Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রাশিয়ার চিরকুট

পর্ব ৪

রোগালয়

সোভিয়েত ইউনিয়নে আর এখন রাশিয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু অনেক কিছুর সাথে একটা ডায়েরি পায়। না, সেটা সেই ডায়েরি নয় যেখানে বাবা-মা অতি যত্ন সহকারে জন্মকালে শিশুর ওজন, উচ্চতা, মাতৃসদন থেকে দেওয়া বিভিন্ন আট্রিবুট, কবে প্রথম দাঁত উঠল, কবে প্রথম পড়ে গেল ইত্যাদি সব টুকিটাকি লিখে রাখে। এ ডায়েরি অন্য ডায়েরি। এটা ইতিহাস। না না, শিশুর ইতিহাস নয়, তার রোগের ইতিহাস। কবে কোন টিকা দেওয়া হল, কখনও জ্বর হয়েছিল কিনা, বা সর্দিকাশি, খাদ্যে এলার্জি— এককথায় শিশুর সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে যেসব রোগ এসে বাসা বাঁধে সেটাই এখানে লেখা হয়। তাই এর নাম রোগের ইতিহাস। প্রথম বছর দুই প্রতিমাসে শিশুকে নিয়ে কম করে হলেও একবার পলিক্লিনিকে হাজিরা দিতে হয়, মাঝেমধ্যে ডাক্তার নিজেই চলে আসেন। এককথায় শিশু যেমন রোগের কাছ থেকে পালাতে পারে না, অসুখবিসুখ আর সেই সঙ্গে শিশু নিজেও ডাক্তারের হাতে জিম্মি থাকে। এরপর সে যখন কিন্ডার গার্টেন বা স্কুলে যায়— সেখান থেকেই ডাক্তার তার খবরাখবর নেন। আর অসুস্থ হয়ে বাসায় থাকলে তাকে ডাক্তার দেখানোর দায়িত্ব বাবা-মার কাঁধে বর্তায়।

আমরা যারা বাংলাদেশের গ্রামে বড় হয়েছি তাদের এসব ঝামেলা ছিল না, অসুখ হলেও যেখানে সবাই ডাক্তার ডাকে না সেখানে শখ করে কে আর ডাক্তার ডাকবে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসার পর আমাদের রাখা হল কারেন্টেইনে, নিয়ে যাওয়া হল পলিক্লিনিকে বিভিন্ন টেস্টের জন্য আর তখনই আমাদের রোগের ইতিহাস (যদিও খণ্ডিত) লেখা শুরু হল।

আমি যখন মস্কো আসি আমার ওজন তখন মাত্র ৪৩ কেজি। সবাই নিশ্চিত ছিল যে বাংলাদেশ থেকে আসা ১৯ জনের মধ্যে যদি একজনকেও হাসপাতালের ভাত খেতে হয় সেটা হব আমি। কিন্তু দেখা গেল রোগা বিধায় রোগেরা আমাকে দেখতেই পায়নি, কেমনে কেমনে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। আমি ওদের বলতাম, দেখ, রোগেরাও মানুষ, ওরাও আমাদের মতই তেল-ঝাল খেতে পছন্দ করে। আমার এই হাড্ডিতে পা ঝুলিয়ে বসে থেকে ওদের কী লাভ? তাই হাসপাতালের ভাত খেতে আমাকে আরও প্রায় ৩৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আমি হাসপাতালে যাব, যদিও ছিঁচকে রোগ সব সময়ই আমার পাশে পাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। এই সর্দি তো এই কাশি, এই প্রেসার তো এই অন্য কিছু— এককথায় ওরা আমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালবেসে ফেলেছে।

আমার সঙ্গে রোগের বরাবরই বন্ধুত্ব। অন্যদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পেরে না উঠলে আমার ঘাড়ে চেপে বসে। আমি দয়ালু মানুষ, নিজের শরীরে ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দিই। এভাবেই ওদের সঙ্গে আমার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলে বছরের পর বছর। সব সময়ই যে সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবে ঘটে তা নয়। মাঝেমধ্যে ওরাও অক্টোবর বিপ্লব বাঁধিয়ে দেয় আবার শীর্ণ দেহে, কখনও বা আবার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। যুদ্ধ হবে না বিপ্লব হবে সেটা অবশ্য নির্ভর করে আমার শারীরিক সামর্থ্যের ওপর।

যেহেতু আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র তাই অসুখবিসুখকে খুব একটা ঘাঁটাই না, অবস্থা বেগতিক দেখলে ওদের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিই যত্নআত্তির জন্য যেমন করে ছোটবেলায় আমাদের মামাবাড়ি পাঠানো হত। শত হলেও আপন রোগ বলে কথা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ডাক্তারদের আদরে সোহাগে থাকে বলে ওদের ইতিহাসের কলেবর বেড়েই চলে। তাই মাঝেমধ্যে বন্ধুরা যখন জিজ্ঞেস করে
—তুমি এমন স্লিম কেন?
—আমার রোগের ইতিহাস অতিকায় বলে।
—মানে?
—কেন, অস্কার ওয়াইল্ডের ‘দ্য পিকচার অফ ডোরিয়ান গ্রে’ পড়ো নাই? মনে আছে, সেখানে বাসিল নামে এক আর্টিস্ট ডোরিয়ানের একটা ফুল সাইজ ছবি এঁকে দিয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডোরিয়ান যখন বৃদ্ধ হল, অসুখবিসুখে ভুগতে শুরু করল, দেখা গেল ওর সব রোগ, সব বালাই সেই পোর্ট্রেট নিজে নিয়ে নিয়েছে। ফলে ডোরিয়ান সেই আগের মতই যৌবনদীপ্ত থেকে গেছে, যদিও ওর পোর্ট্রেট অসুখবিসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে শুরু করেছে। আমারও সেই অবস্থা। কলেবর বাড়তে বাড়তে আমার রোগের ইতিহাস মহাভারতের আকার ধারণ করেছে আর আমি সেই আগের মতই রয়ে গেছি।

আসলে মুখে যতই হাসিঠাট্টা করি না কেন, অসুখ অসুখই। ওরা নিজেরা মনের আনন্দে আমার শরীরে ঘুরে বেড়ালেও আমার তো কিছু অসুবিধা হয়ই। এত লোকের খাবার যোগানো, সবাইকে সময় মত ঘুম পাড়ানো— সে কি চাট্টিখানি কথা? তাই মাঝেমধ্যে ওদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা কমানোর জন্য আমি ডাক্তারদের দ্বারস্থ হই। সেটা ইদানীং এত ঘন ঘন যে ডাক্তার, বিশেষ করে নার্সরা অনেক দিন আমাকে না দেখলে প্রমাদ গণেন, জিজ্ঞেস করেন এতদিন কোথায় ছিলাম। ভাবখানা এই, এই হাসপাতাল (আমি ওখানে থাকি না, বছরে দুবার ওখানে গিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা নিই) আমার বাড়ি আর বাড়ি— এটা মামাবাড়ি, যেখানে আমি যাই একটু হাওয়া বদলাতে। সেখানে কত লোকের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচয় হয়। এক সময় হাসপাতালকে খুব ভয় করতাম, এখন আর সেটা হয় না। ওখানে মনে হয় কমবেশি সাম্যবাদী পরিবেশ, সবাই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।

গত বছর ডিসেম্বরের শেষে জীবনে প্রথম বারের মত হাসপাতালে থাকি। জরুরি এঞ্জিওগ্রাম করতে হয়েছিল, তাই দু’দিন ওখানে থাকতে হয়েছিল। তখন করোনার প্রকোপ চলছে, হাসপাতালে কেউ একটা যেতে চায় না। আমি যে ওয়ার্ডে ছিলাম, সেখানে মোট পাঁচ জন। জনা দুয়েক আশির কাছাকাছি, আমরা তিনজন পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। সারা দিন বই পড়া ছাড়া কিছুই করার নেই। মানে সকাল থেকে রুটিন করে খাওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া এসব ছাড়া। করোনা বলেই খাবার খেতাম ওয়ার্ডে, যাতে যত কম সম্ভব অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গল্পগুজব করতাম। ওরা যখন জানতেন আমি কসমোলজির ওপর কাজ করছি, বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন, যদি প্রথমে আমার ইনস্টিটিউটের নাম শুনে ভাবতেন আমি হয়তো আণবিক বোমা নিয়ে কাজ করছি। একদিন আমার পাশের বেডের বৃদ্ধের কাঁপুনি দিয়ে সে কী জ্বর। কী করা? নিজেদের কম্বলগুলো দিয়ে তাকে ঢেকে ডাক্তার ডাকলাম। মনেই হল না যে এটা করোনার পূর্বাভাস হতে পারে। আমার বিশ্বাস, যদি বাইরে থাকতাম আর আশপাশে কেউ এমন করতেন, এত সহজে তার কাছে যেতাম না। আসলে বিপদ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে শেখায়। আমরা কখনও কখনও সমুদ্রে বা পাহাড়ে বেড়াতে যাই। সাগরতীরে অনেক লোক থাকেন। তবে পাহাড়ে সবাইকে দেখেছি একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, কোথায় ফোয়ারা আছে সেটা বলেন, রাস্তা দেখিয়ে দেন। আসলে হাসপাতাল পাহাড় না হলেও সেখানে মানুষ বন্ধুর পথ পাড়ি দেন। তাই মনে হয় এমনটা ঘটে।

ওই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলাম। জানি না সেই বৃদ্ধের থেকেই সংক্রমিত হয়েছিলাম কি না, অথবা আদৌ তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। এবার আমরা গেলাম করোনা চিকিৎসায়— রেড জোনে। আট দিন ছিলাম। ওখানে আমরা পঞ্চাশ জনের উপরে ছিলাম। যেহেতু সবাই করানার রোগী তাই মেলামেশায় বাধানিষেধ ছিল না। আমাদের পাশের রুমেই ছিলেন এক ভদ্রলোক, মনে হয় সত্তরের কোটা অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছেন। প্রায়ই সিস্টারদের ডাকতেন। তবে এত রোগীদের দেখভাল করতে গিয়ে সিস্টাররা সঙ্গে সঙ্গে আসতে পারতেন না। আমি নিজেই একাধিক বার তাঁকে ডায়াপার পরতে সাহায্য করেছি। সত্য বলতে কী জীবনে কল্পনা করতে পারিনি আমি এটা করব। হ্যাঁ, ওখানে আমরা সবাই ছিলাম এক নৌকায়— জীবনমরণের মাঝে যে অশান্ত সমুদ্র— সেখানে এলোপাথাড়িভাবে বয়ে চলা এক নৌকায়। আমরা ওখানে থাকতে থাকতেই ওই ভদ্রলোক মারা গেলেন। পাশের রুমেই। কিছুক্ষণ আগেও আমি তাঁকে সাহায্য করেছিলাম। জীবনে এই প্রথম এত কাছ থেকে মৃত্যু দেখলাম। না, প্রথম নয়, দ্বিতীয় বার। এর আগে ২০১৩ সালে মস্কো ফেরার বাসের অপেক্ষা করতে করতে এক লোককে মরে যেতে দেখলাম। হার্ট অ্যাটাক করেছিল। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলেন না ইমারজেন্সির ডাক্তাররা। আসলে হাসপাতালে মৃত্যুটা ততটা অচেনা মনে হয় না, যতটা অন্য কোথাও। ওই ভদ্রলোক মারা গেলেন, আমাদের জীবন ঠিকই চলতে লাগল রুটিনমাফিক।

যাহোক, আমাকে প্রায়ই ক্লিনিকে যেতে হয় বিভিন্ন সমস্যায়। এছাড়া রাশিয়ায় প্রতিবছর আমাদের ওভার অল হেলথ চেকআপ করাতে হয় কাজের থেকে। গত শুক্রবার সেটাই করতে গিয়েছিলাম। অবশ্য গত দুসপ্তাহে এটা দ্বিতীয় বারের মত। যেহেতু আমি দুটো আলাদা ইনস্টিটিউটে কাজ করি, তাই দুই জায়গাতেই রিপোর্ট করতে হয়। হয়তো একটা রিপোর্ট দুজায়গাতেই দেওয়া যায়, তবে ওসব ঝামেলা এড়াতে আমি দুজায়গাতেই চেকআপ করাই। দ্বিতীয়টা অনেকটা কন্ট্রোল শ্যুটের মত। যেহেতু অনেকগুলো ডাক্তার দেখাতে হয় আর এক সঙ্গে অনেক লোক যান তাই ভিড় হয়। ফলে সবাই লাইনে জায়গা রেখে অন্য ডাক্তারের কাছে চলে যান। এভাবে চলে চেয়ার খেলা। আমিও তাই করি। ব্লাড দেবার লাইনে দাঁড়িয়ে মনে হল জেনারেল ফিজিশিয়ানের ওখানেও লাইনে জায়গা রাখা দরকার। এর মধ্যে দাড়িওয়ালা এক লোক এসে জিজ্ঞেস করলেন,
—লাস্ট ম্যান কে?
কোনও উত্তর নেই। কারণ এসব জায়গায় কেউ শেষ হতে চায় না, সবাই প্রথম হতে চায়। তখন আমি এগিয়ে এসে বললাম,
—আমি আপনার পেছনে দাঁড়াব।
—না না, আমি আপনার পেছনে।

কী আর করা। এক দিকে একজন লোকের আগে দাঁড়ানো গেল। কিন্তু সমস্যা হল আমার আগে কে সেটা আমি জানি না। কতবার ভেবেছি লাইনে দাঁড়িয়ে যার পেছনে দাঁড়াই তার একটা ছবি তুলে নেব, কিন্তু সাহস করে কাজটা করা হয়নি। যাহোক, বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে এবার এলাম জেনারেল ফিজিশিয়ানের কাছে। সেই ভদ্রলোক আমাকে দেখে হাতে চাঁদ পেলেন।
—আমাদের সময় হয়ে এসেছে। আপনি কার পেছনে?
দরজার সামনে এক মেয়েকে দেখিয়ে বললাম, এর পেছনে।
—না, আমার পেছনে এই মহিলা। আপনি ভুল করছেন।
—দেখুন, আমি এখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। তবে আপনাদের যদি অসুবিধা হয় আমি নতুন করে দাঁড়াতেও রাজি আছি।

কিন্তু বললেই তো হবে না। ইতিমধ্যে আমি অনেকের জন্য আলোকবর্তিকা। আমার পেছনে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে গেছেন। আমার বদান্যতায় তারা কষ্ট করবেন কেন?

—না না, আপনি ভাল করে ভাবুন, মনে করে দেখুন আপনি কার পেছনে।

মহা মুসকিল তো। আমি এক মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম,
—আপনার পেছনে কে? কেননা আমি যার পেছনে দাঁড়াব বলে ভেবেছিলাম উনি বললেন তার পেছনে একজন আছে। কিন্তু কে আমি দেখিনি, জানি একজনের পরে।
—আমার পেছনে যে ছিল সে চরনিংকায়া মানে কালো।
—কালো? তাহলে সেটা আমি ছাড়া এখানে আর কেউ হতে পারে না।
—না, প্রথমত আমার পেছনে ছিল কালো চুলের মহিলা। আর আপনি মোটেই কালো নন।
আমি কালো নই। ভাবতে খারাপ লাগল না, যদিও এতে সমস্যা বাড়ল বই কমল না। এমন সময় অন্য এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
—যে মহিলা এখন ভেতরে আমি তার পেছনে। আপনি একা হলে আমি আপত্তি করতাম না। কিন্তু আমি তো আপনাকে আগে যেতে দিতে পারি না, তাহলে আমাকে অনেকের পরে দাঁড়াতে হবে। আমার পেছনে যারা, তারাই বা এটা মানবেন কেন?

আমি কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলাম। আসলে দোষ আমার। লোকজনের মুখ মনে রাখতে না পারলে এমন অবস্থায় পড়তেই হয়। ঠিক তখনই এক মহিলা সেই ভদ্রলোককে বললেন,
—আপনি আমার পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন।
—তাই? আমি তো ভেবেছি আমি ওই মহিলার পেছনে?
সবাই হেসে উঠল। সুযোগ পেয়ে আমি বললাম,
—দেখুন, এর পরে লাইনে দাঁড়ালে আমার পেছনে দাঁড়াবেন, তাহলে আর এমন ভুল হবে না।
আবারও হাসির ফোয়ারা।

আসলে সত্যটা হল দোষ আমারই। এখনও পর্যন্ত এমনকি বউ-ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কোথাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি, সব সময় মনে হয় চিনতে পারব তো? কত লোকজন রাস্তাঘাটে হাই-হ্যালো করেন, আমিও মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিই আর তারপর ভাবতে থাকি লোকটা কে? যদিও এর পরে আমিই গেলাম ডাক্তার দেখাতে আর এ নিয়ে কেউ কোনও উচ্চবাচ্য করলেন না, কিন্তু আমি এখনও পর্যন্ত জানি না কে আমার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি কি সত্যি সত্যি কাউকে না ঠকিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছিলাম? এমন ঘটনা আমার সঙ্গে প্রায়ই ঘটে। আমি একা হলে সমস্যা নেই, বসে বসে বই পড়ে সময় কাটিয়ে সবার শেষে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যেতে পারি। কিন্তু আমার পেছনে যারা দাঁড়ান তাদের সেই সময়, সেই সুযোগ নাও তো থাকতে পারে।

Advertisement

ছোটবেলায় পড়া মুখস্থ করার মত এখন দেখছি মানুষের মুখ মুখস্থ করতে হবে!

(দুবনা, ২১ ডিসেম্বর ২০২১)

কভার: blue girls/ চিত্র: লেখক

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৫

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৬

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৭

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৮

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৯

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১০

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »
সুজিত বসু

সুজিত বসুর চারটি কবিতা

কেন বন্ধ ঝরোকাটি, এভাবে কেন যে বন্ধ হয়ে গেল, আমি কি পাতক/ করেছি কোনও, আমি তো শুধুই মুছি স্নেহাতুর রুক্ষ হাতে হাঁসেদের ত্বক/ ধনুকেতে কেউ বুঝি তির জোড়ে প্রার্থনায়, ব্যর্থ যেন না হয় কিছুতে লক্ষ্যভেদ/ আমিও নিশ্চিত জানি এখানেও ব্যর্থ হব, অন্ধকারে মেলে ধরি চোখ/ আবছায়া আঁধারিতে কখন যে স্বর্ণবৃত্তে বিঁধে গেছে অব্যর্থ শায়ক।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »