Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ছবিবৃত্তান্ত

পুরো নাম ছায়াছবি, ছোট করে ছবি। সেই ছবিকে আজকের স্তরে তুলে ধরতে যুগ যুগ ধরে মানুষের যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম জড়িয়ে আছে, তা ভাবতে বসলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। এর পেছনে আছে কত সাফল্য, ব্যর্থতা, সুখদুঃখ ও নানান মজার কাহিনি। ছবির দুনিয়ার সেইসব অনবদ্য গল্পকাহিনি নিয়ে ধারাবাহিক ‘ছবিবৃত্তান্ত’।

ষষ্ঠ কিস্তি

স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল আলাস্কার স্বর্ণসন্ধানের উত্তেজনা। ক্যামেরা ছুটল স্বর্ণসন্ধানীদের পিছন পিছন। এডিসনের দুই কর্মী রবার্ট বনাইন ও টম ক্যারাহান দুজনেই চলচ্চিত্রকার। ক্যারাহানের পারিশ্রমিক ছিল ফুট প্রতি ৫ ডলার।

১৮৯০-এর ৩ ডিসেম্বর Coney Island Sporting Club-এ রাত্রিবেলা মুষ্ঠিযুদ্ধের ছবি তোলার আয়োজন করা হল। ক্যামেরায় বিজারা। তিনি প্রায় চারশোটি আর্কল্যাশ ঝোলান। তার ফলে, উত্তাপে মুষ্ঠিযোদ্ধাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। আবার বৈদ্যুতিক তার প্রচণ্ড উত্তাপে গলে যাওয়ার উপক্রম হলে বরফ চাপা দিয়ে সুইচগুলোর উত্তাপ কমানো হল। মুশকিল হল, আগুন লাগার হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া গেলেও মুষ্ঠিযোদ্ধাদের ওপর শুরু হল গরমজলের বৃষ্টি। তবে এত কাণ্ডের পরও ছবি উঠেছিল ভাল। সবচেয়ে বড় ঘটনা হল, ছবি তোলা আর সূর্যালোকের উপর নির্ভরশীল রইল না।

অস্কার মেস্টার (১৮৬৬-১৯৪৩) তাঁর স্টুডিওতে কৃত্রিম আলোয় ছবি তুলতে সমর্থ হন ১৮৯৭ সালে।

বিংশ শতাব্দীতে চলচ্চিত্র ভুগতে লাগল বৈচিত্র্যের অভাবে। সেই সময়েই জেমস এইচ হোয়াইট এবং পোর্টার, দুজনে মিলে তুলে ফেলেন ‘Life of an American Fireman’। পুরোপুরি না হলেও এতে একটা নির্দিষ্ট গল্প বলার চেষ্টা দেখা গেল। গল্পটা জানানো যাক।

প্রথমেই দমকল বাহিনীর প্রধান দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এর বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে। দৃশ্যান্তরে দেখা যায়, একটি সাধারণ বাড়ি, ভিতরে দোলনায় ঘুমোচ্ছে একটি বাচ্চা, জানালার পর্দা উড়ছে হাওয়ায় আর ঠিক তার নিচেই উনুনে জ্বলছে আগুন। হঠাৎই হাওয়ায় দোলা পর্দায় আগুন ধরে যায়, ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘর। দৃশ্যান্তরে দমকল কেন্দ্রে বিপদসঙ্কেত বাজে। কর্মীরা গাড়িতে ওঠে। গাড়ি দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকে গন্তব্যস্থলের দিকে। আবার দৃশ্যান্তরে দোলনায় বাচ্চা, অসহায় মা। নাটকীয়তার চূড়ান্ত পর্যায়, জানা যায় আগুন লাগা বাড়িটি দমকল প্রধানেরই। আগুন নিভিয়ে মা ও শিশুকে বিপন্মুক্ত করার পরেই ক্লোজআপ শটে ছবি শেষ হয়।

এরপর পোর্টার বিখ্যাত মঞ্চসফল নাটক ‘The Great Train Robbery’-র চলচ্চিত্রায়ণ করে পৃথিবীতে সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় মানুষ হয়ে গেলেন।

১৯০৩ সালে শুরু হয় ছবির কাজ। একটা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে, নিউ জার্সির প্যাটারসন নামে এক জায়গায় ট্রেনের দৃশ্যগুলো তোলা হয় ও ঘোড়দৌড়ের দৃশ্যগুলি নেওয়া হয় এসেক্স কাউন্টি পার্কে। নতুন নতুন পদ্ধতি সহযোগে ছবিটি প্রবল জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি দেখানো হয় Eden Musée, Huber’s Museum ও Hammerstein’s Victoria প্রেক্ষাগৃহে।

১৯০৭ সালে ডেভিড লিউয়েলিন ওয়ার্ক গ্রিফিথ (১৮৭৫-১৯৪৮) নিউ ইয়র্কে আসেন, পকেটে ‘La Tosca’-র চিত্রনাট্য। জীবিকার জন্য বই বিক্রি, অভিনয় ও লুই ভিলের খবরের কাগজে রিপোর্টারের চাকরি করেছেন। তিনি দেখা করলেন এডিসনের লোকজনের সঙ্গে। পোর্টার তখন ‘Rescued from an Eagle’s Nest’ করার পরিকল্পনা করছেন। গ্রিফিথের চিত্রনাট্যের কিছু হল না ঠিকই, তবে পোর্টারের ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান। এলেন বায়োগ্রাফ কোম্পানিতে। গ্রিফিথের সঙ্গে সঙ্গে মিশেল সিনোট (১৮৮০-১৯৬০)-ও ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীকালে ইনি ম্যাক সিনোট নামে বিখ্যাত হয়েছিলেন। বায়োগ্রাফ-এর আলোকচিত্রী তথা মালিকের ভাই আর্থার মার্ভিন ও দাদা এইচ এন মার্ভিনের সঙ্গে কথাবার্তা বলে গ্রিফিথকে ছবি করার সুযোগ দিলেন। ‘The Adventures of Dollie’ ছবি করে আত্মপ্রকাশ করলেন যুগান্তকারী পরিচালক ডি উব্লিউ গ্রিফিথ। জিপসিরা একটা বাচ্চাকে কীভাবে অপহরণ করল, তাই নিয়ে মাত্র ৯ মিনিটের একটি ছবি, যার অধিকাংশই বাইরে তোলা, তবে কিছু অন্তর্দৃশ্যও গৃহীত হয়েছিল। চলচ্চিত্র জগতে গ্রিফিথের স্থান পাকা হয়ে গেল।

হোরেস প্লিম্পটন নামে এক কার্পেট ব্যবসায়ী এডিসনের চলচ্চিত্র বিভাগে যোগ দিলে, পোর্টার কাজ ছেড়ে দেন, কারণ পোর্টারের প্লিম্পটনের অধীনে কাজ করা সম্ভব ছিল না। পোর্টার উইলিয়াম সোয়ানসন নামে এক ভদ্রলোকের সহযোগিতায় তৈরি করেন Rex নামক প্রতিষ্ঠান, যার ট্রেডমার্ক ছিল অর্ধবৃত্তাকার তারার মালা। পরবর্তীকালে এই রেক্স-ই ‘প্যারামাউন্ট পিকচারস’ নামে বিখ্যাত হয়।

১৯১০। চলচ্চিত্রের নামকরণের জন্য The Essanay Film Company একটা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে। যদিও Kinetoscope, Nickelette, Theatorium, Nickelshow নামগুলি এবং ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি ছাড়া Cinema নামটি এবং ১৯০৯ সাল থেকেই আমেরিকার কাগজপত্রে Movie শব্দটি চালু ছিল। তবু এডগার স্ট্রাকোশ নামক জনৈক সঙ্গীতজ্ঞ ‘Photoplay’ নাম দিয়ে প্রথম পুরস্কারের ২৫ ডলার জিতে নেন ঠিকই, তবে Movie নামকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

১৯১৩-র ১ অক্টোবর গ্রিফিথ বায়োগ্রাফ কোম্পানির কাজে ইস্তফা দিয়ে মিউচুয়াল ফিল্ম কর্পোরেশন-এ মোটা মাইনে, মালিকানার অংশ ছাড়াও নিজে বছরে দু’খানা ছবি তৈরির শর্তে চুক্তিবদ্ধ হলেন। চিত্রনাট্য বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক উডস গ্রিফিথকে থমাস ফ্রেডরিক ডিক্সন জুনিয়র-এর লেখা ‘The Clansman’-এর চিত্রনাট্য দেখালেন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এই চিত্রনাট্য গ্রিফিথকে আকর্ষণ করে এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন ছবিটি তিনি করবেনই। তখনকার দিনে বিপুল অঙ্কের ছবিটি নির্মাণ করতে গিয়ে অর্থাভাবে কাজ ছ’বার বন্ধ হয়ে যায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে ১৯১৪-র জুলাই থেকে অক্টোবর অবধি ছবি তোলা হয় ও পরবর্তী তিন মাস চলে সম্পাদনার কাজ।

১৯১৫-র ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বারো রিলের ‘The Clansman’-এর প্রথম প্রদর্শনী হয় Clune’s Auditorium-এ। বিস্ময়ে হতবাক দর্শককুল। শঙ্কিত রাজনৈতিক নেতারা। পুলিশকে সতর্ক করা হয় দাঙ্গার আশঙ্কায়।

হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রপতি উইলসন-এর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা, বিচারপতিরাও মুগ্ধ ও স্তব্ধ। উইলসনের মন্তব্য, ‘It is like writing history with lightning’।

Advertisement

১৯১৫-র ২০ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের রোজ গার্ডেনে ছবিটি দেখার পর ডিক্সন গ্রিফিথকে ছবির বলিষ্ঠ প্রয়োগকুশলতার চাহিদানুযায়ী ‘The Clansman’-এর বদলে ‘The Birth of a Nation’ নামকরণের আবেদন জানান।

৩ মার্চ, ১৯১৫-য় নিউ ইয়র্কের লিবার্টি থিয়েটারে ‘The Birth of a Nation’ মুক্তি পেল। টিকিটের দাম ২ ডলার। এযাবৎ মুক্তিপ্রাপ্ত সমস্ত ছবিকে ম্লান করে দেয় এই ছবি। এমনকি ছবি তৈরির ৯ বছর পরও এই ছবির টিকিট বিক্রির হার ওই প্রেক্ষাগৃহের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি হিসেবে ঝড় তুলল এই ছবি। সামাজিক, রাজনৈতিক, সেন্সর সব ব্যাপারেই সমস্যা। সে এক হুলুস্থূল কাণ্ড। মেয়রের অনুরোধে গ্রিফিথকে দাঁড়াতে হল বিশেষ কমিটির সামনে। ছবি থেকে বাদ দেওয়া হল ১৭০টি ফ্রেম। বাকি ১৩৭৪টির প্রদর্শন সময় রইল ১৬৫ মিনিট।

এই ছবি তৈরি করতে খরচা হয়েছিল ১,১০,০০০ ডলার। আর কিছু দিনের মধ্যেই আয় হয় ১,৮০,০০,০০০ ডলার। বর্ণনাধর্মী দৃশ্যগ্রহণ (panning), সম্পাদনার বিপরীত ও অনুষঙ্গ সুরের মিশ্রণ (Contrapuntal editing), সত্যি রাতের দৃশ্যগ্রহণ, স্বপ্নদৃশ্যের ব্যবহার, বিশেষ মেজাজের জন্য বিভিন্ন বর্ণ ব্যবহার এই ছবিকে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাল।

গ্রিফিথের ‘Intolerance’ (১৯১৬) এবং জার্মানিতে তৈরি ‘Isn’t Life Wonderful’ (১৯২৪) সৃষ্টি করেছিল নয়াবাস্তববাদের (Neorealism), যা রাজনৈতিক গোঁড়ামি, ধর্মীয় সংস্কার ইত্যাদির উত্তরস্বরূপ হয়েছিল।

চার্লস চ্যাপলিন (১৮৮৯-১৯৭৭) ১৯১০ সালের অক্টোবর মাসে ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকা আসেন একটি নাট্যদলের সঙ্গে। ফ্রেড কার্নো-র এই দলের সঙ্গে চ্যাপলিন আমেরিকা আসার আগেই, সতেরো বছর বয়সেই তিনি মোটামুটিভাবে স্টেজ কমেডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। The Keystone Film Company-র অধিকর্তা ম্যাক সেনেট-এর নজর পড়ল চ্যাপলিনের ওপরে। সেনেটের অনুরোধে, সপ্তাহে দেড়শো ডলার পারিশ্রমিক দিতে রাজি হয়ে যায় অ্যাডাম কেসেল ও চার্লস বাউম্যান-এর কোম্পানিটি। ১৯১৩-র শেষ দিকে মঞ্চ ছেড়ে চলচ্চিত্রে যোগ দেন চ্যাপলিন। ম্যাক সেনেট শুধুমাত্র চ্যাপলিনের আবির্ষ্কতা হিসেবেই নন, স্ক্রিন কমেডির জনক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছেন তিনি। Keystone-এ থাকাকালীন চ্যাপলিন পঁয়ত্রিশটি ছবি করেন। সেনেট বিচক্ষণতার সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নেন, চ্যাপলিনের ছবির সব দায়িত্বই চ্যাপলিনের।

তথ্য সহায়তা: চলচ্চিত্রের আবির্ভাব— জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

।।। সমাপ্ত ।।।

কভার: Rescued from an Eagle’s Nest।/ চিত্র : গুগল

ছবিবৃত্তান্ত প্রথম কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত দ্বিতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত তৃতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত চতুর্থ কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত পঞ্চম কিস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 − one =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »