
অশ্বেতর
১. সারা দুপুর লিখে বিকেল প্রায় সন্ধ্যায় ঢলে গেছে। মার কাছে গিয়ে বললাম শুনবে? বৃষ্টি আসছে দ্যাখ তো। পশ্চিমে মেঘ? শুনবে কি? তুই লিখেছিস? না

১. সারা দুপুর লিখে বিকেল প্রায় সন্ধ্যায় ঢলে গেছে। মার কাছে গিয়ে বললাম শুনবে? বৃষ্টি আসছে দ্যাখ তো। পশ্চিমে মেঘ? শুনবে কি? তুই লিখেছিস? না

India’s First Bengali Daily Magazine. খালে নৌকা ঢুকল। নির্বাক নিস্পন্দ কেওড়ার সারি। সাসপেন্স আর ক্রিয়েট করতে হয় না। চারিদিকেই অব্যক্ত অসহ্য ঘোর সাসপেন্স। কী যেন সর সর শব্দ! অ্যামবিয়েন্সের জন্য গাছের পেছনে ব্যাকলাইট ফিট করা হয়েছে। একটা বাঘের লেজ সহ সিলিউট তোলা হয়েছে। বাস্তবে তা ভোলার ল্যাজ। নৌকার লম্ফটাকে ফোকাস করে শট নেওয়া হল। নৌকার কানায় এক বিরাট মুখ উঁকি দিয়েছে। ঝপ করে লম্ফটা নিভে গেল। বাতাস নেই। কঁক কঁক করে কেমন শব্দ। পাখা ঝাপটে নৌকার গলুইতে বসল মোরগলাল।

India’s First Bengali Story Portal. হঠাৎ করে মা সিপিএম হয়ে যায়, ভুল সিদ্ধান্তে অটল। উত্তেজনায় কমলা হয়ে গেছে। আমি পাশে মানানসই কালো হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। মার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থামানোর সাধ্য আমার নেই। জামাই রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে বসে আছে, বীরেন্দর নাট টাইট দিচ্ছে। মা হাত থেকে পুরো বেরিয়ে গেছে। জামাইকে গ্লাস ধরিয়ে দিয়েছে। জামাই একচুমুকে গ্লাসটা মেরে দিল। স্টিলের গ্লাসটা পেছন পকেটে পুরে, পাঁইটটা মার হাতে ফেরত দিল।

India’s First Bengali Story Portal. এই রকম ক্ষুৎকাতর, এবং অবশ্যই হৃদয়সর্বস্ব সিঁড়ি আমি দেখিনি। কবাট একটা ছিল, আড়াল দরজা, কিন্তু তাকে তুমি যতই লাগিয়ে রাখো, সে ঠিক খুলে যাবেই। সিঁড়িটাই চাইত না এসব ফালতু বখেরা। পাড়ার পটলার যেমন ঘোড়ার ল্যাজের মত ঘন ঝালর মন, বাদামি। যেকোনও মেয়ের সামান্য ঈশারায় সে ট্রাপিজের খেলা থেকে শুরু করে ভাঙরা নাচ, এমনকি সাহারায় মুলোর চাষ করে ফেলতে পারে। সেইমত উদার তাকলামাকান পর্যন্ত বিস্তৃত হৃদয় সিঁড়ির দোতলায় আমরা থাকতাম।

India’s First Bengali Story Portal. একটা বেশ মেলা লেগে গেছে ভেবে দু-চারজন ঘটিগরম, ঝালমুড়ি, বেলুনঅলা বিক্রির আশায় বসে পড়েছিল। পদা আর ছেনোকে আসতে দেখে তারা শশব্যস্তে দোকানদারি গুটোতে লাগল। পদা ছেনো বিখ্যাত তোলাবাজ ও গুন্ডা। সিন্ডিকেটের হয়ে ভোটে ভাড়া খাটা ও ভেজাল বিল্ডিং মালমশলা সাপ্লাই দেওয়া তাদের কাজ। এদের কখনও লুঙ্গি বা বারমুডা ছাড়া দেখা যায়নি আজ তারা ধুতি পাঞ্জাবি পরে এসেছে। এদের মাথায় দুটো বৃহৎ ঝুড়ি। সবাই উঁকিঝুঁকি মারতে লাগল। এরা বলল বিগত চুয়াল্লিশ বছরের অস্ত্রশস্ত্র আমরা বিসর্জন দিতে এসেছি।

India’s First Bengali Story Portal. ক্রিসমাস আসছে, তারাগুলো যেন আকাশ থেকে নেমে এসেছে। রাতের মায়াবী ছায়ায় রহস্যময় পাইন বনে পড়ে ফেলে দিয়েছি কালুর ধর্মবাটা অনিশ্চিত জুতো। গোলাপি স্ট্র্যাপ, সাদা পুঁতি। কত জায়গায় যে জুতো ফেলে আসতে হয়েছে আমায়। ভুটান রাজার রাজবাড়ির পেছনে খাদের নীচে আজও পড়ে আছে আমার ধর্মবাটার জুতো। শিমুলতলায় লাট্টু পাহাড়ের নিচে দিলীপের চায়ের দোকানে বেঞ্চির তলায় ছেঁড়া হাওয়াই কে জানে আকাশের দিকে মুখ করে তারা গুনছে কিনা!

India’s First Bengali Story Portal. তাসা পার্টির সঙ্গে ভোট প্রচারে পাড়ার পটলা নাচতে নাচতে যায়, জিতলে আবীর ওড়ায়। সে যে দলই হোক ক্ষমতার পাত্র থেকে ছিটকে যেটুকু আসে তাতেই গা সেঁকে নেওয়া যায়। অল্পসল্প দরদাম করে সরকারি টিচারের চাকরিটা হয়ে যায়। পকেটমারেরও তার পেশার সততা, মূল্যবোধ আছে, শিক্ষকের নাই। ধীরে ধীরে স্কুল কলেজগুলো ভরে যাবে, অসাধু পান চিবোনো তাঁবেদারে, সবচেয়ে ডেলিকেট কাজ যাদের, মানুষ গড়ার কাজ। ও কিছু না। মিড ডে মিল আছে তো।

India’s First Bengali Story Portal. মানুষ তার ও প্রকৃতির মাঝখানে আর একটা জগৎ সৃষ্টি করেছে প্রকৃতির সঙ্গে যার যোগ নেই। খরচের খাতায় বিপুল ব্যয়। জমার খাতা শূন্য। হিমালয়ের হিমবাহগুলোর উপরিভাগ ৫০ সেন্টিমিটার হারে গলে যাচ্ছে। ফলে জলস্তর উষ্ণ হয়ে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ছে বার বার। বিপন্ন মৌমাছির মত পতঙ্গরাও শেষ হচ্ছে, যারা পরাগ মিলন দিয়ে এই বাস্তুতন্ত্রকে সচল রাখে।

India’s First Bengali Story Portal. সামনে শো-কেসে তাকিয়ে থাকি। তেনজিং-এর বউয়ের হাতে বোনা কবেকার সেই ফুটিফাটা জীর্ণ মোজা। সুইস অভিযাত্রী বন্ধু ল্যাম্বার্টের দেওয়া ঐতিহাসিক লাল মাফলার। সুইসদের দেওয়া জুতো। ইংরেজদের দেওয়া জ্যাকেট, ডেনম্যানের ফেলে যাওয়া সেই হনুমান টুপি। কাচের বাতির তলায় শুয়ে আছে সেই আইস অ্যাক্স, যা দিয়ে তেনজিং বরফ খুঁড়েছিল। শিরশির করে মন, বহু দূর থেকে বরফ ঠান্ডা হাওয়া এসে লাগে। ল্যাম্বার্টের ছবি দেখি ফ্রস্ট বাইটে অর্ধেক কাটা পা নিয়ে যে পাহাড়ি ছাগলের মত ওপরে চড়ত।

The First Bengali Online Story Portal. বাজারের পাশেই রবীন্দ্রনাথের মর্মর মূর্তি। খর্বকায়, কালিবর্ণ, কুৎসিত, আগুনে পোড়া, ঘোর সন্দিদ্ধ, বিরক্ত মুখ। পেছনে হাত দিয়ে ঝুঁকে পড়ে কী দেখছেন যেন। বাজারের দরদামের দিকে নজর রাখছেন বোধহয়। চারপাশে নানা মনীষীদের পাথুরে নজরদারি। বাসস্ট্যান্ডে দুরন্ত সব বাণী লেখা। সর্বত্র রবীন্দ্রনাথ ঝুঁকে আছেন। নির্জন আবর্জনার পাশে, শূন্য খাঁ খাঁ রাস্তায়, নেতাজি সামরিক পোশাকে হাত তুলে দিল্লি যেতে বলছেন, মিউনিসিপ্যালিটির সাজানো বাগানে বিবেকানন্দ দীপ্ত ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে আছেন, পায়ের তলায় ম্রিয়মাণ, উদাসী কুকুর ঘুমোচ্ছে।

বুদ্ধের নিজেরই পুজোফুজোয় মন নেই। থাঙ্কার সামনে চালের ওপর রাখা পাথছম মিন্তো ফুলের পাতলা ডানার দিকে তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। মনাস্ট্রির সর্দার রাঁধুনি ইয়াপচুঙ বাঁশের মত সোজা, ঢ্যাঙা, সরু, কোথাও বাঁকেনি-চোরেনি-ঢেউ খেলেনি, গোঁপখানাই যা একটু দেখার। মোটা কড়িকাঠের শতাব্দীর ধোঁয়া অন্ধকার ঠেলে, বাঁশের চোংয়ে বানানো দুধ মাখন নুন দেওয়া টেমি চা দিয়ে যাচ্ছে। ছেলে বুড়ো বাচ্চা, মোটা মোটা নেপালি বুড়িরা জপযন্ত্র ঘোরাতে ঘোরাতে ছিপি খোলা ভসভসে সোডার মত হাসছে।

আব্বাস ছিল অন্যরকম। না কামানো দাঁড়ি, রোগা ভোগা আব্বাস আমায় বিরিয়ানি চিনিয়েছিল। কামারহাটি অদ্ভুত জায়গা। লাল নীল শরবতের বোতলের গায়ে ট্রি রি রিং শব্দ উঠছে। একপাশে সবজির বাজার। ঢাউস কুমড়ো আলুর গাদার ওপর উঠে চেঁচাচ্ছে বিক্রেতা। ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে পুরোনো জামা, চকরাবকরা বারমুডা। লাঠির ডগায় জরিদার কুর্তা পায়জামা পত পত করে উড়ছে। শেরওয়ানি সেলাই হচ্ছে। শাড়িতে চুমকি জরি সুতোর কাজ তুলছে ছোকরা বুড়ো। আব্বাস ছিল শিল্পী, সূক্ষ্ণ কারবারি। বিরিয়ানি নিয়ে ফান্ডা ছিল উচ্চস্তরের।

সংসারীর অতীত ভবিষ্যৎ বর্তমান আছে। সাধুর নেই। অতীত অনুশোচনার, ভবিষ্যৎ আতঙ্কের। গঙ্গার দুপাড় দিয়ে বেলা ডোবার আলো বয়ে যায়। চিমটে, কম্বল, কমুণ্ডল, ভেল্কি, ভেক, সব পড়ে থাকে, ভাব তার নিজস্ব নৌকায় উঠে পাড়ি দিয়েছে বহুদূর। একদিন ‘যাই একটু ঘুরে আসি’ বলে ভরদুপুরে কাকা সেই যে গেলেন। আর ফেরেননি। মাঝে মাঝে খবর আসত, তাকে দেখা গেছে, কাশীতে মণিকর্ণিকা ঘাটে, গাড়োয়ালের কোনও অঘোরী সাধুর আখড়ায় প্রবল শীতের রাতে খিচুড়ি রাঁধছেন। একবার হাওড়া স্টেসনে এসেছিলেন। বাড়ি আসেননি, ফিরতি ট্রেনে উঠে চললেন কোথায় বলেননি।

বিবর্ণ ঘুপচি, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার, পেরেকওলা কেঠো বেঞ্চ, সামান্য উঁচু তক্তায় ময়দার বস্তা, ঢাউস ডেকচি, মধ্যে একটি মোটা ঘোর কৃষ্ণবর্ণ লোক পুকুরে ছিপ ফেলার ভঙ্গিতে যমরাজের শাস্তিদানের কড়াইতে স্থিরনিষ্ঠ প্রজ্ঞাবান শিল্পীর মত রাশি কচুরি ভেজে তুলছেন। তার বিরাট ভুঁড়িটি জ্যালজেলে সুতির ফঙ্গবেনে গামছায় নির্ভর করে ঝুলছে। শুধু গিঁটমারা ওইটুকু বস্ত্র কী করে তার সব কিছু ধরে রেখেছে সে রহস্য কেউ ফাঁস করেনি। তাদের মাথার পেছনে তাম্র যুগের গভীর কালিমালিপ্ত দেওয়ালে তেলকিটকিটে গেঞ্জি, লুঙ্গি, জাঙিয়া, গামছা, হাফ প্যান্ট ঝুলছে।

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’