Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

প্রকৃতিপাঠ: তাহার নামটি রঞ্জনা

তাহার নামটি রঞ্জনা। উদ্ভিদের নাম রঞ্জনা। এই উদ্ভিদের অন্যান্য নাম রঞ্জন, রক্ত-কম্বল, চন্দন-দানা, চন্দন-গোটা, রাঙা চন্দন-দানা, রঞ্জক। ইংরেজি নাম False Red Sandalwood, Acacia Coral, Red Bead-tree, Coral Wood, Curly Bean, Jumbi Bead, Peacock Flower-fence, Red Lucky Seed, Saga Seed tree। সংস্কৃত নাম Ratangunja, Ratangunj, Kunchandana প্রভৃতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম: Adenanthera pavonina, সমনাম: Adenanthera gersenii Scheff। এটি Fabaceae পরিবারের বৃক্ষ।

রঞ্জনা গাছের শুঁটি।

এই উদ্ভিদের বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অ্যান্টিসেপ্টিক হিসাবে, বাতের ব্যথা ও নানা প্রদাহে এর ব্যবহার দেখা যায়। ব্রাজিল, বাংলাদেশ, ভারত সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে গাছটি পাওয়া যায়। রঞ্জনা মাঝারি আকারের পত্রমোচী উদ্ভিদ। এর পাতা দুই-পক্ষল, গাঢ়-সবুজ, পত্রিকা ২-৩ সেমি লম্বা, বসন্তে নতুন পাতা গজায়। গ্রীষ্মে লম্বা ছড়ায় ছোট ছোট, হালকা হলুদ ও সুগন্ধি ফুল ফোটে। এর শুঁটি ১৫-২২ সেমি লম্বা, পাকলে কুঁকড়ে যায় ও দুই খণ্ডে বিভক্ত হয়। বীজ গাঢ় লাল ও শক্ত। বীজ ও ডালের কাটিং থেকে নতুন চারা করা যায়। ফুল খুব ছোট হওয়ায় অনেকের চোখেই পড়ে না কিন্তু শুঁটি ফেটে যাওয়ার পর গাছের নিচে লাল বীজ ছড়িয়ে থাকে। অনেকেই এই বীজকে ভুল করে রক্তচন্দনের বীজ বলেন।

রঞ্জনা, বীজ দেখে যায় চেনা।

রঞ্জনা বেশ পরিচিত একটি গাছ। লাল বীজগুলো দেখতে খুব সুন্দর। চিনে একে বলা হয় xiang si dou অর্থাৎ mutual love bean। অনেকে এর বীজ দিয়ে আংটি, মালা, দুল ইত্যাদি বানায়। বিখ্যাত ইংরেজ ছত্রাকবিজ্ঞানী এবং উদ্ভিদবিদ এড্রেড জন হেনরি কর্নার (E. J. H. Corner) তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ভারতীয় উপমহাদেশে প্রাচীনকালে স্বর্ণকারেরা সোনার ভর পরিমাপে রঞ্জনার বীজ ব্যবহার করতেন। এই গাছের কাঠ খুব শক্ত, তাই আসবাবপত্র, নৌকা প্রভৃতি তৈরিতে কাজে লাগে। কাঠ থেকে রঞ্জক সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বীজ বিষাক্ত, শোধন ছাড়া ঔষধে ব্যবহার করা যায় না। কচি পাতা ও গাছের ছালের রস বা কাথ্ ডায়ারিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পাতার নির্যাসে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও বীজের নির্যাসে প্রদাহনাশক গুণাগুণ রয়েছে।

চিত্র : গুগল/ লেখক

প্রকৃতিপাঠ : বিলুপ্তপ্রায় কর্পূর গাছ

প্রকৃতিপাঠ: স্নিগ্ধ ছায়ার তমাল গাছ

প্রকৃতিপাঠ: দৃষ্টিনন্দন ও সুগন্ধী নাগলিঙ্গম

প্রকৃতিপাঠ: খইয়ে বাবলা ফলের গাছ

প্রকৃতিপাঠ: চিনেবাদাম চিনে নিন

প্রকৃতিপাঠ: রসময়ী খেজুর গাছ

প্রকৃতিপাঠ: উপকারী সোনাপাতা

প্রকৃতিপাঠ: বসন্তের শ্বেত শিমুল

প্রকৃতিপাঠ: পশ্চিমবঙ্গের জাতীয় বৃক্ষ ছাতিম

প্রকৃতিপাঠ: এখন অশোক ফোটার দিন

প্রকৃতিপাঠ: ফলসার বহুবিধ গুণ

One Response

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

13 + fifteen =

Recent Posts

মণিশংকর বিশ্বাস

মণিশংকর বিশ্বাসের কবিতাগুচ্ছ

কবিতাগুচ্ছ ম ণি শং ক র  বি শ্বা স কুদৃষ্টি রাস্তার চোখগুলি মনে পড়ে স্নানঘরেও মেয়েটি ভয় পাচ্ছে নগ্ন হতে °°° ক্ল্যাইম্যাক্স মুনমুনকে খুঁজছি সকাল

Read More »
নুশান জান্নাত চৌধুরী

নুশান জান্নাত চৌধুরীর ছোটগল্প

রাত-জ্বলা পোকা নু শা ন  জা ন্না ত  চৌ ধু রী ।। ১ ।। দক্ষিণে, শিরাজের তখত নিয়ে জান্দ আমিরদের নিজেদের ভেতর কামড়াকামড়ি। উত্তর থেকে

Read More »
শুভদীপ রায়চৌধুরী

শুভদীপ রায়চৌধুরীর কবিতাগুচ্ছ

কবিতাগুচ্ছ শু ভ দী প  রা য় চৌ ধু রী দৃষ্টি অন্ধের যষ্টির মতো ধরতে চেয়েছি অন্ধ আসলে কী ধরে? প্রতিবিম্ব? ছায়া? নাকি শান্ত অন্ধকারে

Read More »
দত্তাত্রেয় দত্ত

দত্তাত্রেয় দত্তর প্রবন্ধ

অজস্র ত্রুটি ও অপব্যাখ্যায় পরিকীর্ণ ব্রুকের এই ফাঁপা মহাভারত-নাট্য সম্বন্ধে সংক্ষেপে কিছু বলতে গেলে বলতে হয়, ওটা হলো মহাভারতের মলাট অবলম্বনে ব্রুকের বানানো একটা গপ্পো মাত্র: মহাভারতের নাম-না-শোনা পশ্চিমা দর্শকমণ্ডলীকে ঘেবড়ে দেবার জন্য তৈরি। তাই আমাদের দেশেও চট্ করে পশ্চিমা হয়ে যাবার লোভে অনেকেই ব্রুকের মহাভারতের স্তুতি গেয়ে থাকেন— বিশেষত তাঁরাই, যাঁরা মহাভারত পড়েননি।

Read More »
রথীন চক্রবর্তী

ইউক্রেন ভ্রমণ: রথীন চক্রবর্তী

ইউক্রেনে প্রথম দু’টি রাত র থী ন  চ ক্র ব র্তী যাক, শেষপর্যন্ত ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখা সম্ভব হল! ভিসা পাওয়ার জন্য কলকাতায় নিজের অফিস

Read More »
মানব সাধন বিশ্বাস

ব্রিটিশ গল্প ।। অনুবাদ: মানব সাধন বিশ্বাস

পরিচয় ডরিস লেসিং মা ন ব সা ধ ন  বি শ্বা স ক্যাথারিনকে বলেছিলাম ওকে আমার আরেক কিশোর-বন্ধু ফিলিপের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব। ফিলিপ লন্ডন

Read More »