Search
Generic filters
Search
Generic filters

ঋত্বিক ঘটক: পুনর্বিবেচনা

ঋত্বিককুমার ঘটক (৪ নভেম্বর ১৯২৬-৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪) এক অবিনাশী প্রতিভা, যিনি মন্ত্রের ন্যায় জ্বলে উঠেছিলেন, বিদ্রোহী ভৃগুর মত। তাঁর সামগ্রিক প্রতিভার খুব সামান্য অংশই প্রকাশ্যে আসতে পেরেছিল। তাঁর অস্থির ও বেপরোয়া জীবনযাপন, তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও দেশকাল-সময় নিয়ে মানসিক উদ্বেগ তাঁর সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিপ্রক্রিয়াকে বারবার বিঘ্নিত করেছে। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি-সারস্বত জগতে মাইকেল মধুসূদন, কাজী নজরুল ইসলাম ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত তিনিও স্বভাবে বেপরোয়া আর ক্রিয়াশীলতায় অমিততেজা ছিলেন।

ঋত্বিকের প্রতিভা বহুমাত্রিক। যৌবনে, তখন তিনি রাজশাহী কলেজের ছাত্র, বন্ধুদের নিয়ে বের করেন সাহিত্য পত্রিকা ‘বসুধারা’। সেখানে প্রতি সংখ্যায় একের পর এক গল্প প্রকাশিত হতে থাকে। পরবর্তীকালে ‘দেশ’ সহ বেশ কিছু প্রতিনিধিস্থানীয় পত্রপত্রিকায় তাঁর গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। বছর কুড়ি আগে তাঁর গল্পের একটি সংকলন বেরোয়, যদিও তাঁর সব গল্প এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গল্পকার ঋত্বিকের কোনও মূল্যায়নই হয়নি। অথচ আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে শিক্ষাব্যবস্থার অসারতা নিয়ে তিনি ‘শিখা’ নামে যে গল্পটি লিখেছিলেন, তার আবেদন এখনও সমান।

ঋত্বিককুমার ঘটকের পারিবারিক ছবি।

রাজশাহীতে কলেজজীবনে তিনি নাটকে অভিনয়ও করেছেন। কলেজে তিনি যখন ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র, সে-সময় তিনি কলেজের নাটকে অভিনয় করেছেন। বিখ্যাত নাট্য পরিচালক ও অভিনেতা, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পরবর্তীকালে কলকাতার বিখ্যাত গ্রুপ থিয়েটার ‘বহুরূপী’-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কুমার রায় ছিলেন সেসময় ঋত্বিকের সহপাঠী। তিনিও সেই নাটকে অভিনয় করেছেন।

ঋত্বিকের অভিনয়সত্তা কিন্তু বরাবর অক্ষুন্ন ছিল। রাজশাহী ছেড়ে কলকাতায় এসে তিনি যখন গণনাট্য সংঘে যোগ দেন, অভিনয় করেছেন সেখানেও। নিজের তৈরি প্রায় সব সিনেমায় ছোটখাটো চরিত্রে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তাঁর শেষ ছবি ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’-র প্রধান চরিত্রে তাঁর দাপুটে অভিনয় দর্শকদের বিমোহিত করে আজও। নিজের ছবি ছাড়া অন্যের ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গেছে তাঁকে। যেমন, ‘কুমারী মন’।

ঋত্বিককুমার ঘটকের মা ইন্দুবালা দেবী।

আমরা ঋত্বিক ঘটককে মূলত চলচ্চিত্র পরিচালকরূপে জানি। কিন্তু সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হ‌ওয়ার আগে তিনি ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা। এমনকি তিনি যখন ছবির রাজ্যে দাপটের সঙ্গে বিরাজ করছিলেন, তখনও তাঁর নাটক লেখা থেমে থাকেনি, অথবা নাট্য পরিচালনা। শেষবয়সে তিনি কিছুদিন মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেসময়েও অন্য আরও কয়েকজন ‘সৃষ্টিঘোরে আচ্ছন্ন’-কে নিয়ে, যাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রখ্যাত কবি বিনয় মজুমদার, নাটক অভিনয় করিয়েছেন। আকাশবাণী কলকাতা থেকে তাঁর যৌবনে প্রচারিত হয়েছিল তাঁরই লেখা বিখ্যাত নাটক ‘জ্বালা’। এ-পর্যন্ত তাঁর লেখা মৌলিক ও অনুবাদ— নাটক মিলিয়ে বারোটির সন্ধান পাওয়া গেছে, এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমী’ সেগুলোর সংকলন প্রকাশ করেছে। তাছাড়া পরবর্তী জীবনে তিনি কিছুদিন নাট্যবিষয়ের একটি পত্রিকা সম্পাদনাও করেছিলেন। তাঁর নিজের কথায়, নাটকের চেয়ে আরও দ্রুত ও বেশি লোকের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হল সিনেমা। এজন্যই তিনি তাঁর সৃজনশীলতার মাধ্যম হিসেবে সিনেমাকে বেছে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি মশাই সিনেমার প্রেমে পড়িনি।’

ঋত্বিক ঘটকের আরও একটি পরিচয় চলচ্চিত্র শিক্ষকরূপে। পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউট-এ বেশ কিছুদিন তিনি পড়িয়েছেন। ছিলেন সেখানকার ভাইস প্রিন্সিপালও। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সথ্যু, রাকেশ রোশন প্রমুখ অনেকেই ছিলেন, যাঁরা পরবর্তী সময়ে অভিনেতা বা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে সর্বভারতীয় খ্যাতি পান।

ঋত্বিককুমার ঘটকের বাবা সুরেশচন্দ্র ঘটক।

প্রাবন্ধিক ঋত্বিক ঘটকের পরিচয়টিও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁর জীবিতকালেই বেরিয়েছিল তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘চলচ্চিত্র, মানুষ ও অন্যন্য’। মৃত্যুর দীর্ঘদিন বাদে ব‌ইটির বৃহদায়তন দ্বিতীয় সংস্করণ বেরোয়। ব‌ইটির বিভিন্ন প্রবন্ধে তাঁর চলচ্চিত্রদর্শন, সমকালীন দেশ-বিদেশের সিনেমা, সিনেমা তৈরির নানাদিক, তার নান্দনিকতা ও ছবি তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, (তাঁর ভাষায় ‘সারি সারি পাঁচিল’), চলচ্চিত্র নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও সাধনার কথা তিনি ব্যক্ত করেছেন। সুস্থ চলচ্চিত্রের জন্য যে পরিবেশ ও দর্শক আনুকূল্য দরকার, দেশভাগজনিত বেদনা তাঁকে কতটা মর্মাহত করে ছবি তৈরিতে উদ্দীপিত করেছে, পূর্বসূরিদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাঞ্জলি, এ-সব একত্রিত এই প্রবন্ধসমূহে।

ঋত্বিক ভাল ছবি আঁকতেন। পূর্বে উল্লিখিত তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থটির প্রচ্ছদ তাঁরই করা। এছাড়া তিনি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর মত কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীর কাছে সেতারের তালিমও নিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে কখনও সেতার বাজাননি, কেননা তাঁর নিজের কথায়, গুরু আলাউদ্দীনের অনুমতি ছিল না তাতে। এইভাবে নানা ঋত্বিকের মালা গেঁথে আমরা এ-কথাটাই বোঝাতে চাই, তিনি তাঁর সার্বিক প্রতিভা নিয়েই ঋত্বিক, কেবল চলচ্চিত্রকার নন।

ঋত্বিককুমার ঘটকের পারিবারিক ছবি।

চলচ্চিত্রকার ঋত্বিকের আবির্ভাব মাত্র সাতাশ বছর বয়সে ‘নাগরিক’ ছবি দিয়ে। এর আগেও তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন নিমাই ঘোষের ‘ছিন্নমূল’ ছবিতে। ‘নাগরিক’-এর আগেও অবিশ্যি ‘বেদেনী’ ছবিতে হাত দিয়েছিলেন, যদিও শেষ করতে পারেননি অর্থাভাবে। ‘অরূপ কথা’ ছবিটিও প্রাক-‘নাগরিক’, যে ছবিটির কুড়ি দিনের শ্যুটিং হয় ঘাটশিলায়, এবং দেখা যায়, ক্যামেরায় ত্রুটি ছিল বলে ছবি ওঠেনি।

১৯৫২ থেকে ১৯৭৪, এই বাইশ বছরের মধ্যে তিনি মাত্র আটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি তৈরি করেছেন। এগুলির ভেতরে আছে তাঁর ট্রিলজি বা ত্রয়ী ছবি ‘কোমল গান্ধার’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, এবং ‘সুবর্ণরেখা’। তাঁর অন্তিমপর্বের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে তোলা হয়। এ-ছবির কলাকুশলীরা সবাই বাংলাদেশের। ছবির প্রযোজক ছিলেন হাবিবুর রহমান খান। ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রবীর মিত্র, রোজী, সামাদ, কবরী, গোলাম মুস্তফা সহ আরও অনেকে। ছবিটির সহ-পরিচালক ছিলেন তমিজ উদদীন রিজভী। এ-ছবির চিত্রনাট্যও ঋত্বিক লেখেন বাংলাদেশে বসে। নারায়ণগঞ্জের ঢাকেশ্বরী মিলের গেস্টহাউসে‌। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

ঋত্বিককুমার ঘটকের বিয়ের কার্ড।

ঋত্বিকের অসমাপ্ত কাজ রয়ে গিয়েছিল প্রচুর— ‘কত অজানারে’, ‘বগলার বঙ্গদর্শন’, ‘রঙের গোলাম’ ও আরও বেশ কিছু তথ্যচিত্রেরও নির্মাতা তিনি। এগুলির মধ্যে পুরুলিয়ার ছৌনাচের ওপর করা ছবি, আদিবাসী ওরাঁওদের ওপর, ‘সিজার্স’ নামক একটি ছবি রয়েছে। ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজকে নিয়ে করা তাঁর তথ্যচিত্রটি অসম্পূর্ণ ছিল। ঋত্বিকপুত্র ঋতবান ঘটক সেটি শেষ করেন।

তাঁর অধিকাংশ ছবি দেশভাগ ও তার বেদনাকে কেন্দ্র করে। বাংলাভাগকে কখনওই মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই দু-বাংলার দুঃখবেদনামথিত ইতিহাসের ধারাবিবরণী পাই একের পর এক তাঁর ছবিতে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ক্যামেরা হাতে নেন সেই করাল-ভয়াল দিনগুলোকে সেলুলয়েডের মাধ্যমে তুলে আনতে, যার ফলশ্রুতি ‘দুর্বারগতি পদ্মা’ নামে তথ্যচিত্রটি। তিনি যে সময়ের কাছে কতটা দায়বদ্ধ, ইতিহাসের কাছে নতজানু, তার প্রমাণ এই ছবিটি।

ঋত্বিকের ছবি তাঁর জীবদ্দশায় মূল্যায়িত হয়নি। মৃত্যুর পর, তিনি নিজেই বলে গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছবির মূল্যায়ন হবে। এবং হচ্ছেও তাই। তাঁর ওপর বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে, তাঁকে নিয়ে ব‌ই লিখেছেন ফরাসি চিত্র সমালোচক জর্জ সাদুল (George Sadoul), দেশে-বিদেশে প্রদর্শিত হচ্ছে তাঁর ছবি, সেমিনার হচ্ছে তাঁকে নিয়ে। মারি সেটন (Marie Seton), যিনি সত্যজিৎ রায়ের ওপর কাজ করেছেন, ঋত্বিককে বলেছেন ‘Terrible’! কথাটি মিথ্যে নয়। একের পর এক ছবিতে তিনি কষাঘাতে জর্জরিত করেছেন আমাদের ভুয়ো মূল্যবোধকে, তুলে ধরেছেন আমাদের দুঃখকষ্টের জায়গা, বাতলেছেন নিরাময়ের কথা। নরনারীর সম্পর্ক, মধ্যবিত্ত সমাজের অবক্ষয়, ভাইবোন মাতাপিতার পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা-সহজতা, অন্যায়ের প্রতি দ্রোহ তাঁর ছবিতে বারবার ঘুরেফিরে আসে। আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়, চেতনাকে জাগায়, আত্মম্ভরিতাকে মিথ্যে বলতে শেখায়।

তাঁর শেষ ছবি ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’-তে তিনি এক যুগাবতারের মত, সন্ত ও আচার্যের মত বলে ওঠেন, ‘ভাবো, ভাবো। ভাবা প্রাকটিস করো।’ এই যে উচ্চারণ, তা আমাদের ঔপনিষদিক সদুক্তিটি মনে পড়ায়, ‘হিরন্ময়েন পাত্রেণ সত্যস্যাপাবৃতঙ মুখম্/ তেন পূষণ্ণপাবৃণু সত্যধর্মায় দৃষ্টয়ে।’ অর্থাৎ সত্যের মুখ সোনার পাত্র দিয়ে আবৃত (যাতে ঢাকনা খুলে প্রকৃত সত্য দেখতে আমরা ভুলে যাই, স্বর্ণপাত্রের মোহে মুগ্ধ হয়ে)। হে সূর্য (আলোকদাতা), তুমি সেই আবরণ সরিয়ে নিয়ে সত্য কী, তা দেখাও। ঋত্বিকও ভাবা প্রাকটিস করার উপদেশ দেন এ একই এষণায়।

ঋত্বিকের ছবি নিয়ে বাংলাদেশের গবেষক ও ঋত্বিক-অনুরাগীদের আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসা দিন দিন বাড়ছে। তার সামান্য উদাহরণ হল সাজেদুল আউয়ালের ঋত্বিক গবেষণা। তাঁর লেখা ‘ঋত্বিকমঙ্গল’ ঋত্বিক-গবেষণায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। তিতাসের দেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমিপুত্র সাজেদুল নিজেও মালোপাড়ার জেলেদের নিয়ে রচনা করেছেন ‘ফণিমনসা’ নাটক, যা বাংলাদেশের বিখ্যাত নাট্যদল ‘ঢাকা থিয়েটার’ মঞ্চস্থ করে। সাজেদুলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সেইসঙ্গে ঋত্বিকপ্রীতি এবং ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এ তিনি এতটিই আপ্লুত ছিলেন যে নিজের একমাত্র সন্তানের নাম রেখেছিলেন ‘তিতাস…’-এর নায়কের নামে, অনন্ত।

ঋত্বিককুমার ঘটকের যমজ বোন প্রতীতি।

তানভীর মোকাম্মেল। বাংলাদেশের নন্দিত চলচ্চিত্রকার। তিনি ‘হুলিয়া’, ‘চিত্রানদীর পারে’, ‘লালশালু’ প্রভৃতি চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে প্রশংসিত। এবং একজন প্রাবন্ধিক, অনুবাদক। তিনি অসাধারণভাবে ঋত্বিক ঘটকের ছবি বিশ্লেষণ করে মন্তব্য করেছেন, ‘কুরোসাওয়া জাপানি, এবং আন্তর্জাতিক-ও। কিন্তু ওজু একান্তই জাপানি। ওজুকে সঠিকভাবে বুঝতে জাপানি শিল্পসংস্কৃতি, ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। ঋত্বিক ঘটক-ও যেন তেমন-ই আমাদের একান্তই বাঙালি এক শিল্পী, যাঁর বিষয়বস্তু, গল্প বলার ধরন, বাংলা ভাষার নাটকীয় প্রকাশভঙ্গি অনুযায়ী নাটকীয় সংলাপ, বাংলা মঞ্চনাটকের ধারায় উচ্চকিত অভিনয়রীতি— ঋত্বিকের ছবিতে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলের শটগুলো স্মরণ করুন। এ সব-ই এক বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালকের একান্ত নিজস্ব চলচ্চিত্রভাষার প্রকাশ। তাই ঋত্বিকের শিল্প-উৎসকে খুঁজতে হবে পশ্চিমী চলচ্চিত্রভাষায় নয়, সেটা খুঁজতে হবে বাংলার লোকজ শিল্পমাধ্যমগুলির মাঝে।’

চিত্রসমূহ ঋত্বিক ঘটকের ভাগ্নী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাংসদ শ্রদ্ধেয়া আরমা দত্তর সৌজন্যে প্রাপ্ত।

ঋত্বিককুমার ঘটক: স্মৃতিতে

2 Responses

  1. শ্রদ্ধা জানাই। আরো পাওয়ার ছিল, হল না। 🙏

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »