Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

রাশিয়ার চিরকুট

পর্ব ৪

রোগালয়

সোভিয়েত ইউনিয়নে আর এখন রাশিয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু অনেক কিছুর সাথে একটা ডায়েরি পায়। না, সেটা সেই ডায়েরি নয় যেখানে বাবা-মা অতি যত্ন সহকারে জন্মকালে শিশুর ওজন, উচ্চতা, মাতৃসদন থেকে দেওয়া বিভিন্ন আট্রিবুট, কবে প্রথম দাঁত উঠল, কবে প্রথম পড়ে গেল ইত্যাদি সব টুকিটাকি লিখে রাখে। এ ডায়েরি অন্য ডায়েরি। এটা ইতিহাস। না না, শিশুর ইতিহাস নয়, তার রোগের ইতিহাস। কবে কোন টিকা দেওয়া হল, কখনও জ্বর হয়েছিল কিনা, বা সর্দিকাশি, খাদ্যে এলার্জি— এককথায় শিশুর সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে যেসব রোগ এসে বাসা বাঁধে সেটাই এখানে লেখা হয়। তাই এর নাম রোগের ইতিহাস। প্রথম বছর দুই প্রতিমাসে শিশুকে নিয়ে কম করে হলেও একবার পলিক্লিনিকে হাজিরা দিতে হয়, মাঝেমধ্যে ডাক্তার নিজেই চলে আসেন। এককথায় শিশু যেমন রোগের কাছ থেকে পালাতে পারে না, অসুখবিসুখ আর সেই সঙ্গে শিশু নিজেও ডাক্তারের হাতে জিম্মি থাকে। এরপর সে যখন কিন্ডার গার্টেন বা স্কুলে যায়— সেখান থেকেই ডাক্তার তার খবরাখবর নেন। আর অসুস্থ হয়ে বাসায় থাকলে তাকে ডাক্তার দেখানোর দায়িত্ব বাবা-মার কাঁধে বর্তায়।

আমরা যারা বাংলাদেশের গ্রামে বড় হয়েছি তাদের এসব ঝামেলা ছিল না, অসুখ হলেও যেখানে সবাই ডাক্তার ডাকে না সেখানে শখ করে কে আর ডাক্তার ডাকবে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসার পর আমাদের রাখা হল কারেন্টেইনে, নিয়ে যাওয়া হল পলিক্লিনিকে বিভিন্ন টেস্টের জন্য আর তখনই আমাদের রোগের ইতিহাস (যদিও খণ্ডিত) লেখা শুরু হল।

আমি যখন মস্কো আসি আমার ওজন তখন মাত্র ৪৩ কেজি। সবাই নিশ্চিত ছিল যে বাংলাদেশ থেকে আসা ১৯ জনের মধ্যে যদি একজনকেও হাসপাতালের ভাত খেতে হয় সেটা হব আমি। কিন্তু দেখা গেল রোগা বিধায় রোগেরা আমাকে দেখতেই পায়নি, কেমনে কেমনে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। আমি ওদের বলতাম, দেখ, রোগেরাও মানুষ, ওরাও আমাদের মতই তেল-ঝাল খেতে পছন্দ করে। আমার এই হাড্ডিতে পা ঝুলিয়ে বসে থেকে ওদের কী লাভ? তাই হাসপাতালের ভাত খেতে আমাকে আরও প্রায় ৩৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আমি হাসপাতালে যাব, যদিও ছিঁচকে রোগ সব সময়ই আমার পাশে পাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। এই সর্দি তো এই কাশি, এই প্রেসার তো এই অন্য কিছু— এককথায় ওরা আমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালবেসে ফেলেছে।

আমার সঙ্গে রোগের বরাবরই বন্ধুত্ব। অন্যদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পেরে না উঠলে আমার ঘাড়ে চেপে বসে। আমি দয়ালু মানুষ, নিজের শরীরে ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দিই। এভাবেই ওদের সঙ্গে আমার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলে বছরের পর বছর। সব সময়ই যে সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবে ঘটে তা নয়। মাঝেমধ্যে ওরাও অক্টোবর বিপ্লব বাঁধিয়ে দেয় আবার শীর্ণ দেহে, কখনও বা আবার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। যুদ্ধ হবে না বিপ্লব হবে সেটা অবশ্য নির্ভর করে আমার শারীরিক সামর্থ্যের ওপর।

যেহেতু আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র তাই অসুখবিসুখকে খুব একটা ঘাঁটাই না, অবস্থা বেগতিক দেখলে ওদের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিই যত্নআত্তির জন্য যেমন করে ছোটবেলায় আমাদের মামাবাড়ি পাঠানো হত। শত হলেও আপন রোগ বলে কথা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ডাক্তারদের আদরে সোহাগে থাকে বলে ওদের ইতিহাসের কলেবর বেড়েই চলে। তাই মাঝেমধ্যে বন্ধুরা যখন জিজ্ঞেস করে
—তুমি এমন স্লিম কেন?
—আমার রোগের ইতিহাস অতিকায় বলে।
—মানে?
—কেন, অস্কার ওয়াইল্ডের ‘দ্য পিকচার অফ ডোরিয়ান গ্রে’ পড়ো নাই? মনে আছে, সেখানে বাসিল নামে এক আর্টিস্ট ডোরিয়ানের একটা ফুল সাইজ ছবি এঁকে দিয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডোরিয়ান যখন বৃদ্ধ হল, অসুখবিসুখে ভুগতে শুরু করল, দেখা গেল ওর সব রোগ, সব বালাই সেই পোর্ট্রেট নিজে নিয়ে নিয়েছে। ফলে ডোরিয়ান সেই আগের মতই যৌবনদীপ্ত থেকে গেছে, যদিও ওর পোর্ট্রেট অসুখবিসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে শুরু করেছে। আমারও সেই অবস্থা। কলেবর বাড়তে বাড়তে আমার রোগের ইতিহাস মহাভারতের আকার ধারণ করেছে আর আমি সেই আগের মতই রয়ে গেছি।

আসলে মুখে যতই হাসিঠাট্টা করি না কেন, অসুখ অসুখই। ওরা নিজেরা মনের আনন্দে আমার শরীরে ঘুরে বেড়ালেও আমার তো কিছু অসুবিধা হয়ই। এত লোকের খাবার যোগানো, সবাইকে সময় মত ঘুম পাড়ানো— সে কি চাট্টিখানি কথা? তাই মাঝেমধ্যে ওদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা কমানোর জন্য আমি ডাক্তারদের দ্বারস্থ হই। সেটা ইদানীং এত ঘন ঘন যে ডাক্তার, বিশেষ করে নার্সরা অনেক দিন আমাকে না দেখলে প্রমাদ গণেন, জিজ্ঞেস করেন এতদিন কোথায় ছিলাম। ভাবখানা এই, এই হাসপাতাল (আমি ওখানে থাকি না, বছরে দুবার ওখানে গিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা নিই) আমার বাড়ি আর বাড়ি— এটা মামাবাড়ি, যেখানে আমি যাই একটু হাওয়া বদলাতে। সেখানে কত লোকের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচয় হয়। এক সময় হাসপাতালকে খুব ভয় করতাম, এখন আর সেটা হয় না। ওখানে মনে হয় কমবেশি সাম্যবাদী পরিবেশ, সবাই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।

গত বছর ডিসেম্বরের শেষে জীবনে প্রথম বারের মত হাসপাতালে থাকি। জরুরি এঞ্জিওগ্রাম করতে হয়েছিল, তাই দু’দিন ওখানে থাকতে হয়েছিল। তখন করোনার প্রকোপ চলছে, হাসপাতালে কেউ একটা যেতে চায় না। আমি যে ওয়ার্ডে ছিলাম, সেখানে মোট পাঁচ জন। জনা দুয়েক আশির কাছাকাছি, আমরা তিনজন পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। সারা দিন বই পড়া ছাড়া কিছুই করার নেই। মানে সকাল থেকে রুটিন করে খাওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া এসব ছাড়া। করোনা বলেই খাবার খেতাম ওয়ার্ডে, যাতে যত কম সম্ভব অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গল্পগুজব করতাম। ওরা যখন জানতেন আমি কসমোলজির ওপর কাজ করছি, বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন, যদি প্রথমে আমার ইনস্টিটিউটের নাম শুনে ভাবতেন আমি হয়তো আণবিক বোমা নিয়ে কাজ করছি। একদিন আমার পাশের বেডের বৃদ্ধের কাঁপুনি দিয়ে সে কী জ্বর। কী করা? নিজেদের কম্বলগুলো দিয়ে তাকে ঢেকে ডাক্তার ডাকলাম। মনেই হল না যে এটা করোনার পূর্বাভাস হতে পারে। আমার বিশ্বাস, যদি বাইরে থাকতাম আর আশপাশে কেউ এমন করতেন, এত সহজে তার কাছে যেতাম না। আসলে বিপদ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে শেখায়। আমরা কখনও কখনও সমুদ্রে বা পাহাড়ে বেড়াতে যাই। সাগরতীরে অনেক লোক থাকেন। তবে পাহাড়ে সবাইকে দেখেছি একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, কোথায় ফোয়ারা আছে সেটা বলেন, রাস্তা দেখিয়ে দেন। আসলে হাসপাতাল পাহাড় না হলেও সেখানে মানুষ বন্ধুর পথ পাড়ি দেন। তাই মনে হয় এমনটা ঘটে।

ওই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলাম। জানি না সেই বৃদ্ধের থেকেই সংক্রমিত হয়েছিলাম কি না, অথবা আদৌ তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। এবার আমরা গেলাম করোনা চিকিৎসায়— রেড জোনে। আট দিন ছিলাম। ওখানে আমরা পঞ্চাশ জনের উপরে ছিলাম। যেহেতু সবাই করানার রোগী তাই মেলামেশায় বাধানিষেধ ছিল না। আমাদের পাশের রুমেই ছিলেন এক ভদ্রলোক, মনে হয় সত্তরের কোটা অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছেন। প্রায়ই সিস্টারদের ডাকতেন। তবে এত রোগীদের দেখভাল করতে গিয়ে সিস্টাররা সঙ্গে সঙ্গে আসতে পারতেন না। আমি নিজেই একাধিক বার তাঁকে ডায়াপার পরতে সাহায্য করেছি। সত্য বলতে কী জীবনে কল্পনা করতে পারিনি আমি এটা করব। হ্যাঁ, ওখানে আমরা সবাই ছিলাম এক নৌকায়— জীবনমরণের মাঝে যে অশান্ত সমুদ্র— সেখানে এলোপাথাড়িভাবে বয়ে চলা এক নৌকায়। আমরা ওখানে থাকতে থাকতেই ওই ভদ্রলোক মারা গেলেন। পাশের রুমেই। কিছুক্ষণ আগেও আমি তাঁকে সাহায্য করেছিলাম। জীবনে এই প্রথম এত কাছ থেকে মৃত্যু দেখলাম। না, প্রথম নয়, দ্বিতীয় বার। এর আগে ২০১৩ সালে মস্কো ফেরার বাসের অপেক্ষা করতে করতে এক লোককে মরে যেতে দেখলাম। হার্ট অ্যাটাক করেছিল। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলেন না ইমারজেন্সির ডাক্তাররা। আসলে হাসপাতালে মৃত্যুটা ততটা অচেনা মনে হয় না, যতটা অন্য কোথাও। ওই ভদ্রলোক মারা গেলেন, আমাদের জীবন ঠিকই চলতে লাগল রুটিনমাফিক।

যাহোক, আমাকে প্রায়ই ক্লিনিকে যেতে হয় বিভিন্ন সমস্যায়। এছাড়া রাশিয়ায় প্রতিবছর আমাদের ওভার অল হেলথ চেকআপ করাতে হয় কাজের থেকে। গত শুক্রবার সেটাই করতে গিয়েছিলাম। অবশ্য গত দুসপ্তাহে এটা দ্বিতীয় বারের মত। যেহেতু আমি দুটো আলাদা ইনস্টিটিউটে কাজ করি, তাই দুই জায়গাতেই রিপোর্ট করতে হয়। হয়তো একটা রিপোর্ট দুজায়গাতেই দেওয়া যায়, তবে ওসব ঝামেলা এড়াতে আমি দুজায়গাতেই চেকআপ করাই। দ্বিতীয়টা অনেকটা কন্ট্রোল শ্যুটের মত। যেহেতু অনেকগুলো ডাক্তার দেখাতে হয় আর এক সঙ্গে অনেক লোক যান তাই ভিড় হয়। ফলে সবাই লাইনে জায়গা রেখে অন্য ডাক্তারের কাছে চলে যান। এভাবে চলে চেয়ার খেলা। আমিও তাই করি। ব্লাড দেবার লাইনে দাঁড়িয়ে মনে হল জেনারেল ফিজিশিয়ানের ওখানেও লাইনে জায়গা রাখা দরকার। এর মধ্যে দাড়িওয়ালা এক লোক এসে জিজ্ঞেস করলেন,
—লাস্ট ম্যান কে?
কোনও উত্তর নেই। কারণ এসব জায়গায় কেউ শেষ হতে চায় না, সবাই প্রথম হতে চায়। তখন আমি এগিয়ে এসে বললাম,
—আমি আপনার পেছনে দাঁড়াব।
—না না, আমি আপনার পেছনে।

কী আর করা। এক দিকে একজন লোকের আগে দাঁড়ানো গেল। কিন্তু সমস্যা হল আমার আগে কে সেটা আমি জানি না। কতবার ভেবেছি লাইনে দাঁড়িয়ে যার পেছনে দাঁড়াই তার একটা ছবি তুলে নেব, কিন্তু সাহস করে কাজটা করা হয়নি। যাহোক, বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে এবার এলাম জেনারেল ফিজিশিয়ানের কাছে। সেই ভদ্রলোক আমাকে দেখে হাতে চাঁদ পেলেন।
—আমাদের সময় হয়ে এসেছে। আপনি কার পেছনে?
দরজার সামনে এক মেয়েকে দেখিয়ে বললাম, এর পেছনে।
—না, আমার পেছনে এই মহিলা। আপনি ভুল করছেন।
—দেখুন, আমি এখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। তবে আপনাদের যদি অসুবিধা হয় আমি নতুন করে দাঁড়াতেও রাজি আছি।

কিন্তু বললেই তো হবে না। ইতিমধ্যে আমি অনেকের জন্য আলোকবর্তিকা। আমার পেছনে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে গেছেন। আমার বদান্যতায় তারা কষ্ট করবেন কেন?

—না না, আপনি ভাল করে ভাবুন, মনে করে দেখুন আপনি কার পেছনে।

মহা মুসকিল তো। আমি এক মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম,
—আপনার পেছনে কে? কেননা আমি যার পেছনে দাঁড়াব বলে ভেবেছিলাম উনি বললেন তার পেছনে একজন আছে। কিন্তু কে আমি দেখিনি, জানি একজনের পরে।
—আমার পেছনে যে ছিল সে চরনিংকায়া মানে কালো।
—কালো? তাহলে সেটা আমি ছাড়া এখানে আর কেউ হতে পারে না।
—না, প্রথমত আমার পেছনে ছিল কালো চুলের মহিলা। আর আপনি মোটেই কালো নন।
আমি কালো নই। ভাবতে খারাপ লাগল না, যদিও এতে সমস্যা বাড়ল বই কমল না। এমন সময় অন্য এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
—যে মহিলা এখন ভেতরে আমি তার পেছনে। আপনি একা হলে আমি আপত্তি করতাম না। কিন্তু আমি তো আপনাকে আগে যেতে দিতে পারি না, তাহলে আমাকে অনেকের পরে দাঁড়াতে হবে। আমার পেছনে যারা, তারাই বা এটা মানবেন কেন?

আমি কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলাম। আসলে দোষ আমার। লোকজনের মুখ মনে রাখতে না পারলে এমন অবস্থায় পড়তেই হয়। ঠিক তখনই এক মহিলা সেই ভদ্রলোককে বললেন,
—আপনি আমার পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন।
—তাই? আমি তো ভেবেছি আমি ওই মহিলার পেছনে?
সবাই হেসে উঠল। সুযোগ পেয়ে আমি বললাম,
—দেখুন, এর পরে লাইনে দাঁড়ালে আমার পেছনে দাঁড়াবেন, তাহলে আর এমন ভুল হবে না।
আবারও হাসির ফোয়ারা।

আসলে সত্যটা হল দোষ আমারই। এখনও পর্যন্ত এমনকি বউ-ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কোথাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি, সব সময় মনে হয় চিনতে পারব তো? কত লোকজন রাস্তাঘাটে হাই-হ্যালো করেন, আমিও মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিই আর তারপর ভাবতে থাকি লোকটা কে? যদিও এর পরে আমিই গেলাম ডাক্তার দেখাতে আর এ নিয়ে কেউ কোনও উচ্চবাচ্য করলেন না, কিন্তু আমি এখনও পর্যন্ত জানি না কে আমার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি কি সত্যি সত্যি কাউকে না ঠকিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছিলাম? এমন ঘটনা আমার সঙ্গে প্রায়ই ঘটে। আমি একা হলে সমস্যা নেই, বসে বসে বই পড়ে সময় কাটিয়ে সবার শেষে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যেতে পারি। কিন্তু আমার পেছনে যারা দাঁড়ান তাদের সেই সময়, সেই সুযোগ নাও তো থাকতে পারে।

ছোটবেলায় পড়া মুখস্থ করার মত এখন দেখছি মানুষের মুখ মুখস্থ করতে হবে!

(দুবনা, ২১ ডিসেম্বর ২০২১)

কভার: blue girls/ চিত্র: লেখক

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৫

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৬

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৭

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৮

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৯

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১০

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + 10 =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »