Search
Generic filters
Search
Generic filters

রাশিয়ার চিরকুট

পর্ব ৮

তোমার হল শুরু আমার হল সারা

রাত পোহালেই সূর্যের ডানায় ভর করে আসবে ১৪ এপ্রিল। রাশিয়ায় আর যে কোনওদিনের মতই একটা দিন। তবে এরই মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ছয়লাপ হবে সুদূর বাংলাদেশের রাস্তাঘাট। আমি বাড়িতে ফোন করব। দিদি ফোন তুললে যখন বলব:
—শুভ নববর্ষ দিদি।
—আজ তো চৈত্রসংক্রান্তি ভাই। পয়লা বৈশাখ তো আগামী কাল।

এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। মনে হবে ছোটবেলার কথা। তখন আমরা এটাকে বলতাম হালখাতা। চৈত্রের শেষের কয়েকদিন থেকেই পাশের জেলেপাড়ায় চলত চৈত্র পূজা। সারাদিন বিভিন্ন দল এসে ভূতপেত্নি সেজে নেচে যেত শিবের সঙ্গে আর রাতে নাচ চলত মণ্ডপে। কী ভৌতিক ছিল সে রাতগুলো! চারিদিকে ভূতপেত্নির আনাগোনা। ভয় আর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে কাটত নববর্ষের আগের এ দিনগুলো।
এরপর চৈত্রসংক্রান্তি। ছাতু, মুড়িমুড়কি এসব ছিল এদিনের মূল উপাদান। সঙ্গে বিভিন্ন শাক। যতদূর মনে পড়ে এ সময় বাড়িঘর ধুয়েমুছে প্রস্তুত করা হত নতুন বছরকে বরণ করার জন্য।

পয়লা বৈশাখ সকাল থেকে আসতে শুরু করতেন গ্রামের লোকজন। আমরাও যেতাম পাড়ায় পাড়ায়। কোলাকুলি, মিষ্টিমুখ এসব ছিল পয়লা বৈশাখের সকালের দৃশ্য। অনেকটা ঈদ আর বিজয়াদশমীর পরে কোলাকুলির মত। তবে ওসব অনুষ্ঠান ছিল একেবারেই ধর্মীয়, পয়লা বৈশাখের কোলাকুলি— ধর্মনিরপেক্ষ, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এরপর আসতেন খদ্দেররা। এঁরা ছিল তাঁতি আর জোলা। আমাদের বাড়ি থেকে সুতা কিনে কাপড়, চাদর, লুঙ্গি, গামছা এসব তৈরি করতেন। খোলা হত নতুন খাতা। সবাই চেষ্টা করতেন পুরনো বছরের ঋণ শোধ করতে। সারাদিন আসতেন খদ্দেররা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। দই, মুড়িমুড়কি আর বিভিন্ন মিষ্টি দিয়ে বাড়ির লোকেরা বরণ করত শতশত অতিথিকে, বরণ করত নতুন বছরকে।

সেটা ছিল সংবাদপত্রের যুগ। পরের দিন কাগজে রমনার বটমূলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের খবর পড়তাম। তবে সেটা ছিল অনেক দূরে, ঢাকায়। গ্রামের জীবনে এর বাহ্যিক প্রতিফলন তখন তেমন দেখিনি। তবে এটা ঠিক, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। পাকিস্তানি শাসকেরা সেটা বুঝতে পেরেছিল বলেই বারবার চেষ্টা করেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত, পয়লা বৈশাখ— এসব নিষিদ্ধ করতে। আর বাঙালি বারবার এদেরকেই আঁকড়ে ধরেছে, সংস্কৃতির মশাল হাতে নিয়ে সে বারবার খুঁজেছে সামনে চলার পথ। সংস্কৃতি আর মৌলবাদের চলার পথ সবসময়ই বিপরীতমুখী। তাই তো আজও মৌলবাদ প্রাণপণে চায় এসব বন্ধ করতে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রায় সব সরকারই ভোটের কথা ভেবে এদের দাবিদাওয়ার কাছে নতিস্বীকার করে। মানুষ বরাবরই ছিল শক্তের ভক্ত নরমের যম। সরকারের মানবিক রূপটা হয়তো এখানেই প্রকাশ পায়।

.

বাংলা পঞ্জিকা নিয়ে আমি বরাবরই দ্বিধাগ্রস্ত। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনও ব্যবহার নেই। যেটুকু ব্যবহার সেটা ধর্মীয় জীবনে। এমনকি ভাষা দিবস আমরা পালন করি একুশে ফেব্রুয়ারি, ৮ই ফাল্গুন নয়। আমাদের দেশের শিক্ষা থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সবই চলে ইংরেজি (গ্রেগরিয়ান) পঞ্জিকায়। ঈদ, রোজাসহ ইসলাম ধর্মীয় সমস্ত উৎসব পালিত হয় হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী আর হিন্দুদের পূজা-পার্বণ, বিয়ে সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয় বাংলা পঞ্জিকার অনুসরণে। বাংলার হিন্দু এসব করতে এখনও কলকাতা থেকে প্রকাশিত পঞ্জিকাই অনুসরণ করেন। সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে তৈরি এ পঞ্জিকা ইংরেজি বর্ষপঞ্জির তুলনায় বেশ ফ্লেক্সিবল। তাই সরকারিভাবে ১৪ এপ্রিলকে ১লা বৈশাখ ঘোষণা করায় একধরনের দ্বৈত ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বাংলা পঞ্জিকার ব্যবহারে।

বিগত কয়েক বছর হল দেশে অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নববর্ষ পালন করা হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেতে ওঠে বাঙালি। এটা যে শুধু সংস্কৃতির কারণেই হয়েছে তা নয়। বাজার অর্থনীতিও এখানে তার ভূমিকা রেখেছে। আগে সাধারণত ঈদ ও পূজা ছিল নতুন পোশাকে সাজার সময়। এখন ঈদ পূজার বাইরেও একুশে ফেব্রুয়ারি আর নববর্ষে নতুন পোশাক কেনার হিড়িক পড়ে দোকানে দোকানে। নতুন বছরকে নতুন আঙ্গিকে বরণ করে বাঙালি।

বাংলা পঞ্জিকাকে মৌলবাদীরা হিন্দুধর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। অথচ এই পঞ্জিকার প্রবর্তক হিসেবে আমরা দেখতে পাই আলাউদ্দীন হোসেন শাহ্‌ আর সম্রাট আকবরের নাম। ইদানীং অবশ্য সঙ্ঘ পরিবার রাজা শশাঙ্ক বাংলা পঞ্জিকার প্রবর্তক বলে দাবি করছে। সম্রাট আকবরের সম্পর্কে বলা হয় যে, উনি এই পঞ্জিকা এমনভাবে তৈরি করেন যাতে এর শুরু হয় হিজরি বছরের সঙ্গে। ১৫৫৬ সালে, মানে, আকবরের সিংহাসনে আরোহণের সময় পর্যন্ত তারা চলে হাতে হাত রেখে। আর এর পর থেকে হিজরি বরাবরের মত চান্দ্র নিয়মে চললেও আকবরের পঞ্জিকা চলে সৌর পথে। কারণ এটা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে কর আদায়ের জন্য অধিক সুবিধাজনক ছিল। আকবরের মৃত্যুর পর এই পঞ্জিকা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেলেও পরবর্তীতে সেটা নতুন জীবন পায় বাংলায়। তাই যারা বাংলা পঞ্জিকাকে হিন্দু পঞ্জিকা বলে বাধার সৃষ্টি করেন তারা মূলত বাংলা-বিরোধী, শত শত বছর ধরে চলে আসা বাংলার সংস্কৃতি-বিরোধী। তাদের সঙ্গে তাল দিয়ে যারা বাঙালির এই প্রাণের উৎসব পালনে বাধা দেন বা উৎসবকে সময়ের খাঁচায় ঢুকিয়ে দেয়, বাংলাদেশ, বাংলা সংস্কৃতির প্রতি তাদের কমিটমেন্ট সম্পর্কে সন্দেহ জাগাটাই স্বাভাবিক।

অবশ্য তাদের কথা বলেই লাভ কী? অদ্ভুত জাতি আমরা। খুব কম জাতিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। বাঙালি তাদের অন্যতম। যে ভাষার জন্য সে প্রাণ দিল, সেই ভাষায় ছেলেমেয়ের নাম রাখা তারা লজ্জার মনে করে। আমাদের ছোটবেলায় রহিম, করিম এসব নাম বাংলা না হলেও বাংলা থেকে খুব দূরে ছিল না। সেগুলো বাইরের বলে মনে হত না। আজকাল মানুষের নাম আরবি-ঘেঁষা। যার নামে যত বেশি আরবির প্রভাব— সে তত খাঁটি বাংলাদেশি, তত সাচ্চা মুসলমান। অথচ প্রচুর মুসলিম দেশ আছে, যেমন ইন্দোনেশিয়া, যেখানে স্থানীয় নামেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। জাতিগত বৈশিষ্ট্য মানুষের অস্থিমজ্জায়। এমনকি যারা যুগ যুগ ধরে বাইরে থাকেন, তারাও তাদের এই বৈশিষ্ট্য কাটিয়ে উঠতে পারেন না। আর আমরা চাই দেশে বসেই সেটা কাটিয়ে উঠতে। বাংলাদেশে বসে আরবের শেখ হতে। তারা ভুলে যান বাঙালি ভাল মুসলমান হতে পারে, কিন্তু ভাল আরব সে কোনও দিনই হতে পারবে না। আরব হওয়ার জন্য আরব হয়ে জন্মাতে হয়, বাঙালিয়ানা ত্যাগ করলেই আরব হওয়া যায় না।

.

দেশ থেকে দূরে থাকলেও বাঙালিরা সব সময়ই চেষ্টা করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের কাছে ফিরে যেতে। মস্কোতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। বিভিন্ন সংগঠন প্রতি বছর এ সময় নববর্ষ পালন করে। ২০১০ সালে স্থাপনের পর থেকে প্রতি বছরই আমরা বাংলাদেশ প্রবাসী পরিষদ রাশিয়া মস্কোয় বসবাসকারী সব বাঙালিদের নিয়ে এ দিনটি পালন করতাম। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে করোনার কারণে সেটা হয়ে উঠছে না। তারপরেও আমরা যে যেভাবে পারি এ দিনটি স্মরণ করি।

করোনা, সময়— এ সবই আমাদের জীবনে তার ছাপ রেখে যায়। এবার রোজার কারণে শুনলাম দেশে মঙ্গল শোভাযাত্রা নাকি আগের মত হবে না, দুপুর দুটোর মধ্যেই নাকি অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এই না হওয়াটা অবশ্য আমাদের শক্তি নয়, জাতি হিসেবে দুর্বলতার পরিচয়। ছোটবেলায় পড়েছি ‘উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে, তিনিই মধ্যম যিনি চলেন তফাতে।’ হ্যাঁ, মধ্য আয়ের দেশ আমরা, তাই উত্তম হতে পারব কীভাবে?

এবার অবশ্য দিদিকে ফোন করা হবে না। অপার থেকে ও এখনও ওর নম্বর পাঠায়নি। জানি না ওই জগতে নেট কাজ করে কিনা বা পরলোক বলে কিছু আছে কিনা?

যাই হোক, আশা করি একদিন আমরা অনুধাবন করব যে সবার উপরে আমরা মানুষ, তার পর বাঙালি, আর তারও পর হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তখনই আমরা ফিরে যাব মাটির কাছে, আবহমান বাংলার সংস্কৃতির কাছে। সবাইকে চৈত্রসংক্রান্তি আর নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর ভালবাসা। ভাল থাকুন, সুখে থাকুন।

১৪ এপ্রিল ২০২২। দুই বাংলার দুই ১৪২৯ সীমান্তে কাঁটাতারের উঁচু দেওয়ালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে। ওদের চার হাত দেয়ালের গায়ে যেন একে অপরকে স্পর্শ করতে চাইছে। ওরা গলা ছেড়ে গাইছে, ‘তোমার হল শুরু আমার হল সারা’।

কিন্তু বাংলাদেশের ১৪২৯-এর মন আজ ভারাক্রান্ত।
—কী ব্যাপার! আজ আনন্দের দিন, তোমার মনখারাপ কেন?
—কী করব বলো। এবার ওরা আমাকে বরণ করে নেবার জন্য বাচ্চাদের আসতে দেয়নি। রমনার বটমূল আর ঢাকা ইউনিভার্সিটির আশেপাশের রাস্তাঘাট সব বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা বেলা দুটোর মধ্যেই শেষ করতে হয়েছে। কোথাও উৎসবের আমেজ নেই। আছে শুধু ভয়, এই বুঝি কিছু একটা ঘটে যায়। পাকিস্তান আমলেও এত ভয়ে ভয়ে কখনও আসিনি, জানতাম বাঙালি শত বাধাবিপত্তির মধ্যেও আমাকে ঠিক বরণ করে নেবে। কিন্তু আজ আমার আর সেই বিশ্বাস নেই। জানি না আবার কখনও ওরা আমার জন্যে অপেক্ষা করবে কিনা, নাকি অন্য অনেক খাঁটি বাঙালি ঐতিহ্যের মতই আমাকেও বিদায় নিতে হবে হিন্দুয়ানীর ‘টিপ’ পরে ধর্মীয় অনুভূতির কাছে পরাজিত হয়ে। সব কিছুর পরেও আমি আসব, আমাকে যে আসতেই হবে। এই বাংলা আমার, এই বাংলার মাটি আমার। ওরা আমাকে বন্দি করেই রাখুক আর নির্বাসনই দিক, এই বাংলা কখনওই আরবের মরুভূমি হবে না। আর মনখারাপ নয়। চলো, আমরাও দুজনে মিলে সবাইকে বলি, শুভ নববর্ষ!

দুবনা, ১৩ এপ্রিল ২০২২

চিত্র: লেখক

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৪

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৫

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৬

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৭

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৯

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১০

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + 13 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »