মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় কবি ও প্রাবন্ধিক।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

মহাশ্বেতা দেবী: বিচিত্রমুখী ও মৃত্তিকাসংলগ্ন

India’s First Bengali Daily Magazine. দীর্ঘ প্রায় সাত সাতটি দশকজুড়ে মহাশ্বেতা দেবী অনলস লিখে গেছেন। রচনা সম্ভারের বিপুলতা এবং বৈচিত্র্য, উভয় দিক থেকেই বিস্ময় জাগে তাঁর রচনাবলির দিকে তাকালে। উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ ছাড়াও ছাত্রপাঠ্য বহু বই লিখতে হয়েছে তাঁকে। পাঁচের দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখাকেই পেশা করে নেন তিনি, যাকে বলে প্রফেশনাল রাইটার। সমরেশ বসু ছাড়া বাংলা সাহিত্যে একমাত্র মহাশ্বেতা দেবীকেই এই অভিধা দেওয়া হয় এবং সম্ভবত পরবর্তীকালে কিন্নর রায়কে। মাঝে অল্প কয়েক বছরের জন্য তিনি বিজয়গড় জ্যোতিষ রায় কলেজে ইংরেজির অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আবার ছেড়েও দিয়েছেন সে-চাকরি, পূর্ণ সময়ের লেখক হওয়ার জন্য।

Read More »

নবনীতা দেবসেন: স্বতন্ত্র পাঠ

India’s First Bengali Daily Magazine. বিখ্যাত পিতামাতার সন্তান তিনি, তবু নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছে তাঁকে। ‘বঙ্গদর্শন’ বা ‘সবুজপত্র’, ‘কল্লোল’ বা ‘কবিতা’, কোথাও সম্পাদক-সহকারীদের নারী সংলগ্নতা ছিল না। ‘কৃত্তিবাস’ প্রশ্রয় দিল কবিতা সিংহ, নবনীতা দেবসেন, দেবারতি মিত্র, বিজয়া রায় প্রমুখকে। এ-ও অর্জন। আবার ‘দেশ’ পত্রিকা প্রথমবারের মত যাঁকে শারদীয় সংখ্যায় উপন্যাস লেখক হিসেবে স্থান দিল, তিনি নবনীতা (আমি অনুপম, ১৯৬৯)। এই অর্জন, অর্জনসমূহ নিয়ে আমরা সোচ্চার নই। নবনীতার যে গবেষণা নারী-রচিত রামায়ণাবলি নিয়ে, সেখানেও তিনি আশ্চর্য ভগীরথ।

Read More »

স্বামী বিবেকানন্দ: এক উদার মনীষা

India’s First Bengali Daily Magazine. বাংলা সাহিত‍্য-ও অন্তত দুটি কারণে ঋণী থাকবে বিবেকানন্দের কাছে। প্রথমত তাঁর বাংলায় লেখা বই (মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের আয়ুষ্কালে প্রচুর লিখেছেন তিনি, যা দশখণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সে-লেখার সিংহভাগ-ই ইংরেজিতে) ‘প্রাচ‍্য ও পাশ্চাত‍্য’ আর ‘পরিব্রাজক’, যে বইদুটি নির্ভেজাল চলিত বাংলায় লেখা। তাঁর অন্য অবদান হচ্ছে বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ,— ‘উদ্বোধন’, যে পত্রিকাটি ১৮৯৯-এর জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়ে প্রায় সোয়াশো বছর অতিক্রম করে আজ-ও প্রকাশিত হয়ে চলেছে। বাংলা ভাষায় এমন আয়ুর পত্রিকার উদাহরণ দ্বিতীয়রহিত।

Read More »

কালিদাস ও তাঁর মেঘদূত

India’s First Bengali Daily Magazine. একশো কুড়ি-বাইশ শ্লোকে মন্দাক্রান্তা ছন্দে মেঘদূত কালিদাসের অন্যান্য যাবতীয় রচনার তুলনায় অধিক জনপ্রিয়। এ-কাব্যের টীকা রচনা করেছেন মল্লিনাথ থেকে শুরু করে আরও অন্তত পঞ্চাশজন। কেবল বাংলাভাষাতেই মেঘদূত অনূদিত হয়েছে শতাধিকবার। অনুবাদকের মধ্যে প্রধানরা হলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজশেখর বসু, হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, পার্বতীচরণ ভট্টাচার্য, শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কাব্যটির তিব্বতি ও চিনা অনুবাদের সংবাদও জানা যায়।

Read More »

সনেটগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Magazine. তোমার দুচোখ শুকতারাটির মত/ স্বপ্ন দেখায় সুদূর সমুদ্দুরের,/ তোমার আনত চোখে হই সন্নত/ চুম্বন গাই মেঘমল্লার সুরে।/ নীলপদ্ম কি তোমার পায়ের পাতা?/ হাতের আঙুলে আলেপ্পি-কারুকাজ,/ ওষ্ঠ অধর এখনো অনাঘ্রাতা?/ সেখানে দ্রাক্ষা-আসবের মতো ঝাঁঝ?/ চলো, হাত ধরো, অরণ‍্যে ঝর্নায়/ নিশীথিনী জুড়ে আমরা বেড়াব শুধু/ দিন কাটে খালি বৃথা ঘরকরনায়/ ভোরের আলোয় দেখব কেবল ধূ ধূ/ সীমাহীন মেরুজ‍্যোতির সন্নিধান/ যেতে হবে আজ ভুলে গিয়ে পিছুটান।

Read More »

বিভূতিসাহিত্য: পুনর্বিবেচনা

India’s First Bengali Daily Magazine. আমরা আপাতত বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’-র একটি কৌতূহলী দিক নিয়ে আলোচনা করব। সেটি হল উপন‍্যাসটির প্রধান প্রধান চরিত্রের নামকরণ। এই নামকরণের পেছনে কি লেখকের গৃঢ় কোনও অভিপ্রায় ছিল? আমাদের বিশ্বাস, ছিল।

Read More »

‘অগ্নিবীণা’: শতবর্ষে

India’s First Bengali Daily Magazine. এ-বছর কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব‍্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশের একশো বছর পূর্ণ হল। ১৯২২-এর ২৪-এ অক্টোবর এটি কবির নিজ অর্থব‍্যয়ে বেরিয়েছিল। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকনন্দিত হয়েছিল বইটি, যে-কারণে প্রথম সংস্করণের দুহাজার কপি দ্রুত শেষ হয়েছিল। সে-আমলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের কাব‍্যগ্রন্থও এত দ্রুত বিক্রি হত না।

Read More »

ছোটগল্প: ভরণ্যপক্ষীর গল্প

India’s First Bengali Daily Magazine. বলতে বলতে দাওয়ার কাছে এসে যায় তারা। অন্ধকারে ভাল মুখ দেখা যায় না কারও, নানান বিচিত্র গন্ধ পায় কেবল সনাতন। ‘দাদু’ শব্দে অন্ধকার থেকে মহাদেব শুধোয়, ‘আছি আছি। এইসো, উপরে উইঠে এইসো।’ বললেন বটে, এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে অভিযান হবে কী করে বুঝতে পারে না জয়রাম আর তার দলবল। হ্যারিকেন রাখা ছিল একটা, বিশ্রামেই ছিল, সনাতন জ্বালে। দলের সবার মুখ প্রতিভাত হয় তাতে, সকলের উঠে আসার সুসারও।

Read More »

বিধানচন্দ্র রায়: জন্মদিন মৃত্যুদিন

India’s First Bengali Story Portal. ডাক্তারিতে তিনি ভর্তি হতে পারছিলেন না ভর্তির তারিখ পার হয়ে যাওয়ায়। তিনি যেখানে ভর্তি হবেন, সেসময়ে সেখানে একজন রোগীকে নিয়ে এলেন রোগীর পরিবারের লোকজন। রোগীকে দেখেই বিধানচন্দ্র বলে দিলেন, রোগীর চিকেন পক্স হয়েছে। অথচ রোগীর গায়ে কিন্তু গুটি বেরোয়নি তখনও। ওখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, কীভাবে বিধানচন্দ্র রোগ শনাক্ত করলেন? তিনি বললেন, রোগীর শরীরের গন্ধ থেকে। দুদিন পর তাঁর কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিল, গায়ে বসন্তের গুটি বেরিয়ে। অত‌এব ভর্তি হতে আর আর বাধা র‌ইল না।

Read More »

সেলিনা হোসেন ৭৬

India’s First Bengali Story Portal. তাঁর রচনাবলি, মূলত গল্প ও উপন্যাস, বাংলা সাহিত্যকে যে কী বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে, তার প্রমাণ, তাঁর লেখা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আসাম দিল্লি ত্রিপুরা ও অন্যত্র মিলিয়ে অন্তত চল্লিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচির অন্তর্গত। আধুনিক কোনও লেখকের, ৪৭-পরবর্তী সময়ে জাত কোনও কথাসাহিত্যিকের পক্ষে এই কৃতিত্ব অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তিনি ব্যাপকভাবে অনূদিতও হয়েছেন। তাঁর উপন্যাস ও গল্প অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশ ও অন্যান্য ভাষায় যেমন, তেমনই হিন্দি ও কন্নড় ভাষায়।

Read More »

সীতাকুণ্ড : দোজখ, দোজখ

India’s First Bengali Story Portal. কথা ছিল লাল ও হরিৎ রং নিয়ে কাজ সেরে পিতা ফিরবেন/ এশার নামাজ শুরু হ‌ওয়ার আগেই,/ শিশুকন্যা আসন্ন আষাঢ়ের মেঘ আঁকবে,/ দিঘিতে সাঁতার দেবে ডাহুক, এ-ও ইচ্ছে তার।/ লাজুকতার মত ব‌উ বলেছিল,/ জায়ফল না-ই হোক, না-ই হোক চিনির গুঁড়া আতপের চাল,/ লবঙ্গ-এলাচ এনো, সামান্য খয়েরিরঙা ঘি-ও, মোরগ-পোলাও হবে।/ কাল রাতে তৃতীয়ার চাঁদে রাঙা বাতায়ন থেকে/ শাওয়াল মাসের সুরভিতে ঝুমকোলতা পেড়ে এনে পরিয়েছ আমার দু’কানে/ মধুমাখা প্রতিদান তার।

Read More »

রবীন্দ্রনাথ: তাঁর ধর্মীয় সম্প্রসার

রবীন্দ্রনাথ হিন্দু দেবদেবীকে উপেক্ষার দৃষ্টিতে তো দেখেনইনি, রূপকে প্রতীকে তিনি দেবতাদের বিনির্মাণ ঘটিয়েছেন। মধ্যযুগের সন্ত-সুফিদের প্রতি ছিল তাঁর যেমন নিষ্ঠা, শ্রীরামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের প্রতি তেমনই শ্রদ্ধা। ভারতবর্ষকে জানতে হলে বিবেকানন্দকে জানতে হবে, বলেছেন তিনি। ‘বহু মানুষের বহু সাধনার ধারা/ ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা’, শ্রীরামকৃষ্ণ সম্পর্কে তাঁর উক্তি, যে সময় বহু ব্রাহ্ম (শিবনাথ শাস্ত্রী, প্রতাপচন্দ্র মজুমদার প্রমুখ) তাঁকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন। বৌদ্ধ, খ্রিস্ট, ইসলাম সমস্ত ধর্মের প্রতিই ছিল তাঁর আত্যন্তিক শ্রদ্ধাবোধ ও অভিনিবেশ। ‘ইসলাম পৃথিবীর মহত্তম ধর্মের মধ্যে একটি’, লিখেছেন তিনি।

Read More »

প্রসঙ্গ: বাংলা নববর্ষ

পয়লা বৈশাখকে নববর্ষের রূপ দেওয়া এবং উৎসবে মেতে ওঠা সম্ভবত ঔপনিবেশিক রাজধানী শহর কলকাতায় ইংরেজদের ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালনের অনুকরণে। পুণ্যাহ, হালখাতা হল নববর্ষের প্রাথমিক প্রয়োগ-অনুষঙ্গ, এবং পরবর্তীকালে তা সর্বসাধারণের অনুষ্ঠেয় আমোদপ্রমোদে পরিণত হয়। বিশ শতক থেকেই মোটামুটিভাবে এর জয়যাত্রা। এবং বাঙালির নববর্ষ অনুষ্ঠানের মধ্যকার নান্দনিকতায় রবীন্দ্রনাথের অবদান অপরিসীম বলেই আমাদের দৃঢ় ধারণা।

Read More »

বাংলার লোকসংস্কৃতিতে মনসা

একালে মনসাকে নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন অমিয়ভূষণ মজুমদার, সেলিনা হোসেন। কায়সার হক রচিত ‘The Triumph of the Snake Goddess’ এক অসাধারণ কাজ। আছে শম্ভু মিত্রের নাটক ‘চাঁদ বণিকের পালা’। আর রয়েছে শামসুর রাহমানের কবিতা, চাঁদ সদাগরের বকলমায় তাঁর উচ্চারণ, ‘যতদিন হিন্তাল কাঠের/ লাঠি আছে হাতে, আছে/ ধমনীতে পৌরুষের কিছু তেজ, যতদিন ঠোঁটে/ আমার মুহূর্তগুলি ঈষৎ স্পন্দিত হবে, চোখে/ নিমেষে উঠবে ভেসে কোন শোভাযাত্রার মশাল,/ করবো না আন্ধারের বশ্যতা স্বীকার ততদিন।’

Read More »

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: রজনীর শেষ তারা

গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় নিজে সুরও দিয়েছেন। ‘চন্দন-পালঙ্কে শুয়ে একা একা কী হবে’ আর ‘ঝরাপাতা ঝড়কে ডাকে, বলে তুমি নাও আমাকে’ গানদুটির সুরকার ও শিল্পী তিনি নিজে। সিনেমায় প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৫৫-তে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবিতে। সুচিত্রা সেন এ-ছবির নায়িকা। ছবিটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে উত্তম-সুচিত্রা যেমন বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিলেন, তেমনই সুচিত্রার লিপে সন্ধ্যার গান একটি শাশ্বত ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

Read More »

ঋত্বিক ঘটক: পুনর্বিবেচনা

যৌবনে, তখন তিনি রাজশাহী কলেজের ছাত্র, বন্ধুদের নিয়ে বের করেন সাহিত্য পত্রিকা ‘বসুধারা’। সেখানে প্রতি সংখ্যায় একের পর এক গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। পরবর্তীকালে ‘দেশ’ সহ বেশ কিছু প্রতিনিধিস্থানীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। বছর কুড়ি আগে তাঁর গল্পের একটি সংকলন বেরোয়, যদিও তাঁর সব গল্প এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গল্পকার ঋত্বিকের কোনও মূল্যায়নই হয়নি। অথচ আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে শিক্ষাব্যবস্থার অসারতা নিয়ে তিনি ‘শিখা’ নামে যে গল্পটি লিখেছিলেন, তার আবেদন এখনও সমান।

Read More »

নেতাজির অসাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে আমাদের অবহিত হ‌ওয়া জরুরি

নেতাজির কথায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ফৌজের সকলেই জাতপাত বিসর্জন দিয়ে একত্র আহার করতেন, নেতাজির প্রতি ছিল তাঁদের এমনই নিঃসংশয় আনুগত্য। সিঙ্গাপুরে ভারতের প্রথম স্বাধীন অস্থায়ী সরকার আজাদ হিন্দ সরকারের জাতীয় সঙ্গীত লেখার দায়িত্ব মুমতাজ হুসেনকে দিয়েছিলেন নেতাজি। মুমতাজ আবিদ হাসানের সঙ্গে মিলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার আধারে রচনা করেছিলেন ‘শুভ সুখ চ্যান কি বরখা বরসে’। আজাদ হিন্দ বাহিনীর যে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান, তার উদ্গাতাও আবিদ হাসান সাফরানি।

Read More »

কানু বিনে গীত নাই, রাধা সম প্রীত

কৃষ্ণ আর ফিরে এলেন না। কংসবধের পর মথুরার রাজা হয়ে বসলেন। এদিকে রাধা দিনের পর দিন প্রতীক্ষা করতে করতে একসময় মতিভ্রষ্ট হয়ে উপলব্ধি করতে লাগলেন, যেন কৃষ্ণ ফিরে এসেছেন। এই মতিভ্রম, hallucination আরও ট্র‌্যাজিক। রাধা মায়াময় কৃষ্ণকে দেখে বলছেন, ‘এত দিন পরে বঁধুয়া আইলে/ দেখা না হইত পরান গেলে।’ কৃষ্ণ ফিরে এসেছেন, মর্মে মর্মে এই অলীক বোধ জন্ম নিয়েছে তাঁর মনে।

Read More »

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: অফুরন্ত মেজাজের মানুষ

কী পরিমাণ রসিক ছিলেন, ওই বিধুরতার মধ্যেও প্রমাণ রেখেছিলেন তার। ‘তৈমুর লঙ-এর মতন আমিও এখন আখতারুজ্জামান লঙ।’ লঙ, মানে ল্যাঙড়া, ভাবা যায় নিজেকে নিয়ে অমন রসিকতা? তাঁর পক্ষেই সম্ভব। আবার বলতেন, ‘পা মেলে বসতে হয় না বলে চায়ের কাপটা এখন রাখা যাচ্ছে শূন্যস্থানে, কী সুবিধে, তাই না?’ আবার বলতেন, ‘পা-খান রাইখ্যা গেলাম, দেখবেন, যত্ন-আত্তির অভাব না হয় যেন!’

Read More »

হাসান আজিজুল হক: আদ্যন্ত রসিকপুরুষ

সত্যজিৎ রায়ের গল্প ‘পিকুর ডায়েরি’ এবং তা নিয়ে তাঁরই নির্মিত ছবি ‘পিকু’-র কাহিনি আশ্চর্যরকমভাবে মিলে যায় হাসানভাইয়ের গল্প ‘সারা দুপুর’-এর সঙ্গে। তাহলে কি সত্যজিৎ হাসানের গল্পটি নকল করেছেন? হাসানভাইয়ের গল্পটি আগে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই এই সংশয়। প্রশ্ন শুনে নিতান্ত সৌজন্যবশতই হাসানভাই চুপ করে রইলেন, জবাব দিলেন না কোনও। এটি তাঁর অবিনশ্বর উদারতা এবং আজানুলম্বিত মহত্বের পরিচয় আমার কাছে।

Read More »

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »