‘দ্বিতীয় শ্রীক্ষেত্র’ বারিপদায় সুভদ্রার রথ টানেন মহিলারা
ত রু ণ সিং হ ম হা পা ত্র
বারিপদা ‘দ্বিতীয় শ্রীক্ষেত্র।’ বারিপদার রথযাত্রা ওড়িশার দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রাচীনত্ব, ঐতিহ্য আর জনসমাগমে ‘শ্রীক্ষেত্র’ পুরীর পরেই বারিপদার স্থান। ষোড়শ শতকের শেষার্ধে, ওড়িশার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সংকটকালে বারিপদায় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন ভঞ্জবংশের রাজা বৈদ্যনাথ ভঞ্জ। সেই সময় থেকে বারিপদায় রথযাত্রারও সূচনা।
ভঞ্জবংশ ওড়িশার এক সুপ্রাচীন রাজবংশ। নবম–দশম শতকে এই বংশের একটি শাখা উত্তর ওড়িশার খইরভণ্ডন ও বৈতরণী উপত্যকায় খিজিঙ্গমণ্ডলের শাসক হন। খিজিঙ্গমণ্ডলের রাজধানী ছিল খিজিঙ্গকোট (বর্তমান খিচিং)। খিজিঙ্গমণ্ডলে তাঁরা প্রায় পাঁচশো বছর রাজত্ব করেন। ১৩৬০-৬১ সালে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের ওড়িশা অভিযানের সময় খিজিঙ্গকোট ধ্বংস হয়। এর ফলে ভঞ্জরা খিচিং পরিত্যাগ করে বুড়াবলঙ্গ (বুড়িবালাম) উপত্যকায় নতুন রাজ্য স্থাপন করেন। রাজধানী হয় হরিহরপুর বা হরিপুর। নতুন রাজ্যের নাম হয় ময়ূরভঞ্জ। আদি ভঞ্জ রাজারা ছিলেন মূলত শাক্ত। কুলদেবী ছিলেন খিজিঙ্গেশ্বরী (বা কীচকেশ্বরী)। কিন্তু হরিপুরের শাসকেরা বৈষ্ণবধর্মের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠেন। এর পশ্চাতে রয়েছে শ্রীচৈতন্য বা তাঁর প্রবর্তিত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব। জনশ্রুতি, চৈতন্য নবদ্বীপ থেকে নীলাচল যাত্রার পথে হরিপুরে আসেন। গোবিন্দ দাসের কড়চা-য় আছে—
পরদিন সুবর্ণরেখার ধারে গিয়া
পুলকিত রঘুনাথ দাসেরে দেখিয়া
অনন্তর হরিহরপুর মোরা যাই
সেথা গিয়া হরিনামে মাতিল নিমাই।

কড়চায় বর্ণিত এই ‘হরিহরপুর’ ভঞ্জ রাজাদের রাজধানী হরিহরপুর কি না নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। আবার তৎকালীন ভঞ্জরাজা বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এমন প্রমাণ নেই, বরং গোপীজনবল্লভ দাসের ‘রসিকমঙ্গল’ কাব্যে স্পষ্টতই দেখা যায়, শ্যামানন্দের শিষ্য রসিকানন্দের প্রচেষ্টায় ভঞ্জ রাজারা গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের অনুগামী হন। গোপীজনবল্লভ লিখেছেন—
হেনরূপে বৈদ্যনাথ উপদেশ হৈলা।
দিনে দিনে প্রেমভক্তি বাড়িতে লাগিলা।।
অনন্য শরণ হৈল তিন সহোদর।
কৃষ্ণপ্রেমময় হৈল উৎকলনগর।।
বহু শিষ্য করিলেন রসিক সেখানে।
কতদিন রহিলেন রাজার সে গ্রামে।।
অদ্ভুত বৈষ্ণব হৈলা তিন সহোদর।
তুলনা দিবারে নাই জগতভিতর।।
ভঞ্জভূমে সর্বলোক হৈলা বৈষ্ণব।
শৈব শাক্ত জীবহত্যা ছাড়িলেন সব।।
রাজা বৈদ্যনাথ ভঞ্জ গুরুদেব রসিকানন্দের স্মরণে হরিপুর গড়ে ‘রসিকরায়’ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। গৌড়ীয় রীতির আটচালা এই মন্দির ভঞ্জবংশের অনুপম কীর্তি। রাজা বৈদ্যনাথের বৈষ্ণবধর্ম অনুরাগের আর এক নিদর্শন বারিপদার জগন্নাথ বা বলদেবজিউ মন্দির।

জনশ্রুতি, পরম বৈষ্ণব বৈদ্যনাথের ছিল জগন্নাথের প্রতি অচলা ভক্তি। রথারূঢ় জগন্নাথ দর্শনে পুনর্জন্ম হয় না, এই সৌভাগ্য লাভের আশায় তিনি সৈন্যসামন্ত, পাত্রমিত্র সহ পুরীর উদ্দেশে যাত্রা করেন। তখন ওড়িশার গজপতি রাজা চালুক্যবংশীয় হরিচন্দন মুকুন্দদেব। বৈদ্যনাথ পিপলি পৌঁছলে গজপতির পাইক সর্দার বলিয়ার সিং ভঞ্জ রাজার পথ আগলান। জানতে চান, এত সৈন্যসামন্ত নিয়ে তিনি কোথায় চলেছেন? প্রত্যুত্তরে রাজা জগন্নাথ-দর্শনের অভিলাষ জানান। পাইক সর্দার জানান, গজপতির অনুমতি ছাড়া শ্রীক্ষেত্র পুরীতে প্রবেশ করা যাবে না। ভঞ্জ রাজাকে আঠারোনালায় অপেক্ষা করতে বলে পাইক সর্দার গজপতির কাছে অনুমতি আনতে গেলেন। গজপতি নির্দেশ দিলেন, ভঞ্জ রাজা যদি জগন্নাথদেবকে দর্শন করতে চান, তা হলে তিনি রাজবেশ ছেড়ে সৈন্যসামন্ত ছাড়া একাকী একজন সাধারণ মানুষের মতো প্রভুকে দর্শন করতে পারেন। এই কথা শুনে রাজা দুঃখ পেলেন, অপমানিত বোধ করলেন। কিন্তু কী করা যায়? নিজের অনুচরদের দেবদর্শন থেকে বঞ্চিত করে নিজে জগন্নাথকে দর্শন করা ঠিক মনে করলেন না। হতাশ হয়ে তিনি জগন্নাথদেবের কাছে কাতর প্রার্থনা জানালেন তাঁর মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য। আঠারোনালায় বিনিদ্র রাত্রি কাটিয়ে রাজা ভোরের দিকে একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি যেন শুনতে পেলেন রত্নসিংহাসন থেকে নেমে এসে বড় ঠাকুর বলভদ্র তাঁকে বলছেন— ভক্ত ভঞ্জ নরেশ, তুমি তোমার রাজ্যে ফিরে যাও। ভক্তির দ্বারা তুমি আমাকে জয় করে আমার সেবার্চনার অধিকারী হতে পেরেছ। নিজের রাজ্যে মন্দির প্রতিষ্ঠা করো। আমি সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যা আরতির সময় অবস্থান করব। এই স্বপ্নাদেশে রাজার তন্দ্রাচ্ছন্নতা কেটে গেল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে তিনি নিজের রাজ্যে ফিরে এলেন। দক্ষ স্থপতি, শিল্পীদের দিয়ে বারিপদায় মন্দির নির্মাণ করলেন। বলভদ্রের আদেশে এই মন্দির নির্মিত হয়েছিল বলে রাজা শ্রীহরি বলদেবজিউ নাম দেন। লোকমুখে ক্রমে বড় জগন্নাথ মন্দির নামে পরিচিত হয়।

এই জনশ্রুতির কিছুটা ভিন্নরূপও প্রচলিত। তাতে দেখা যায় রাজা বৈদ্যনাথ ভঞ্জ পুরী উপকণ্ঠে পৌঁছলে পাণ্ডা প্রতিহারীরা দেবদর্শনের জন্য প্রচুর পরিমাণে সোনার মোহর দাবি করেন। রাজা তৎক্ষণাৎ সেই পরিমাণ মুদ্রা দিতে না পারায় তাঁকে পুরী নগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ব্যথিত ও অপমানিত রাজার কাতর প্রার্থনায় বিচলিত বলরাম মন্দির প্রতিষ্ঠার স্বপ্নাদেশ দেন।
অবশ্য মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে অন্য একটি মতও প্রচলিত। ১৫৬৮ সালে ওড়িশার শেষ স্বাধীন নরপতি হরিচন্দন মুকুন্দদেবের নিধনের ফলে ওড়িশার বেশিরভাগ অংশ পাঠানদের অধিকারভুক্ত হয়। পাঠান সেনাপতি কালাপাহাড়ের অত্যাচারে পুরীর মন্দিরের পূজার্চনা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ব্যথিত হন বৈদ্যনাথ ভঞ্জের পিতামহী। তিনি ছিলেন গজপতি প্রতাপরুদ্রদেবের কন্যা। জগন্নাথ সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তিনি বৈদ্যনাথকে বারিপদায় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। পিতামহীর আদেশে বৈদ্যনাথ ১৫৬৮ সালে মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। কলিঙ্গ রীতির এই মন্দিরের নির্মাণ সম্পূর্ণ হয় ১৫৭৫ সালে।
