Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

মাদারি কা খেল

বেজায় গরম। গঙ্গার ঘাটে দিব্বি গাছতলায় বসে আকাশপাতাল ভাবছি। মৃদুমন্দ হাওয়া। বেশ তন্দ্রামত এসেছে। এমন সময় চমকে উঠে শুনি শ্রীখোল আর কর্তাল বাজিয়ে কারা যেন সারি বেঁধে নাচতে নাচতে আসছে। ভাবলাম বুঝি শ্মশানযাত্রীর দল! কিন্তু তারা নাচবে কেন? এত কি আনন্দের হেতু ঘটল? দেখি দুজন লোক কপালে তিলক কেটে গলায় তুলসী কাঠের মালা পরে একটি বিরাট তরমুজকে ঠেলা গাড়িতে করে বয়ে নিয়ে আসছে। ব্যাপারখানা কী? বেশ কৌতূহল বোধ করলাম। বাতাসা হরিলুট খই ছড়ানো এসব এলাকায় হয়ে থাকে কিন্তু তরমুজ! মুখপাত্র শ্রেণির একটি লোক ও একজন মহিলা হাতজোড় করে সামনে এসে দাঁড়াল। মহিলা হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করল, চৌত্রিশ আর দশ-এ কত হয়?

এ আবার কি কাকেশ্বর নাকি? ধারেকাছে কোথাও কোনও কাক নেই। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, চুয়াল্লিশ। ভাবলাম অন্য লোকটা ‘লাগ লাগ লাগ পঁয়তাল্লিশ’ বলে বুঝি। পুরুষ ও নারী দ্বৈতকণ্ঠে বলে উঠল চুয়াল্লিশ। এই চুয়াল্লিশে পা দিয়েই আমরা সব বিভেদ ভুলে এক হতে চলেছি। এতদিন যা যা হয়নি তা আমরা জোট বেঁধে করতে চলেছি, পরিবর্তনের পর আমরা পুনঃপরিবর্তন ও তারপর আসল পরিবর্তন ঘটাতে চলেছি। আমাদের চিহ্ন হল তরমুজ, বাইরে শক্ত খোলা ভিতরে রসালো। মহিলা বলল, শক্ত নরম দুই হতে পারি, আমরা মায়ের জাত, আমি যদি জটিল হই উনি তবে কুটিল, আমি রঙ্গ হলে, উনি ব্যঙ্গ, আমি যদি অর্ধসত্য হই উনি তবে (ভুঁড়িতে আঙুলের খোঁচা মেরে) অর্ধমিথ্যা। ওই দুই একই হল। আমি যদি শেয়াল হয়ে আঙুর ফল টক বলি, উনি জিরাফ হতে আঙুর ফল মিষ্টি বলবেন। আমরা দুয়ে মিলে মূল রেড ধরে অর্থাৎ মূল ধরে ধরে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে আমরা রেড (raid) করব। সব বাজারকে লালবাজার করে ছাড়ব। মহিলার দিকে তাকিয়ে নাকে চশমা, সাদা পাঞ্জাবি পরা লোকটির নাকের পাটা দুটো ফুলে ফুলে উঠছিল। কাটা কাটা, ছোট ছোট করে থেমে থেকে বললেন, “না না করে ছাড়ব, বলে ছাড়ব, দেখিয়ে ছাড়ব, এটা নয়, করে দেব, বলে দেব, দেখিয়ে দেব, মানে পথ। মনে রেখো এটা আসল পরিবর্তন।

ততক্ষণে মাদারি কা খেল না ম্যাজিক না বায়োস্কোপ কি না জানি হবে ভেবে লোকজন গুটিগুটি জড়ো হয়েছে। ইতিমধ্যে শ্রীখোল খঞ্জনি বোল তুলেছে। মহিলা ও নাকফোলা চোখে সরু চশমা লোকটি একটি রুমাল নাড়তেই ঠেলাগাড়িতে সবজি ও মাছ সাজিয়ে বাজারের হারু এসে বিশাল ফর্দ বের করে সুর করে পড়তে লাগল, কেজিপ্রতি কাটা পোনা ২০ টাকা, কাতলা ২৫ টাকা, চিংড়ি ২২ টাকা, আলু চন্দ্রমুখি তিন টাকা, পটল ঢেঁড়স উচ্ছে বেগুন সব ১০ টাকা কেজি। ইলিশ ও পাঁঠার মাংস যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৩৫ টাকা কেজি। নাক ফোলা লোকটা চট করে বলল, মাটির তলায় গ্যাসের ভাণ্ড-র সন্ধান পেয়েছি, বাড়ি বাড়ি ফ্রি-তে গ্যাস দেব।

একটি লোক ভিড়ের মধ্যে দড়াম করে ভিরমি খেল ও দুটি লোক ভয়ে দৌড়ে পালাল।

একটা বেশ মেলা লেগে গেছে ভেবে দু-চারজন ঘটিগরম, ঝালমুড়ি, বেলুনঅলা বিক্রির আশায় বসে পড়েছিল। পদা আর ছেনোকে আসতে দেখে তারা শশব্যস্তে দোকানদারি গুটোতে লাগল। পদা ছেনো বিখ্যাত তোলাবাজ ও গুন্ডা। সিন্ডিকেটের হয়ে ভোটে ভাড়া খাটা ও ভেজাল বিল্ডিং মালমশলা সাপ্লাই দেওয়া তাদের কাজ। এদের কখনও লুঙ্গি বা বারমুডা ছাড়া দেখা যায়নি আজ তারা ধুতি পাঞ্জাবি পরে এসেছে। এদের মাথায় দুটো বৃহৎ ঝুড়ি। সবাই উঁকিঝুঁকি মারতে লাগল। এরা বলল বিগত চুয়াল্লিশ বছরের অস্ত্রশস্ত্র আমরা বিসর্জন দিতে এসেছি। ঝুড়িতে রয়েছে ছয়টি নাইন এমএম, ১২টা পিস্তল, দু’ডজন বোমা, মহিলা সস্নেহে তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “বেচারা তোরা তাহলে কী করবি এখন থেকে?”

যুগলে হাতজোড় করে বলল, “বালি বাজারে ছুঁচো বাজির দোকান দেব। মশলার হাতটা ভালো আছে আর মাঝেমধ্যে ঠাকুরমার ঘরে ছুঁচোবাজি ছেড়ে দিয়ে ইয়ার্কি দেব। ফিচলেমির অভ্যাসটা তো চট করে ছাড়তে পারি না।”

চারদিকে ধন্য ধন্য রব পড়ে গেল। কেউ দু-চারটি ফুল ছুড়ে দিল তাদের দিকে। মৃদঙ্গ করতাল বেজে উঠল। প্রবল বেগে আকাশবাতাস মুখরিত হতে লাগল। নাটক বেশ জমে উঠেছে, লোকে হাততালি দিচ্ছে, এমন সময় গাধার মুখোশ পরা একদল লোক এল। আমি ভাবলাম এটা আবার নতুন কী খেল! লোকগুলো গোল হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “আমরা ধর্ষক”। মহিলা ও চশমা নাকে পুরুষ হাঁ হাঁ করে উঠলেন, মহিলা বললেন, ‘‘উহু! ধর্ষক বলে কোনও কিছুর অস্তিত্ব সংবিধানে নেই, দুষ্টু দামাল ছেলেদের ইয়ে মানে একটু-আধটু দামালপনা, তা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে, অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। বিচারাধীন বিচারাধীন বলো।”

লোকগুলো মিনমিন করে নীচু স্বরে বলতে লাগল আমাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না বলে দুঃখ পাবেন না। এতদিন ধর্ষিতা থুড়ি অত্যাচারিতার মুখ ঝাপসা করে টিভিতে দেখাত আমরা খোলা ঘুরতাম, তাই আসল পরিবর্তনে আমরা আজ মুখ ঢেকেছি। ভাববেন না আমরা বেকার হয়ে গেলাম। প্রতিটি অন্ধকার রাস্তার মোড়, ফাঁকা স্টেশন, রাতের ট্রেন, বাস, আমরা মোমবাতি হাতে পাহারা দেব এবং নারী জাতিকে ভাগ্নি বলে সম্বোধন করব। বল দরিদ্র নারী, নাইট ক্লাবে যাওয়া নারী, স্কুলপড়ুয়া নারী, ইটভাটায় কাজ করা নারী, শ্রমিক নারী, খেতমজুর নারী, গৃহবধূ নারী আমার ভাগ্নি। সমবেত মহিলারা উলু দিতে লাগল, কেউ কেউ হরষে দিশাহারা হয়ে কেঁদে ফেলল। দু-চারজন সন্দিগ্ধ নারী অবশ্য তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে ঝাঁটা আনতে চলল।

চশমাচোখো শান্ত স্বরে বলল, এত চেঁচাবেন না। স্বরকে কন্ট্রোল করুন। আসুন কয়েকটা যোগব্যায়াম করি। মাঝে মাঝে আপনারা এত চেঁচান মনে হয় নররাক্ষস মুরগি খাওয়ার শো করছে, ঠান্ডা মাথায় বাড়ি গিয়ে কে সি নাগ নিয়ে বসুন। তারপর হিসাব করুন বাঁদর কতবার তেল মাখানো লাঠিতে উঠেছিল নেমেছিল।

দূর থেকে সাদা অ্যাম্বাসাডার করে, খাঁকি পোশাক পরা একদল হাঁফাতে হাঁফাতে এসে বলল, একটু দেরি হল! আমরা হলাম বডিগার্ড! দাদাদের হিমালয়ের ট্রেন ধরিয়ে, দু’সেট গেরুয়া, কম্বল, চিমটে, কমণ্ডুলু বোঁচকা বেঁধে দিয়ে এই এলাম! বডি নেই তাই গার্ডও নেই। দাদারা বড় কান্নাকাটি করছিল, এত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন এল জটাজুটো দাড়ি গোঁপ বাড়ানোর সময় হল না, চিৎপুরের যাত্রা কোম্পানির কুটকুটে পরচুলো কে যেন ফ্রিতে ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তারা এখন কপর্দকহীন। জমি সম্পত্তি সব কাল ধাপের মাঠে বিলি হবে। বড় দুঃখু করে গেলেন যাবার সময়, একটা বাঘছাল জুটলো না বলে। বড্ড দাম। ছ’টাকা তিয়াত্তর পয়সা নিয়ে ট্রেনে উঠলেন। আর দু’টাকার নিমাই বিড়ি। ভিক্ষা করেই খাবেন। এত কাল মাইকের সামনের বেজায় কপচেছেন তাই মৌনব্রত নিয়েছেন। নইলে “কোথা আছ গুরুদেব আমি জানি না” গানটা গাইতে গাইতে যেতেন। রাজ্য খালি করে দাদারা চলে গেলেন, তাই আমরা বেকার! ওঁদের স্থাবর-অস্থাবর সব তো আমাদের নামেই থাকত। আমরা কীত্তনের দল করেছি, চলি পাঠবাড়িতে বায়না আছে।

মহিলা হেঁকে বললেন, এই ওদের চার ডজন নামাবলি দিয়ে দাও।

আমি তো কমলাকান্ত নই, সরিষা পরিমাণ আফিমও আমি খাইনি কিন্তু কেমন যেন ফুরফুরে লাগতে থাকে বেশ একটা মান্যতা মান্যতা ভাব। মগজটাই বেশ ইস্ত্রি করা নিভাঁজ পরিষ্কার ধোপার পাঠ করা ধুতির মত লাগছে। বুঝলাম মগজের আসল পরিবর্তন ঘটেছে। এতদিন নাট্যশালায় নকলের পার্ট করছিল।

যাই কিছু ঘটুক না কেন লোকজনের তো কমতি নেই, মানে পাবলিক আর কী! অগণিত জনগণ আছে, জোয়ারে স্রোতের মত আছে, বন্যার ঘোলা প্রবাহের মত আছে, সমুদ্রের গর্জনের মত আছে তারা যেনতেন প্রকারেণ। জমায়েত দেখে ভুল না করলেই হল। রাস্তা খুঁড়ে পাইপ বসানো দেখতেও পাবলিক দাঁড়িয়ে পড়ে, রিকশা উলটে গেলেও দাঁড়িয়ে দেখে, শ্যামবাজারে নেতাজি রং হচ্ছে তাও দেখে, বাবা তারকনাথের জলযাত্রা তাও দেখে। তাদের কোনও কৃত্রিম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নেই, সরল প্রাণে সরল খেলা দেখে, তারপর দু’দলে মারামারি লাগে কাদায় বালিতে এ ওকে ঠেসে ধরে, কত্তারা নিরাপদ দূরত্বে বসে চিঁড়ে ভাজা খায়। সেই ভিড়াক্রান্তদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল পাড়ার পাগলা মদন। সে হঠাৎ ভীষণ গম্ভীর হয়ে তার ছেঁড়া ময়লা হাওয়াই চটিটা মহিলাকে দিতে যায়। পছন্দ হলে নিজের জিনিসপত্র মায় প্যান্ট জামা পর্যন্ত দিয়ে এসে দিগম্বর হয়ে গাছতলায় বসে থাকা তার স্বভাব। মহিলাকে তার পছন্দ হয়েছে। মহিলা মিষ্টি হেসে বলল, “কাল বাটা থেকে একটা স্টিলেটো কিনেছি, এটা ফেলে দে। ছিঃ পরিবর্তনে পুরনো ধজা মাল রাখতে নেই।’’

মদনকে চা বিস্কুট খেতে দেওয়া হয়েছে, সে কনফিউসড, চা দিয়ে বিস্কুট খাবে না বিস্কুট দিয়ে চা! এ এক অসম্ভব অনুসন্ধান হয়ে পড়ে, তার কাছে।

রীতিমত জাদুমন্ত্র জানে আমাদের গ্রাম-বাংলার ধানখেতের আলে, খালেবিলে, পুকুরে, নদীতে থাকা ঘাপটি মেরে থাকা ‘ম্যাজিশিয়ান’ মাছেরা।

হাতের কড়ে আঙুলের আকারের ঝাঁক ঝাঁক ঘুরে বেড়ায়, কাউকে বিশেষ করে চেনা যায় না। পিলপিল করে ঘোলাজলের ঘূর্ণিতে পাক খাওয়া বাংলার সেই মাছ জানে কী করে খেলতে হয় জলে। ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরেও মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, মেরুদণ্ড-সহ তার শরীরের প্রায় সবক’টি অঙ্গকে নতুন করে গড়ে তুলে ঝপাং করে আগের পুকুরে ঝাঁপ দিতে হয়। অন্য জল থেকে মুণ্ড, পাখনা, লেজ, সব কুড়িয়ে এনে ঘোলাজলের খ্যাপলা জাল থেকে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে আবার। ঘোলাজলে মাছ ধরা হয়ে গেছে, ওপরে ভুরভুরি কাটছে, তলায় জল শান্ত।

দেশলাই জ্বালছে না কেউ, টর্চ নয়, সিগারেট নয়, এক ভয়ংকর ট্রাপিজের খেলা চলছে, নিচে জাল পাতা নেই।

মেলা ভেঙে লোকজন সব চলে গেল যে যার জায়গায়, আমি বেকার আবার ঘুমোনোর চেষ্টা করি। মদন নিঃসাড়ে পাশে বসে, বলে একটা, পদ্য শুনবেন? শাক দিয়ে সেগুন দিয়ে/ বক দিয়ে বেগুন দিয়ে/ উঠোন চচ্চড়ি/ ভুত ভাতে/ ইট পাটকেলের বড়া/ পাঁঠার অম্বল।

আমি বললাম, বুঝলাম! সে বলল, ভোলা আমার চেয়ে দু’ইঞ্চি মোটা, আমি ভোলার চেয়ে ছ’ইঞ্চি রোগা। তাহলে ভোলা আর আমার মধ্যে পার্থক্য কী?

সে সবার আবার কী? দুজনে দুরকম।

নাঃ আমি ভোলার চেয়ে রোগা, কিন্তু কানাই এর চেয়ে মোটা, তাহলে আমি রোগা হলাম কী করে? আমি আসল না নকল?

সেটা তো তুল্যমূল্য বিচারে তুমি হচ্ছ রোগা।

হে হে তুল্য না মূল্য আসলে ইসকা নাম হ্যায় খিচুড়ি!

পদা, কালু ছেনো, চাকতি কোত্থেকে এসে আমাকে মেপে নিল। গাছতলায় বসে দাঁত ক্যালাচ্ছেন কেন? ওদিকে যোগমহানিদ্রা চলছে, এদিকে মোহজাগরণ বটিকা, যান গে কোনও একটাতে ভিড়ে পড়ুন।

চিত্রণ: মুনির হোসেন

কচুরি

সাধু

কারখানা বিরিয়ানি

লিটল বুদ্ধ

বাংলা আওয়াজ

শেরপা

সবুজ মিডাসের ছোঁয়া

ঘুষ

জুতো

সিঁড়ি

ইসবগুল

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

সনজীদা খাতুন: শ্রদ্ধাঞ্জলি

সাতচল্লিশ-পরবর্তী পূর্ববঙ্গে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংস্থা গড়ে ওঠে, যাদের মধ‍্যে ‘বুলবুল ললিতকলা একাডেমী’, ‘ক্রান্তি’, ‘উদীচী’ অন‍্যতম। রাজনৈতিক শোষণ ও পূর্ববঙ্গকে নিপীড়নের প্রতিবাদে কখনও পরোক্ষভাবে কখনও সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল এইসব সংগঠন। ‘ছায়ানট’ এমনি আর এক আগ্নেয় প্রতিষ্ঠান, ১৯৬৭-তে জন্মে আজ পর্যন্ত যার ভূমিকা দেশের সুমহান ঐতিহ‍্যকে বাংলাদেশের গভীর থেকে গভীরতরতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে সুস্থ ও সংস্কৃতিবান নাগরিক গড়ে তোলা। ওয়াহিদুল হক ও সনজীদা খাতুনের মানসসন্তান এই ছায়ানট। মূলত রবীন্দ্রনাথের আদর্শে গড়ে ওঠা সঙ্ঘ, কাজী নজরুলের প্রিয় নামটিকে জয়ধ্বজা করে এগিয়ে চলেছে বহু চড়াই-উৎরাই, উপলব‍্যথিত গতি নিয়ে।

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর গুচ্ছকবিতা

বিলাপ অভিসার জল আনতে চল রে সখী, জল আনতে চল নিভু নিভু আলোর সাজে সূর্য অস্তাচলে শেষবিকেলের রশ্মিমালায় বুকে ব্যথার ঢল লজ্জা আমার আবির হয়ে

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

যত মত তত পথ

বহুদিক দিয়েই একজন স্বতন্ত্র মননের ধর্মীয় সাধক। তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ধারণাতীত, আর তা কেবল তাঁর স্বদেশ বা এই উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, সারা বিশ্বব্যাপী। এবং দিনের পর দিন তাঁর অনুগামীর সংখ্যা বাড়ছে। শ্রীরামকৃষ্ণ এবং সারদামণি ও স্বামী বিবেকানন্দকে কেন্দ্র করে যে ভাব-আন্দোলন, তার ফলশ্রুতিতে তাঁদের নিয়ে নিয়ত চর্চা ও গবেষণা হয়ে চলেছে। পৃথিবীব্যাপী দুশোর ওপর রামকৃষ্ণ মিশনের কার্যাবলি প্রমাণ করে (প্রতিবছর এর সংখ্যা বাড়ছে), আজকের এই অশান্ত বিশ্বে তাঁরা মানুষের কতখানি আশ্রয়।

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব ছয়]

রবীন্দ্রভাবনায় যে নৃত্যধারা গড়ে উঠল তা দেশিবিদেশি নৃত্যের সমন্বয়ে এক মিশ্র নৃত্যধারা, তৎকালীন শিক্ষিত শহুরে বাঙালির সংস্কৃতিতে যা নতুন মাত্রা যোগ করল। নাচের প্রতি একরকম আগ্রহ তৈরি করল, কিছু প্রাচীন সংস্কার ভাঙল, মেয়েরা খানিক শরীরের ভাষা প্রকাশে সক্ষম হল। এ কম বড় পাওনা নয়। আরও একটি লক্ষ্যনীয় বিষয় হল, শিল্পক্ষেত্রে ভাবের সাথে ভাবনার মিল ঘটিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টির প্রচেষ্টা। গতে বাঁধা প্র্যাক্টিস নয়। নিজের গড়ে নেওয়া নাচ নিজের বোধ অনুযায়ী।

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব পাঁচ]

বাংলার মাটি থেকে একদা এই সুদূর দ্বীপপুঞ্জে ভেসে যেত আসত সপ্তডিঙা মধুকর। আর রবীন্দ্রনাথের পিতামহ, যাঁর কথা তিনি কোথাও প্রায় উল্লেখই করেন না, সেই দ্বারকানাথ-ও বাংলার তৎকালীন ব্যবসায়ীকুলের মধ্যে প্রধান ছিলেন। শুধু তাই-ই নয়, একদা তাঁর প্রিয় জ্যোতিদাদাও স্টিমারের ব্যবসা করতে গিয়ে ডুবিয়েছেন ঠাকুর পরিবারের সম্পদ। নিজে রবীন্দ্রনাথ বাণিজ্য সেভাবে না করলেও, জমির সম্পর্কে যুক্ত থাকলেও একদা বাংলার সাম্রাজ্য বিস্তার, বাণিজ্য-বিস্তার কী তাঁরও মাথার মধ্যে ছাপ ফেলে রেখেছিল? তাই ইউরোপ থেকে আনা বাল্মিকী প্রতিভার ধারাকে প্রতিস্থাপন করলেন জাভা বালির কৌমনৃত্য দিয়ে?

Read More »
ড. সোমা দত্ত

রবীন্দ্রনৃত্যভাবনা: প্রেক্ষিত ও চলন [পর্ব চার]

তৎকালীন দেশের বাস্তব সত্যের সঙ্গে মিলছে না বর্ণবাদ, উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ, মিলছে না পিকেটিং ও বিদেশি দ্রব্য পোড়ানোর আন্দোলন। রবীন্দ্রনাথ দেখতে পাচ্ছেন গ্রামে গ্রামে গরিব মানুষের খাওয়া নেই, নেই বেশি দাম দিয়ে দেশি ছাপ মারা কাপড় কেনার ক্ষমতা। দেখছেন পিকেটিংয়ের নামে গরিব মুসলমানের কাপড়ের গাঁঠরি পুড়ে যাচ্ছে যা দিয়ে সে তার পরিবার প্রতিপালন করে। রবীন্দ্রনাথ প্রতিবাদ করছেন তাঁর লেখায়। ‘গোরা’ ও ‘ঘরে বাইরে’ এমনই দু’টি উপন্যাস। গোরা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় প্রবাসী পত্রিকায়। পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯১০ সালে। ঘরে বাইরের প্রকাশকাল ১৯১৬।

Read More »