Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রকৃতিপাঠ: বসন্তের শ্বেত শিমুল

শ্বেত শিমুল বা সাদা শিমুল বৃহৎ বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Ceiba pentandra, সমনাম Bombax pentadru, এটি Malvaceae পরিবারের এবং Bombacoideae উপ-পরিবারের উদ্ভিদ। ইংরেজিতে java cotton, Java kapok, White silk cotton tree, silk-cotton, Kapok, Samauma, Ceiba, Kutashalmali ইত্যাদি নামে পরিচিত। সাদা শিমুলের তুলো এবং বীজের উপযোগিতা রয়েছে। সেইসঙ্গে পরম্পরাগত চিকিৎসায় এই শ্বেত শিমুল গাছের ছালের ক্বাথ মূত্রবর্ধক ও কামোদ্দীপক হিসাবে, মাথাব্যথা এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্যও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সাধারণত আমরা যে লাল শিমুল দেখি, তার সঙ্গে এই শ্বেত শিমুলের পার্থক্য অনেক। এই গাছের গায়ের রং সবুজ বা সবুজাভ। ফুল সাদা ও অপেক্ষাকৃত ছোট। উদ্ভিদটির আদি নিবাস মেক্সিকো, মধ্য-আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ থেকে পশ্চিম আফ্রিকার উষ্ণপ্রধান অঞ্চল। আফ্রিকা ও এশিয়ার নানা অংশেও এর দেখা মেলে। বড় শ্বেত শিমুল গাছের ঠেকনামূল নজরে আসে। গাছটি প্রায় ২৩০ ফুট লম্বা হতে পারে এবং মাটিতে ঠেস দেয়া কাণ্ডের ব্যাস প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

চিত্র: লেখক

প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশে সাদা শিমুল খুবই কম দেখা যায়। বিভিন্ন পার্ক বা উদ্যানে শ্বেত শিমুল গাছের দেখা মেলে। সঙ্গের ছবি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র তীরের শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যান থেকে তোলা। বসন্তে শ্বেত শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ফুলগুলি বেশ ছোট আকারের, শ্বেতশুভ্র ফুল গাছের পাতার সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে যে দূর থেকে ফুল চেনার কোনও উপায় থাকে না। সাদা শিমুলের ফুল ২.৫ সেমি পর্যন্ত চওড়া হয়। গাছের নিচে গেলে দেখতে পাবেন ঝরা ফুলের মেলা। শ্বেত শিমুল গাছে ৫ থেকে ৯টি পত্রিকা নিয়ে করতলাকারভাবে বিন্যস্ত পাতা থাকে, যা ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

শ্বেত শিমুল বাণিজ্যিকভাবে এশিয়ার বৃষ্টিঅরণ্যে, বিশেষ করে জাভাতে, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং চিনের হাইনান দ্বীপ, পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। মৌমাছি এবং বাদুড়ের কাছে এই ফুলের মধু অমৃতসমান এবং এরা পরাগমিলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাদুড়রাই রাতে প্রস্ফুটিত ফুলের প্রাথমিক পরাগায়নকারী। এর তন্তু বা তুলে খুব হালকা, স্থিতিস্থাপক, জলপ্রতিরোধী, কিন্তু অত্যন্ত দাহ্য। অনেক জায়গায় এর তুলো গদি, বালিশ, গৃহসজ্জার সামগ্রী, টেডি বিয়ারের মত খেলনায় সিন্থেটিক ফাইবারের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি অতীতে এর তুলো লাইফ জ্যাকেট এবং অনুরূপ জিনিসে ব্যবহৃত হত। বীজগুলি থেকে তৈরি তেল যা স্থানীয়ভাবে সাবানে ব্যবহৃত হয় এবং সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিত্র্: লেখক

শ্বেত শিমুল বা সাদা শিমুলের ফল ৭ থেকে ১২ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। ফলের ভেতর বীজ সাদা তুলায় জড়ানো থাকে। এর মূল্যবান তুলোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে বাণিজ্যিকভাবে শ্বেত শিমুল গাছ লাগানো হয়। এর বীজও অত্যন্ত দামি ও কার্যকরী। বীজের তেলের আয়োডিন ভ্যালু ৮৫-১০০। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বীজের তেল উৎপাদন করা হয়। বায়োফুয়েল আর রং প্রক্রিয়াজাতকরণে এই তেল কাজে লাগে। শ্বেত শিমুলের গাছের বাকল ভেষজ ঔষধে কাজে লাগে। আর মায়ানমারের মিথ অনুযায়ী, শ্বেত শিমুল পবিত্র বৃক্ষ। গুয়াতেমালা ও পুয়ের্তো রিকোর জাতীয় বৃক্ষও শ্বেত শিমুল।

চিত্র : গুগল

প্রকৃতিপাঠ : বিলুপ্তপ্রায় কর্পূর গাছ

প্রকৃতিপাঠ: স্নিগ্ধ ছায়ার তমাল গাছ

প্রকৃতিপাঠ: দৃষ্টিনন্দন ও সুগন্ধী নাগলিঙ্গম

প্রকৃতিপাঠ: খইয়ে বাবলা ফলের গাছ

প্রকৃতিপাঠ: চিনেবাদাম চিনে নিন

প্রকৃতিপাঠ: রসময়ী খেজুর গাছ

প্রকৃতিপাঠ: তাহার নামটি রঞ্জনা

প্রকৃতিপাঠ: উপকারী সোনাপাতা

প্রকৃতিপাঠ: পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় বৃক্ষ ছাতিম

প্রকৃতিপাঠ: এখন অশোক ফোটার দিন

প্রকৃতিপাঠ: ফলসার বহুবিধ গুণ

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »