
আঁতের কথা: মাইক্রো-মিনি
রাতে শুতে যাবার সময় সেদিন খুব করে ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ল মিনির। এসব কথা কেন মনে পড়ছে হঠাৎ? গুরুত্ব দিল না সে। ঘুম এসে

রাতে শুতে যাবার সময় সেদিন খুব করে ছোটবেলার অনেক কথা মনে পড়ল মিনির। এসব কথা কেন মনে পড়ছে হঠাৎ? গুরুত্ব দিল না সে। ঘুম এসে

India’s First Bengali Daily Magazine. চিত্রার একবার মনে হল, আমি কি পারব? সে আরও ভাবল, সে চলে যাবার পরে, তার জিনিসের মধ্যে কার কী প্রাপ্য সেটা সে নিজেও নির্ধারণ করে যেতে পারে বা তা নিয়ে আত্মীয়রা পরেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু তার বাকি জীবনটা সে কীভাবে কাটাবে, তা সামর্থ্য থাকলে, নির্ধারণের দায়িত্ব, শুধু তার নিজের। অন্যরা নিজেদের স্বার্থে তাকে যেখানে খুশি ফেলে দিয়ে আসতে পারে না, ‘ডাম্প’ করতে পারে না। ‘আগে কেন আমার এমনটা মনে হয়নি?’, নিজের মনেই বলল চিত্রা।

India’s First Bengali Story Portal. মুখিয়া নাছোড়বান্দা। অনিলজি, তাঁকে নিরস্ত করার জন্য বললেন, নাটক করা বড় কঠিন কাজ। ভুরু চাঁছতে হয়, রং-বিরঙ্গী ববি প্রিন্টের (polka dots) শার্ট-প্যান্ট পরতে হয়। এ মোটেও সোজা কথা নয়। অতএব নাটক দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি এমন যুক্তিও দিলেন যে, এইসব ফালতু ঝামেলা থেকে বাঁচতেই তিনি নিজে অভিনয় করেন না। মনে হল, মুখিয়া বুঝে গেছেন নাটক সোজা ব্যাপার নয়। হাসিমুখে অনিলজিকে নাটকের চাঁদা দিয়ে তিনি বিদায় করলেন।

India’s First Bengali Story Portal. দুটো জোনাকি আমগাছটার কাছে এসে টিপটিপ করছে। সেজর নজর গেল সেদিকে। ‘মেজদি দেখো, ওই সেজবাবু আর মেজবাবু আলো হয়ে এসেছে আমাদের দেখতে।’ মেজ তাকাল ওইদিকে। সেজর কাছঘেঁষে বসল একটু। তারপর বলল, ‘সত্যিই তো! ওরা আমাদের বলছে, আমরা আটকে পড়িনি। বন্ধ হয়ে নেই আমরা। আমরা দুজনে বোধহয় প্রথমবার স্বাধীন হয়েছি।’ মেজর কাঁধে মাথা রাখল সেজ, ‘মেজদি, এই প্রথমবার আমার মনে হচ্ছে, আমি সত্যিই ভাল আছি।’ মেজ বলল, ‘আমিও।’

টুনু কাকের ঘরটাকে আমি প্যালেস বলি। লম্বা সুপারি গাছের শক্তপোক্ত পাতার আড়ে টুনু কাকের ঘর। ঘর থেকে কৃষ্ণচূড়া গাছে পৌঁছনোর জন্য একটা লম্বা সুপারি গাছের পাতার রাস্তা। ঠিক মনে হয় সবুজ রঙের কার্পেট পাতা আছে। ওই সবুজ কার্পেট রাস্তার ওপর দিয়ে টুনু কাকের মা, কৃষ্ণচূড়া ডাল থেকে প্রায় হেঁটে হেঁটেই সুপারি গাছের বাসায় পৌঁছে যায়। টুনু মায়ের পেছনে পেছনে খুব সাবধানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাসায় যায়। টুনু কাক লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের কোমল কলি টেনে চিবোতে থাকে মাঝেসাঝে।

উঠোনের পেছনদিকটায় একটা পাতিলেবু আর বাতাবি লেবুর গাছ লাগাব। লেবু ফুলের গন্ধ আমার ভারি ভাল লাগে। আর বাতাবি লেবুর গাছটা বড় হয়ে যখন ছাদ পর্যন্ত পৌঁছবে, আমি ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে ওটার ঝাঁকালো পাতাগুলোকে খুব করে আদর করে দেব। ছাদে আমি রংবাহারি ফুলের চারা লাগাব। নয়নতারা, বেলফুল, জুঁই ছাড়াও শীতের দিনে চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা আর ডালিয়া শোভা দেবে সেখানে। গরমের দিনে, ছোটবেলায় মালির বাগানে দেখা রংবিরঙ্গী দোপাটির মেলা আবার আমাকে বসাতেই হবে। ছাদের কার্নিশে পাখিদের জল খাবার জন্য একটা জামবাটি রাখব।

বুঝে গেলাম, কী ব্যাপার। আমি হেসে বললাম, ‘কী নাম বলেছে? পিটার পার্কার? যথার্থ…।’ মহিলাটি বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ এটাই বলেছে।’ আমার ছেলে স্পাইডারম্যান-পাগল। সে তার নিজের নামের আগে ‘পিটার পার্কার’ জুড়ে দিয়েছে বুঝলাম। তার নিজস্ব নাম পিছনের সারিতে থাকায়, মহিলাটির শুধু পিটার মনে ছিল, আর ‘পার্কার’ তিনি বিস্মৃত হয়েছেন। তার পরের অক্ষরগুলি তার মনে ঠাঁইও পায়নি। যত্নে রাখা নামটিকে যখন নামধারকই পাত্তা দেয়নি, তখন মহিলাটি আর ও নাম মনে রাখার দায় সামলাতেন কী করে?

একান্নর এবার কান্না পেল। কান্নার অনুভূতি আর সত্যিসত্যি কান্নার মধ্যে কি তফাত আছে? আছে। অনেক তফাত আছে। সত্যিকারের কান্না হল গিয়ে রক্ত-মাংসে গড়া! বুকের ভেতর কী যেন একটা মোচড় দিয়ে ওঠা। চোখের কোণে জমা জল টসটস করে, গালের ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়া! আরও কত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যোগদান থাকে তাতে। একান্ন ভাবল, যখন সত্যি কান্নার সুযোগ ছিল, তখন ভয়ে কাঁদিনি। লোকে দেখে ফেললে কী বলবে? আর আজ, কান্নার জন্য সবচেয়ে জরুরি, নিজস্ব শরীরটাতেই আর প্রাণ নেই।

সবাই এসে গেছে। গোপী বলল, ‘‘চলো গুরু! আগে একটু মাঠে খেলে নি। তারপর চাঁদা আদায়ে যাব। আসলে কী, এবারের ডিলিংটা ‘অন রোড’ তো, তাই একটু রিস্কি। ফিজিক্যাল ফিটনেসটা খুব জরুরি। কারণ কখন যে পগার-পার দিতে হয় কিছুই ঠিক নেই।’’ বন্ধুদের মধ্যে চোখাচোখি হল। গোপীনাথ যে কী প্ল্যান করছে কে জানে? কিন্তু এমনই গোপীর জাদু যে ওকে ‘না’ বলার সাহস বা ইচ্ছেও কারও নেই।

সড়সড় করে স্যারের আঙুল গোপীর খাতার এ পাতা থেকে ও পাতায় যাচ্ছে। তারপর একটা বিশেষ জায়গায় এসে ওঁর আঙুল থামল। উনি পড়তে শুরু করলেন, ‘পশ্চিম বাংলার অনেক জায়গাতেই কয়লার খনি আছে। তবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল, কানুদার গোলা।’ স্যার গোপীর পরীক্ষার খাতার পাতা থেকে চোখ তুললেন। পুরো ক্লাসকে শুধোলেন, ‘বল রে, বইতে আছে কয়লা খনি কানুদার গোলা?’ বেশিরভাগ ছাত্রই ফিক ফিক করে হাসছে।

গোপী দরজার কাছে এসে হঠাৎ দাঁড়াল। তারপর কাকিমার দিকে ফিরে বলল, ‘আপনি কিচ্ছু চিন্তা করবেন না। আপনি আচার বানান। আমরা সামলাব। আর না বানাতে চাইলেও বলবেন। এখন সিজন চলছে। অন্য বাড়ির ছাদ থেকে বয়াম এনে, আপনার ছাদে বসিয়ে দেব।’ আরও বাড়াবাড়ির আগেই আমি আর রানা গোপীকে নিয়ে তরতরিয়ে নীচে নেমে এলাম। রানা বলল, ‘গোপী, তুই কিন্তু কেস্ খাওয়াচ্ছিলি আর একটু হলে!’ গোপী বলল, ‘মানছি ভাই। তবে কি জানিস, মা-কাকিমাদের কষ্ট আমি দেখতে পারি না।’

গোপীনাথ মুদিখানার জিনিস নিয়ে বাড়ি এল। গোপীর মা প্যাকেট খুলছেন। সব যথাস্থানে রেখে নিশ্চিন্ত হওয়া আর কী! চিনির প্যাকেট খুলতেই গোপীর মায়ের সন্দেহ হল। ‘হ্যাঁরে গোপী, চিনি কম লাগছে।’ ওঘর থেকে গোপীর সরল আওয়াজ এল, ‘ঠোঙা ফুটো আছে নাকি মা?’ মা বললেন, ‘না, ঠোঙা ফুটো হয়নি। তবে পরিমাণ কম দেখছি। তুই নিশ্চয়ই খেতে খেতে এসেছিস!’ গোপী রান্নাঘরে মায়ের কাছে এসে বলল, ‘দেখছিলাম ছোট দানা চিনি, না মোটা দানা চিনি। একরত্তি খেয়েছি মা।’ মা হাতের কাছে রাখা বেলনা উঁচিয়ে বললেন, ‘আজ তোর একদিন, কী আমার একদিন।’

গতি বাড়াল গোপীনাথ। হালুয়ার দেশি ঘিয়ের গন্ধ তীব্র হয়েছে। গন্তব্য আর গোপীনাথ বেশি দূরে নেই। অবশেষে পৌঁছে গেল হালুয়া বিতরণস্থলে। শালপাতার বাটি ভরে ভরে সবাইকে হালুয়া দেওয়া হচ্ছে। ঘি চুপচুপে হালুয়ার সে কী চমক! খুব শ্রদ্ধার সঙ্গে গোপীনাথ হালুয়া নিল। ছোটদার হাতেও পৌঁছল বাটি। তারপর দুজনে গুরদুয়ারা থেকে বেরোনোর রাস্তা ধরল। হালুয়ার বাটি এমনভাবে সাফ হল যে ওই বাটিতে আবার অন্যদের হালুয়া দেওয়া যায়!

হঠাৎ দেখা গেল, গোপীনাথ লোকেদের প্রায় ধরে ধরে সন্তুদার স্টলে আনতে শুরু করেছে। দোকানের সামনে রাখা পাতলা বেঞ্চে বড়-বুড়ো লোকেদের বসাচ্ছে। কিছু ভাবা, বোঝার আগেই তাদের হাতে পটাপট ঘুগনির প্লেট দিচ্ছে, আর বলছে, ‘অতিথি হল গিয়ে নারায়ণ। আমি পাখা করছি, আপনারা খান।’ খবরের কাগজ ভাঁজ করে, তা দিয়ে গোপীনাথের পাখা করার সে কী বহর!

গোপীনাথকে জেরা করা শুরু করল, ‘কাঁহাসে আয়ে হো? চান্দা কিঁউ?’ ইত্যাদি ইত্যাদি প্রশ্ন আসছে আর গোপীনাথ নির্ভীকভাবে সব প্রশ্নের মোকাবিলা করছে। আমার তো কালঘাম ছুটতে শুরু করেছে। আমার দিকে একবার তাকিয়ে, গোপীনাথের দিকে শেষ মোক্ষম প্রশ্নটা ছুড়ে দিলেন সামনের লোকটি। ‘ইয়ে পূজা হো কাঁহা রাহা হ্যায়?’

ছোটদা, বাংলার একসময়ের নামী ফুটবল খেলোয়াড় অলোক মুখার্জি। জন্মেছেন গত শতকের ষাটের দশকে। তাঁদের শৈশব-বাল্য-কৈশোর কাল আজকের মত একবারেই ছিল না। ছোটদার প্রসঙ্গ, ছোটদার ছোটবেলার গল্পে তাঁর সখা গোপীনাথ থাকবে না, তাই কি হয়? সেই গোপীনাথ বা গোপীদার দুষ্টুমি ও মজার গল্প বলব বলেই এই ধারাবাহিক। ‘ইনস্টলমেন্টে গোপীনাথ’। প্রথম কিস্তি, গোপীনাথের লিচু চুরি।

১৯৩০ সালের ১৪ জুলাই, আলবার্ট আইনস্টাইন বার্লিনের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে স্বাগত জানান ভারতীয় কবি, দার্শনিক ও সঙ্গীতজ্ঞ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তিনি ছিলেন প্রথম অ-ইউরোপীয় নোবেল বিজয়ী। তাঁদের এই সাক্ষাৎকারটি ইতিহাসের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত ও মননশীল আলাপচারিতায় পরিণত হয়, যেখানে তাঁরা বিজ্ঞান ও ধর্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করেন। “সায়েন্স অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান ট্রাডিশন: হোয়েন আইনস্টাইন মেট টেগোর” গ্রন্থে এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের বিবরণ পাওয়া যায়। এই বইতে বিশ শতকের শুরুতে ভারতের বৌদ্ধিক পুনর্জাগরণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্য ও পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিক চিন্তার মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।

সুদীর্ঘ আট দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গীতের সুধায় ভরিয়ে দিয়েছেন কেবল ভারত বা এই উপমহাদেশকেই নয়, বিশ্বকে। পরিণত বয়সেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর, যেমন কয়েক বছর আগে হয়েছিল তাঁর স্বনামখ্যাত অগ্রজা লতা মঙ্গেশকরের। আশা ভোসলে তাঁর সমগ্র জীবনে বারো হাজার গান গেয়ে গিনেস বুকে স্থান পেয়েছেন। একদিকে ধ্রুপদী সঙ্গীত, অন্যদিকে লঘু, পপ, এমনকী চটুল গানেও তাঁর সমকক্ষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমসাময়িক কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে এজন্য অনায়াসে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।