‘বারিপদা দণ্ডপাট’ মহারাজা প্রতাপরুদ্রদেব জামাতা জগন্নাথ ভঞ্জকে বিবাহের যৌতুকস্বরূপ দান করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, হরিপুরে গড় স্থাপনের পূর্বে কিছুকাল ভঞ্জ রাজারা বহলদা থেকে রাজকার্য পরিচালনা করেন। এই সময় ভঞ্জ রাজা বাসুলি ভঞ্জ তাঁর পাটরানি ও পুত্র জগন্নাথকে নিয়ে জগন্নাথদেবের দর্শনের জন্য পুরী যান। কোনও কারণে সেখানে রানির মৃত্যু হয়। মাতৃহারা রাজপুত্রের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে গজপতি প্রতাপরুদ্রদেব তাঁর কন্যার সঙ্গে জগন্নাথ ভঞ্জের বিয়ে দেন এবং যৌতুক হিসেবে বারিপদা দান করেন। বাসুলি ভঞ্জের পর জগন্নাথ ভঞ্জ ময়ূরভঞ্জের রাজা হন এবং বারিপদায় একটি গড় নির্মাণ করেন। হরিপুরে ভঞ্জরা প্রায় চারশো বছর রাজত্ব করেন। ষোড়শ শতকের শেষার্ধে ওড়িশায় ক্ষমতা বিস্তারের জন্য পাঠান-মোগলদের সংঘর্ষের ফলে হরিপুর গড় তাঁদের হাতছাড়া হয়। সুলেমান কররানির পুত্র দাউদ খাঁ গড় দখল করেন। এই সময় ভঞ্জ রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত রাজা জগন্নাথ ভঞ্জের পৌত্র বৈদ্যনাথ ভঞ্জ। তিনি হরিপুর থেকে কিছু দূরে রাজগড়ে আশ্রয় নেন। ‘রসিকমঙ্গল’ কাব্যে এই স্থানকেই ‘রাজার গ্রাম’ বলা হয়েছে। দাউদ খাঁ-এর মৃত্যুর পর হরিপুর পুনরায় বৈদ্যনাথের অধীনে আসে। কিন্তু অষ্টাদশ শতকের মধ্যভাগে আলিবর্দি খাঁ ও শেষে মারাঠা বর্গিদের আক্রমণে হরিপুর ধ্বংস হয়। উনিশ শতকের গোড়ায় বারিপদায় ময়ূরভঞ্জের রাজধানী স্থানান্তরিত হয়।

মন্দির প্রতিষ্ঠার পর বৈদ্যনাথ দেবতার উদ্দেশে অনেক ভূসম্পত্তি প্রদান করেন। দেবতার সেবাকার্যের জন্য পুরীর মতো নানা বৃত্তিজীবী সম্প্রদায়কে নিয়োগ করেন। পুরীর অনুরূপ সমস্ত দেবনীতিও প্রচলিত হয়। কালক্রমে জগন্নাথের সমস্ত উৎসব পুরীর রীতিনীতি অনুযায়ী হতে থাকে। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। এখানে দেবতার উদ্দেশে নিবেদিত ভোগ পুরীর মন্দির থেকে ভিন্ন। দেবতার প্রধান অন্নভোগ দলা খিচুড়ি— খোসাসহ কাঁচা মুগডাল, হিং ও গাওয়া ঘি দিয়ে তৈরি হয় এই খিচুড়ি। শুকনো ভোগের মধ্যে বড় বড় মিঠাই ও কড়াপাকের বড় বড় আরিসা পিঠে।
বারিপদার রথেরও কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। পুরীর মতো বারিপদাতেও তিনটি বিশালাকার রথ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পুরীতে যেদিন রথযাত্রা হয়, সেদিন এখানে রথ টানা হয় না। সেদিন কেবল ‘পহণ্ডি বিজে’ করে দেবতাদের রথারূঢ় করা হয়। পরের দু’দিন রথ টানা হয়। প্রথমদিন প্রথমে বলভদ্রের রথ টানা হয়। বলভদ্রের রথ বড়দাণ্ডের অপরপ্রান্তে অবস্থিত রাধামোহন মন্দির (মাসিবাড়ি)-এ পৌঁছনোর পর সুভদ্রার রথ অর্ধেক পথ টেনে টাউন থানার সামনে রাখা হয়। পরের দিন প্রথমে সুভদ্রার, তারপর জগন্নাথের রথ মাসিবাড়ি পর্যন্ত টানা হয়। একইভাবে ‘বাহুড়াযাত্রা’ বা উল্টোরথে দু’দিন ধরে রথ টানা হয়। তবে এবার প্রথমে জগন্নাথের রথ মন্দির পর্যন্ত টানা হয়। তারপর সুভদ্রার রথ অর্ধেক পথ পর্যন্ত। পরের দিন সুভদ্রার রথ টানা সম্পূর্ণ হলে বলভদ্রের রথ টানা হয়।
পরম্পরা অনুযায়ী, বারিপদা শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী অম্বিকার ‘আজ্ঞা’ নিয়ে রথযাত্রার সূচনা হয়। দেবী অম্বিকার দাসী দেবীর খড়্গ ও আজ্ঞাপত্র নিয়ে এসে সিংহদ্বারের সামনে প্রস্তুত রথ তিনটিকে প্রদক্ষিণ করেন। তারপর দেবীর পূজক বলভদ্রের রথের সামনে বিশেষ পূজা করেন। এবার শুরু হয় রথযাত্রার জন্য বিগ্রহগুলিকে রথারূঢ় করার প্রক্রিয়া। নাগরা-সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বেজে ওঠে। তিন দেবতার ‘পহণ্ডি বিজে’ শুরু হয়। প্রথমে বলভদ্র, তারপর যথাক্রমে সুভদ্রা ও জগন্নাথকে রথারূঢ় করা হয়।
প্রতিটি রথ মাসির বাড়ি পৌঁছলে রথের ওপর থেকে ভক্তদের উদ্দেশে ‘শ্রদ্ধালাড়ু’ বা গুড়মিঠাই ছোড়া হয়। চালের গুঁড়ো ও গুড়ের মিশ্রণে প্রস্তুত এই মিষ্টান্নটি কেবল রথের সময় বারিপদার কয়েকটি নির্দিষ্ট দোকানে পাওয়া যায়। শোনা যায়, বারিপদায় রথযাত্রার সূচনা পর্বে ভক্তদের আকৃষ্ট করার জন্য এই রীতির প্রচলন হয়। তিন দেবদেবী মাসির বাড়িতে থাকার সময় বিভিন্ন বেশে সজ্জিত হন। এই বেশ দেখার জন্য রাধামোহন মন্দিরের কাছে প্রতিদিন প্রবল জনসমাগম হয়। রাজ আমলের এই পরম্পরা ওড়িশা সরকারের দেবোত্তর বিভাগ এখনও পালন করে।

এখন রথগুলি ভক্ত-দর্শকেরা টানেন, রাজ আমলে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ‘বেঠিয়া’ (রাজকার্যে বেগার খাটার লোক)-রা রথ টানতেন। রথ টানার জন্য তাঁরা শিয়ালি লতার দড়ি নিয়ে আসতেন। পুরীর মতো এখানে রাজা ‘ছেরা পহঁরা’ করতেন না। তিনি সুসজ্জিত হাতির পিঠে বসে শোভাযাত্রা-সহ এসে কেবল চন্দনজল ছিটিয়ে রথ প্রতিষ্ঠা করে দেবদর্শন করতেন। তারপর রথ টানা শুরু হত।
বারিপদায় রথযাত্রা শুরুর প্রায় চারশো বছর পর রথ টানার ক্ষেত্রে এক বিশেষ রীতির সূচনা হয়। ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারী বর্ষে সুভদ্রার রথ টানার সুযোগ কেবল মহিলাদের দেওয়া হয়। বারিপাদার কিছু সমাজসেবী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মহিলার প্রস্তাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রথম বছর মহিলাদের সুভদ্রার রথ অল্প কিছু দূর পর্যন্ত টানার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের সহযোগিতা দেখে পরের বছর থেকে এই রথ টানার দায়িত্ব কেবল মহিলাদের দেওয়া হল। কালক্রমে আজ তা পরম্পরায় পরিণত হয়েছে। এখন বারিপদার রথের অন্যতম আকর্ষণ মহিলাদের টানা সুভদ্রার রথ।
নানা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর যোগদান বারিপদার রথের অন্য এক দিক। রাজ আমল থেকে আজও তাