Search
Generic filters
Search
Generic filters
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় কবি ও প্রাবন্ধিক।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

জীবনানন্দ: আদ্যন্ত রহস্যময়

India’s First Bengali Daily Journal. একটি-দুটি না, খান চৌদ্দ উপন্যাস, একশোর মতো গল্প বাক্সে পড়ে আছে লিখিত হয়ে, যেগুলো প্রকাশিত হলে অর্থাগম তো হতই, জীবিতাবস্থায় তাঁকে নিয়ে তোলপাড় দেখে যেতে পারতেন তিনি। পড়ে আছে ‘রূপসী বাংলা’-সহ অসংখ‍্য কবিতা, যেসবের প্রকাশ ঘটবে তাঁর মৃত‍্যুর ঢের পরে, আর কিছু কিছু চিরতরে হারিয়ে যাবে বাক্সবন্দি সেই লেখাগুলো নিয়ে তাঁর কন্যার অন্যমনস্ক ট্রেনভ্রমণে! লন্ডনে ট্রেনের কামরায় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির ইংরেজি পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেলেও তা পুনরুদ্ধার হয়। জীবনানন্দের হয়নি।

Read More »

বইমেলা ও প্রসঙ্গত

India’s First Bengali Daily Journal. বইমেলা পার্বণের এই শুভলগ্নে কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন মাথায় এসে ঘা মারে। যে বইগুলো মেলায় কেনা হল, বা পত্রপত্রিকাগুলো, তা কি সম্বৎসরে পড়া হয়ে ওঠে? মেলায় বই দেখতে দেখতে হয়তো নেশায় পড়ে বা বিহ্বলতাবশে কয়েকটি বই কেনা হল। কিন্তু নিয়মিত পাঠাভ‍্যাস তৈরি না হলে বইগুলো নিয়ে যে বিড়ম্বনা-ই! তা ছাড়া, পাঠ করবার জরুরি বইগুলো আছে তো আমার সংগ্রহে, না কেবল ভুষিমাল?

Read More »

ঋত্বিককুমার ঘটক: স্মৃতিতে

India’s First Bengali Daily Journal. স্বাধীনতা ও দেশভাগ নিয়ে তাঁর বেদনার্ত উচ্চারণ আপ্লুত করল শ্রোতাদের। বক্তৃতার এক পর্বে তিনি গান্ধী সম্পর্কে তুমুল বিতর্কিত একটি উক্তি করেছিলেন। পরদিন সংবাদপত্রে তা প্রকাশিত হলে সংসদে পর্যন্ত আলোড়ন ওঠে তা নিয়ে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে ডেকে পাঠান। উক্তি প্রত‍্যাহার করতে বলেন। ঋত্বিক রাজি হননি। সেই থেকে ঋত্বিক আমাদের কাছে ‘মেঘে ঢাকা তারা’ বা ‘সুবর্ণরেখা’ ছবির পরিচালক হিসেবে নন, তার অনেক অধিক।

Read More »

মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত

India’s First Bengali Daily Magazine. বাঙালি নিতান্ত বিস্মৃতিপরায়ণ জাতি না হলে যাঁকে এই ছল সময়ে আরও বেশি করে আশ্রয় করত। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর আবির্ভাব ও কৃতির স্বাক্ষর রাখবার আগেই কিন্তু দেশবাসীর কাছে অশ্বিনীকুমার ‘মহাত্মা’ আখ্যায় ভূষিত। অবিভক্ত ও পরাধীন ভারতবর্ষের মানচিত্রে অখণ্ড বাংলার বরিশাল জেলার স্থান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, তবু অশ্বিনীকুমারের বরিশাল, এবং স্বয়ং অশ্বিনীকুমার ব্রিটিশ শাসকের কাছে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

Read More »

মাইকেল মধুসূদন: মিত্রাক্ষর-অমিত্রাক্ষরের দ্বন্দ্ব

India’s First Bengali Daily Magazine. মাত্র উনপঞ্চাশ বছরের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত‍্যকে যা দিয়ে গিয়েছেন, তার মূল্যায়ন করতে বসলে আমরা হতবাক না হয়ে পারি না। সবচেয়ে বড় কথা, সাহিত‍্যের যে যে অঙ্গনে তাঁর বিচরণ ছিল, সব জায়গাতেই তিনি অভিনব এবং অগ্রদূত ও প্রতিভাদীপ্ত। আরও উল্লেখ‍্য, বাংলা কাব‍্যে অমিত্রাক্ষরের এই প্রতিভূ মিত্রাক্ষরেও যৎপরোনাস্তি মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি এ-ও লক্ষ‍্যণীয়, তাঁর সমগ্র জীবনটাই ছিল মিত্রাক্ষর-অমিত্রাক্ষরের যুগলবন্দী ও সার্থকতা-ব‍্যর্থতাময়।

Read More »

মুখোমুখি বসিবার সুচিত্রা সেন

India’s First Bengali Daily Journal. স্পর্শকাতর, তবু দুঃসাহসী সুচিত্রার দাবি, ছবির ক্যাপশনে আগে তাঁর নাম থাকতে হবে, পরে উত্তমকুমারের। স্পর্ধাযোগ্য সুচিত্রার দ্বিতীয় দাবি, উত্তমের চেয়ে তাঁকে সম্মানদক্ষিণা বেশি দিতে হবে। তার পরেও, ‘শিল্পী’ ছবির আউটডোরে দার্জিলিং গিয়ে সুচিত্রার ইচ্ছে বিঘ্নিত হয়েছিল বলে শুটিং মাঝপথে থামিয়ে তিনি কলকাতা ফিরে আসেন। দীর্ঘ ছ’মাস লেগেছিল সুচিত্রার ক্রোধ গলনাঙ্কে পৌঁছতে। দু-একবার তো বাক্যালাপ বন্ধ করে বসে আছেন সুচিত্রা, হ্যাঁ, উত্তমের সঙ্গে। অথচ পাশাপাশি তাঁদের রোমান্টিক দৃশ্য চিত্রায়িত হচ্ছে। এইসব একদিকে, অন্যদিকে উত্তমকুমার জানাচ্ছেন, সুচিত্রা না এলে উত্তমকুমার হতে পারতেন না।

Read More »

মহাশ্বেতা দেবী: বিচিত্রমুখী ও মৃত্তিকাসংলগ্ন

India’s First Bengali Daily Magazine. দীর্ঘ প্রায় সাত সাতটি দশকজুড়ে মহাশ্বেতা দেবী অনলস লিখে গেছেন। রচনা সম্ভারের বিপুলতা এবং বৈচিত্র্য, উভয় দিক থেকেই বিস্ময় জাগে তাঁর রচনাবলির দিকে তাকালে। উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, অনুবাদ ছাড়াও ছাত্রপাঠ্য বহু বই লিখতে হয়েছে তাঁকে। পাঁচের দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখাকেই পেশা করে নেন তিনি, যাকে বলে প্রফেশনাল রাইটার। সমরেশ বসু ছাড়া বাংলা সাহিত্যে একমাত্র মহাশ্বেতা দেবীকেই এই অভিধা দেওয়া হয় এবং সম্ভবত পরবর্তীকালে কিন্নর রায়কে। মাঝে অল্প কয়েক বছরের জন্য তিনি বিজয়গড় জ্যোতিষ রায় কলেজে ইংরেজির অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আবার ছেড়েও দিয়েছেন সে-চাকরি, পূর্ণ সময়ের লেখক হওয়ার জন্য।

Read More »

নবনীতা দেবসেন: স্বতন্ত্র পাঠ

India’s First Bengali Daily Magazine. বিখ্যাত পিতামাতার সন্তান তিনি, তবু নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়েছে তাঁকে। ‘বঙ্গদর্শন’ বা ‘সবুজপত্র’, ‘কল্লোল’ বা ‘কবিতা’, কোথাও সম্পাদক-সহকারীদের নারী সংলগ্নতা ছিল না। ‘কৃত্তিবাস’ প্রশ্রয় দিল কবিতা সিংহ, নবনীতা দেবসেন, দেবারতি মিত্র, বিজয়া রায় প্রমুখকে। এ-ও অর্জন। আবার ‘দেশ’ পত্রিকা প্রথমবারের মত যাঁকে শারদীয় সংখ্যায় উপন্যাস লেখক হিসেবে স্থান দিল, তিনি নবনীতা (আমি অনুপম, ১৯৬৯)। এই অর্জন, অর্জনসমূহ নিয়ে আমরা সোচ্চার নই। নবনীতার যে গবেষণা নারী-রচিত রামায়ণাবলি নিয়ে, সেখানেও তিনি আশ্চর্য ভগীরথ।

Read More »

স্বামী বিবেকানন্দ: এক উদার মনীষা

India’s First Bengali Daily Magazine. বাংলা সাহিত‍্য-ও অন্তত দুটি কারণে ঋণী থাকবে বিবেকানন্দের কাছে। প্রথমত তাঁর বাংলায় লেখা বই (মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের আয়ুষ্কালে প্রচুর লিখেছেন তিনি, যা দশখণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সে-লেখার সিংহভাগ-ই ইংরেজিতে) ‘প্রাচ‍্য ও পাশ্চাত‍্য’ আর ‘পরিব্রাজক’, যে বইদুটি নির্ভেজাল চলিত বাংলায় লেখা। তাঁর অন্য অবদান হচ্ছে বাংলা ভাষায় একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ,— ‘উদ্বোধন’, যে পত্রিকাটি ১৮৯৯-এর জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়ে প্রায় সোয়াশো বছর অতিক্রম করে আজ-ও প্রকাশিত হয়ে চলেছে। বাংলা ভাষায় এমন আয়ুর পত্রিকার উদাহরণ দ্বিতীয়রহিত।

Read More »

কালিদাস ও তাঁর মেঘদূত

India’s First Bengali Daily Magazine. একশো কুড়ি-বাইশ শ্লোকে মন্দাক্রান্তা ছন্দে মেঘদূত কালিদাসের অন্যান্য যাবতীয় রচনার তুলনায় অধিক জনপ্রিয়। এ-কাব্যের টীকা রচনা করেছেন মল্লিনাথ থেকে শুরু করে আরও অন্তত পঞ্চাশজন। কেবল বাংলাভাষাতেই মেঘদূত অনূদিত হয়েছে শতাধিকবার। অনুবাদকের মধ্যে প্রধানরা হলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজশেখর বসু, হিরণ্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, পার্বতীচরণ ভট্টাচার্য, শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কাব্যটির তিব্বতি ও চিনা অনুবাদের সংবাদও জানা যায়।

Read More »

সনেটগুচ্ছ

India’s First Bengali Daily Magazine. তোমার দুচোখ শুকতারাটির মত/ স্বপ্ন দেখায় সুদূর সমুদ্দুরের,/ তোমার আনত চোখে হই সন্নত/ চুম্বন গাই মেঘমল্লার সুরে।/ নীলপদ্ম কি তোমার পায়ের পাতা?/ হাতের আঙুলে আলেপ্পি-কারুকাজ,/ ওষ্ঠ অধর এখনো অনাঘ্রাতা?/ সেখানে দ্রাক্ষা-আসবের মতো ঝাঁঝ?/ চলো, হাত ধরো, অরণ‍্যে ঝর্নায়/ নিশীথিনী জুড়ে আমরা বেড়াব শুধু/ দিন কাটে খালি বৃথা ঘরকরনায়/ ভোরের আলোয় দেখব কেবল ধূ ধূ/ সীমাহীন মেরুজ‍্যোতির সন্নিধান/ যেতে হবে আজ ভুলে গিয়ে পিছুটান।

Read More »

বিভূতিসাহিত্য: পুনর্বিবেচনা

India’s First Bengali Daily Magazine. আমরা আপাতত বিভূতিভূষণের ‘পথের পাঁচালী’-র একটি কৌতূহলী দিক নিয়ে আলোচনা করব। সেটি হল উপন‍্যাসটির প্রধান প্রধান চরিত্রের নামকরণ। এই নামকরণের পেছনে কি লেখকের গৃঢ় কোনও অভিপ্রায় ছিল? আমাদের বিশ্বাস, ছিল।

