Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ভুরু-বিভ্রাট

না না ঠাট্টা নয়, অতি শান্তশিষ্ট, চোখের উপর শুয়ে থাকা দুটি রেখা, যাকে আমরা ভুরু বলে জানি, তা যে কত জরুরি তা দু-একটা ঘটনাটা না শুনলে বোঝা যাবে না।

আমার মনে আছে, ‘পূর্ব রেলওয়ে বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এ পড়ার সময়, ক্লাসমেট অর্পিতা দাস, একবার খানিকটা ভুরু চেঁছে ফেলেছিল। আমরা তখন ক্লাস ফোর-ফাইভে এ পড়ি। একে তো সে ন্যাড়া হয়েছিল তার ওপর আধ ভুরু চাঁছাছোলা! চাঁছা জায়গায় কাজল ঘষে স্কুলে এসেছিল। কোন দিদিমণি ঠিক মনে নেই, ব্যাপারটা নজর করে অর্পিতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “ভুরুতে কাজল ঘষে ক্লাসে এসেছ কেন? এটা কি ফ্যাশন করার জায়গা?” তখন বেচারি অর্পিতা বলেছিল, “দিদিমণি, নাপিত কেমন করে চুল কাটে আর ন্যাড়া করে, সেটা বোনকে বোঝাতে গিয়ে বাবার রেজার দিয়ে ভুরু চেঁছে ফেলেছি। বাবা বলল, ভুরু কাটা অবস্থায় বাইরে বেরোলে পুলিশে ধরবে। এটা নাকি আইনগত অপরাধ। আমাকে চেনা যাচ্ছে না দেখে, মা বলল, ‘কাজল পেন্সিল দিয়ে দুটো ভুরু এঁকে দিই আয়। ভুলেও মুছবি না। নতুন ভুরু না গজানো পর্যন্ত কাজল পেন্সিল দিয়ে ভুরু বানিয়ে কাজ চালাতে হবে।’ দিদিমণি, আপনি যদি বলেন, কাল বাবার চিঠি নিয়ে আসব।’’ দিদিমণি হাসি সামলে কোনওক্রমে ক্লাস শেষ করে চলে গিয়েছিলেন।

অর্পিতার ভুরুহীন অকাট বীভৎস চেহারাটা আজ অনেকদিন পরে মনে পড়ল। আশ্চর্য হলাম। সেই কবেকার ঘটনাটা আজও ভুলিনি! তাই মনে হয়, অবচেতন মনে, পার্লারে গিয়ে এত সন্ত্রস্ত থাকি! পর্টিকুলারলি ভুরু প্লাক করানোর সময়! আজও ইন্সট্রাকশন দিতে ভুলি না, “বেশি সরু করবেন না।”

মনে পড়ে যাচ্ছে, বেশ অনেক বছর আগে আমাদের বন্ধু হরিশের কাছ থেকে এমনই এক ভুরু-বিভ্রাটের ঘটনা শুনেছিলাম। ব্যাপারটা এত জমজমাট যে সবাইকে শোনানোর লোভ সামলাতে পারলাম না। তাই বহুদিন পর, ‘কলম তুলে ধর’!

পাটনা থেকে বেশ কিছুটা দূর বরৌণী। আর তার থেকে ঘণ্টা দুয়েকের পথ বেগুসরাই। হরিশ, বেগুসরাই থিয়েটারের খুব চেনা নাম তখন। ইপ্টা-র মেম্বার তো বটেই, পাড়াতুতো নাটকেও হরিশের অখণ্ড ভূমিকা।

অনিল পতংগ নামের জনৈক ব্যক্তি হলেন নাটকের নির্দেশক। জমজমিয়ে রিহার্সাল চলছে। নাটকের শো-এর দিন দূরে নেই। পাড়াতুতো নাটকেও খরচ তো আর কম নয়! তাই নাট্যদল গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে থেকে সাহায্য চেয়ে থাকে। এমনি করেই চলে আসছে। নাটক হবে কাল। আজ দলের দুটো ছেলে অনিলজিকে বলল, “উ মুখিয়াসে চান্দা মাংগনে আপহিকো জানা পড়েগা। উ আপহী কো চান্দা দেঙ্গে, বোল দিয়া হৈ।’’ (গ্রামপ্রধানের কাছ থেকে চাঁদা চাইতে আপনাকেই যেতে হবে। উনি আপনাকেই চাঁদা দেবেন বলে দিয়েছেন।) অনিলজি আর কী করেন? একে মুখিয়ার পরোয়ানা, এর চেয়েও বড় আন্ডারলাইনড মেসেজ, এই বাহানায় মুখিয়া তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন।

“মুখিয়া হলধর সিংয়ের আছে অঢেল পয়সা। কিন্তু সে হল মহামূর্খ’’, মনে মনে ভাবলেন অনিলজি। অনিলজি গেলেন মুখিয়ার বাড়ি। একথা-সেকথার পর মুখিয়াজি বলে বসলেন, “হামভি তোহার নৌটাংকি মে একঠো রল (role) করেঙ্গে।’’ (আমিও তোমার নাটকে একটা রোল করব)। অনিলজি অনেক ঘুরিয়েফিরিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, তা এখন সম্ভব নয়। নাটক পুরো তৈরি হয়ে গেছে। মুখিয়া নাছোড়বান্দা। অনিলজি, তাঁকে নিরস্ত করার জন্য বললেন, নাটক করা বড় কঠিন কাজ। ভুরু চাঁছতে হয়, রং-বিরঙ্গী ববি প্রিন্টের (polka dots) শার্ট-প্যান্ট পরতে হয়। এ মোটেও সোজা কথা নয়। অতএব নাটক দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি এমন যুক্তিও দিলেন যে, এইসব ফালতু ঝামেলা থেকে বাঁচতেই তিনি নিজে অভিনয় করেন না। মনে হল, মুখিয়া বুঝে গেছেন নাটক সোজা ব্যাপার নয়। হাসিমুখে অনিলজিকে নাটকের চাঁদা দিয়ে তিনি বিদায় করলেন।

সেদিন নাটকের ‘গ্র্যান্ড রান’-এর আগে অনিলজির কাছ থেকে মুখিয়া কাহিনি সবাই শুনল। হা-হা হি-হি হল। পরের দিন, সেই মহা দিন। সকাল থেকেই একেবারে উৎসবের মেজাজ! প্যান্ডেল বাঁধা, চেয়ার বসানো, তিরপল বিছোনো, গাঁদার মালা সাজানো, চারিদিকে সাজো সাজো রব। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল। গ্রামের কুচো-কাঁচা, বাচ্চা-বড়, বুড়ো-বুড়ি, জোয়ান সব প্যান্ডেলে ভিড় করতে শুরু করেছে। চারিদিকে চ্যাঁ, ভ্যাঁ, প্যাঁ, পুঁ ধ্বনি। নাটকের প্রথম ঘণ্টা বাজতে ঠিক দশ মিনিট বাকি, এমন সময় চাকর-বাকর নিয়ে কে একজন যেন এল।

মাগো কী বীভৎস এই ব্যক্তি! বাকি লোক ঠাহর করার আগেই তিনি অনিলজিকে আলাদা করে কোনায় নিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিলজি হতভম্ব। এ কে? কী চায়? ওই ব্যক্তি মুখ খুলল। “পহচানবে নহী কা? হাম হই হলধর সিং, মুখিয়া। কাল চান্দা দইবে করি। আপ কহিলন, ভৌঁহে মুন্ডায় কে চাহি। ববি পিরিন্ট প্যান্ট-শার্ট-এর ছৌঁড়া…’’ (চিনতে পারছেন না? আমি হলধর সিং। গ্রামপ্রধান। কাল চাঁদা দিলাম। আপনি বললেন ভুরু চাঁছতে হবে, ববি প্রিন্ট প্যান্ট শার্ট…) এই শোনরে, বলে চাকরকে ডাকলেন। চাকর এসে ববি প্রিন্টের জামা-প্যান্ট দিল। “দেখি হে অনিলজি, ই কাপড়া সহি হৈ না? পটনা সে রাতোরাত মাঙ্গবায়ে… আব বোলিয়ে।’’ (এই শার্ট-প্যান্ট ঠিক আছে না? পাটনা থেকে রাতারাতি আনিয়েছি। এবার রোল বলুন)।

অনিলজির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। এ জোকারকে কী বলবেন? অনেক ভেবে, অনিলজি যা বললেন তার মর্ম এই, “যান, এই জামাকাপড় পরে নিন। আর মেকআপ দাদার কাছে ভুরু আঁকিয়ে আসুন। তারপর বলছি, কী করতে হবে আপনাকে।’’

হলধর সিং চট করে বললেন, “হে অনিলজি পাগলা গয়ে কা? আপ হৈ নে না বোলা থা, ভৌঁহে মুন্ডয়ানা পড়েগা? আব ভৌঁহে কাহে লিয়ে বানবায় রহে হ্যাঁয়?” (অনিলজি, আপনি পাগল হলেন নাকি? আপনিই তো বলেছিলেন ভুরু চেঁছে ফেলতে হবে। এবার ভুরু আঁকার কথা কেন বলছেন?)

অনিলজি বললেন, “যা বলেছি তা করুন। অন্য ডিজাইনের ভুরু তৈরি হবে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসুন পাঁচ মিনিটের মধ্যে।’’

“ঠিক হৈ , ঠিক হৈ। হাম সমঝ গয়ে। কৌনো বঢ়িয়া পাট রাখে হ্যায় আপ, হামরা কে খাতির। হাম আভি আতে হৈ।” অতি উৎসাহিত হয়ে বললেন হলধর সিং।

অনিলজি তাড়াতাড়ি মুখ্য অভিনেতাদের ডেকে বললেন, “বল এখন উপায়?”

হরিশ, আমাদের বন্ধু, যে এই কাহিনি আমাকে শুনিয়েছিল, অনিলজিকে বলল, “অনিলজি সেকেন্ড বেল অউর থার্ড বেল কে বিচ মে, মুখিয়া কো স্টেজ মে ভেজ দিজিয়ে। কুছ কুছ করতা রহেগা। লোগ ভি থার্ড বলে তক থোড়া শান্ত হো জায়েগা। হামে নাটক শুরু করনা আসান হো গা।”(সেকেন্ড আর থার্ড বেলের মাঝামাঝি সময়ে গ্রামপ্রধানকে স্টেজে পাঠিয়ে দিন। কিছু কিছু করতে থাকবে। লোকেরাও থার্ড বেল বাজা পর্যন্ত একটু শান্ত হয়ে যাবে। নাটক শুরু করা আমাদের পক্ষে সহজ হবে।)

গ্রেট আইডিয়া। সবাই মানল। মুখিয়া কার্টুন সেজে হাজির! ববি প্রিন্টের প্যান্ট-শার্ট! চিনি-আফগানি ভুরু! সে যা কদাকার দেখাচ্ছে, হাসি সামলানো দায়!

অনিলজি বললেন, “বাহ বহত খুব! হাম আপকো জব বোলেঙ্গে, স্টেজ পর চঢ় জানা। ঘুমনা-ফিরনা, নাচনা, নমস্তে-নামস্তে করতে রহেনা।’’ (বাহ খুব সুন্দর! আমি আপনাকে যখন বলব, তখন স্টেজের উপর যাবেন, ঘুরবেন, ফিরবেন, নাচবেন। নমস্কার নমস্কার ইশারাতে দেখাতে থাকবেন।)

মুখিয়া তুরন্ত বললেন, “বহৎ আচ্ছা! লেকিন এগো-দুগো বাত ভি করনে দিজিয়ে না।’’ (খুব ভাল। কিন্তু একটা দুটো কথা বলতে দিন না।)
অনিলজি বললেন, “হাঁ, হাঁ জরুর! সবকো কহেনা, আইয়ে আইয়ে, স্বাগত স্বাগত! নাটক জলদি শুরু হোনে বালা হৈ। সব চুপ হো যাইয়ে। আভি শুরু হো রাহা। ফির এক ঘন্টি বাজেগি। ম্যায় উইং মে, মানে স্টেজ কে বাহার খড়ে আপকো বুলাউঙ্গা। আপ বাহার আ জানা।’’ (হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই। সবাইকে বলবেন, আসুন আসুন বসুন। এখনই নাটক শুরু হবে। সবাই শান্ত হয়ে বসুন। তাড়াতাড়ি নাটক শুরু হবে। আমি উইংয়ের পাশ থেকে মানে ওই স্টেজের উপর ওইখানে দাঁড়িয়ে আপনাকে ডাকব, তখন আপনি বাইরে চলে আসবেন।)

মুখিয়া খুব খুশি। স্টেজে চড়ে সব ঠিক ঠিক করলেন। কিম্ভুতকিমাকার ওঁকে দেখেই লোক তো হাসতে হাসতে পাগল! ঠিক সময়ে স্টেজ থেকে বেরিয়েও এলেন। মূল নাটক চলছে। মুখিয়া অনিলজিকে পাকড়াও করেছে, “এ অনিলজি, ই তো আচ্ছা রল (role) থা। পর এক হি বার স্টেজ মে জানা হুয়া। সব কিতনে বার যা-আ রহা হৈ। হামহৌঁ যানা চাহতে হৈ।” (অনিলজি, এটা তো ভালই রোল ছিল। কিন্তু স্টেজে এক বারই যাওয়া হল। সবাই কতবার স্টেজে যাচ্ছে-আসছে। আমিও আবার যেতে চাই)।

অনিল জি বললেন, “জায়েঙ্গে না! সব কে সাথ একবার অউর। মানে আপহি নে তো নাটক শুরু করবায়া ঔর আপহী নাটক খতম করনে জায়েঙ্গে।’’ (যাবেনই তো! সবার সঙ্গে আর একবার। মানে, আপনিই তো নাটক শুরু করিয়েছেন আর আপনিই শেষ করানোর জন্য যাবেন)।

মুখিয়া তো আনন্দে আত্মহারা! “বাহ বাহ! ক্যা বঢ়িয়া রল (role) দিয়া হৈ আপনে! হাম হি নাটক শুরু কিয়ে হৈ, হাম হি খতম ভি করেঙ্গে। বাহ বাহ!” (বাহ বাহ! কী চমৎকার রোল দিয়েছেন। আমিই নাটক শুরু করেছি, আমিই শেষ করব। বাহ বাহ!)।

নাটক শেষ হল। চারিদিক তালির আওয়াজে মুখরিত। মুখিয়া মঞ্চে গেলেন। হাতজোড় করে নমস্কার করলেন। ‘কার্টেন-কল’ শেষে খুশিতে ডগমগ মুখিয়া এলেন। অনিলজিকে বললেন, “আগলি বার দুগুনা চান্দা দুঙ্গা। আপ জলদি সে নাটক কিজিয়েগা।” (সামনের বার দ্বিগুণ চাঁদা দেব। আপনি তাড়াতাড়ি আবার নাটক করুন)।

মেকআপ দাদা, স্বভাব অনুসারে যেমন বাকি লোকের দাড়ি-গোঁফ খুলছিলেন, তেমনি মুখিয়ার ভুরুও হাটিয়ে দিলেন। মুখিয়া তখনও নিজের অভিনয় প্রতিভায় আত্মমুগ্ধ! বাকিরা আরও একবার আতঙ্কিত ও হতভম্ব হল।

অনিলজিকেই এগিয়ে আসতে হল। এবার তিনি অপরাধবোধে ভারাক্রান্ত। নাটকের বিষয়ে অজ্ঞ মুখিয়াকে নাটক থেকে নিরস্ত করতেই না তিনি ভুরু চেঁছে ফেলার মত ভয়ংকর প্রস্তাবনা করেছিলেন। সে বেচারা তো ভুরু চাঁছা থেকে শুরু করে, ববি প্রিন্টের প্যান্ট-শার্ট পর্যন্ত রাতারাতি বানিয়ে হাজির! আসল নাট্যপ্রেমী! যাই হোক, ধীরে ধীরে অনিলজি এগিয়ে এলেন। চেয়ার টেনে নিয়ে মুখিয়ার সামনে বসলেন। তারপর বললেন, “দেখিয়ে মুখিয়াজি, মৈনে এইসা নেহি সোচা থা কি আপ পুরি তরহ সে ভৌঁহে মুন্ডওয়া লেঙ্গে। আপকো পুরা নেহি উড়ানা থা! জো ভি হো, এইসে পুরা ভৌঁহে মুন্ডওয়ানা অপরাধ হৈ। আপকো পুলিশ পকড়কে লে যা সকতি হৈ!” (দেখুন মুখিয়াজি, আমি ভাবিনি যে আপনি পুরোপুরি ভুরু কেটে ফেলবেন। আপনার পুরো ভুরু গায়েব করা উচিত হয়নি। যাই হোক এইভাবে পুরোপুরি ভুরু কাটা অপরাধ। আপনাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যেতে পারে)।

মুখিয়া তটস্থ। “কা কহে রহ হৈ জি আপ? অব হম কা করে? আপহীনে তো…” (কী বলছেন আপনি? আমি এখন কী করি? আপনিই তো…)।

অনিলজির খুব খারাপ লাগছিল। তবুও সামলে নিয়ে বললেন, “আপকো জলদবাজি নহি করনা থা। যো হো গয়া, উসে ভুল যাইয়ে।” (আপনার তাড়াহুড়ো করা উচিত হয়নি। যা হয়ে গেছে ভুলে যান)। তারপর মেকআপ দাদাকে ডেকে বললেন, কাল থেকে রোজ যতদিন পর্যন্ত না এঁর ভুরু রেখা গজাচ্ছে, রোজ সকাল দশটার আগে, এঁর বাড়িতে গিয়ে নকল ভুরু বানিয়ে দিয়ে আসবেন। এর জন্য আমি আপনাকে যথাযোগ্য পারিশ্রমিক দিয়ে দেব। এরপর মুখিয়া কে বললেন, “মুখিয়াজি, তো তয় হো গয়া। মেকআপ দাদা জব তক ভৌঁহে না বনা দে, কঁহি নহি জাইয়েগা। দশ বাজে সে পহলে আপকি ভৌঁহে রোজ জাগহ পর হোংগি।’’ (তো এই ঠিক রইল মুখিয়াজি। মেকআপ দাদা যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ভুরু না বানিয়ে দিচ্ছেন, আপনি কোথাও যাবেন না। সকাল দশটার আগে আপনার ভুরু রোজ নিজের জায়গায় থাকবে।)

এরপর মোটামুটি দশ-পনেরো দিন পর্যন্ত এই নিয়ম নাকি রোজ জারি ছিল। হরিশের কাছে শুনেছি, রোজ সকালে মেকআপ দাদা মুখিয়ার ভুরু বানাতে যেতেন আর পুলিশ যাতে না ধরে সেই চিন্তায় মুখিয়াও উন্মুখ হয়ে মেকআপ দাদার আসার অপেক্ষা করতেন। দশ-পনেরো দিন পরে যখন আসল ভুরুরেখা দেখা দিল, তখন মুখিয়া আর মেকআপ দাদা স্বস্তির শ্বাস নিয়ে থাকবেন। আর সবচেয়ে বড় স্বস্তির শ্বাস নিয়ে থাকবেন, অনিল পতংগজি! বড় বিভ্রাট— ভুরু-বিভ্রাট!

চিত্রণ: মুনির হোসেন
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »