Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রকৃতিপাঠ: ফলসার বহুবিধ গুণ

ফলসা আমাদের দেশে স্বল্পপরিচিত একটি সাধারণ ফল। ফলসা ফারসি শব্দ। এর বাংলা হচ্ছে ধামানি। বাংলা, হিন্দি, মারাঠি ও উর্দুতে ফলসা, সংস্কৃতে মৃদুফল, মণিপুরিতে সাজেলহেই, কন্নড়ে ফুলসা, তেলুগুতে ফুটিকি, সিন্ধিতে ফারাহো, কোঙ্কনিতে ফলসি, গুজরাতিতে শুকরি, ওড়িয়াতে ফারোসাকলি, মালয়ালমে চাদিচা, তামিলে উন্নু বলা হয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হয়। ভারতের পঞ্জাব এবং মুম্বইয়ের আশেপাশে ফলসার চাষ বেশি হয়। আদি নিবাস এশিয়ার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল। হিমালয়ের পাদদেশে ভাল জন্মে। ফলসা বুনোফল হিসেবেই পরিচিত। গ্রামে একসময় প্রচুর দেখা গেলেও ইদানীং বেশ দুর্লভ হয়ে উঠেছে ফলসা গাছ।

পথের ধারে, পতিত জায়গায় আপনাআপনিই জন্মায়। বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করে পাখিরা। শহরে এ গাছ খুঁজে পাওয়া অনেকটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই ফল শিশুদের পাশাপাশি পাখিদেরও পছন্দের ফল। সম্ভবত কাকেরাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। ফলসা পাকার মরসুমে সারা দিনই ওদের আনাগোনা চোখে পড়ে। হয়তো আরও অনেক প্রাণী এ ফল খেয়ে বেঁচে থাকে। শুধু ফলের কথা বাদ দিলেও ফলসা গাছ হিসেবেও অনন্য। বড় বড় পাতার এই গাছ ডালপালা ছড়িয়ে ছাতার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তামাটে রঙের নতুন নতুন পাতা এ গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ফলসা মাঝারি আকারের পাতাঝরা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম Grewia asiatica, এটি Tiliaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ছয় থেকে সাত মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ফলসার পাতা কাকডুমুরের মতো খসখসে, ডিম্বাকৃতি বিপরীতভাবে বিন্যস্ত হয়। পাতার কিনারা সামান্য দাঁতযুক্ত। পাতা দশ থেকে বারো সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং আট থেকে দশ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। ফুল ছোট, হলদে ও অল্প রোমযুক্ত। ফল মটরের আকৃতির, গোলাকার ও ধূসর বর্ণের হয়। ফল পাকলে বেগুনি বা নীলাভ কালচে বা গাঢ় বেগুনী রং ধারণ করে। শীতের শেষে ফুল ধরে এবং এপ্রিল-মে মাসে ফল পাকে। গাছের বাকল লম্বা, আঁশযুক্ত ও ধূসর বর্ণের।

ফলসা তাজা ফল হিসেবে খাওয়া হয়। এই ফলের রস থেকে সিরাপ তৈরি হয়ে থাকে। পাকা ফলসা স্বাদে টক-মিষ্টি। ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি-এর ভাল উত্স। আরও রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, খনিজ পদার্থ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন ইত্যাদি। ফলসার বহুবিধ গুণ। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ফলসা আর্থারাইটিস বা বাতের সমস্যা থেকে রেহাই দিতে পারে, স্তন ও লিভার ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, হাড় মজবুত করে, শরীরকে ঠান্ডা রাখতে, খিদে বাড়াতে ও খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে, অ্যাজমা কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাস সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এবং ডায়ারিয়া উপশমে ফলপ্রসূ। এমনকি রক্তশূন্যতাতেও ফলসা উপকারী। এছাড়াও ফলসার বাকলের রস জ্বর, সাধারণ সর্দিকাশি এবং আমাশয় নিরাময়েও কাজ করে।

চিত্র : গুগল

প্রকৃতিপাঠ : বিলুপ্তপ্রায় কর্পূর গাছ

প্রকৃতিপাঠ: স্নিগ্ধ ছায়ার তমাল গাছ

প্রকৃতিপাঠ: দৃষ্টিনন্দন ও সুগন্ধী নাগলিঙ্গম

প্রকৃতিপাঠ: খইয়ে বাবলা ফলের গাছ

Advertisement

প্রকৃতিপাঠ: চিনেবাদাম চিনে নিন

প্রকৃতিপাঠ: রসময়ী খেজুর গাছ

প্রকৃতিপাঠ: তাহার নামটি রঞ্জনা

প্রকৃতিপাঠ: উপকারী সোনাপাতা

প্রকৃতিপাঠ: বসন্তের শ্বেত শিমুল

প্রকৃতিপাঠ: পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় বৃক্ষ ছাতিম

প্রকৃতিপাঠ: এখন অশোক ফোটার দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

জন্মশতবর্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত তাঁর সামান্য খড়কুটোর মতো জীবনকে মহার্ঘ প্রতিভার মিনারের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। তিনি যেন প্রতিভার এক বনসাই, সাহিত্যের কত না সম্ভার নিয়ে সুকান্তর কারুবাসনা! তিনি যদি সারস্বত সাধনার একটি সুচারু তোড়া স্বল্প-পরিসর জীবনে উপহার দিয়ে যান, আমরা লক্ষ্য করব, সেখানে রয়েছে গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, কাব্যনাট্য, গান, ছড়া, কবিতার বৈভব। আছে তাঁর সম্পাদিত কবিতার বই, ‘আকাল’। তিনি অনুবাদক। এমনকী উপন্যাস রচনাতেও হাত দিয়েছিলেন তিনি। চার বন্ধু মিলে বারোয়ারী। অন্য বন্ধুদের অসহযোগিতায় তা সম্পূর্ণ হতে পারেনি। আবৃত্তিকার ও অভিনেতা, নাট্য-পরিচালক রূপেও দেখেছি তাঁকে। দৈনিক ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকার ছোটদের পাতা ‘কিশোরসভা’-র সম্পাদনাসূত্রে সাংবাদিক-ও আবার, যে সভার পঁচিশ হাজারের ওপর সভ্য ছিল।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

বাইশে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথ-ও কিন্তু আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। যে কবি চির আশাবাদী, একটা সময় প্রখর বিষণ্নতা গ্রাস করেছিল তাঁকেও। ইউনানি মতে একবার নিজের চিকিৎসা করান তিনি। তাইতেই এমন মানসিক বিপর্যয়। অবসাদ, কান্না পাওয়া, আত্মহননেচ্ছা, সাময়িকভাবে এসব পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পুত্র রথীন্দ্রনাথকে চিঠিতে জানাচ্ছেন তিনি, ‘দিনরাত্রি মরবার কথা এবং মরবার ইচ্ছা আমাকে তাড়না করছে। মনে হচ্ছে আমার দ্বারা কিছুই হয় নি এবং হবে না। আমার জীবন যেন আগাগোড়া ব্যর্থ।’ কবির এহেন অনুভব, ভাবা যায়? এন্ড্রুজকে লেখা চিঠিতেও এর সমর্থন আছে, ‘l feel that l am on the brink of a breakdown.’

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মোহন রায়হান: এক সুহানা সফর

মোহন রায়হান জীবনযাপনেও দলছুট এক কবি, একলা চলার ব্রত ও অভীপ্সা নিয়ে তিনি পথ চলেন। সেজন্য কম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তাঁকে, এমনকী কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন, যে জন্য দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ‘কবি ছাড়া আমাদের জয় বৃথা’, আপ্তবাক্যটি মোহন রায়হান নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। মোহন রায়হান কবিতায় সহসা আগন্তুক নন। তাঁর আছে পরম্পরা, ঐতিহ্য, পুরনো দশকসমূহের অনুবর্তিতা আর উত্তরাধিকার। একাত্তর, তার-ও আগের বাহান্নো, বা সাতচল্লিশ পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশের কবিতায় যে রেখাপাত ঘটিয়েছে, আলো আর অন্ধকারের কলমকারিতে তার মহাগীত রচিত হয়ে আছে।

Read More »
সালমিন রহমান

বেলুচিস্তান সংকট মোকাবিলা কতটা সহজ

বেলুচিস্তানের সংকটকে কেবল বিচ্ছিন্নতাবাদ কিংবা কেবল নিরাপত্তা সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে পূর্ণ চিত্রটি বোঝা যায় না। এখানে ইতিহাস, জাতিগত পরিচয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উন্নয়ন বৈষম্য, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা— সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। স্বাধীন বেলুচিস্তান গঠিত হলে বহু মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে। একই সঙ্গে একটি নতুন রাষ্ট্রের সামনে দাঁড়াবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন বাস্তবতা। অন্যদিকে, পাকিস্তান, চীন, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও দুই বিখ্যাত বাঙালি

কী অসাধারণ শিক্ষাই না আমরা পেতে পারি, উৎসাহিত হয়ে পারি খেলোয়াড়দের থেকে! একটি উদাহরণ: প্রথম বিশ্বকাপে সোনাজয়ী উরুগুয়ে দলে ছিলেন হেক্টর কাস্ত্রো। তেরো বছর বয়সে মেশিনে তাঁর ডানহাত কাটা পড়েছিল। অদম্য উৎসাহে তিনি ফুটবল খেলেছেন, জাতীয় দলে স্থান করে নিয়েছেন, আর ফাইনালে জয়সূচক গোলটিও তাঁর-ই করা! তাঁর স্বদেশবাসী তাঁকে ডাকতেন— ‘এল ডিভিনো মানকো’, অর্থাৎ একহাত-বিশিষ্ট ঈশ্বর।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আমেরিকার স্বাধীনতা: আড়াইশো বছর

১৬০৭ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত সময়কাল আমেরিকায় ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক রাজত্ব। আজকের দিনে যে আমেরিকা, তা কিন্তু পুরোটা ব্রিটিশদের দখলে ছিল না। ছিল ভার্জিনিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া-সহ ১৩টি রাজ্য। আর কানাডার বেশ কিছু অঞ্চল। আমেরিকার অন্যান্য স্থানে ফরাসি, ডাচ, নরওয়েজিয়, সুইডিস উপনিবেশ-ও ছিল। তাছাড়া রাশিয়া আমেরিকার আলাস্কা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত দখল করে। পরে সে আলাস্কা আমেরিকার কাছে বিক্রিও করে দেয়।

Read More »