Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছবিবৃত্তান্ত

পুরো নাম ছায়াছবি, ছোট করে ছবি। সেই ছবিকে আজকের স্তরে তুলে ধরতে যুগ যুগ ধরে মানুষের যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম জড়িয়ে আছে, তা ভাবতে বসলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। এর পেছনে আছে কত সাফল্য, ব্যর্থতা, সুখদুঃখ ও নানান মজার কাহিনি। ছবির দুনিয়ার সেইসব অনবদ্য গল্পকাহিনি নিয়ে ধারাবাহিক ‘ছবিবৃত্তান্ত’।

পঞ্চম কিস্তি

চার্লস প্যাথে (১৮৬৩-১৯৫৭) তৈরি করেন নতুন ক্যামেরা। লিওন আর্নেস্ট গাউমন্ট (১৮৬৪-১৯৪৬) ল্যুমিয়েরদের চেয়ে উন্নতমানের ক্যামেরা তৈরি করেন। জর্জ মেলিয়েস (১৮৬১-১৯৩৮) ল্যুমিয়েরদের কাছে প্রত্যাখাত হয়ে আর. ডব্লিউ. পল-এর কাছ থেকে প্রজেক্টর কেনেন, তৈরি করেন ক্যামেরা। প্রথমে যদিও তিনি ল্যুমিয়েরদের চেয়ে অনেক বড় মাপের ফিল্ম ব্যবহার করেন তবে পরে এডিসনের মাপকেই গ্রহণ করেন।

মেলিয়েস ছিলেন ধনীর পুত্র, লেখাপড়ায় ভাল, সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি ম্যাজিশিয়ান ও শিল্পীও বটে। ম্যাজিক, মূকাভিনয় ও প্রদর্শন কলাকৌশলের মিশ্রণে ফরাসি থিয়েটারে তিনি এক অভিনবত্বের ঢেউ তোলেন। তাঁর তৈরি ফিল্ম স্টুডিওকেই বাস্তবিক প্রথম স্টুডিও বলা চলে।

Montreuil-sous-Bois স্টুডিওতে ১৮৯৬-১৯৩৪ সাল পর্যন্ত ৩ থেকে ২০ মিনিটের এক হাজার ছবি তোলেন। ১৯২৩ সালে তিনি তাঁর সমস্ত ছবির নেগেটিভ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। দুঃখের বিষয় মাত্র ৫০টি ছবি বেঁচে আছে।

হারিয়ে গেলেন মেলিয়েস। ১৯২৯-এ এক সাংবাদিক প্যারিস রেলওয়ে স্টেশনে তাঁকে খেলনা ও লজেন্স ফেরি করতে দেখেন। মেলিয়েস মারা যান ১৯৩৮ সালে। আর পোর্টারও সামান্য এক কারখানার শ্রমিক হিসেবে মারা যান ১৯৩৫-এ।

ইংল্যান্ডের জর্জ অ্যালবার্ট স্মিথ (১৮৬৪-১৯৫৯) ১৮৯৭ সালে ডাবল-এক্সপোজার-এর পেটেন্ট নিলেন। ডাবল-এক্সপোজারের প্রথম ব্যবহার দেখা গেল ‘The Corsican Brothers’ (১৮৯৮), ‘Cinderella and the Fairy Godmother’ (১৮৯৮), ‘Faust and Mephistopheles’ (১৮৯৮) ইত্যাদি ছবিতে।

১৯০০ সালে জি. এ. স্মিথ-ই প্রথম Extreme close up-এর ব্যবহার করেন তাঁর মজার ছবি ‘Grandma’s Reading Glass’-এ।

১৯০১ সালে tripod বা তেপায়াতে ক্যামেরা বসিয়ে হাতলের সাহায্যে দিক পরিবর্তন করতে পারায়, পাওয়া গেল প্যানোরামিক বা প্যানশট (panoramic বা pan shot)-এর ব্যবহার। Tracking shot-এর প্রথম ব্যবহার সম্পর্কে দুজনের নাম পাওয়া যায়। কেউ বলেন, মেলিয়েস তাঁর [‘L’Homme à la tête en caoutchouc’ (The Man with the Rubber Head)] ছবিতে আবার কেউ বলেন, জেমস এ. উইলিয়ামসন (১৮৫৫-১৯৩৩) তাঁর ‘The Big Swallow’ ছবিতে ব্যবহার করেন।

এডওয়ার্ড কুহু-র স্ত্রী কিনেটোস্কোপ-এর ছবি ‘Annabelle Serpentine Dance’-কে হাতে রং করেন, যা ছিল চলচ্চিত্রকে রঙিন করার প্রথম প্রচেষ্টা। ছবির পরিভাষায় যাকে বলা হয় dupe বা contra type print, অর্থাৎ ল্যাবরেটরিতে ফিল্ম নকল করার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হওয়ায় ছবির অনেকগুলো প্রতিলিপি বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে দেখানোর সুবিধা হয়। তবে বিদেশি ছবিগুলি রাতারাতি নকল হয়ে দেশময় ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায় বেশ ক্ষতি হয়। ১৮৯৬-এর শেষ দিকটা এ সমস্ত ঘটনায় চূড়ান্ত উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

এডওয়ার্ড কুহু-র স্ত্রী কিনেটোস্কোপ-এর ছবি ‘Annabelle Serpentine Dance’-কে হাতে রং করেন।

Kuhu and Webster Company যা পরে International Company হয়, সেখানে বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরির কাজে পোর্টার যোগ দেন ও তৈরি হয়, Haig & Haig highland whiskey ও Maillard’s chocolate-এর বিজ্ঞাপন। যদিও অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, প্রথম যাঁর মাথা থেকে এই বিজ্ঞাপনচিত্র তৈরির বিষয়টা বেরোয়, তাঁর নাম আজ আর কারও স্মরণে নেই— ইতিহাস বিস্মৃত।

চলচ্চিত্রের পর্দায় জন্মের দু’বছরের মধ্যেই ঘটে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা। ১৮৯৭-এর ৪ মে, বিকেল ৪টে নাগাদ সাঁজেলিঁজে (Champs-Élysées)-এর কাছে Société de Charité Maternelle-এর বাৎসরিক মেলায় আগুন লেগে যায় ও ঘণ্টাব্যাপী এই অগ্নিকাণ্ডে রঙিন মেলা রূপান্তরিত হয় বীভৎস শ্মশানে। মৃতের সংখ্যা একশো আশি। এটিই Charity Bazaar Fire নামে কুখ্যাত। তদন্তের ফলে জানা যায়, ল্যাম্পের আলোটা কমে যাওয়ায় M. Bellac নামে সিনেমাটোগ্রাফ যন্ত্রের এক কর্মী দেশলাই জ্বেলে ভাল করে দেখতে গেলে ল্যাম্পের ইথারে লেগে যায় আগুন যা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ মে-তে আরও একটা দুঘর্টনার খবর পাওয়া যায়। তবে এতে কেউ মারা যাননি। যদিও অসাবধানতাই এর মূলে তবু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর এর প্রভাব পড়ায় জনপ্রিয়তা হ্রাস পায় অনেকাংশে।

সিসিল হেপওয়ার্থ (১৮৭৪-১৯৫৩) তৈরি করেন Film developing machine, এতে হাতে করে ফিল্ম ধোয়ার পরিশ্রম ও সময় বেঁচে গেল।

পর্দায় চলচ্চিত্রের দু’বছর বয়সেই আর একটা ঘটনা ঘটল। Passion Play-র আবির্ভাব এবং Salmi morse-র লেখা নাটকের স্ক্রিপ্টই হল পৃথিবীর প্রথম চিত্রনাট্য। লেক্সিনটন এভিনিউয়ের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল প্যালেস-এর ছাদে তৈরি হল প্যাশন প্লে-র জন্য স্টুডিও। প্রখ্যাত নাট্য পরিচালক এইচ. সি. ভিনসেন্ট ডিসেম্বরে Passion Play-র কাজ শুরু করেন ও ১৮৯৭-এর প্রথম দিকেই কাজ শেষ হয়ে যায়। ৩০ জানুয়ারি Eden Musse হলে বিকেল ৩টে ও রাত ৯টায় ছবি দেখানো হয়। তখনও চলচ্চিত্রে subtitle-এর প্রচলন হয়নি। মুখে বলে দেওয়া হত গল্পের ধারাবাহিকতা। ফ্র্যাঙ্ক ওকস রোজ ছিলেন ২১০০ ফুট প্যাশন প্লে-র ধারাভাষ্যকার। নির্মাতা, দর্শক সকলেই খুশি। প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এই প্যাশন প্লে।

১৮৯৭ সালে স্পেনের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হয়। চলচ্চিত্রেও এর প্রভাব পড়ে। ব্ল্যাকটন ও স্মিথ তৈরি করলেন ‘Tearing Down the Spanish Flag’ নামে ছবি, যা সেই সময় জনপ্রিয় হয়েছিল। সেই থেকে এই ধরনের দেশাত্মবোধক ছবি তৈরি শুরু হয়ে গেল। কিন্তু উপযুক্ত ক্যামেরা, লেন্স, ক্যামেরামানের কার্যকরী সহায়তা না পাওয়ায় প্রকৃত যুদ্ধের ছবি তোলা গেল না।

Advertisement

আউকেগানের স্টুডিওতে বসে এডওয়ার্ড এইচ. আমেট এক চমকপ্রদ কাজ করে ফেললেন, তৈরি করলেন ‘Battle of Santiago Bay’-র মত ছবি, স্টুডিওর ভিতরে জলের চৌবাচ্চায়। কাগজে ছাপা যুদ্ধজাহাজের ছবিকে ভিত্তি করে ও লেন্সের সমকোণের সঙ্গে সমতা রেখে যতদূর সম্ভব নিখুঁতভাবে তৈরি হল যুদ্ধজাহাজের মডেল। উইলিয়াম এইচ. হাওয়ার্ড এইসব যুদ্ধজাহাজকে বৈদ্যুতিক শক্তিমাধ্যমে চালনা করার কাজে সাহায্য করলেন অ্যামেটকে।

অ্যাডমিরাল কারভেরার নৌবাহিনীকে পরাস্ত করে চৌবাচ্চায় ডুবিয়ে দিয়ে অ্যামেট এমন অভূতপূর্ব ছবি তৈরি করলেন, যা লেক ব্লাফ-এ অবস্থিত মার্কিন নৌ-প্রশিক্ষণ স্টেশনের হর্তাকর্তাদেরও চমকে দিয়েছিল। স্পেনের মিলিটারি আর্কাইভে সংরক্ষিত হয়েছিল এই ছবি। পরবর্তী সময়ে অ্যামেট ছবির জগৎ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে বাধ্য হন।

‘A Trip to the Moon’ (১৯০২), ‘Cinderella’ (১৮৯৯), ‘The Kingdom of the Fairies’ (১৯০৩)— এই সকল ছবিতে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা ইত্যাদির চল শুরু হল। এর পিছনে মেলিয়েসের গঠনধর্মী চিন্তা ও কল্পনার বিস্তারকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

পোর্টার এডিসনের কোম্পানিতে যোগদান করেই Shamrock I-এর বিখ্যাত নৌকাদৌড় প্রতিযোগিতার ছবি তোলেন। এই ছবি তোলার নেপথ্যে এক মজার কাহিনি আছে। রেফারির নৌকাতে আগে তৈকেই অনেক প্রেস-ফটোগ্রাফার উঠে বসেছিলেন। তাঁরা কেউই চাইছিলেন না পোর্টার তাঁর বড় মুভি ক্যামেরা নিয়ে উঠুন। তাঁরা পোর্টারের ছবি তোলায় নানা রকম বাধাবিঘ্নের সৃষ্টি করেন। বাধ্য হয়ে পোর্টার চলে যান নৌকার একেবারে শেষপ্রান্তে, যাতে কেউ কোনও রকম বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। নৌকাদৌড় শুরু আর পোর্টারের ছবি তোলাও চলল নির্বিঘ্নে। কিন্তু অনেক পরে বোঝা গেল যে সূর্যের মুখোমুখি দিক থেকে ছবি তোলা হচ্ছে। তবে তখন আর কিছু করার নেই। তাই পোর্টারও ছবি তুলে গেলেন আর প্রচণ্ড মনখারাপ নিয়ে ল্যাবরেটরিতে ফিরে এসে সেই ছবি পরিস্ফুটনও করলেন এই আশা নিয়ে, যদি কিছু পাওয়া যায়।

ছবি পরিস্ফুটনের পর সবাই দেখে চমকে গেলেন। নৌকাগুলোর পিছন দিক থেকে আলো থাকায় সেগুলো ছায়ামূর্তি আর স্বচ্ছ পালের ভিতর দিক থেকে বেরিয়ে আসা পড়ন্ত বিকেলের আলো, যার ফলশ্রুতি কালো জলের ওপর রোদের প্রতিফলনে হাজারো হীরের দ্যুতি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অনিন্দ্যসুন্দর ছবি যা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

>>> ক্রমশ >>>

কভার: চলচ্চিত্রকে রঙিন করার প্রথম প্রচেষ্টা।/ চিত্র : গুগল

ছবিবৃত্তান্ত প্রথম কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত দ্বিতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত তৃতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত চতুর্থ কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত ষষ্ঠ কিস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × five =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »
তপোমন ঘোষ

কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে…

হঠাৎ চোখ পড়ে বুথের এক্সিট দরজাটার দিকে… একটা ছোট্ট ছায়া ঘোরাফেরা করছে! চমকে উঠে সে দেখে, সেই বাচ্চাটা না! মায়ের কোলে চড়ে এসেছিল… মজা করে পোলিং অফিসার তার ছোট্ট আঙুলে লাগিয়ে দিয়েছিলেন ভোটের কালি। হুড়োহুড়িতে মা ছিটকে গেছে কোথাও— নাকি আরও খারাপ কিছু! বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে তার। শুনশান বুথে পোলিং আর সেক্টর অফিসার গলা যথাসম্ভব নিচুতে রেখে ডাকতে থাকেন বাচ্চাটাকে। একটা মৃদু ফোঁপানি… একটা হালকা ‘মা মা’ ডাক— বাচ্চাটা এইসব অচেনা ডাকে ভ্রূক্ষেপও করে না, এলোমেলো পায়ে ঘুরতে থাকে।

Read More »