Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

নিমাই জানার কবিতাগুচ্ছ

নয়নতারা ফুল ও অবৈধ পোশাক

নাভিমণ্ডলের মত কুঞ্চিত পরজীবীরা কখনও অবৈধ পোশাক পরে কূর্ম অবতার ক্ষেত্রে নেমে আসে না
নর্তক হয়ে যায় সকলের পশ্চিমবাড় অবয়বগুলো, প্যারালাল হাঁটে মিথোজীবীরা প্রিম্যাচিওর শাঁখের ভেতর
বুদ্ধ বসে আছেন সহস্র লোহিত কণিকা ভেঙে, ঈশ্বরের গায়ে কখনও লোহিত কণিকার নিউক্লিয়াস জীবনচক্র থাকে না
ধুম্র পাহাড়ের দিকে উড়ে যাই আমি তৃতীয় লিঙ্গের উপর বসে থেকে একটি ভৌতিক চিহ্নকে দেখে ফেলি মধ্য কশেরুকা বরাবর, কতবার মায়ের গর্ভপাতের পরও একটি হিমোফিলিক ভ্রূণ উঠে আসে এই নদীর ভ্যাজাইনা বরাবর, এরপর আমাদেরও একবার শীঘ্রপতন দেখা দিয়েছিল আদিম প্রস্তর যুগের শেষে,
বিভাজিত বাঁশির ডান কর্ণকুহর খোলা রেখে আসার পর আমরা গভীর রাতের শাঁখ না বাজিয়ে যান্ত্রিক পুরুষটিকে ছুঁয়ে দেখেছি
রাসায়নিক চিহ্ন বলে কিছুই নেই, শুধু একটি ভৌতিক রন্ধনশালার পাশে আমাদের সাডেন রিভাইভাল
নরম শস্যকণিকা ছড়িয়ে দিয়েছি নতুন অঙ্কুরোদগমের জন্য, একটি হলুদ রঙের সেবায়েত তিনটি মাটির হাঁড়ি মাথার কাছে রেখে অপলক জিওগ্রাফিক্যাল রিপ্রেজেন্টেশন বাজিয়ে চলেছে অব্যবহিত হওয়ার পরে
মাইটোসিসের বসন্ত স্ত্রীলোকেরা কিলবিল করছে শৌচ রাতের পর, সাদা রঙের সাইকেল নারীটি একবার কাঁটা কম্পাস দিয়ে ঠোঁটের দৈর্ঘ্য মেপে নেয়,
আমাদের শরীরের জীবাশ্মরা হঠাৎ জিরাফ হয়ে গেছে

জিরাফ ও নীল অক্ষাংশের গর্ভাশয়

বাবার মত প্রতিটি পুরুষকে বৈধ হয়ে উঠতে তিন ঘণ্টা ৪৬ মিনিট লেগে ছিল মাত্র
আমি তখন একটি সেবাসদনের নিচে নীল ভৌগোলিক অক্ষাংশের ঘোড়াগুলোকে দক্ষিণ মেরুতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম বৃষ্টিতে ভেজার পর
পোশাক কখনও গ্রানাইট নয়, আমি অসংখ্য গ্রানাইটের ভেতর মূলরোম আর বাঁশ পাতার পর্বমধ্যের ত্রিবিধ ফার্টিলাইজেশন দেখেছিলাম গর্ভাশয়ের পিচ্ছিল পিঠের ওপর দাঁড়িয়ে
যারা আমাকে হত্যা করার পর বিছানায় ফেলে যায় আমার খোলস, সে-ও অস্বীকার করে আমার হাতের তৃতীয় আঙুলে একটি ঋণাত্মক কচ্ছপের দেহ আটকে ছিল প্রায় ৩৫ বছর, স্বরভঙ্গের নিঝুম নারী কৌশিকী আঁচলের ওপর পারানি ফেলে পেরিয়ে গেছে পারলৌকিক ঘাট
প্রতিদিন পরজীবীরা আমাকে আঁকড়ে ধরে রাত্রির মধ্যে, লুকোচুরি খেলতে খেলতেই বাঁশগাছের শেকড়ে থাকা অবৈধ কণিকা খেয়ে ফেলি পচন বীর্যের মত একবুক জলে দাঁড়িয়ে, একটি পুরুষ মানুষ কখনওই যৌনক্রিয়া করতে সম্ভব নয় যদি ফল দোকানের কালো রঙের আঙুরগুচ্ছ গর্ভাশয় না আলগা করে দিত বিষাক্ত পাখিদের মত,
নিজের ধারালো মুখগহ্বর আটকে চলি ত্রিভুজ বিষয়ক তরোয়াল দিয়ে, ত্রিকোণমিতিক কোকিলেরা শ্মশানঘাটে নেমে ফেলে যাবে পরজীবী ফিজিওলজির মার্কণ্ডেয় পুরাণ
আমাদের ককসিস ভাঙা টুকরোগুলো ভৈরবী সুর বাজিয়ে জড়ো করবে আমার শ্রীরাধাক্ষেত্র মৃৎশিল্পীর মত
জন্মদিনের পর আমার ক্যানাইন দাঁতগুলো অস্থির নিমের ডগা কামড়ে ধরে সরল গুণিতকের মত,
একটি সাদা রঙের জিরাফ গ্রানাইটের অন্তর্বাস ঠোঁটে নিয়ে ভঙ্গিল মোম জ্বালছে পিচ্ছিল নৌকার উপর বসে
আমি ৩৪টি বেলপাতা ভক্ষণ করে অনুপম সমাধি হয়ে গেছি

আগ্নেয় ঈশ্বর ও মদন বিষয়ক গণিত

অশরীরী হয়ে যাওয়ার পর আমাদের একবার কঠিন গাণিতিক জ্বর এসেছিল এমলোডিপিন রাত্রির মধ্যপ্রহর শেষে

আমরা সকলেই মদন বিষয়ক কবিতাগুলোর তৃতীয় পৃষ্ঠার বাগান ও জবা ফুলের হলুদ করিডর ধরে নেমে গেছি দ্রুমদল জলী গোপীনাথপুরের দিকে
এখানের প্রতিটি মানুষ জীবিত ও বৈধ চৌখুপী বারান্দার নিচে ধুলোময় হেলেসাপের গলনাঙ্কগুলোকে আগুনের ফ্যালোপিয়ানে ঝুলিয়ে রাখে রেট্রোভাইরাস আলনা থেকে

স্বরবর্ণ ভেজানো আঙিনার নিচে বসিয়ে রাখা আছে দৈবাৎ পুরুষের মত নাভিকুণ্ড প্রচ্ছদ, আগ্নেয় ঈশ্বরের শ্বেত প্রবর অঞ্চলের কত গভীরে গেলে হত্যা করে ফিরে আসা যায় ফিরদৌস নাবিককে
আমি একটি পীতবিন্দুর হত্যা চেয়েছিলাম মধ্যশতকের শেষে
আমি নিজেকে সযত্নে মৃত্যুর দণ্ড প্রদান করি, আরও নৈরাশ্য সুখের পর পাপী করে তুলি নিজেকে
ঈশ্বর বানপ্রস্থ চাইছেন সমান্তরাল রাশি বিন্যাসের বেলপাতায় দাঁড়িয়ে আমি গুহা থেকে বেরিয়ে আসা ইবন বতুতা,

একটি জীবিত পাথরের ভেতর স্তন্যপায়ীর মূলরোম উড়ছে জোনাকির শ্বাসবায়ু নিয়ে

বৈতরণী শুক্র ও ত্রিভুজের গর্ভাশয়

অজস্র কাচখণ্ড জিভে রাখার পর বাম স্তনবৃন্তের টুকরো খেতে ভাল লাগে না আর,

আমি শুধু রজনীগন্ধার গর্ভকেশর পকেটে রাখি,
জিওমেট্রিক সুবাস নিয়েই প্রতিটি রাতে রতিক্রিয়ার নাটক করে চলি, একটি মানবী মুখ শুকতারা হয়ে নেমে আসছে ত্রিভুজের মধ্যবিন্দুর দিকে, আমাদের কারও এখনও জন্মের বয়স হয়নি

কাকে স্বয়ম্বর সভায় দেখে আমি রোজ আঁতকে উঠি, গান্ধারী কখনও নিজের পোশাক খুলে দেখেন না রতিচক্রের পর, স্বয়ম্বর সভার জন্য ঈশ্বর বারবার রজঃস্বলা দাগ মুছে দিয়েছেন এই আনন্দ নিকেতনে এসে, পাপীরা হোমাগ্নির সোমরস খায়
বিদুর সব উপনিষদ আলগা করে রেখেছেন রাধামাধবের কাছে
একটি কঙ্কাল রঙের ভৌতিক নারীকে দেখেই তার অবয়ব আঁকার চেষ্টা করেছি পঞ্চান্ন অসুখের হাঁমুখের ভেতর লম্ব দাঁড়িয়ে
আমি কতবার ক্ষুদ্রাকার মানুষগুলোকে হেঁটে যেতে দেখেছি বিষন্ন কশেরুকা মাথায় দিয়ে, সকলের ঠোঁটে রক্ত ঝরে পড়ছে লোহিত কণিকার মত, আমি এখনও বিসর্গ সন্ধিকে ভয় পাই

আপেল বাগানের সব সাপেরাই অশ্বিনীকুমারকে ফেলে যায়, আমি শুধু তরল পাথরকে জড়িয়ে ধরি মায়ের জলপট্টি গর্ভাশয়ে দাঁড়িয়ে

Advertisement

তৃতীয় লিঙ্গের বিছানা ও প্রাচীন দারুশিল্প

প্রতিটি রাত্রি, তৃণভোজী মানুষগুলোকে আরও ক্ষুদ্রতম করে দেয় বিছানায় পেতে রাখা নরম পাশবালিশের মত

পেন্সিল কম্পাস আর আমার জীবিত বিছানাটি তৈরি করে রেখে যায় কোন এক প্রাচীন ওডিসীয় তৃতীয় লিঙ্গের নারী
যাদের একবার মাইক্রন দৈর্ঘ্যের জ্বর এসেছিল ভ্যাসেকটমি হওয়ার পর, একটি অশ্লীল ক্ষেত্রের বায়বীয় পরজীবী হয়ে বুকের ওপর দাঁড়িয়ে দেখেছি প্রতিটি রাতের অন্ধকারের মানুষগুলো নৈঋত বর্ণ মেখে উড়ে উড়ে আসে কঙ্কালময় দুটো সঙ্গমরত ময়ূরের দিকে, কে কাকে আগুন হাতে ছুঁয়ে যায় অশৌচের মত,

আমি ৩৬ দৈর্ঘ্যের বুকের ওপর দাঁড়িয়ে দেখেছি মানুষগুলো আবারও ফিরে আসে আমার সোনালি চৌকাঠে চিৎ হয়ে,
হরিণ আর ঘোড়া সকলেই রূপক চিন্ময়ী আত্মামাত্র, আমি নিজেকেই প্রতিদিন হত্যা করি নিরাভরণ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে, কুহক অন্ধকারে কৃষ্ণ শাড়ির মত ফেলে গেছে আমাকে নিশাচরের পিঠে, আমি খুঁজে বেড়াই হন্তারক পাখির ধারালো তরোয়াল
ঈশ্বর আমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ কেটে দিয়েছেন দারুশিল্পের বাগান ভেবে

মেহগনি কাঠের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটি শুভ্র জ্যোৎস্না মহাকাশে কাকে খুঁজে বেড়ায় লৌকিক পরিচ্ছদ পরে বাবা আসলে রাতের অন্ধকারে মুখে দিলেই কাল্পনিক একটি ভগ্নাংশ হয়ে যায় আমাদের তখন আটিভান ঘরের ঘুম থাকে না কোনওমতেই আমরা আগুনের পর্বমধ্য খুঁজেছি বারংবার
এক সুগন্ধী কালপুরুষ এসে জড়িয়ে ধরে আমার লালাভ সোমাটোট্রফিক হরমোন

পরকীয়া বাঁশির ভেতর সন্ন্যাস থাকে, কোনও প্রস্থচ্ছেদ থাকে না

ঊর্ধ্বমুখী জানালা ও প্রতিবন্ধী নোঙর

প্রতিটি মরচে রঙের স্তনময় জানালার কাছে গিয়ে দেখেছি জানালার ইনটেস্টাইনে দুইমুখ খোলা ষোড়শীরা পারদের ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্কে দ্রবীভূত হয়ে যাচ্ছে বৈবর্ত পুরাণের ছদ্মবেশ পাতাবাহার তলায়
আমি পরকীয়া নারীর হলুদ প্রতিবন্ধী নোঙর খুলে ৪৯টি ধনুকের জ্যা-চিহ্নে বশিষ্ট পুরুষদের বসিয়ে রাখি বীভৎসতার আগুন মাখিয়ে,
অনন্ত বিজয় বাজিয়ে চলেছেন যুধিষ্ঠির, বুকের ভেতর আমি তখন উষ্ণতার ৩৩° আদিম বুক চেপে রাখি অ্যারিস্টোটলের বাবার মত, রাতে পুঁজ ও রক্ত গলা দিয়ে বেরিয়ে আসে রক্তস্রাব, আমাদের নৈসর্গিক ঈশ্বরেরা ভাঙা কাচের গুড়ো খাচ্ছে আজ
মিশরীয় নারীদের বুক খোলা থাকলেই প্রাচীন অসুখ শিলালিপির গা বেয়ে অমৃত অক্ষরের মত নেমে আসে হেগেলীয় ভ্রূণ, রজনীগন্ধার গর্ভকেশরে সালোয়ার পরে দাঁড়িয়ে আছে তিন ভাগ অ্যাসাইক্লোভির ভাইরাস ওষুধের মত অন্য কেউ
আমার নিচে দাঁড়ানো লম্ব সমদ্বিখণ্ডক অমেরুদণ্ডীরা টানটান করে নেমে আসে আমার নারীর ক্লোরোফর্মের দাগ মুছে দেওয়ার জন্য
ফাগুন কালের সহবাস অদ্বৈতবাদ ত্রৈরাশিক শরীরের উপর দৃঢ় প্রত্যয় যোগ ফেলে যাচ্ছে হোমার চোখ ভেবে
বিসর্গ চিহ্নের ধ্রুবক পুরুষ কোনওদিন স্তনবৃন্ত ছুঁয়ে দেখে না দৈবকীয় মরূদ্যানে নেমে, আমি বিষাক্ত কাঁটা পাহাড়ের স্বরবর্ণ হয়ে যাই
নরককুণ্ড থেকে ফিরে আসা বরাহ অবতার সিমেট্রিক্যাল জনুক্রম ভাঙছে আমার বাবা
খেয়াঘাটের হৃদপিণ্ডে অসংখ্য মূলরোম গজিয়ে উঠছে সশস্ত্র এন্ডোপ্লাজমিকের মত
আমার ডায়াস্টোলিক ভগ্নাংশের কোনও নারী ঐকিক ছায়াপথ নয়

চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 − 4 =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »