Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রসঙ্গ: বাংলা নববর্ষ

বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশ বাংলা। এদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যে প্রায় প্রতিটি মাসকে কেন্দ্র করেই উৎসব আর উৎসব। শহুরে মানুষের কাছে সমস্ত বাঙালি উৎসবের বার্তা হয়তো সেভাবে পৌঁছয় না, কিন্তু জেলাভেদে অঞ্চলভেদে আবহমান কাল ধরে প্রবাহিত হয়ে আসছে বহুতর উৎসবের স্রোত। এগুলির মধ্যে কোনওটা বা ধর্মীয় উৎসব, কোনওটা সামাজিক ও নিতান্তই স্থানীয়, আবার কোনওটার চরিত্র একেবারেই ধর্মনিরপেক্ষ। বাংলার ভূগোল আজ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে দ্বিধাবিভক্ত। পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, দিল্লিতে বহু বাঙালির বাস। বিশ্বায়নের কল্যাণে ইওরোপ-আমেরিকাতেও, এমনকি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে বসবাসরত মোট বাঙালির সংখ্যা বেশ কয়েক লক্ষ। পাকিস্তান ১৯৭১-পরবর্তীকালে পূর্বপকিস্তান-বর্জিত ডানাকাটা রাষ্ট্র। সেখানেও কিন্তু রয়ে গেছেন প্রচুর সংখ্যক বাঙালি।

বাঙালির উৎসব-সংখ্যা গণনার অতীত। একথার প্রমাণ মিলবে যেকোনও একটি পঞ্জিকার পাতা ওলটালে। বিয়ে পৈতে অন্নপ্রাশন ইত্যাদির কথা হচ্ছে না, হচ্ছে না শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, চল্লিশা কিংবা উরস-এর কথাও। এ ছাড়াই প্রায় প্রতিটি দিনই দেখা যাবে উৎসবের দ্বারা চিহ্নিত লগ্ন। একমাত্র পৌষসংক্রান্তির দিন বঙ্গদেশময় যে জলধিপ্রতিম উৎসব, তা-ই আমাদের আশ্চর্য না করে পারে না। বিষ্ণুপুরে (বাঁকুড়া) সেদিন মল্লরাজদের বৈষ্ণব ধর্মমতে ব্রত উদযাপিত হয়। প্রসঙ্গত, বিষ্ণুপুরে মল্লরাজারা একনাগাড়ে চোদ্দোশো বছর রাজত্ব করে গিয়েছেন। ওইদিন বীরভূমের ইলামবাজারে আবার কদম্বখণ্ডীর ঘাটে পুণ্যস্নান উদযাপিত হয়। তাছাড়া কেঁদুলিতে জয়দেবের মেলা তো ওইদিন সুপ্রসিদ্ধ। বাংলার সাঁওতাল সমাজও পৌষসংক্রান্তিতে মেতে ওঠেন ‘নাগরদোলা’ পরবে। পুরুলিয়ায় এসময় হয় টুসু উৎসব। মেদিনীপুরের কাঁথিতে রসুলপুর নদীকে কেন্দ্র করে উৎসব ও মেলা বসে, যে রসুলপুরকে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসে স্থান দিয়ে নদীটিকে অক্ষয় করে রেখে গিয়েছেন।

তো এই গেল একটি দিনের উৎসবের বিবরণ, তা-ও আংশিক। উৎসব প্রধানত দু’ধরনের। ধর্মীয় আর সামাজিক বা ধর্মনিরপেক্ষ। দুর্গ কালী শিব সরস্বতী পুজো, ঈদ, মহরম (এটি উৎসব নয়, শোক উদযাপনের দিন), ফতেহা দোহাজ দাহাম, বুদ্ধজয়ন্তী, কঠিনচীবরদান, প্রবারণা উৎসব, বড়দিন, গুড ফ্রাইডে। অন্যদিকে রবীন্দ্র জন্মোৎসব, নজরুল জন্মোৎসব, নববর্ষ (ইংরেজি ও বাংলা) হল ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক উৎসব।

.

পৃথিবীতে ত্রিশ কোটি বাঙালি। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে, বাংলা নববর্ষ পালিত হয় আলাদা দুটি দিনে। তার কারণ তখনকার পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৬৮-তে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলা বর্ষপঞ্জির যে সংস্কার হয়, তাতে ইংরেজি ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ অর্থাৎ পয়লা বৈশাখকে স্থায়ীভাবে নির্ধারিত করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তথা ভারতে এই সংস্কার মান্যতা পায়নি। তাই কখনও একদিন, কখনও দুদিনের ব্যবধান ঘটে যায় দু-দেশের যাপিত উৎসবে, বিশেষ করে যা বাংলা বর্ষপঞ্জির নির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক। তবে তিথিভিত্তিক উৎসবগুলি একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এবং সেখানেও গোলমাল। যেমন ১৪২৩-এ যে দুর্গোৎসব হয়, ইংরেজি তারিখ অনুযায়ী তা ছিল ৬ থেকে ১০ অক্টোবর, পঞ্চমী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত। কলকাতা, ঢাকা দুজায়গাতেই ইংরেজি তারিখ এক রেখেই পুজো হয়েছে, প্রতিমা বিসর্জিত হয়েছে ১১ অক্টোবর (অনেকে বিলম্বিত বিসর্জন ঘটান, সেটা আলাদা। কিন্তু বাংলা তারিখ ছিল কলকাতার ১৯-২৪ আশ্বিন [পঞ্চমী-দশমী] আর ঢাকার ২০-২৫ আশ্বিন। রবীন্দ্রজয়ন্তী বাংলাদেশে একদিন আগে উদযাপিত হয়, নজরুলজয়ন্তীও। একইরকমভাবে বাংলা নববর্ষও। কেন এমন বৈষম্য?

এটা বোঝার জন্য আমাদের বাংলা সনের জন্ম-ইতিহাস একটু জেনে নিতে হবে। কবে এবং কীভাবে বাংলা সন চালু হল?

বাংলা সনের জন্মকাহিনি

গ্রিক প্রেমের দেবী আফ্রোদিতি শিশু হয়ে জন্মাননি, জন্মেছিলেন যৌবনবতী হয়ে। ঠিক তেমনই বাংলা সন খ্রিস্টাব্দ বা হিজরি সনের মত এক থেকে শুরু হয়নি, জন্মেই বাংলা সনের বয়স ৯৬৩। কীভাবে ঘটল এই আশ্চর্যজনক ঘটনাটি?

এটা জানতে হলে আমাদের চলে যেতে হবে ভারতেতিহাসের মধ্যযুগে, সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে আকবরের উজ্জ্বল ভূমিকার কথা বলে শেষ করার নয়। সর্বধর্মসমন্বয়কারী আকবর যে ‘দীন-ই-ইলাহী’ ধর্মের প্রচলন করেন, সে ধর্মীয় উদারতা আজকের দিনেও বিরল। ১৫০৩-এ তিনি সতীদাহ প্রথা রদের উদ্যোগও নিয়েছিলেন, রাজা রামমোহনের বহু পূর্বে। অক্ষরজ্ঞানহীন আকবর সম্পর্কে আরও একটি কৌতূহলকর তথ্য হল, পণ্ডিতদের মুখে মহাভারতের পাঠ ও ব্যাখ্যা শুনে তিনি ফার্সিতে এই মহাকাব্যটি অনুবাদ করতে শুরু করেছিলেন। আকবর কথাবার্তা বলতেন ফার্সিতে, এবং মুখে মুখে বলে যেতেন, আর তা লিখে নিতেন মুনসিরা। হাজার ব্যস্ততায়, যুদ্ধের পর যুদ্ধে লিপ্ত থাকায় মহাভারতের খুব সামান্য অংশই অনূদিত হতে পেরেছিল। আমরা তবু আকবরের উদার মানসিকতার কাছে নতজানু না হয়ে পারি না। আজকের ভারত আকবরের কাছে লজ্জা পাবে!

যাই হোক, আকবর দেখলেন, বার্ষিক খাজনা আদায় ইসলামি অর্থাৎ হিজরি সাল মেনে করতে গিয়ে অসুবিধেয় পড়তে হচ্ছে। কারণ হিজরি বছর চান্দ্রবৎসর বলে ৩৫৪ দিনের। ৩৬৫ দিনের বছর তাঁর প্রয়োজন হয়ে পড়ল। এ-জাতীয় বছর কিন্তু ভারতে বহাল ছিল তখন। তার নাম শকাব্দ। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ বরাহমিহির ও আর্যভট্টের গণনা পৃথিবীর বার্ষিক গতি প্রায় নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে সমর্থ হয়েছিল। শকাব্দ সেই গণনা অনুযায়ীই বিধিবদ্ধ হয়। পৃথিবীর আহ্নিক ও বার্ষিক গতি নিয়ে ইরানের কবি ও গণিতজ্ঞ ওমর খৈয়ামও কোপার্নিকাসের বহু আগে একাদশ শতাব্দীতেই নির্ভুল নির্ঘণ্ট বের করেছিলেন।

আকবর শকাব্দ অনুসারী হলেন না। আকবরের রাজসভায় বিখ্যাত জ্যোতিষী ফতেউল্লাহ সিরাজীর পরামর্শে আকবর তাঁর সিংহাসন আরোহণের ইসলামি বর্ষ ৯৬৩-র সঙ্গে ‘ফসলী সাল’-কে মিলিয়ে দিলেন। একে ‘ইলাহী সাল’-ও বলা হত, সম্রাটের ‘দীন-ই-ইলাহী’ ধর্মমত স্থাপনের অনুকরণে।

.

এ তো গেল বাংলা সনের জন্মকাহিনি। এরসঙ্গে বাংলা নববর্ষ পালনের যোগসূত্র কোথায়? কী মধ্যযুগে, কী ব্রিটিশ আমলের গোড়ায়, বাঙালি পয়লা বৈশাখ যে নববর্ষ পালন করেছে, তার প্রমাণ নেই। একদা ভারত তথা বাংলায় বর্ষ শুরু হত অগ্রহায়ণ মাস থেকে। চৈত্র মাস থেকেও বর্ষগণনা প্রশস্ত ছিল। শকাব্দ সেই চৈত্রমাসের বছরকেই মান্যতা দেয় আজও। তাহলে পয়লা বৈশাখে যে নববর্ষ, তার উদ্ভব কবে থেকে এবং কীভাবে? মধ্যযুগে নারীদের বিরহবেদনা বিধৃত হয়ে আছে অসংখ্য কবির বারোমাস্যায়। সেখানকার বর্ণনায় বৈশাখের কথাও রয়েছে, কিন্তু উৎসবপালনের কথা নেই একেবারেই। মুকুন্দরাম ফুল্লরার বারোমাস্যায় (ইনি প্রবলভাবে আকবরের সমসাময়িক) আশ্বিনে দুর্গাপূজার উল্লেখ করছেন— ‘আশ্বিনে অম্বিকা পূজা করে জগজনে।/ ছাগ মেষ মহিষ দিয়া বলিদানে।।’ কিন্তু বৈশাখে কোনও উৎসবের উল্লেখ নেই। রয়েছে মাংসভক্ষণের নিষেধ-বার্তা,— ‘বৈশাখ হৈল বিষ গো বৈশাখ হৈল বিষ।/ মাংস নাহি খায় সর্ব্বলোক নিরামিষ।’ যেমন মাঘ মাসে শাকপাতা বর্জন করত লোকে, ‘নিদারুণ মাঘমাস, নিদারুণ মাঘ মাস।/ সর্ব্বজন নিরামিষ কিংবা উপবাস।।’ একই সময়ে শ্রীচৈতন্য দোল-উৎসবে মাতোয়ারা, কিন্তু কী চৈতন্য ব্যক্তিজীবনে, কী সমগ্র বৈষ্ণবসাহিত্যে পয়লা বৈশাখ আদৌ উল্লেখযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত নয়। বৈশাখে নালিতা খাওয়া প্রশস্ত, আর মধ্যযুগে মুসলমান মহিলা কবি রহিমুন্নিসার ‘ভ্রাতৃবিলাপ’-এ অন্য একধরনের বারোমাস্যায় পাই কেবল এই তথ্য, ‘বৈশাখ মাস কাটাইলাম আমি বৈসারে বৈসারে।’

তাহলে বাংলা নববর্ষপালনের সূচনা কবে?

আমাদের ধারণা, ওই যে খাজনা আদায়ের সুবিধের জন্য ফসলী সন হিসেবে বাংলা সনের প্রবর্তন, তারই বিবর্তিত রূপ ‘পুণ্যাহ’। ঔপনিবেশিক আমলে কঠোরভাবে জমিদারদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা হত, ‘সূর্যাস্ত আইন বা ‘Sunset Law’-এর মাধ্যমে। জমিদাররাও তাই বাধ্য প্রজাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট তারিখে অর্থ আদায়ে, খাজনা হিসেবে। কালীপ্রসন্ন সিংহ তাঁর ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’-য় চড়কের বিচিত্র ও বিশদ বর্ণনা দিচ্ছেন, আর পয়লা বৈশাখ বর্ণনা করছেন একটিমাত্র বাক্যে, ‘খাতাওয়ালারাই নতুন বৎসরের মান রাখেন।’ খাতাওয়ালা, অর্থাৎ জমিদার এবং তৎসহ সদ্য গড়ে ওঠা বেনিয়া সম্প্রদায়। পয়লা বৈশাখ তাই গোড়ায় ছিল জমিদার-মুৎসুদ্দির বার্ষিক দেনাপাওনার হিসেব মেলানোর দিন। মুঘল আমলে ইরানীয় প্রভাবে ‘নওরোজ’ পালিত হত ধুমধাম করে, পাঞ্জাবে এসময়ে ‘বৈশাখী’ পালিত হওয়া শুরু হয় গুরু গোবিন্দ সিংয়ের ‘খালসা’ গঠনের মাধ্যমে, আর আসামেও ‘রঙ্গালি বিহু’ বৈশাখ মাসকে কেন্দ্র করে। বাংলায় নবান্ন ছিল, নববর্ষের উদযাপন সেই অর্থে ছিল না। তবে কৃষ্ণনগরের যে বারোদোলের মেলা, তার সঙ্গে নববর্ষের ক্ষীণ একটা যোগসূত্র আবিষ্কার করা সম্ভব। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র প্রবর্তিত এ উৎসবে কৃষ্ণনগরের গোপ সম্প্রদায় (কৃষ্ণনগর ছিল গোয়ালা অধ্যুষিত অঞ্চল। নাম ছিল আদিতে গোয়ারি।) ‘কপিলাগীতি’ গেয়ে পথ পরিক্রমা করতেন। এর রেশ আজও কিছুটা রয়ে গিয়েছে সেখানে।

.

পয়লা বৈশাখকে নববর্ষের রূপ দেওয়া এবং উৎসবে মেতে ওঠা সম্ভবত ঔপনিবেশিক রাজধানী শহর কলকাতায় ইংরেজদের ১ জানুয়ারি নববর্ষ পালনের অনুকরণে। পুণ্যাহ, হালখাতা হল নববর্ষের প্রাথমিক প্রয়োগ-অনুষঙ্গ, এবং পরবর্তীকালে তা সর্বসাধারণের অনুষ্ঠেয় আমোদপ্রমোদে পরিণত হয়। বিশ শতক থেকেই মোটামুটিভাবে এর জয়যাত্রা। এবং বাঙালির নববর্ষ অনুষ্ঠানের মধ্যকার নান্দনিকতায় রবীন্দ্রনাথের অবদান অপরিসীম বলেই আমাদের দৃঢ় ধারণা।

নববর্ষ ও রবীন্দ্রনাথ

জমিদার রবীন্দ্রনাথেরও নববর্ষ শুরু ‘পুণ্যাহ’ দিয়েই। ১৮৯১-তে পূর্ববঙ্গের শিলাইদহে জমিদারি পরিচালনা করতে গিয়ে এই পুণ্যাহের দিনে তিনি যে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন আনলেন প্রথাটির মধ্যে, তার ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। ঠাকুরবাড়ির চিরাচরিত নিয়ম ছিল, পুণ্যাহের দিন প্রজারা হিন্দু-মুসলমান দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আসন গ্রহণ করবেন। হিন্দু প্রজাদের জন্য চাদর, তার ওপর সতরঞ্চি। তফাতে মুসলমান প্রজা, চাদর ছাড়া কেবল সতরঞ্চির ওপর। আর জমিদার বসবেন ভেলভেট মোড়া সিংহাসনে। জমিদার রবীন্দ্রনাথের আদেশে পুণ্যাহের দিনটিতে এই ত্রিবিধ ব্যবস্থা উঠে গেল। একাসনে বসলেন হিন্দু, মুসলমান এবং জমিদার রবীন্দ্রনাথ। আর রবীন্দ্রনাথ সেদিনই সংকল্প নিলেন সাহাদের হাত থেকে সেখদের বাঁচানোর। পূর্ববঙ্গ তথা তাবৎ বাঙালি মুসলমান সমাজ ওইদিন একটুখানি হলেও আত্মমর্যাদা ফিরে পেলেন রবীন্দ্রনাথের ওই যুগান্তকারী রাজা-প্রজা সম্পর্কের মানবিকতার অঙ্কুর প্রতিষ্ঠায়। আজ যখন পূর্ববঙ্গ তথা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের দিকে তাকাই, দেখি, সেখানে বাংলা নববর্ষ পালনের স্বতঃস্ফূর্ততা, যার উদ্যোক্তা ও হোতা সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান বাঙালি, দেখে ১৮৯১-এর পয়লা বৈশাখকে কুর্নিশ জানাতে ইচ্ছে করে।

পুণ্যাহ থেকে যাত্রা শুরু হল, পরবর্তীকালে যে দিনটিকে জমিদার-প্রজার নিতান্ত বৈষয়িক সম্পর্কের তুচ্ছতা থেকে বাঙালির যথার্থ বর্ষবরণের দিনে পরিণত হওয়াও তো রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে।

বোলপুরে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০১-এ। ১৯০২-তে (বাংলা ১৩০৯) পয়লা বৈশাখ আশ্রম বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ আয়োজন করেছিলেন প্রথম নববর্ষ উৎসব। ইংরেজি ১৯০২-এর ১৪ এপ্রিল সোমবার অনুষ্ঠিত বর্ষবরণের দিনটিতে রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণে যোগ দিয়েছিলেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিতচন্দ্র সেন প্রমুখ। কালবৈশাখীর প্রবল ঝড়ের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের স্বকণ্ঠে গান ‘আমারে করো তোমার বীণা’ পরিবেশিত হয়। প্রাতঃকালীন উপাসনার পর রবীন্দ্রনাথ নববর্ষ নিয়ে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘সংসারের কোনো বাহ্য ঘটনাকে আমার চেয়ে প্রবলতর মনে করিয়া অভিভূত হইব না— কারণ ঘটনাবলী তাহার সুখদুঃখ বিরহমিলন লাভক্ষতি জন্মমৃত্যু লইয়া আমাদিগকে ক্ষণে ক্ষণে স্পর্শ করে ও অপসারিত হইয়া যায়। বৃহত্তম বিপদই বা কতদিনের, মহত্তম দুঃখই বা কতখানি, দুঃসহতম বিচ্ছেদই বা আমাদের কতটুকু হরণ করে— তাঁহার আনন্দ থাকে; দুঃখ সেই আনন্দেরই রহস্য, মৃত্যু সেই আনন্দেরই রহস্য।’

সেই থেকে বৈশাখের প্রথম দিনটি শান্তিনিকেতনে বর্ষবরণের দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এমনও হয়েছে, নববর্ষের দিনটিতে কবি শান্তিনিকেতনে নেই। তবু মন পড়ে রয়েছে সেখানে। ১৯১৩-তে রবীন্দ্রনাথ লন্ডনে। এক পত্রে লিখছেন অজিতকুমার চক্রবর্তীকে, ‘প্রত্যেকবার আমার চিরপরিচিত পরিবেষ্টনের মাঝখানে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে নববর্ষের প্রণাম নিবেদন করেছি— কিন্তু এবার আমার পথিকের নববর্ষ, পারে যাবার নববর্ষ।’

.

তারপর তো নববর্ষের দিনটিকেই কবি নির্বাচন করলেন নিজের জন্মদিন পালনের দিনরূপে। ১৯৩৬ থেকে। কবির জীবৎকালে শেষ জন্মদিন পালিত হয়েছিল, এবং এখনও শান্তিনিকেতনে সেদিনই রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালিত হচ্ছে। শেষ জন্মদিন কবির জীবিতাবস্থায় পালিত হওয়া উপলক্ষ্যে কবি গান রচনা করেছিলেন, ‘হে নূতন, দেখা দিক আরবার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।’ বৈতালিকদলের আশ্রম পরিক্রমা, কবিকে ফুল উপহার দিয়ে প্রণাম, ভোরে ক্ষিতিমোহন সেনের উপাসনা, বেদপাঠ, এবং একদিকে নববর্ষ ও অন্যদিকে জন্মদিন পালনকে উপলক্ষ্য করে কবি সেদিন বলেছিলেন তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে, ‘আমার মতন সৌভাগ্য অতি অল্প লোকেরই হয়েছে। শুধু যে আমার স্বদেশীয়েরাই আমাকে ভালোবেসেছেন তা নয়, সুদূর দেশেরও অনেক মনস্বী তপস্বী রসিক আমার অজস্র আত্মীয়তা দ্বারা ধন্য করেছেন। জানি না আমার চরিত্রে কর্মে কি লক্ষ্য করেছেন। সকলের এই স্নেহমমতাসেবা আজ আমি অন্তরের মধ্যে গ্রহণ করি, প্রণাম করে যাই তাঁকে যিনি আমাকে এই আশ্চর্য্য গৌরবের অধিকারী করেছেন।’

কেবল নববর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতাই নয়, তাঁর গানে কবিতায় গল্পে নাটকে প্রবন্ধে চিঠিপত্রে বিচিত্রভাবে নববর্ষ নিয়ে তাঁর ভাবনাচিন্তা প্রতিফলিত হয়েছে। এ নিয়ে স্বতন্ত্র একটি গবেষণাগ্রন্থ রচনা করা সম্ভব। আমরা আপাতত দু-একটি নববর্ষ বিষয়ক রবীন্দ্র-রচনার উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গটি শেষ করব। কখনও নববর্ষকে তিনি অণ্বিত করেন স্বাদেশিকতার আগ্নেয় আহ্বানে, ‘নববৎসরে করিলাম পণ লব স্বদেশের দীক্ষা,/ তব আশ্রমে তোমার চরণে হে ভারত, লব শিক্ষা।’ (উৎসর্গ, ১৩ সংখ্যক কবিতা)। ‘পরিশেষ’ কাব্যগ্রন্থের ‘গৃহলক্ষ্মী’ কবিতায় নববর্ষকে তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন এভাবে, ‘নবজাগরণ লগনে লগনে বাজে কল্যাণশঙ্খ/ এসো তুমি ঊষা ওগো অকলুষা, আনো দিন নিঃশঙ্ক।’ কখনও ‘নববর্ষ এল আজি দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে’ (স্ফুলিঙ্গ), আবার কখনও তিনি লেখেন, ‘ঐ মহামানব আসে।’

‘শান্তিনিকেতন’ গ্রন্থের ‘নববর্ষ’ প্রবন্ধে তিনি চিন্তায় ফেলে দেন আমাদের, যখন তাঁর লেখায় পড়ি, ‘মানুষের নববর্ষ আরামের নববর্ষ নয়, সে এমন শান্তির নববর্ষ নয়— পাখির গান তার নয়, অরুণের আলো তার আলো নয়। তার নববর্ষ সংগ্রাম করে আপন অধিকার লাভ করে। আবরণের পর আবরণকে ছিন্ন বিদীর্ণ করে তবে তার অভ্যুদয় ঘটে।’ বড়ই ভাববার মত কথা।

নববর্ষ যেমন তাঁর চিন্তায়-চেতনায়, তেমনই বর্ষশেষটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় তাঁর কাছে। ১৩১৭-র (১৯১২) বর্ষশেষের দিনটিতে শান্তিনিকেতন মন্দিরে ভাষণ দিতে গিয়ে বলছেন তিনি, ‘জীবনের সমস্ত যাওয়া কেবলই একটি পাওয়াতে এসে ঠেকছে— সমস্তই যেখানে ফুরিয়ে যাচ্ছে সেখানে দেখছি একটি অফুরন্ত আবির্ভাব।’ লিখছেন, ‘আজ আমার মন তাঁকে বলছে, বারে বারে খেলা শেষ হয়, কিন্তু হে আমার জীবনখেলার সাথি, তোমার তো শেষ হয় না।’

এই শেষ না-হওয়া অশেষকেই বছর বছর এনে দেয় নববর্ষের প্রভাত।

বাঙালির নববর্ষের অধুনা: নানা দিক

হালখাতা এখন জাঁকিয়ে বসেছে। এখানে দেখি হিন্দু-মুসলমান স্বতন্ত্র। হিন্দুর গণেশপুজো, কালীঘাট গিয়ে মহাজনী খাতা মায়ের পায়ে ছুঁইয়ে আনা। মুসলমানের আছে কোরান পাঠ। একদা জলসত্রের প্রচলন ঘটাতেন প্রখর গ্রীষ্মে পথিকের পিপাসা ও ক্লান্তি দূর করতে। জল, তার সঙ্গে পরিবেশিত হত ভিজে ছোলা, গুড় বা বাতাসা। মফস্বলে এমন জলসত্র দেখার অভিজ্ঞতা এ লেখকের হয়েছে। কলকাতাতেও। পঞ্জিকা-ক্রয় অনেক বাড়িতেই অবশ্যকৃত্য। একসময় যখন সাক্ষরতা তেমন ছিল না, পুরোহিতরা এসে মা-মাসিদের সামনে বসে পঞ্জিকা পড়ে শোনাতেন। উনিশ শতকের শেষদিকের এক ছড়ায় এই নববর্ষের দিনটিতে নতুন পোশাক পরিধানের বর্ণনা পাই— ‘নববর্ষে নববস্ত্র পরিধান যত।/ বেটাবেটি হাসে খেলে আপনার মত।।’ আর হ্যাঁ, রান্নার বাহুল্যও রয়েছে এই দিনে, এমনকি ‘যে শাউড়ি বউ দুষে নিত্য মিথ্যা কাঁদে।/ সেও এসে সকালেতে নব অন্ন রাঁধে।।’ এমন ছবিও সেদিনকার লেখায় পাই, যাতে জানা যায়, নেশা ও বেশ্যাসক্ত স্বামীও কাজের শেষে এদিন ঘরে ফিরছে পঞ্জিকা, মিষ্টির হাঁড়ি আর স্ত্রীর জন্য সুগন্ধী তেলের শিশি নিয়ে। বালক-বালিকারা নতুন পোশাক পরে গুরুজনদের প্রণাম করত, বদলে পেত থৌল খরচের পয়সা, মেলায় গিয়ে খাবার জিনিস, পুতুল ইতাদি কিনবার। থৌল বা থোল কথাটির অর্থ খুচরো বা সামান্য। ছোটদের কাছে সামান্যই অসামান্য।

বাংলাদেশের কোনও অঞ্চলে বৈশাখ মাসে (হয়তো পয়লা বৈশাখও) হিন্দুরা ‘ক্ষেত্র ঠাকুর’ এবং মুসলমানেরা ‘কাউয়া পির’-এর আরাধনা করেন। এদুটিই কৃষকদের যাপ্য উৎসব। লোকবিশ্বাস, ক্ষেত্র ঠাকুর খেত পাহারা দেন, আর কাউয়া পিরও ফসল নষ্টকারী জীবজন্তু, পোকামাকড়ের থেকে খেত রক্ষা করেন।

.

নববর্ষে বাঙালিসমাজে সঙ্গীতের বিশেষ স্থান রয়েছে। বাবুসংস্কৃতিতে এর বিকৃত রূপ দেখি, কিন্তু পাশাপাশি স্বদেশি যুগ পরিবাহিত হয়ে বিশুদ্ধ সঙ্গীতের চর্চা শুরু হতে দেখি বিশ শতকের সূচনা থেকেই। গ্রামোফোনের আবির্ভাব গতিজাড্য দেয় একে, এবং এরই পাশাপাশি বেতারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এক্ষেত্রে। কাজী নজরুল ইসলাম যেমন নববর্ষ নিয়ে বছরের পর বছর নতুন গান লিখে নিজে পরিবেশন করতেন, অন্য শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াতেন। বসুশ্রী সিনেমা হলে পয়লা বৈশাখ তখনকার শ্রেষ্ঠ শিল্পীসমন্বয়ে গানের আসর বসত। বাংলার সেরা গাইয়ে আর অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মিলিত হতেন সেদিন সেই প্রভাতী বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। দূরদর্শনও নববর্ষকে জনপ্রিয় করেছে।

আর ছিল বইপ্রকাশ, প্রকাশকে-লেখকে সান্ধ্যবাসর, মিষ্টিমুখ, বইমেলা শুরু হওয়ার আগে পয়লা বৈশাখই গ্রন্থপ্রকাশের সবচেয়ে বড় লগ্ন ছিল। প্রকাশকরা লেখকদের প্রাপ্য রয়ালটি দিতেন, নতুন বইয়ের জন্য চুক্তি করতেন। কিছু কিছু প্রকাশকের কঞ্জুষপনার গল্পও শোনা যায়। এরকমই একটি মজার কাহিনি পড়েছি অধ্যাপক-গবেষক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্যের আত্মজীবনী ‘আমার সকাল আমার সন্ধ্যা’ বইয়ে।

ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানির মালিক প্রহ্লাদকুমার প্রামাণিক কিছুতেই লেখকদের প্রাপ্য অর্থ দিতে চাইতেন না। লেখকরা টাকা চাইলেই তিনি তাঁর তমলুকী বাংলায় তাঁদের আশ্বাস দিয়ে বলতেন, ‘দুবো দুবো।’ প্রমথনাথ বিশীকেও তিনি বারবার এই বরাভয় দিয়ে গেছেন, টাকাপয়সা ছোঁয়ানোর নাম করেননি। স্বভাবরসিক প্রমথনাথ এই ঘটনায় মজা করে একটি চরিত্রই নির্মাণ করে ফেললেন ‘কেরী সাহেবের মুন্সী’ উপন্যাসে, মসিয়ে দুবো!

অন্তিমে বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষ পালনের কথা বলতেই হবে। ‘ছায়ানট’ এর উদ্যোক্তা, সেই পাকিস্তান আমলে, রমনার বটমূলে। আজ তা বিচিত্র, বহুশাখায়িত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিল্পী ইমদাদ হোসেনের প্রণোদনায় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’, যা আজ ইউনেস্কোর দ্বারা সংবর্ধিত, হেরিটেজ হিসেবে। বাংলাদেশই যথার্থ বাংলা নববর্ষকে ধর্মনিরপেক্ষ আর নান্দনিক উৎসব উপহার দিচ্ছে। পৃথিবীর সবখানে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা যাপন করেন এ উৎসব। আমরা কবে অনুরূপ যাপন করা শিখব?

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়/ চিত্র: লেখক
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »