Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশেষ নিবন্ধ: সন্দীপ ঘোষ

লিঙ্গপুরাণে বেশ্যা

লিঙ্গপুরাণে দুর্গাপুজোকে ‘চতুষ্কর্মময়ী’ বলা হয়েছে। চতুষ্কর্ম বলতে— মহাস্নান, ষোড়শোপচার পূজা, বলিদান এবং হোম।

সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে বহুবিধ উপাচারে স্নান করানো হয়। এই উপাচারগুলির মধ্যে বেশ কিছু বিশেষ মাটির উল্লেখ আছে। রাজবাড়ির দুয়ারের মাটি, চারমাথার মোড়ের মাটি, গঙ্গামাটি, বৃষের শৃঙ্গস্থ মাটি, নদীর উভয় কূলের মাটি, সর্বতীর্থের মাটি, উইঢিবির মাটি, সাগরের মাটি বা বালি, বন্য শুয়োরের দন্তলগ্ন মাটি, গোষ্ঠের মাটি, দেবমন্দিরের দুয়ারের মাটি এবং বেশ্যার দুয়ারের মাটি। তথাকথিত ‘বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা’ বা পতিতালয়ের দ্বার-মৃত্তিকার ব্যবহার, পূজায় কি শাস্ত্রসম্মত? উত্তর— না। এক ঝলক দেখে নিই— লিঙ্গ, লিঙ্গপুরাণ ও বেশ্যা শব্দগুলি।

লিঙ্গ অর্থ— চিহ্ন বা প্রতীক। কেতকী কাহিনির অনাদ্যন্তরের প্রতীক শিবলিঙ্গ/চিহ্ন (যথা স্ফুলিঙ্গ)। এ্যম্বকং মথামহে বা রজতগিরিনিভং স্তব যেমন অতুলনীয়, তেমনই আবার তন্ত্র ও পুরাণের বহুস্থানে গুড্ডিমল্লমে ও শিল্পকর্মে বিকৃত মানসিকতার স্বাক্ষরও রয়েছে।

শিবলিঙ্গ শব্দটি নিয়ে তন্ত্র ও পুরাণকাররা নিজেদের উৎকট রুচির পরিচয় তো দিয়েছেনই, সময় সময় তা নীল সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত বললেও অত্যুক্তি হয় না। লিঙ্গ অর্থে বহু কিছু ও শিব অবৈদিক দেবতা হওয়ার জন্য এই অশ্লীলতা অনেক ক্ষেত্রেই বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কালিকাপুরাণের মতো উপপুরাণের শ্লীলতা ছাড়ানো গল্প বাদ দিয়ে বলা যায়— লিঙ্গ এখানের বিরাটের বিপরীত নুড়িমাত্র।

কুর্মপুরাণে বিবদমান ব্রহ্মা-বিষ্ণুর মাঝখানেও লিঙ্গ, প্রতীক পুরুষচিহ্ন নয়। পদ্মপুরাণে বর্ণিত ভৃগু কর্তৃক, শিব-পার্বতীর দীর্ঘ সময়কালীন বিহারে অধৈর্য হয়ে যোনিলিঙ্গরূপ প্রাপ্ত হওয়ার অভিশাপও গল্প ধরে নেওয়া যেতে পারে। বামনপুরাণ, ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ ইত্যাদি সব পুরাণের কাহিনিরই মূলে এক— সামান্য এদিক-ওদিক, শ্লীল-অশ্লীলের সহাবস্থান সর্বত্রই।

লিঙ্গপুরাণে আছে ঋষি ও দেবতাগণের প্রশ্নের উত্তরে ব্রহ্মা জানান, প্রকৃতি হচ্ছে লিঙ্গ এবং সাক্ষাৎ পরমব্রহ্ম হচ্ছে লিঙ্গী। প্রলয় মুহূর্তে এই লিঙ্গ আবির্ভূত হয়।

বেশ্যা শব্দের সঠিক অর্থ সম্বন্ধে অবহিত না হয়েই আমরা শব্দটিকে ব্যবহার করি বটে কিন্তু চৌষট্টি কলায় পারদর্শিনী, অসামান্য রূপবতী, গুণবতী, শীলবতী হলেও, বাৎস্যায়নের মতে তাঁরা কুম্ভদাসী, রূপাজীবা— পরিচারিকা, কুলটা, স্বৈরিণী, নটী, শিল্পকারিকা, প্রকাশবিনষ্টা ছাড়াও গণিকা হতে পারেন কিন্তু ‘বেশ্যা’ নৈব নৈব চ।

তন্ত্রে পূর্ণাভিষিক্তা শক্তিই বেশ্যা। ব্যাভিচারিণী, কুলটা— এঁরা বেশ্যা নন। কালী, তারা, ত্রিপুরা ইত্যাদি দশমহাবিদ্যা ও তাঁদের আবরণ দেবতাদের বেশ্যা বলা হয়।

শাস্ত্রে ‘বৈশ্যা’ ভিন্নার্থক পরিভাষিক শব্দ। যে পণ্ডিতরা একে সমর্থন করেন তাঁদের মতে— বেশ্যাদ্বার পুণ্যশোষী। যে পুরুষ বেশ্যালয়ে প্রবেশ করে, তার সমস্ত পুণ্যবল ওই বেশ্যাদ্বার শোষণ করে নেয়। শ্রুতি সুখকর হলেও তা শাস্ত্রসম্মত নয়। বেশ্যা শব্দের বর্ণ বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়— ব, ঋ, এ, ঋ, শ, ঋয্, ঋ, আ।

শ্রী পঞ্চানন শাস্ত্রীর মতে, তন্ত্রাবিধানের বর্ণবিধানে আছে— ব= বাল বা নব, এ= শক্তি, শ= বৃষঘ্ন, (বৃষ যদি ধর্ম হয় তবে ‘বৃষঘ্ন’ ধর্মহানি বোঝায়), য= কালী, আ= প্রতিষ্ঠা। সব মিলিয়ে যা দাঁড়াল, তা হল বালশক্তি বা নবজাতক সাধনাশক্তি সহায়ে বৃষঘ্ন বা ধর্মহানি (দূর করে) কালীতত্ত্বে প্রতিষ্ঠিতা সাধিকাই বেশ্যা।

শাস্ত্রের অপর ব্যাখ্যা— ব= মাতা,এ= স্বয়ং ভগবতী, শ= বৃষঘ্ন বা ধর্মবাধা, য= সর্বেশ্বরী, আ= প্রতিষ্ঠা। সব মিলিয়ে দাঁড়াল, মাতা ভগবতীর ইচ্ছায় ধর্ম বাধা জয় করে সর্বেশ্বরীতে প্রতিষ্ঠাতা সাধিকাই বেশ্যা।

বিখ্যাত সারস্বত সাধন পুরুষোত্তম দেব ‘একাক্ষরকোষ’-এ বলেছেন— ব= বক্ষঃস্থল বা হৃদয়, এ= পালনী শক্তি (বিষ্ণু), প= শ্রেয় (মার্গ), য= বাসনাত্যাগ (মুক্তি), আ= পিতামহ (সৃজনীশক্তি)। সৃজনীশক্তি ও পালনী শক্তির সহায়তায় প্রবৃত্তিমূলক ধর্মাচরণের মাধ্যমে হৃদয়কে বাসনামুক্ত করে যিনি শ্রেয় মার্গে বিচরণ করেন তিনিই বেশ্যা।

Advertisement

বৈষ্ণবাচার্য শ্রীমধ্ মধ্ব বিরচিত মাতৃকা-নির্ঘণ্ট অনুসারে— ব= পুরুষোত্তম, এ= দামোদর শ= লক্ষ্মীশ, য= বাগীশ, আ= বাসুদেব। যা দাঁড়াল— ভগবান মহিমাময় পুরুষোত্তম রূপে, দর্পহারী দামোদর রূপে, ধনৈশ্বর্যদায়ী লক্ষ্মীশ রূপে, জ্ঞানৈশ্বর্যদায়ী বাগীশ রূপে এবং পরমপ্রেমময় বাসুদেব রূপে যার হৃদয় কন্দরে সতত বিরাজমান— তিনিই বেশ্যা।

রুদ্রযামনোক্ত বর্ণনির্ঘণ্ট অনুযায়ী, রুদ্রযামলের মতে— ব= ভয়া (ভয়াত্মক বাসনা), এ= শক্তি, শ= মৃত্যুরূপ, য= হৃদগত, আ= গুরু। যা দাঁড়াল— গুরুর কৃপাশক্তিতে যাঁর হৃদগত মৃত্যুরূপ ভয়াত্মক বাসনা দূর হয়েছে, তিনিই বেশ্যা।

ভিক্ষাকর বংশজ তারাশঙ্কর-এর ‘বর্ণ-বীজাভিধান’ অনুযায়ী— ব= অভয়া, এ= জ্ঞানশক্তি, শ= শ্রেয়, য= স্থিরাত্মা, আ= বিরাজ বা রজোগণ দূরকারিণী। অর্থাৎ অভয়া জ্ঞানশক্তির দ্বারা রজোগণ বিদূরিত করে যে স্থিরাত্মা (স্ত্রী মসাধিকা) শ্রেয় পথ অবলম্বন করেছেন তিনিই বেশ্যা।

বৃচজ্জশকে শ্রীযজ্ঞেশ্বর শর্মা রচিত ‘বর্ণবীজাভিধানম’ অবলম্বনে বেশ্যা শব্দটির বর্ণাদিগত অর্থে— ব= রাত্রি, এ= শ্রদ্ধা, শ= বরেণ্য, য= হৃদয়, আ= প্রতিষ্ঠা। অর্থ দাঁড়াল— যিনি রাত্রিকালে শ্রদ্ধাপূর্বক বরেণ্যকে হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করে সাধনা করেন তিনিই বেশ্যা। শাস্ত্রে ‘বেশ্যা’ ও ‘গণিকা’ এক নয়। বৈষ্ণব তন্ত্র কিংবা বৈদিক নিঘণ্টু— সর্বত্রই ‘বেশ্যা’ শব্দটি উচ্চমার্গস্থিত স্ত্রীলোক বা সাধিকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

বীরভাবের সাধক যে সকল বিশেষ বিশেষ সাধিকা স্ত্রীদের পূজাদি করেন এবং যে সকল সাধিকা তাঁদের সাধন সহায় পুরুষদের ভৈরবরূপে চিন্তা করে নিজেরাও সাধনাসিদ্ধা হন, সেই সকল স্ত্রীদের তন্ত্রে বেশ্যা বলা হয়।

শঙ্কর বলেছেন— চুম্বন, আলিঙ্গন, আঘাত, রতি বিগ্রহ দর্শন, ত্রিসন্ধ্যা আমন্ত্রণ, ভগ ও লিঙ্গের কীর্তন— এগুলো বেশ্যাদের জপের অঙ্গ। জপাঙ্গ ব্যতীত বেশ্যা মিলিত হবে না। প্রত্যহ শিবের সঙ্গে আনন্দিতা হয়ে সেই বেশ্যা জপাঙ্গ করবে। যে বেশ্যা বিপরীতা হয়ে নিবৃত্তিমার্গসা মন্ত্র জপ করেন, তিনি কালী— এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে, কামক্রিয়া জপাঙ্গ হয় কী করে? তন্ত্রের গোপনীয়তা ও পারিভাষিকতা এখানেই।

আলিঙ্গন= অঙ্গবিন্যাস, চুম্বন= ধ্যান, আঘাত= প্রাণায়াম, রতিবিগ্রহ দর্শন= জপ, আমন্ত্রণ= দেবতার আবাহন, ভগ-লিঙ্গের কীর্তন= শিবকালীর নামকীর্তন। বিপরীতার অর্থ, কুলকুণ্ডলিনীকে সহস্রারস্থিত শিবের সঙ্গে যোগকরণ অর্থাৎ প্রবৃত্তির বিপরীত ভাবাবলম্বনে নিবৃত্তি মার্গের সাধনা। ব্যভিচারিণী, গণিকা, বেশ্যা পদবাচ্যা নয়।

শিবের মতে, বেশ্যা সাতপ্রকার।
১. গুপ্তবেশ্যা— তন্ত্র সাধক বংশজাতা, লজ্জাহীনা, কামার্তা (দেবপ্রাপ্তিরূপ কামনা যুক্তা) পশুভাবের সাধককে ভর্তৃরূপে আশ্রয়কারিণী স্ত্রী-ই গুপ্তবেশ্যা।
২. কুলবেশ্যা— কুল থেকে অর্থাৎ তন্ত্রক্রিয়া থেকে জাতা বেশ্যা কুলবেশ্যা নামে খ্যাতা।
৩. মহাবেশ্যা— কুলবেশ্যা স্বেচ্ছায় দিগম্বরী হলে মহাবেশ্যা নামে খ্যাত হন।
৪. মহোদয়া— কুলবেশ্যা যদি তান্ত্রিক সাধনরতা হয়ে বীরভাবের সাধকের পত্নী হন, স্বেচ্ছায় বিপরীত-গামিনী অর্থাৎ নিবৃত্তি মার্গগা হন, তা হলে তিনি মহোদয়া নামক বেশ্যা বলে খ্যাতা হন।
৫. রাজবেশ্যা— যে বেশ্যা রাজার মতো অর্থাৎ স্বাধীন, তাঁকে রাজবেশ্যা বলা হয়।
৬. দেববেশ্যা।
৭. ব্রহ্মবেশ্যা— দেববেশ্যা যদি তান্ত্রিক রহস্যপূজাদি সাধনকারিণী হন, তা হলে তিনি ব্রহ্মবেশ্যা বলে খ্যাতা হন।

এটা পরিষ্কার যে, শাস্ত্রে বেশ্যার অর্থ কুলটা বা গণিকা নয়। বেশ্যা= পূর্ণাভিষিক্তা সাধিকা আর বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা ওই সাধিকার দ্বারমৃত্তিকা। ভ্রমবশত, আমরা কুলটা বা পতিতার দ্বারমৃত্তিকা দ্বারা দেবী দুর্গার মহাস্নান সম্পন্ন করি, যা অসিদ্ধ।

পূর্ণাভিষিক্ত সাধক ও সাধিকা সাক্ষাৎ শিব-পার্বতী।
ক. যে গৃহে পূর্ণাভিষিক্ত সাধক-সাধিকা-সহ বীরাচারী মতে সাধনভজন ও চক্রানুষ্ঠানাদি গুহ্য তন্ত্রসাধনা নিষ্পন্ন করেন, সেই গৃহের দ্বারমৃত্তিকা প্রকৃত বেশ্যা দ্বারমৃত্তিকা।
খ. কালী-তারা-ত্রিপুরাদি দশমহাবিদ্যা এবং তাঁদের আবরণ দেবতাকে বেশ্যা বলা হয়। মহাকালসংহিতায় কালীখণ্ডে ‘কালীককারাদি-সহস্রনামস্তোত্রম্’-এ কালীকে সর্বজ্যেষ্ঠা বেশ্যা বলা হয়েছে। ‘তম্মাদ বেশ্যা বরা মতা’। পূর্ণাভিষিক্তা শক্তি কোনও মহাবিদ্যার আবরণ দেবতার মধ্যে সন্নিবিষ্টা হন বলে তিনি বেশ্যা— এই উচ্চ উপাধিভূষিতা হন। পূর্ণাভিষিক্তা মহাবিদ্যা মন্ত্রে তন্ত্রোক্ত দীক্ষালাভের পর শ্রীগুরুদেব শিষ্য বা শিষ্যাকে মন্ত্রপূত সিদ্ধ সলিলের দ্বারা শাক্তাভিষেক করেন। শাক্তাভিষিক্ত সাধক বা সাধিকা পুরশ্চরণাদি গুরুনির্দিষ্ট সাধনসহায়ে শক্তিমান হলে শ্রীগুরুদেব কর্তৃক মন্ত্রপূত সিদ্ধকূলদ্রব্যের দ্বারা অভিষিক্ত হন। এইসময় থেকে সাধক বা সাধিকা পঞ্চমকার যোগে (মদ, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা, মৈথুন) দেবীপূজার অধিকার লাভ করেন এবং সাধক সমাজে আচার্যরূপে পরিগণিত হন। এই দুর্লভ অভিষেককেই তন্ত্রশাস্ত্রে ‘পূর্ণাভিষেক’ বলা হয়।

যক্ষীমূর্তি। দিদারগঞ্জ, বিহার। চিত্র: গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »
অপরাজিতা মৈত্র

গোদাবরীর গোমুখে

গঙ্গার মর্ত্যে আগমন নিয়ে যেমন ভগীরথের গল্প, তেমনই গোদাবরীর উৎসস্থলে না এলে জানা যেত না, দক্ষিণের গঙ্গা নিয়েও আছে হাজার গল্প। যে গল্প জানাবে আজও এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময়েই কাছাকাছি আর কোনও পানীয়জল না পেয়ে কষ্ট করে হলেও এই উৎসস্থলে এসেই শীতল এই পানীয়জল নিয়ে যান নিজেদের কাজের জন্য। গঙ্গা বা অন্য নদী সে শুধু ধার্মিক আবেগের কারণে পবিত্র না, হাজার প্রাণীর ‘তৃষ্ণা’ মেটাবার জন্য সে হয়ে ওঠে ‘দেবী’ বা ‘পবিত্র’। সে পথে মিশে যায় হাজার গল্প-কষ্ট কিংবা দিনযাপনের চরম বাস্তবতা।

Read More »
রুহ

রুহের কবিতাগুচ্ছ

একই আলোকমালায় কাটিয়েছি/ বহুকাল দু’জনে…/ বলিনি কখনও।/ তারা খসা দেখেছি একসাথে, যদিও/ গোপন থেকেছে চাওয়া-পাওয়া।/ মাঝে বহুদিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো/ একা… নীরবে বয়েছি যাতনা।/ আজ মিথ্যের নেই অবকাশ/ তোমাকে কি পড়েনি মনে/ কোনও মুহূর্ত বা ক্ষণে/ ভাবিনি কি একান্ত বন্ধু আমার—/ এতদিন পরে, পুনর্মিলনে বলেছ/ পাখি হতে চেয়েছিলে এ জীবনে

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

যুদ্ধ: বৈশ্বিক কসাইখানা, পুঁজির সংকট ও শ্রমের মুক্তি

অবিক্রীত পণ্যের পাহাড় যখন পুঁজির পুনরুৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন পুঁজিপতিরা তীব্র আতঙ্কে ভোগে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তারা প্রতিযোগী পুঁজিপতির বাজার ও পণ্য ধ্বংস করতে চায়। আর এই ধ্বংসের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে তারা রাষ্ট্র ও সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। অর্থাৎ, উদ্বৃত্ত পণ্য এবং অতিরিক্ত শ্রমকে ধ্বংস করে পুঁজির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই বুর্জোয়া যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। এই শোষণের প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে রাষ্ট্র একদল বুদ্ধিজীবী ও নীতিবিদ লালন করে, যারা কৃত্রিম ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’-এর আফিম খাইয়ে শ্রমিককে বিভ্রান্ত রাখে, যাতে তারা শোষক ও শোষিতের মধ্যকার মৌলিক শ্রেণি-পার্থক্য ভুলে যায়।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

বিশ্বকাপ জৌলুসে আর্জেন্টিনা গণহত্যার বধ্যভূমি

বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের যে স্টেডিয়ামে তখন খেলা হত, তার মাত্র এক মাইল দূরে ছিল সামরিক সরকারের বন্দিশিবির নেভি স্কুল অব ম্যাকনিকস। সাংবাদিক ডেভিড কক্স ফুটবল বিশ্বকাপের খবর সংগ্রহ করতে গেছিলেন। তিনি ‘ডার্টি ওয়ার’ বইতে লিখেছিলেন, যখন স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ চলত তখন ওই টর্চার সেল থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। আর্জেন্টিনার ভুবনমোহিনী ফুটবলে লেগে আছে রক্ত।

Read More »
রাধাবল্লভ রায়

ধর্মযুদ্ধ

এই যে সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন শতমুখে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, এই যে ফেসবুক জুড়ে বিশেষ সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে সম্মানীয় নেতা-মন্ত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত, হিংসার প্রদর্শনী— এর প্রতিক্রিয়া কোথায় গিয়ে ঠেকে তাঁরা কি জানেন? পাড়ায় পাড়ায়, রকের আড্ডায়, ক্লাবের আড্ডায়— সর্বত্র বয়োজ্যেষ্ঠদের নির্বোধ অসংযত উচ্চারণ কোন শিশুর হৃদয়ে কেমন ভাবে প্রোথিত হয় তাঁরা কি জানেন? ভেবে দেখেছেন কি এই বিদ্বেষিতার মধ্যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আগামী প্রজন্ম?

Read More »