নজরুল আসলে আধুনিক কবিদের মতো নিজেকে ভাষার প্রদেশে সঙ্কুচিত রাখেননি। সেখানেই তাঁকে বোঝার পক্ষে আমাদের ভুল হয়ে যায়। তিনি আদিকবিদের মতো। সমাজের অসুস্থতার নিরাময় দাবি করেছেন প্রগলভতার মধ্যে। তিনি যদি নিতান্ত ভাষাকর্মী হয়ে জীবন নির্বাহ করতেন তাঁকে বিচার করার সময় আমাদের এত অসুবিধে হত না। বদলে তিনি তখনও কংগ্রেসের অহিংস নীতি, তখনও স্বরাজ্য দলের মধ্যপন্থাকে তছনছ করে দিতে চেয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছিল, দুর্ভাগা সেই দেশ যার এখনও কবিকে ছায়াসুনিবিড় শান্তির নীড়ের মধ্যে দেখবার প্রয়োজন হয়, দুর্ভাগা সেই দেশ যার বীরের প্রয়োজন হয়। ফলে তিনি কবি ও দেশনেতা দুই মূর্তিরই গায়ে কালি ছিটিয়ে দিলেন, তাতে সময় তাঁকে অধরোষ্ঠ দান করল, কিন্তু নন্দনতাত্ত্বিকরা বিরক্ত হলেন।