Read More »

‘অগ্নিবীণা’: শতবর্ষে

India’s First Bengali Daily Magazine. এ-বছর কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব‍্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশের একশো বছর পূর্ণ হল। ১৯২২-এর ২৪-এ অক্টোবর এটি কবির নিজ অর্থব‍্যয়ে বেরিয়েছিল। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকনন্দিত হয়েছিল বইটি, যে-কারণে প্রথম সংস্করণের দুহাজার কপি দ্রুত শেষ হয়েছিল। সে-আমলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের কাব‍্যগ্রন্থও এত দ্রুত বিক্রি হত না।

Read More »

ছোটগল্প: ভরণ্যপক্ষীর গল্প

India’s First Bengali Daily Magazine. বলতে বলতে দাওয়ার কাছে এসে যায় তারা। অন্ধকারে ভাল মুখ দেখা যায় না কারও, নানান বিচিত্র গন্ধ পায় কেবল সনাতন। ‘দাদু’ শব্দে অন্ধকার থেকে মহাদেব শুধোয়, ‘আছি আছি। এইসো, উপরে উইঠে এইসো।’ বললেন বটে, এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে অভিযান হবে কী করে বুঝতে পারে না জয়রাম আর তার দলবল। হ্যারিকেন রাখা ছিল একটা, বিশ্রামেই ছিল, সনাতন জ্বালে। দলের সবার মুখ প্রতিভাত হয় তাতে, সকলের উঠে আসার সুসারও।

Read More »

বিধানচন্দ্র রায়: জন্মদিন মৃত্যুদিন

India’s First Bengali Story Portal. ডাক্তারিতে তিনি ভর্তি হতে পারছিলেন না ভর্তির তারিখ পার হয়ে যাওয়ায়। তিনি যেখানে ভর্তি হবেন, সেসময়ে সেখানে একজন রোগীকে নিয়ে এলেন রোগীর পরিবারের লোকজন। রোগীকে দেখেই বিধানচন্দ্র বলে দিলেন, রোগীর চিকেন পক্স হয়েছে। অথচ রোগীর গায়ে কিন্তু গুটি বেরোয়নি তখনও। ওখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, কীভাবে বিধানচন্দ্র রোগ শনাক্ত করলেন? তিনি বললেন, রোগীর শরীরের গন্ধ থেকে। দুদিন পর তাঁর কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিল, গায়ে বসন্তের গুটি বেরিয়ে। অত‌এব ভর্তি হতে আর আর বাধা র‌ইল না।

Read More »

সেলিনা হোসেন ৭৬

India’s First Bengali Story Portal. তাঁর রচনাবলি, মূলত গল্প ও উপন্যাস, বাংলা সাহিত্যকে যে কী বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছে, তার প্রমাণ, তাঁর লেখা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আসাম দিল্লি ত্রিপুরা ও অন্যত্র মিলিয়ে অন্তত চল্লিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যসূচির অন্তর্গত। আধুনিক কোনও লেখকের, ৪৭-পরবর্তী সময়ে জাত কোনও কথাসাহিত্যিকের পক্ষে এই কৃতিত্ব অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া তিনি ব্যাপকভাবে অনূদিতও হয়েছেন। তাঁর উপন্যাস ও গল্প অনূদিত হয়েছে ইংরেজি, রুশ ও অন্যান্য ভাষায় যেমন, তেমনই হিন্দি ও কন্নড় ভাষায়।

Read More »

সীতাকুণ্ড : দোজখ, দোজখ

India’s First Bengali Story Portal. কথা ছিল লাল ও হরিৎ রং নিয়ে কাজ সেরে পিতা ফিরবেন/ এশার নামাজ শুরু হ‌ওয়ার আগেই,/ শিশুকন্যা আসন্ন আষাঢ়ের মেঘ আঁকবে,/ দিঘিতে সাঁতার দেবে ডাহুক, এ-ও ইচ্ছে তার।/ লাজুকতার মত ব‌উ বলেছিল,/ জায়ফল না-ই হোক, না-ই হোক চিনির গুঁড়া আতপের চাল,/ লবঙ্গ-এলাচ এনো, সামান্য খয়েরিরঙা ঘি-ও, মোরগ-পোলাও হবে।/ কাল রাতে তৃতীয়ার চাঁদে রাঙা বাতায়ন থেকে/ শাওয়াল মাসের সুরভিতে ঝুমকোলতা পেড়ে এনে পরিয়েছ আমার দু’কানে/ মধুমাখা প্রতিদান তার।

Read More »

রবীন্দ্রনাথ: তাঁর ধর্মীয় সম্প্রসার

রবীন্দ্রনাথ হিন্দু দেবদেবীকে উপেক্ষার দৃষ্টিতে তো দেখেনইনি, রূপকে প্রতীকে তিনি দেবতাদের বিনির্মাণ ঘটিয়েছেন। মধ্যযুগের সন্ত-সুফিদের প্রতি ছিল তাঁর যেমন নিষ্ঠা, শ্রীরামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের প্রতি তেমনই শ্রদ্ধা। ভারতবর্ষকে জানতে হলে বিবেকানন্দকে জানতে হবে, বলেছেন তিনি। ‘বহু মানুষের বহু সাধনার ধারা/ ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা’, শ্রীরামকৃষ্ণ সম্পর্কে তাঁর উক্তি, যে সময় বহু ব্রাহ্ম (শিবনাথ শাস্ত্রী, প্রতাপচন্দ্র মজুমদার প্রমুখ) তাঁকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন। বৌদ্ধ, খ্রিস্ট, ইসলাম সমস্ত ধর্মের প্রতিই ছিল তাঁর আত্যন্তিক শ্রদ্ধাবোধ ও অভিনিবেশ। ‘ইসলাম পৃথিবীর মহত্তম ধর্মের মধ্যে একটি’, লিখেছেন তিনি।

Read More »

প্রসঙ্গ: বাংলা নববর্ষ

পয়লা বৈশাখকে নববর্ষের রূপ দেওয়া এবং উৎসবে মেতে ওঠা সম্ভবত ঔপনিবেশিক রাজধানী শহর কলকাতায় ইংরেজদের ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালনের অনুকরণে। পুণ্যাহ, হালখাতা হল নববর্ষের প্রাথমিক প্রয়োগ-অনুষঙ্গ, এবং পরবর্তীকালে তা সর্বসাধারণের অনুষ্ঠেয় আমোদপ্রমোদে পরিণত হয়। বিশ শতক থেকেই মোটামুটিভাবে এর জয়যাত্রা। এবং বাঙালির নববর্ষ অনুষ্ঠানের মধ্যকার নান্দনিকতায় রবীন্দ্রনাথের অবদান অপরিসীম বলেই আমাদের দৃঢ় ধারণা।

Read More »

বাংলার লোকসংস্কৃতিতে মনসা

একালে মনসাকে নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন অমিয়ভূষণ মজুমদার, সেলিনা হোসেন। কায়সার হক রচিত ‘The Triumph of the Snake Goddess’ এক অসাধারণ কাজ। আছে শম্ভু মিত্রের নাটক ‘চাঁদ বণিকের পালা’। আর রয়েছে শামসুর রাহমানের কবিতা, চাঁদ সদাগরের বকলমায় তাঁর উচ্চারণ, ‘যতদিন হিন্তাল কাঠের/ লাঠি আছে হাতে, আছে/ ধমনীতে পৌরুষের কিছু তেজ, যতদিন ঠোঁটে/ আমার মুহূর্তগুলি ঈষৎ স্পন্দিত হবে, চোখে/ নিমেষে উঠবে ভেসে কোন শোভাযাত্রার মশাল,/ করবো না আন্ধারের বশ্যতা স্বীকার ততদিন।’

Read More »

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »