
মানুষ, ভালবাসা ও একটি ব্যক্তিগত ভাব-চিত্র
এই মুহূর্তে, এখনই, অসীম বিস্তৃত মহাজগতে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে একসঙ্গে। মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এক বিশাল নক্ষত্র তার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিস্ফোরিত হচ্ছে সুপারনোভায়। সেই

এই মুহূর্তে, এখনই, অসীম বিস্তৃত মহাজগতে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে একসঙ্গে। মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এক বিশাল নক্ষত্র তার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিস্ফোরিত হচ্ছে সুপারনোভায়। সেই

কিছুকাল ঘুমিয়ে, কিছুকাল লুকিয়ে,/ কিছু শহর, কিছু মানুষের ভিড়ে হারিয়ে/ আমি দেখি—// কোনও এক/ পথহারা দেবদূতের বিষণ্ণ ডানার পাশে/ আমি বুক পেতে দিয়েছি// চুলের ভেতর জন্ম নিয়েছে/ ঘাসফুল থোকা থোকা, বুকের মাঝখানে একটা প্রাচীন পেরেক,// ঝরাপাতার রাজ্যপাটে/ আমার বাম হাঁটুতে গেঁথে আছে—/ আগামী বছরের প্রথম সন্ধ্যা;

India’s First Bengali Daily Journal. আমার কাছে এমন কিছু নেই যা ধরে রাখা যায়,/ ব্যবহার করব না কিন্তু ভাবব আছে, আছে তো— কাছে হোক বা দূরে—/ এইরূপ কোনও জায়গা-জমি, মানুষ/ বা নিজের করে রাখার উপযোগী কোনও পরিচয়—/ কিছুই নেই যা ছুঁয়ে বলা যায়—/ আমি আমাতেই বুঁদ হয়ে থাকি, তোমাতে নয়/ আর এ না থাকার অর্থ আমারই অযোগ্যতা/ তবু চোখ যায়— নামে, তোমার নামে

ভালভাষা উৎসব সংখ্যা ২০২৩|| নুশান জান্নাত চৌধুরীর কবিতা।

India’s First Bengali Daily Journal. তবু তোমায় আমার খুঁজতে থাকা অন্ধ হওয়া চোখ,/ এখন পথের মধ্যে গোলকধাঁধা/ আর আমার অস্তিত্বের সংকট।// এখন আমার স্থিরতা/ বাস্তবতা ও বিভ্রমের সীমানায়,/ এখন আমার ছন্দে আঘাত—/ কেবল তোমার অপেক্ষায়।// এখন আমি নই তো আর/ ছায়ার মধ্যে লুকিয়ে থাকা গভীর একটা ক্ষত,/ এখন আমি রূপান্তর, আর জীবন নামের এক তরল পদার্থ।// ভাবছি, আর জনমে তোমার সঙ্গে নিখোঁজ হব

India’s First Bengali Daily Journal. মনে হয় তাকে তবে দেখেছি কোথায় কবে,/ যেখানে শহর শেষে পদ্মগন্ধ ভাসে দৃশ্যত আনমনা বাতাসে/ হয়ত সেখানে তাকে পেলেও পেতে পারো,/ তবে ভয় হয়, আমাদের শুধু ভয় হয়/ সে কি পাছে ছেঁড়া ঘুড়ি হয়ে আর কোথা হারায়!// ও লেমন ইউক্যালিপ্টাস! ও ম্যাপল-পাইনের বন! ও ল্যাভেন্ডার-ওক!/ একদিন, কোনও একদিন/ গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠে যদি তারে কোনও ভোরে/ তোমাদের ফের মনে পড়ে, জেনো—/ সে তো শখের উঠোন ফেলে/ উজানদিঘির পাড়ে/ জোনাকি মেঘের সাথে চলে যায় দূরে

India’s First Bengali Daily Journal. নুশান জান্নাত চৌধুরীর ছবি। ‘অনিবার্যতার স্পর্শে’। ‘আজও রোদ ছিল’। ‘গগনবিহারী’। ‘গন্তব্যের ইশারায়’। ‘পথপানে’। ‘পালকের পাশ দিয়ে’। ‘শতাব্দী-প্রাচীন ভাঙা পিঠ’। ‘সংক্ষিপ্ত মুহূর্তে’। ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির অন্তহীন পথে’।

India’s First Bengali Daily Journal. আমার ঘুমের সুযোগে আজ এত কণ্ঠস্বর জেগে ওঠে/ প্রশস্ত প্রেম নিয়ে ধুকেধুকে, ভাবিনিতো আগে!/ আমি তো ভেবেছি— বালি আর জল থৈথৈ,/ কোথায় এ জীবনের বোঝা সই!/ মানুষের বোধে বুদ্ধিতে, উপলব্ধিতে, কই বা এক// বৃহত্তর বোঝাপড়া— আজও আছে বাকি/ আমি তো ভেবেছি আমাদের, সব শুধু ফাঁকি/ আমি তো ভেবেছি— গম্ভীর মুখ করে;/ কোথায় যে এক দুর্গম প্রেম রয়ে গেছে,/ পৃথিবীর তাবৎ প্রেমিক-প্রেমিকার থেকে দূরে

India’s First Bengali Daily Journal. তিস্তার স্বচ্ছ জল জ্বলজ্বল করে, দূরে ভাসে বিন্দু বিন্দু নৌকা। নাজু, গীতাদি, ঝিনুক মিলে বসে বসে সেইসব বিন্দুর মিলিয়ে যাওয়া দেখত। একেকজনের মনে একেক ভাবনার গ্রাস। ঝিনুকের ভাবনা হত নৌকাগুলোকে নিয়ে, আগে সেগুলোকে জাহাজ ভাবত ও, এখন জানে ওসবের নাম নৌকা, কিন্তু জানে না ওরা কোথায় যায়, কে যায়, ওই যে কতক বাদামি রঙের পাখি ওড়ে জলের ওপর আর পরক্ষণেই ডুব দেয় ওদেরই বা কী নাম?

India’s First Bengali Daily Journal. খোলা আকাশ, দূরের পর্বতাঞ্চল আর ওকলাহোমার সুবিস্তীর্ণ তৃণভূমির মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া এইসব হাইওয়েতে কত নিষ্প্রাণ জীবই তো পড়ে থাকতে দেখেছে ও কতবার। কত সময় চলতি পথে চোখ পড়েছে ওদের দুমড়েমুচড়ে যাওয়া শরীরের ওপর। কিন্তু আগে বোঝেনি হৃদয়ে এমন কাঁপনও লাগে। একটা দুঃখ, একটা অপরাধবোধে মনটা ছেয়ে থাকল বাকি পথ। স্বামী-স্ত্রীতে আর তেমন কোনও কথাই হল না বাকি রাস্তাটুকু। মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে, রাতের হাইওয়েতে মনোযোগ রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

India’s First Bengali Daily Journal. যেমন করে মজুরের নখ থেকে কাদামাটি খসে যায় নদীগর্ভে/ যেমন করে কিশোরীর মৃদু প্রেম চড়ুইয়ের সাথে উড়ে যায় বনের পাতায়/ তেমন করে আমার নাগাল থেকে তোমাদের হাত খসে যায়// ক্লান্ত পা, ভারী হৃদয় নিয়ে আমি যাই/ পাহাড়-উপত্যকা-মরু-বন দ্রুত ম্লান হয়ে যায়// তোমাদের সাথে দেখা প্রত্যন্ত অপরিচিত প্রান্তরে/ কই, আমাকে তো পাই নাই// আমার সদয় মুখ ও পরিশ্রান্ত বুক জুড়ে জেগে ওঠে ঘরোয়া ঘাসের দল/ একপ্রস্থ শস্যের খেতে,/ এইটুকু ভেবে শুধু সান্ত্বনা পাই

India’s First Bengali Daily Magazine. মাঝে মাঝে মনে হয় ভুলে যাচ্ছি সব/ জলজযন্ত্রণায়/ শুধু বোধ হয়/ ও কিছু নয়— হয়ত এমনই হয়/ আমাদের সাধারণ ক্ষয়…// এখনও ভুলতে পারিনি পুরোটা/ চোখে এখনও কিছুটা জ্যোতি বাকি/ এখনও প্রলাপ বকি/ এখনও শান্তির নিমিত্তে বর্বর বিবাদের বাগদান করি/ আমরা এখনও দুর্ভিক্ষের হাঁ করা মুখ থেকে ঝরি// সেই সুযোগে কিছু না বলেই/ আলো নিভিয়ে দিয়েছে কেউ/ টের পাচ্ছি অসাড় ঠান্ডা// সেই সুযোগে আমার হাতের ওপর/ এ আঁধারেই কেউ/ ফেলে গেল উজ্জ্বল রঙের বীজ/ আমি কি আদিম কোনও জীব!

India’s First Bengali Daily Magazine. জানি কী বলতে চাও;/ এমন কোনও মানুষের কথা যে তোমার প্রতিদিনের দুখের কারণ?/ হয়তো বলবে মানুষ কতটা ভীরু, পুরুষ কতটা বিমুখ/ দারিদ্র কতটা অভিশপ্ত, কবি কতটা নির্লিপ্ত।/ হয়তো বলতে এসেছ কোনও এক বুদ্ধিমান বন্ধুর সুকৌশলের কথা,/ নাকি বলতে চাও কুয়াশাচ্ছন্ন নির্জনতায় শেষবার দেখা/ তোমার প্রেমিকার কথা— রিভলভারের ক্ষতের চেয়েও গভীর ছিল যার চোখ।/ দেবদূতের ডানার মত করুণ বিমূর্ত ন্যায়বিচারের কথা বলতে চাও?

India’s First Bengali Daily Magazine. আমাকে নিয়ে তোমার ভাবনাচিন্তা/ আমাকে ব্যথিত করে।/ তোমার নির্লজ্জতা দেখে আমি/ চোখের জল ধরে রাখতে পারি না।/ তোমার আমার এই যে অবিরাম আলাপ/ তারপরও আমাকে কি বুঝেছ তুমি?/ সেদিন বলাবলি করছিলে—/ আমাকে কী ভীষণ ভালবাসো।/ স্বীকার করি—/ আমার জন্য তোমার ভালবাসা ও অনুভূতিই/ আমাকে দিয়েছে অতুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা।/ শুধু দুঃখ হয়— এইসব অনুভুতির নাজুকতায়।/ খবর পেয়েছি ওরা নাকি/ ফুলের টোকায়ও কুঁকড়ে ওঠে?/ এটাই দূরত্ব।

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।