Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছবিবৃত্তান্ত

পুরো নাম ছায়াছবি, ছোট করে ছবি। সেই ছবিকে আজকের স্তরে তুলে ধরতে যুগ যুগ ধরে মানুষের যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম জড়িয়ে আছে, তা ভাবতে বসলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। এর পেছনে আছে কত সাফল্য, ব্যর্থতা, সুখদুঃখ ও নানান মজার কাহিনি। ছবির দুনিয়ার সেইসব অনবদ্য গল্পকাহিনি নিয়ে ধারাবাহিক ‘ছবিবৃত্তান্ত’।

প্রথম কিস্তি

এ-বাংলায় চলচ্চিত্র, ছায়াছবি অথবা ছবি। ইংলিশ, মার্কিন, জর্জিয়ান, আফ্রিকান, পর্তুগিজ ও বাংলাদেশিরা বলেন সিনেমা। কেউ কেউ মুভি বা পিকচারও বলে থাকেন। আরবিয়ানদের কাছে ‘দ্য সিনেমা’। চেক, জর্মন, বসনিয়া ও রাশিয়ানে ‘কিনো’। গ্রিকরা বলেন ‘কিনিমাতোগ্রাফোস’, সুইডিশরা ‘বিয়ো’, জাপানিরা ‘শিনেমা’, ইতালিয়ানরা ‘চিনেমা’, স্প্যানিশরা ‘সিনে’, ডেনিসরা ‘বিয়োগ্রাফ’ আলবেরিয়ানরা বলেন, ‘কিনেমা’, বাস্কের লোকেরা বলেন ‘জিনিয়া’, ডাচরা ‘বিয়োস্কুপ’, হাঙ্গেরিয়ানরা ‘মোজি’। আইসল্যান্ডে আমার নাম ‘ভিকমিনদাহুস’, ফিনল্যান্ডে ‘ইলোকুবাতিয়াডেরি’।
শুরু করা যাক একেবারে গোড়া থেকে। তখন সবেমাত্র বিভিন্ন পদার্থে আলোর সংবেদনশীলতা ও দৃশ্য স্থায়ী করার কথা ভাবা হচ্ছিল। সময়টা আজ থেকে পঁচিশ শতক আগে। চিন দেশের মোৎজু (Mo Tzu) নামে এক দার্শনিক-বৈজ্ঞানিক, বিভিন্ন পদার্থের আলোক সংবেদনশীলতা ও দৃশ্যকে স্থায়ী করার কথা ভেবেছিলেন।
গ্রিক বিজ্ঞানী অ্যারিস্টোটল (৩৮৪-৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রথম দৃষ্টিবিজ্ঞানের ভিত্তিতে আলোকপাত করেন ও আলোকবিদ্যার বাস্তব পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। অ্যারিস্টোটলের পর আলেকজান্দ্রীয় বিজ্ঞানের যুগে বৈজ্ঞানিক আর্কিমিদিস (২৮৭-২১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রথম লেন্স ও আয়নাকে বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহার করেন। উত্তল লেন্সের অনুরূপ Burning mirror তাঁরই তৈরি।
গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক ইউক্লিড (৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), অ্যারিস্টোটল ও আর্কিমিদিসের আলোকবিদ্যা ও লেন্সের গবেষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে আবিষ্কার করলেন আলো সরলরেখায় গমন করে। পাওয়া গেল ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তোলার সন্ধান।
খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীতে আরব দার্শনিক আল হাজেন পূর্বসূরিদের গবেষণার সূত্র ধরে আবিষ্কার করেন ‘অবিরত দৃষ্টিতত্ত্ব’ (Persistence of vision) অর্থাৎ চোখের দেখা শেষ হয়ে গেলেও, মস্তিষ্ক তা আরও কিছুক্ষণ ধরে রাখে। ভবিষ্যতে গতিশীল ছবির সূত্র মিলল এ থেকেই।

চিত্তবিনোদনের জন্য চিন, ভারত, জাপানে প্রথম ছায়ার খেলা দেখানো শুরু হয়। ছায়ার খেলার পাত্রপাত্রী প্রথমে তৈরি হত গাছের পাতা ও জন্তুজানোয়ারের চামড়া দিয়ে। এশিয়ার ছায়ার খেলা যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রসার লাভ করে তখন তামা, দস্তা, পিতল আবিষ্কৃত হয়ে গেছে। শুরু হল আরও নিখুঁত ও যান্ত্রিকভাবে খেলা দেখানো।
ইতালির চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (১৪৫২-১৫১৯) ক্যামেরা অবসকিউরা (Camera obscura)-র জানান দিলেন। এর পেছনে গ্রিসের অ্যারিস্টোটল, আরবের ইবন আল হাইতাম (যিনি আল হাজেন নামেই বেশি পরিচিত, ৯৬৫-১০৪০), ইংল্যান্ডের রজার বেকন (১২১৯/২০-১২৯২), হিব্রু পণ্ডিত লেভি বেন গেরশন (১২৮৮-১৩৪৪)-দের গবেষণার যথেষ্ঠ প্রভাব ছিল।
ইতালির জিওভান্নি বাতিস্তা দেল্লা পোরতা (১৫৩৫-১৬১৫) ক্যামেরা অবসকিউরার উন্নতিসাধন করেন ও এর ফলে ১৫৫৩ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ক্যামেরা বাস্তবে রূপ নেয়। ক্যামেরা অবসকিউরাতে প্রথম লেন্স ব্যবহৃত হয় ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে এবং এই দ্বি-উত্তল লেন্সটি (Biconvex lens) ব্যবহার করেন গারদানো নামে এক বৈজ্ঞানিক।
১৫৬৮ সালে ড্যানিয়েল বারবারো নামে এক ইতালিবাসী বহু গবেষণার পর ক্যামেরার ভিতর প্রতিফলিত আলোকরশ্মির কমা-বাড়ার বিষয়টিকে আবিষ্কার করার ফলে তিনিই প্রথম ডায়াফ্রাম (Diaphragm)-এর প্রচলন করেন।
১৫৭৩ সালে দান্তি (১৫৩৬-১৫৮৬) অবতল আয়না (concave mirror) ব্যবহার করে দেখালেন যে, প্রতিফলিত বিষয়বস্তু সোজা দেখা যায়। অবসকিউরা নকল করার কাজে লাগল ও সুবিধামত তাকে পরিবর্তিত করে বহনযোগ্য করে তোলা হল। ইতালি থেকে জার্মানিতে এসে ক্যামেরা অবসকিউরা আরও উন্নত হল জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোহানেস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০)-এর হাতে পড়ে। প্রতিফলিত চিত্রকে আরও স্পষ্ট ও উজ্জ্বল করতে হলে ক্যামেরার ভিতরে অন্য কোনও আলো না ঢুকতে পারার জন্য কালো রং করা হল, সময়টা ১৬২০ সালের মাঝামাঝি।
১৬৪৫ সালে কারচার (১৬০২-১৬৮০) ক্যামেরা অবসকিউরাকে আরও উন্নত করেন। তিনি তাঁর ‘Ars Magna Lucis et Umbrae’ বইতে ম্যাজিক লন্ঠনের বর্ণনা দেন। আগামী দিনের চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা লুকিয়ে ছিল এর মধ্যেই। কারচার কাচের ওপর ভুষোকালি দিয়ে হাতে এঁকে, ম্যাজিক লন্ঠনের মাধ্যমে খ্রিস্টের জীবনকহিনি দেখান। ম্যাজিক লন্ঠনের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়তে থাকায় প্রদীপ, মোমবাতি ও গ্যাসের আলোয় তা দেখানো শুরু হয়। উন্নত মানের ম্যাজিক লন্ঠন তৈরি করে হল্যান্ড যথেষ্ঠ মুন্সিয়ানার পরিচয় দেয় ও এর মাধ্যমে অর্থোপার্জনও শুরু হয়।
ফ্রান্স, ইতালি, হল্যান্ড, জার্মানি– এককথায় সারা ইউরোপ জুড়ে কিছু মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কীভাবে ছবি স্থায়ী করা যায়, চলমান ছবি দেখানো যায় কিনা– এসব বিষয়ে।
জার্মান প্রকৃতিবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ শুলজ (১৬৮৭-১৭৪৪) ১৭২৫ সালে সিলভার নাইট্রেট ও চকের মিশ্রণ আলোর সংস্পর্শে কালো হওয়ায়, এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে stencil থেকে contact কপি তৈরি করেন। যদিও ব্যাপারটা স্থায়ী ছিল না, তবু এটি আরও এক ধাপ এগোনোর পথ দেখাল।
১৭৭৭ সালে সুইডিশ রসায়নবিদ ও ওষুধ প্রস্তুতকারক কার্ল উইলিয়াম শিলে (১৭৪২-১৭৮৬) দেখালেন সিলভার ক্লোরাইড আলোর মাত্রার তারতম্যে কালো হয় আর এই কালো অংশটা কমে যাওয়া সিলভার। সিলভার ক্লোরাইড খুব তাড়াতাড়ি কালো হয় বেগুনি বর্ণচ্ছটায়, যা Ultra Violet ray নামে পরিচিতি পেল।
১৭৮৯-এ ফরাসি বিপ্লব শুরু হল ও দেশের গণ্ডি পার হয়ে ইউরোপে তা বিস্তার লাভ করল। ফলস্বরূপ সামাজিক সংস্কার ও পুরনো ধ্যানধারণা পাল্টাতে থাকে।
১৮০০ সালে ইংল্যান্ডবাসী জার্মান বৈজ্ঞানিক ফ্রেডরিখ ভিলহেলম হারশেল (১৭৩৮-১৮২২) সূর্যালোকের বর্ণচ্ছটা নিয়ে গবেষণাকালে অবলোহিত (Infrared) রশ্মি আবিষ্কার করেন। ওই বছরেই ইংল্যান্ডের থমাস ওয়েজউড (১৭৭১-১৮০৫) তাঁর বন্ধু হামফ্রে ডেভির (১৭৭৮-১৮২৯) সঙ্গে প্রতিচ্ছবি গ্রহণের বিষয়ে এগিয়ে গেলেন আরও একধাপ। তারা ছায়া (silhouette) প্রতিচ্ছবি গ্রহণে সক্ষম হলেন। তবে শুলজের মতো এবারও প্রতিচ্ছবি স্থায়ী করা গেল না। তাঁরা কিন্তু হাল ছাড়লেন না এবং ১৮১৩-য় স্যার ডেভিই বৈদ্যুতিক আর্ক ল্যাম্প আবিষ্কার করে প্রতিচ্ছবি প্রক্ষেপণের (Projection) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন।
১৮০৭ সালে তৈরি হয় ‘ক্যামেরা লুসিডা’ (Camera Lucida)। ড. উইলিয়াম হাইড ওলাসটন (১৭৬৬-১৮২৮) পুরনো ক্যামেরার অর্থাৎ ১৬৬৮-তে আবিষ্কৃত ড. রবার্ট হুকের ক্যামেরার দ্বি-উত্তল লেন্ম বদলে একদিকে অবতল (concave) ও অপরদিকে উত্তল (convex) লেন্স ব্যবহার করেন, যার নাম মিনিসকাস লেন্স (Meniscus lens)। এর ফলে প্রতিফলিত চিত্র অনেক স্পষ্ট ও উজ্জ্বল হয়। উইলিয়াম হেনরি ফক্স ট্যালবট (১৮০০-১৮৭৭) এই ক্যামেরা লুসিডা দিয়ে ইতালির ‘কোমো’ (Como) লেকের ছবি তোলেন।
ফ্রান্সের নিয়েপ্স (১৭৬৫-১৮৩৩) মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ (lithographist), ফটো তোলার ব্যাপারে আগ্রহী হন। ১৮১৬-তে ক্যামেরা অবসকিউরা দিয়ে বেশ কিছু ছবিও তুলে ফেলেন।
সিলভার ক্লোরাইড, ভেজানো কাগজ, কাচ, দস্তা-তামার পাত ইত্যাদি ব্যবহার করলেও ছবি কিন্তু স্থায়ী হল না।
১৮২২ সালে কাচের ওপর জুডিয়া বিটুমেনের প্রলেপ লাগানোর ফলে কিছুটা সুরাহা হল। এরপর কাচের ওপর asphalt varnish লাগিয়ে ছবি তোলা হল।
১৮২৪ সালে পিটার মার্ক রোজেট নামক চিকিৎসক তাঁর গবেষণার ফল ‘Persistence of Vision with Regard to Moving Objects’ রয়েল সোসাইটির কাছে প্রকাশ করায় সারা ইউরোপ জুড়ে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দিল।
১৮২৬-এ টিন, সিসা ইত্যাদি মিশ্রিত ধাতুর পাত বিটুমেনে ভিজিয়ে তার ওপর প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি তোলেন নিয়েপ্স। তাঁর লক্ষ্য ছিল ক্যামেরায় তোলা ছবি ছাপার যোগ্য করা।
লুইস-জ্যাকস-ম্যান্ডি ডাগুয়েরে (১৭৮৭-১৮৫১) মুখ্যত একজন চিত্রশিল্পী। তবে তাঁর বন্ধু চার্লস শোভালিয়ের-এর সাহায্যে ক্যামেরা অবসকিউরাকে আরও উন্নত করে তোলেন। ১৮২৬-এর জানুয়ারিতে নিয়েপ্সকে চিঠি পাঠান সাক্ষাতের জন্য, তবে ১৮২৭-এর অগাস্ট মাসের আগে সাক্ষাৎ হল না।
১৮২৬ সালে প্যারিসে জন আয়ারটন প্যারিস নামক চিকিৎসক তৈরি করেন থাউমেট্রোপ (thaumatrope)। একটা শক্ত কাগজের চাকতির দু’পাশে দুটো আলাদা ছবি আঁকা– একদিকে খাঁচা ও অন্যদিকে পাখি। কাগজের দু’পাশে সুতো দিয়ে বাঁধা। অক্ষরেখা (axis)-র ওপর কাগজটা ঘুরতে শুরু করলেই অবিরাম দৃষ্টিতত্ত্বের নিয়মানুসারে একটা ছবিই দেখা যেত, অর্থাৎ মনে হত পাখিটা খাঁচার ভিতরে বসে আছে। সেসময় ইউরোপের বাজার ছেয়ে গিয়েছিল এই খেলনায়।
১৮২৯-এ নিয়েপ্স-ডাগুয়েরের দশ বছরের চুক্তি হয়। গোপন থাকবে ‘গবেষণা’র কাজ। লাভ ভাগাভাগি হবে সমানভাবে। ১৮৩৩-এ নিয়েপ্স হঠাৎই মারা যাওয়ায় দু’জনের আর সাক্ষাৎ হয়নি।
বেলজিয়ামের জোসেফ অ্যান্টনি ফার্দিনান্দ প্ল্যাটো (১৮০১-১৮৮৩) ও অস্ট্রিয়ার ড. সাইমন ভন স্ট্যাম্পফার নামক বৈজ্ঞানিকও ওই ‘খেলনা’ বিষয়ক গবেষণায় ব্যস্ত ছিলেন। প্ল্যাটো ও স্ট্যাম্পফার প্রায় একই সময়েই, দুজনে দুজনার ব্যাপারস্যাপার না জেনেই তৈরি করে ফেলেন পৃথিবীর প্রথম গতিশীল ছবি দেখার যন্ত্র। ১৮৩২-এ বেলজিয়াম ও অস্ট্রিয়ায় তৈরি হল এই যন্ত্র।
প্ল্যাটো তাঁর যন্ত্রের নাম দেন ফেনাকিস্টোস্কোপ (Phenakistoscope) ও স্ট্যাম্পফার নাম দেন স্ট্রোবোস্কোপিক ডিস্ক (Stroboscopic Disc)। প্ল্যাটো অবশ্য তাঁর যন্ত্রের নাম পাল্টে রাখেন ফ্যান্টোস্কোপ (Fantoscope)– এতে শয়তানের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে দেখানো হয় নতুন ছবি ‘Le Diable Soufflant’।
১৮৩৯-এর ৭ জানুয়ারি ফটোগ্রাফির ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বেত্তা ও রাজনীতিবিদ ফ্রাঁসোয়া আরাগো French Academy of Sciences-এর সামনে বন্ধু ডাগুয়েরের আবিষ্কার প্রকাশ করেন। ১৮৩৯-এর ১৪ অগাস্ট দগিউর ইংল্যান্ড থেকে পেটেন্ট নিয়ে নেওয়ায়, ১৯ অগাস্ট ফরাসি সরকারের তরফ থেকে তা আর বিশ্ববাসীকে উপহার দেওয়া হল না।

>>> ক্রমশ >>>

চিত্র : গুগল

ছবিবৃত্তান্ত  দ্বিতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত তৃতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত চতুর্থ কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত পঞ্চম কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত ষষ্ঠ কিস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 3 =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »