখে একটু মানবিক ছবি করবেন। যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক, মানুষ ও সমাজের সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক থাকবে। যা আমরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্লাসিক সব সিনেমায় দেখেছি, সেই ভাবনায় ভাবতে হবে।

Read More »
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ নিবন্ধ

বস্তুত সুকান্ত কবিতার চাইতে বড়। তিনি এক প্রতীকচিহ্ন। সারা ভারতে যখন কবিকে ভাবা হয়েছে জনতার একজন প্রতিনিধি হিসেবে, তখন সুকান্তকেই ভাবা হয়েছে। তামিল বা হিন্দি সিনেমাতেও হয়েছে। যেমন রাজেশ খান্নার ‘অনুরোধ’ নামের ছবিটিতে যে কবিটি রাজেশের বন্ধু ছিলেন তার নাম সুকান্ত। অথবা অতদূরে কেন যাই, বাংলায় উত্তম-তনুজার ‘দেনা পাওনা’ ছবিতে উত্তম যে বন্ধুর চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসেন, তার নামও তো সুকান্ত। তিনিও তো ফুসফুসের রোগী।

Read More »
কালীকৃষ্ণ গুহ

কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা

একটি রাত্রি কা লী কৃ ষ্ণ  গু হ প্রতিটি রাত্রিকেই নতুন মনে হয়— অচেনা লাগে। আজকের রাত্রিটা যেন চির-অচেনা যেন কিছু ঘটার ছিল যা ঘটেনি

Read More »
অভিজিৎ সিরাজ

অভিজিৎ সিরাজের ছোটগল্প

ফরেস্ট বাংলো অ ভি জি ৎ  সি রা জ শঙ্কর দত্তকে আমি শেষ দেখি আনন্দপুরে মাদুরদহের একটা স্কুল বাড়িতে। অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল সেদিন। বাড়ির

Read More »