Search
Generic filters
Search
Generic filters

রাশিয়ার চিরকুট

পর্ব ৪

রোগালয়

সোভিয়েত ইউনিয়নে আর এখন রাশিয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু অনেক কিছুর সাথে একটা ডায়েরি পায়। না, সেটা সেই ডায়েরি নয় যেখানে বাবা-মা অতি যত্ন সহকারে জন্মকালে শিশুর ওজন, উচ্চতা, মাতৃসদন থেকে দেওয়া বিভিন্ন আট্রিবুট, কবে প্রথম দাঁত উঠল, কবে প্রথম পড়ে গেল ইত্যাদি সব টুকিটাকি লিখে রাখে। এ ডায়েরি অন্য ডায়েরি। এটা ইতিহাস। না না, শিশুর ইতিহাস নয়, তার রোগের ইতিহাস। কবে কোন টিকা দেওয়া হল, কখনও জ্বর হয়েছিল কিনা, বা সর্দিকাশি, খাদ্যে এলার্জি— এককথায় শিশুর সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরে যেসব রোগ এসে বাসা বাঁধে সেটাই এখানে লেখা হয়। তাই এর নাম রোগের ইতিহাস। প্রথম বছর দুই প্রতিমাসে শিশুকে নিয়ে কম করে হলেও একবার পলিক্লিনিকে হাজিরা দিতে হয়, মাঝেমধ্যে ডাক্তার নিজেই চলে আসেন। এককথায় শিশু যেমন রোগের কাছ থেকে পালাতে পারে না, অসুখবিসুখ আর সেই সঙ্গে শিশু নিজেও ডাক্তারের হাতে জিম্মি থাকে। এরপর সে যখন কিন্ডার গার্টেন বা স্কুলে যায়— সেখান থেকেই ডাক্তার তার খবরাখবর নেন। আর অসুস্থ হয়ে বাসায় থাকলে তাকে ডাক্তার দেখানোর দায়িত্ব বাবা-মার কাঁধে বর্তায়।

আমরা যারা বাংলাদেশের গ্রামে বড় হয়েছি তাদের এসব ঝামেলা ছিল না, অসুখ হলেও যেখানে সবাই ডাক্তার ডাকে না সেখানে শখ করে কে আর ডাক্তার ডাকবে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসার পর আমাদের রাখা হল কারেন্টেইনে, নিয়ে যাওয়া হল পলিক্লিনিকে বিভিন্ন টেস্টের জন্য আর তখনই আমাদের রোগের ইতিহাস (যদিও খণ্ডিত) লেখা শুরু হল।

আমি যখন মস্কো আসি আমার ওজন তখন মাত্র ৪৩ কেজি। সবাই নিশ্চিত ছিল যে বাংলাদেশ থেকে আসা ১৯ জনের মধ্যে যদি একজনকেও হাসপাতালের ভাত খেতে হয় সেটা হব আমি। কিন্তু দেখা গেল রোগা বিধায় রোগেরা আমাকে দেখতেই পায়নি, কেমনে কেমনে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। আমি ওদের বলতাম, দেখ, রোগেরাও মানুষ, ওরাও আমাদের মতই তেল-ঝাল খেতে পছন্দ করে। আমার এই হাড্ডিতে পা ঝুলিয়ে বসে থেকে ওদের কী লাভ? তাই হাসপাতালের ভাত খেতে আমাকে আরও প্রায় ৩৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আমি হাসপাতালে যাব, যদিও ছিঁচকে রোগ সব সময়ই আমার পাশে পাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। এই সর্দি তো এই কাশি, এই প্রেসার তো এই অন্য কিছু— এককথায় ওরা আমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালবেসে ফেলেছে।

আমার সঙ্গে রোগের বরাবরই বন্ধুত্ব। অন্যদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পেরে না উঠলে আমার ঘাড়ে চেপে বসে। আমি দয়ালু মানুষ, নিজের শরীরে ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দিই। এভাবেই ওদের সঙ্গে আমার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলে বছরের পর বছর। সব সময়ই যে সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবে ঘটে তা নয়। মাঝেমধ্যে ওরাও অক্টোবর বিপ্লব বাঁধিয়ে দেয় আবার শীর্ণ দেহে, কখনও বা আবার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। যুদ্ধ হবে না বিপ্লব হবে সেটা অবশ্য নির্ভর করে আমার শারীরিক সামর্থ্যের ওপর।

যেহেতু আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র তাই অসুখবিসুখকে খুব একটা ঘাঁটাই না, অবস্থা বেগতিক দেখলে ওদের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিই যত্নআত্তির জন্য যেমন করে ছোটবেলায় আমাদের মামাবাড়ি পাঠানো হত। শত হলেও আপন রোগ বলে কথা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ডাক্তারদের আদরে সোহাগে থাকে বলে ওদের ইতিহাসের কলেবর বেড়েই চলে। তাই মাঝেমধ্যে বন্ধুরা যখন জিজ্ঞেস করে
—তুমি এমন স্লিম কেন?
—আমার রোগের ইতিহাস অতিকায় বলে।
—মানে?
—কেন, অস্কার ওয়াইল্ডের ‘দ্য পিকচার অফ ডোরিয়ান গ্রে’ পড়ো নাই? মনে আছে, সেখানে বাসিল নামে এক আর্টিস্ট ডোরিয়ানের একটা ফুল সাইজ ছবি এঁকে দিয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডোরিয়ান যখন বৃদ্ধ হল, অসুখবিসুখে ভুগতে শুরু করল, দেখা গেল ওর সব রোগ, সব বালাই সেই পোর্ট্রেট নিজে নিয়ে নিয়েছে। ফলে ডোরিয়ান সেই আগের মতই যৌবনদীপ্ত থেকে গেছে, যদিও ওর পোর্ট্রেট অসুখবিসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে শুরু করেছে। আমারও সেই অবস্থা। কলেবর বাড়তে বাড়তে আমার রোগের ইতিহাস মহাভারতের আকার ধারণ করেছে আর আমি সেই আগের মতই রয়ে গেছি।

আসলে মুখে যতই হাসিঠাট্টা করি না কেন, অসুখ অসুখই। ওরা নিজেরা মনের আনন্দে আমার শরীরে ঘুরে বেড়ালেও আমার তো কিছু অসুবিধা হয়ই। এত লোকের খাবার যোগানো, সবাইকে সময় মত ঘুম পাড়ানো— সে কি চাট্টিখানি কথা? তাই মাঝেমধ্যে ওদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা কমানোর জন্য আমি ডাক্তারদের দ্বারস্থ হই। সেটা ইদানীং এত ঘন ঘন যে ডাক্তার, বিশেষ করে নার্সরা অনেক দিন আমাকে না দেখলে প্রমাদ গণেন, জিজ্ঞেস করেন এতদিন কোথায় ছিলাম। ভাবখানা এই, এই হাসপাতাল (আমি ওখানে থাকি না, বছরে দুবার ওখানে গিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা নিই) আমার বাড়ি আর বাড়ি— এটা মামাবাড়ি, যেখানে আমি যাই একটু হাওয়া বদলাতে। সেখানে কত লোকের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচয় হয়। এক সময় হাসপাতালকে খুব ভয় করতাম, এখন আর সেটা হয় না। ওখানে মনে হয় কমবেশি সাম্যবাদী পরিবেশ, সবাই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।

গত বছর ডিসেম্বরের শেষে জীবনে প্রথম বারের মত হাসপাতালে থাকি। জরুরি এঞ্জিওগ্রাম করতে হয়েছিল, তাই দু’দিন ওখানে থাকতে হয়েছিল। তখন করোনার প্রকোপ চলছে, হাসপাতালে কেউ একটা যেতে চায় না। আমি যে ওয়ার্ডে ছিলাম, সেখানে মোট পাঁচ জন। জনা দুয়েক আশির কাছাকাছি, আমরা তিনজন পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। সারা দিন বই পড়া ছাড়া কিছুই করার নেই। মানে সকাল থেকে রুটিন করে খাওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া এসব ছাড়া। করোনা বলেই খাবার খেতাম ওয়ার্ডে, যাতে যত কম সম্ভব অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গল্পগুজব করতাম। ওরা যখন জানতেন আমি কসমোলজির ওপর কাজ করছি, বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন, যদি প্রথমে আমার ইনস্টিটিউটের নাম শুনে ভাবতেন আমি হয়তো আণবিক বোমা নিয়ে কাজ করছি। একদিন আমার পাশের বেডের বৃদ্ধের কাঁপুনি দিয়ে সে কী জ্বর। কী করা? নিজেদের কম্বলগুলো দিয়ে তাকে ঢেকে ডাক্তার ডাকলাম। মনেই হল না যে এটা করোনার পূর্বাভাস হতে পারে। আমার বিশ্বাস, যদি বাইরে থাকতাম আর আশপাশে কেউ এমন করতেন, এত সহজে তার কাছে যেতাম না। আসলে বিপদ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে শেখায়। আমরা কখনও কখনও সমুদ্রে বা পাহাড়ে বেড়াতে যাই। সাগরতীরে অনেক লোক থাকেন। তবে পাহাড়ে সবাইকে দেখেছি একে অন্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, কোথায় ফোয়ারা আছে সেটা বলেন, রাস্তা দেখিয়ে দেন। আসলে হাসপাতাল পাহাড় না হলেও সেখানে মানুষ বন্ধুর পথ পাড়ি দেন। তাই মনে হয় এমনটা ঘটে।

ওই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলাম। জানি না সেই বৃদ্ধের থেকেই সংক্রমিত হয়েছিলাম কি না, অথবা আদৌ তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। এবার আমরা গেলাম করোনা চিকিৎসায়— রেড জোনে। আট দিন ছিলাম। ওখানে আমরা পঞ্চাশ জনের উপরে ছিলাম। যেহেতু সবাই করানার রোগী তাই মেলামেশায় বাধানিষেধ ছিল না। আমাদের পাশের রুমেই ছিলেন এক ভদ্রলোক, মনে হয় সত্তরের কোটা অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছেন। প্রায়ই সিস্টারদের ডাকতেন। তবে এত রোগীদের দেখভাল করতে গিয়ে সিস্টাররা সঙ্গে সঙ্গে আসতে পারতেন না। আমি নিজেই একাধিক বার তাঁকে ডায়াপার পরতে সাহায্য করেছি। সত্য বলতে কী জীবনে কল্পনা করতে পারিনি আমি এটা করব। হ্যাঁ, ওখানে আমরা সবাই ছিলাম এক নৌকায়— জীবনমরণের মাঝে যে অশান্ত সমুদ্র— সেখানে এলোপাথাড়িভাবে বয়ে চলা এক নৌকায়। আমরা ওখানে থাকতে থাকতেই ওই ভদ্রলোক মারা গেলেন। পাশের রুমেই। কিছুক্ষণ আগেও আমি তাঁকে সাহায্য করেছিলাম। জীবনে এই প্রথম এত কাছ থেকে মৃত্যু দেখলাম। না, প্রথম নয়, দ্বিতীয় বার। এর আগে ২০১৩ সালে মস্কো ফেরার বাসের অপেক্ষা করতে করতে এক লোককে মরে যেতে দেখলাম। হার্ট অ্যাটাক করেছিল। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারলেন না ইমারজেন্সির ডাক্তাররা। আসলে হাসপাতালে মৃত্যুটা ততটা অচেনা মনে হয় না, যতটা অন্য কোথাও। ওই ভদ্রলোক মারা গেলেন, আমাদের জীবন ঠিকই চলতে লাগল রুটিনমাফিক।

যাহোক, আমাকে প্রায়ই ক্লিনিকে যেতে হয় বিভিন্ন সমস্যায়। এছাড়া রাশিয়ায় প্রতিবছর আমাদের ওভার অল হেলথ চেকআপ করাতে হয় কাজের থেকে। গত শুক্রবার সেটাই করতে গিয়েছিলাম। অবশ্য গত দুসপ্তাহে এটা দ্বিতীয় বারের মত। যেহেতু আমি দুটো আলাদা ইনস্টিটিউটে কাজ করি, তাই দুই জায়গাতেই রিপোর্ট করতে হয়। হয়তো একটা রিপোর্ট দুজায়গাতেই দেওয়া যায়, তবে ওসব ঝামেলা এড়াতে আমি দুজায়গাতেই চেকআপ করাই। দ্বিতীয়টা অনেকটা কন্ট্রোল শ্যুটের মত। যেহেতু অনেকগুলো ডাক্তার দেখাতে হয় আর এক সঙ্গে অনেক লোক যান তাই ভিড় হয়। ফলে সবাই লাইনে জায়গা রেখে অন্য ডাক্তারের কাছে চলে যান। এভাবে চলে চেয়ার খেলা। আমিও তাই করি। ব্লাড দেবার লাইনে দাঁড়িয়ে মনে হল জেনারেল ফিজিশিয়ানের ওখানেও লাইনে জায়গা রাখা দরকার। এর মধ্যে দাড়িওয়ালা এক লোক এসে জিজ্ঞেস করলেন,
—লাস্ট ম্যান কে?
কোনও উত্তর নেই। কারণ এসব জায়গায় কেউ শেষ হতে চায় না, সবাই প্রথম হতে চায়। তখন আমি এগিয়ে এসে বললাম,
—আমি আপনার পেছনে দাঁড়াব।
—না না, আমি আপনার পেছনে।

কী আর করা। এক দিকে একজন লোকের আগে দাঁড়ানো গেল। কিন্তু সমস্যা হল আমার আগে কে সেটা আমি জানি না। কতবার ভেবেছি লাইনে দাঁড়িয়ে যার পেছনে দাঁড়াই তার একটা ছবি তুলে নেব, কিন্তু সাহস করে কাজটা করা হয়নি। যাহোক, বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে এবার এলাম জেনারেল ফিজিশিয়ানের কাছে। সেই ভদ্রলোক আমাকে দেখে হাতে চাঁদ পেলেন।
—আমাদের সময় হয়ে এসেছে। আপনি কার পেছনে?
দরজার সামনে এক মেয়েকে দেখিয়ে বললাম, এর পেছনে।
—না, আমার পেছনে এই মহিলা। আপনি ভুল করছেন।
—দেখুন, আমি এখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। তবে আপনাদের যদি অসুবিধা হয় আমি নতুন করে দাঁড়াতেও রাজি আছি।

কিন্তু বললেই তো হবে না। ইতিমধ্যে আমি অনেকের জন্য আলোকবর্তিকা। আমার পেছনে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে গেছেন। আমার বদান্যতায় তারা কষ্ট করবেন কেন?

—না না, আপনি ভাল করে ভাবুন, মনে করে দেখুন আপনি কার পেছনে।

মহা মুসকিল তো। আমি এক মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম,
—আপনার পেছনে কে? কেননা আমি যার পেছনে দাঁড়াব বলে ভেবেছিলাম উনি বললেন তার পেছনে একজন আছে। কিন্তু কে আমি দেখিনি, জানি একজনের পরে।
—আমার পেছনে যে ছিল সে চরনিংকায়া মানে কালো।
—কালো? তাহলে সেটা আমি ছাড়া এখানে আর কেউ হতে পারে না।
—না, প্রথমত আমার পেছনে ছিল কালো চুলের মহিলা। আর আপনি মোটেই কালো নন।
আমি কালো নই। ভাবতে খারাপ লাগল না, যদিও এতে সমস্যা বাড়ল বই কমল না। এমন সময় অন্য এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,
—যে মহিলা এখন ভেতরে আমি তার পেছনে। আপনি একা হলে আমি আপত্তি করতাম না। কিন্তু আমি তো আপনাকে আগে যেতে দিতে পারি না, তাহলে আমাকে অনেকের পরে দাঁড়াতে হবে। আমার পেছনে যারা, তারাই বা এটা মানবেন কেন?

আমি কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলাম। আসলে দোষ আমার। লোকজনের মুখ মনে রাখতে না পারলে এমন অবস্থায় পড়তেই হয়। ঠিক তখনই এক মহিলা সেই ভদ্রলোককে বললেন,
—আপনি আমার পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন।
—তাই? আমি তো ভেবেছি আমি ওই মহিলার পেছনে?
সবাই হেসে উঠল। সুযোগ পেয়ে আমি বললাম,
—দেখুন, এর পরে লাইনে দাঁড়ালে আমার পেছনে দাঁড়াবেন, তাহলে আর এমন ভুল হবে না।
আবারও হাসির ফোয়ারা।

আসলে সত্যটা হল দোষ আমারই। এখনও পর্যন্ত এমনকি বউ-ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কোথাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি, সব সময় মনে হয় চিনতে পারব তো? কত লোকজন রাস্তাঘাটে হাই-হ্যালো করেন, আমিও মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিই আর তারপর ভাবতে থাকি লোকটা কে? যদিও এর পরে আমিই গেলাম ডাক্তার দেখাতে আর এ নিয়ে কেউ কোনও উচ্চবাচ্য করলেন না, কিন্তু আমি এখনও পর্যন্ত জানি না কে আমার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি কি সত্যি সত্যি কাউকে না ঠকিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছিলাম? এমন ঘটনা আমার সঙ্গে প্রায়ই ঘটে। আমি একা হলে সমস্যা নেই, বসে বসে বই পড়ে সময় কাটিয়ে সবার শেষে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যেতে পারি। কিন্তু আমার পেছনে যারা দাঁড়ান তাদের সেই সময়, সেই সুযোগ নাও তো থাকতে পারে।

ছোটবেলায় পড়া মুখস্থ করার মত এখন দেখছি মানুষের মুখ মুখস্থ করতে হবে!

(দুবনা, ২১ ডিসেম্বর ২০২১)

কভার: blue girls/ চিত্র: লেখক

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৫

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৬

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৭

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৮

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ৯

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১০

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১১

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১২

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৩

রাশিয়ার চিরকুট পর্ব ১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »