Search
Generic filters
Search
Generic filters
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায় কবি ও প্রাবন্ধিক।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়: রজনীর শেষ তারা

গায়িকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় নিজে সুরও দিয়েছেন। ‘চন্দন-পালঙ্কে শুয়ে একা একা কী হবে’ আর ‘ঝরাপাতা ঝড়কে ডাকে, বলে তুমি নাও আমাকে’ গানদুটির সুরকার ও শিল্পী তিনি নিজে। সিনেমায় প্লেব্যাক শুরু করেন ১৯৫৫-তে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ ছবিতে। সুচিত্রা সেন এ-ছবির নায়িকা। ছবিটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে উত্তম-সুচিত্রা যেমন বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিলেন, তেমনই সুচিত্রার লিপে সন্ধ্যার গান একটি শাশ্বত ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

Read More »

ঋত্বিক ঘটক: পুনর্বিবেচনা

যৌবনে, তখন তিনি রাজশাহী কলেজের ছাত্র, বন্ধুদের নিয়ে বের করেন সাহিত্য পত্রিকা ‘বসুধারা’। সেখানে প্রতি সংখ্যায় একের পর এক গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। পরবর্তীকালে ‘দেশ’ সহ বেশ কিছু প্রতিনিধিস্থানীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। বছর কুড়ি আগে তাঁর গল্পের একটি সংকলন বেরোয়, যদিও তাঁর সব গল্প এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গল্পকার ঋত্বিকের কোনও মূল্যায়নই হয়নি। অথচ আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে শিক্ষাব্যবস্থার অসারতা নিয়ে তিনি ‘শিখা’ নামে যে গল্পটি লিখেছিলেন, তার আবেদন এখনও সমান।

Read More »

নেতাজির অসাম্প্রদায়িকতা সম্পর্কে আমাদের অবহিত হ‌ওয়া জরুরি

নেতাজির কথায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ফৌজের সকলেই জাতপাত বিসর্জন দিয়ে একত্র আহার করতেন, নেতাজির প্রতি ছিল তাঁদের এমনই নিঃসংশয় আনুগত্য। সিঙ্গাপুরে ভারতের প্রথম স্বাধীন অস্থায়ী সরকার আজাদ হিন্দ সরকারের জাতীয় সঙ্গীত লেখার দায়িত্ব মুমতাজ হুসেনকে দিয়েছিলেন নেতাজি। মুমতাজ আবিদ হাসানের সঙ্গে মিলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার আধারে রচনা করেছিলেন ‘শুভ সুখ চ্যান কি বরখা বরসে’। আজাদ হিন্দ বাহিনীর যে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান, তার উদ্গাতাও আবিদ হাসান সাফরানি।

Read More »

কানু বিনে গীত নাই, রাধা সম প্রীত

কৃষ্ণ আর ফিরে এলেন না। কংসবধের পর মথুরার রাজা হয়ে বসলেন। এদিকে রাধা দিনের পর দিন প্রতীক্ষা করতে করতে একসময় মতিভ্রষ্ট হয়ে উপলব্ধি করতে লাগলেন, যেন কৃষ্ণ ফিরে এসেছেন। এই মতিভ্রম, hallucination আরও ট্র‌্যাজিক। রাধা মায়াময় কৃষ্ণকে দেখে বলছেন, ‘এত দিন পরে বঁধুয়া আইলে/ দেখা না হইত পরান গেলে।’ কৃষ্ণ ফিরে এসেছেন, মর্মে মর্মে এই অলীক বোধ জন্ম নিয়েছে তাঁর মনে।

Read More »

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: অফুরন্ত মেজাজের মানুষ

কী পরিমাণ রসিক ছিলেন, ওই বিধুরতার মধ্যেও প্রমাণ রেখেছিলেন তার। ‘তৈমুর লঙ-এর মতন আমিও এখন আখতারুজ্জামান লঙ।’ লঙ, মানে ল্যাঙড়া, ভাবা যায় নিজেকে নিয়ে অমন রসিকতা? তাঁর পক্ষেই সম্ভব। আবার বলতেন, ‘পা মেলে বসতে হয় না বলে চায়ের কাপটা এখন রাখা যাচ্ছে শূন্যস্থানে, কী সুবিধে, তাই না?’ আবার বলতেন, ‘পা-খান রাইখ্যা গেলাম, দেখবেন, যত্ন-আত্তির অভাব না হয় যেন!’

Read More »

হাসান আজিজুল হক: আদ্যন্ত রসিকপুরুষ

সত্যজিৎ রায়ের গল্প ‘পিকুর ডায়েরি’ এবং তা নিয়ে তাঁরই নির্মিত ছবি ‘পিকু’-র কাহিনি আশ্চর্যরকমভাবে মিলে যায় হাসানভাইয়ের গল্প ‘সারা দুপুর’-এর সঙ্গে। তাহলে কি সত্যজিৎ হাসানের গল্পটি নকল করেছেন? হাসানভাইয়ের গল্পটি আগে প্রকাশিত হয়েছিল বলেই এই সংশয়। প্রশ্ন শুনে নিতান্ত সৌজন্যবশতই হাসানভাই চুপ করে রইলেন, জবাব দিলেন না কোনও। এটি তাঁর অবিনশ্বর উদারতা এবং আজানুলম্বিত মহত্বের পরিচয় আমার কাছে।

Read More »

বাংলাদেশের নাটক

মহিলাদের দ্বারা ব্যবস্থাপিত, মেয়েদেরই অভিনয়ঋদ্ধ নাটক কলকাতা নয়, উপহার দিয়েছিল ঢাকা। ১৮৮০-তে গুণুবাঈ, আনুবাঈ এবং নয়াবন নামে ভগিনীত্রয় ‘ইন্দ্রসভা’ নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন। এ-নাটক টিকিট কেটে দেখতে হত দর্শককে। অভিনীত হয়েছিল ‘পূর্ববঙ্গ রঙ্গভূমি’ মঞ্চে। শুধুমাত্র মহিলাদের উদ্যোগে নাটক বাংলায় এই প্রথম।

Read More »

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »