Search
Generic filters
Search
Generic filters
সন্দীপ ঘোষ

সন্দীপ ঘোষ

সন্দীপ ঘোষ মূলত প্রাবন্ধিক। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির চবুতরায় ঘুরে বেড়ান। নাট্য সমালোচনার পাশাপাশি নানাবিধ বিষয়ে লেখেন তিনি। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘জেলা ও শহরতলির নাট্যচর্চা’।
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশেষ নিবন্ধ: সন্দীপ ঘোষ

লিঙ্গপুরাণে বেশ্যা লিঙ্গপুরাণে দুর্গাপুজোকে ‘চতুষ্কর্মময়ী’ বলা হয়েছে। চতুষ্কর্ম বলতে— মহাস্নান, ষোড়শোপচার পূজা, বলিদান এবং হোম। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে বহুবিধ উপাচারে স্নান করানো হয়।

Read More »

ছবিবৃত্তান্ত

১৯১০। চলচ্চিত্রের নামকরণের জন্য The Essanay Film Company একটা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে। যদিও Kinetoscope, Nickelette, Theatorium, Nickelshow নামগুলি এবং ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি ছাড়া Cinema নামটি এবং ১৯০৯ সাল থেকেই আমেরিকার কাগজপত্রে Movie শব্দটি চালু ছিল। তবু এডগার স্ট্রাকোশ নামক জনৈক সঙ্গীতজ্ঞ ‘Photoplay’ নাম দিয়ে প্রথম পুরস্কারের ২৫ ডলার জিতে নেন ঠিকই, তবে Movie-কে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

Read More »

ছবিবৃত্তান্ত

স্টুডিওতে বসে এডওয়ার্ড এইচ. আমেট এক চমকপ্রদ কাজ করে ফেললেন, তৈরি করলেন ‘Battle of Santiago Bay’-র মত ছবি, স্টুডিওর ভিতরে জলের চৌবাচ্চায়। কাগজে ছাপা যুদ্ধজাহাজের ছবিকে ভিত্তি করে ও লেন্সের সমকোণের সঙ্গে সমতা রেখে যতদূর সম্ভব নিখুঁতভাবে তৈরি হল যুদ্ধজাহাজের মডেল। উইলিয়াম এইচ. হাওয়ার্ড এইসব যুদ্ধজাহাজকে বৈদ্যুতিক শক্তিমাধ্যমে চালনা করার কাজে সাহায্য করলেন অ্যামেটকে।

Read More »

ছবিবৃত্তান্ত

১৮৯৬ সালে ব্ল্যাক মারিয়া স্টুডিওতে যে সমস্ত শিল্পী কাজ করতেন, তাঁদের উপার্জন ছিল যাতায়াতের খরচ বাদে দশ থেকে পনেরো ডলার। ১৮৯৭-এর ১৭ মার্চ ল্যামডা কোম্পানির করবেট ও ফিৎসিমনস-এর মুষ্ঠিযুদ্ধের যে ছবি তোলে তা এগারো হাজার ফুটের। কোনও একটা ঘটনা তোলার জন্য এটাই পৃথিবীর দীর্ঘতম ছবি। এই ছবি তুলতে রেক্টর চারটে ক্যামেরা ব্যবহার করেন।

Read More »

ছবিবৃত্তান্ত

এডিসনের যন্ত্রের শক্তির উৎস ছিল বিদ্যুৎ আর ল্যুমিয়েরদের যন্ত্র ছিল কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। তাই ল্যুমিয়েরদের যন্ত্র ছিল অনেক সস্তা, ছোট এবং হালকা। ক্যামেরার গায়ে হাতলের মোচড়ে খাঁজকাটা দাঁতালো যন্ত্রাংশ একবারে টানতে পারত ৮ খানা ফ্রেম, অর্থাৎ দুবার হাতল ঘোরালেই কাজ শেষ। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, এই যন্ত্র হাতে ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়া যেত যত্রতত্র। ল্যুইয়ের তত্ত্বাবধানে এই যন্ত্র নির্মাণ করেছিলেন চার্লস মোয়াসঁ নামে এক যন্ত্রশিল্পী।

Read More »

ছবিবৃত্তান্ত

এডিসনের স্টুডিওর এক মেকানিক ফ্রেড অট ছিলেন ক্যামেরার সামনে প্রথম অভিনেতা। পৃথিবীর প্রথম চলচ্চিত্রাভিনেতা হিসেবে ফ্রেড অট-এর নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর পেছনে একটা মজার গল্প আছে। অটের গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একটা বিরাট সাদা কাপড়। কোমরে একটা বেল্ট আটকে সেটাকে ফুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, দেখতে লাগছিল বেলুনের মত। অটকে বলা হয়েছিল বাঁদরের মত অঙ্গভঙ্গি করতে।

Read More »

ছবিবৃত্তান্ত

চিত্তবিনোদনের জন্য চিন, ভারত, জাপানে প্রথম ছায়ার খেলা দেখানো শুরু হয়। ছায়ার খেলার পাত্রপাত্রী প্রথমে তৈরি হত গাছের পাতা ও জন্তুজানোয়ারের চামড়া দিয়ে। এশিয়ার ছায়ার খেলা যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রসার লাভ করে তখন তামা, দস্তা, পিতল আবিষ্কৃত হয়ে গেছে। শুরু হল আরও নিখুঁত ও যান্ত্রিকভাবে খেলা দেখানো।

Read More »

ছোটগল্প: ফাউ

গরমকালে ছুটির দিনে ছাদে পায়চারি করতে বেশ লাগে। ঠান্ডা হাওয়ায় জুড়োয় শরীরটা। আকাশের একপাশে আবির। সন্ধে হবে হবে। অন্যদিকে কাঁচা হলুদ। চায়ের ট্রে নিয়ে জমিয়ে বসেছে রুমা। বিয়ের পর কি মানুষ প্রেম করতে ভুলে যায়? নিত্যদিন ভাত রুটি ডালের গল্পে প্রেম থাকে না কোথাও? অনেকদিন রুমার সঙ্গে শুধু শুধু ঘুরতে যায়নি ও।

Read More »

নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার…

মনু-পরাশর-বৃহস্পতি-কৌটিল্যদের অনুশাসন এসে নারী প্রগতির রাশ টেনে ধরল। নারীর শিক্ষালাভের ইতি ঘটল, অন্তঃপুরে বাস নির্দিষ্ট হল তাঁর জন্য। তাঁকে বাঁধা হল একের পর এক অনুশাসনে। বলা হল, স্বাধীনতা বলে কোনও পদার্থ থাকবে না তাঁর, ‘ন স্ত্রী স্বাতন্ত্র্যমর্হতি’! কুমারী অবস্থায় পিতা-মাতার অধীন থাকবে সে, বিয়ের পর স্বামীর, বার্ধক্যে সন্তানের। ধাপে ধাপে তাঁর ওপর চাপানো হতে লাগল কঠিন, কঠিনতর, কঠিনতম শাস্তি।

Read More »

গরিব হওয়ার সহজ উপায়

এককালে পর্তুগিজ-মগরা আমাদের নিম্নবঙ্গ থেকে দাস সংগ্রহ করত মালয়-বার্মাতে শ্রমিকের কাজের জন্য, ইংরেজ সাহেবরাও কিনত গোলাম। আজ আবার মানুষ সস্তা হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসকের দরকার নেই। খোলাবাজারে নিজেরাই নিজেদের কিনছে দেশের মানুষ। মানুষ বিক্রির মেলা বসে এখন গ্রামগঞ্জের হাটে হাটে।

Read More »

মহাশ্বেতা দেবী: স্বনামে চিহ্নিত অনশ্বর প্রতিভা

গ্রামশি-বর্ণিত ও পরবর্তীতে বহুলচর্চিত ‘সাব অলটার্ন’-এর আগেই মহাশ্বেতার লেখায় ব্রাত্যজনসংহিতা মূর্ত; ‘অরণ্যের অধিকার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৭-এ। আর সাব অলটার্ন-তত্ত্ব প্রথম দানা বাঁধছে ১৯৮২-তে জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে, রণজিৎ গুহ, গৌতম ভদ্র, শাহেদ আমিন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্কলন প্রকাশের মাধ্যমে। অবশ্য তার বহু আগেই ইতিহাস রচনায় সাব অলটার্ন চেতনায় স্থিতধী দেখা গেছে রবীন্দ্রনাথকে। স্বামী বিবেকানন্দ মূর্খ, চণ্ডাল ও দরিদ্র ভারতবাসীর মাহাত্ম্য বুঝিয়ে গেছেন, আর বিভূতিভূষণকেও আমরা সামগ্রিক বিচারে প্রান্তিক মানুষের কথাকার রূপেই পাই। কিন্তু মহাশ্বেতা আরও ব্যাপক, গভীর, তন্ময়, নিবিড়, ও নিঃসন্দেহে দলিত জনতার কথাকার।

Read More »

সারদাদেবী: এক অনন্যা মাতৃরূপা

ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়ে ও বধূ হয়ে তিনি কিনা মুসলমান ঘরামি আমজাদকে খেতে দিয়ে তার এঁটোকাটা নিজের হাতে পরিষ্কার করেন! বিধর্মী খ্রিস্টান নিবেদিতার সঙ্গে বসে আহার করেন! আর তাঁর চেয়েও বড় কথা, সে যুগের বিচারে বিপ্লবাত্মক ঘটনা, স্বামীর মৃত্যুর পর যে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বেঁচেছিলেন তিনি, বিধবাবিবাহের প্রবর্তক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-ও যা কল্পনায় আনতে গেলে নির্ঘাত মূর্ছা যেতেন, লালপেড়ে শাড়ি আর সোনার বালায় ভূষিতা থাকতেন তিনি! আজকের উচ্চশিক্ষিত সমাজেও ক’জন পারবেন এ-কাজ করতে, বা নিদেন এ কাজকে সমর্থন করতে?

Read More »

জীবনচক্রের মহাকাব্য নবান্ন: শ্রম, প্রকৃতি ও নবজন্মের দ্বান্দ্বিকতা

নবান্ন। এটি কেবল একটি ঋতুভিত্তিক পার্বণ নয়; এটি সেই বৈদিক পূর্ব কাল থেকে ঐতিহ্যের নিরবচ্ছিন্ন ধারায় (যা প্রাচীন পুথি ও পাল আমলের লোক-আচারে চিত্রিত) এই সুবিস্তীর্ণ বদ্বীপ অঞ্চলের মানুষের ‘অন্নময় ব্রহ্মের’ প্রতি নিবেদিত এক গভীর নান্দনিক অর্ঘ্য, যেখানে লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে শস্যের অধিষ্ঠাত্রী লোকদেবতার আহ্বানও লুকিয়ে থাকে। নবান্ন হল জীবন ও প্রকৃতির এক বিশাল মহাকাব্য, যা মানুষ, তার ধৈর্য, শ্রম এবং প্রকৃতির উদারতাকে এক মঞ্চে তুলে ধরে মানব-অস্তিত্বের শ্রম-মহিমা ঘোষণা করে।

Read More »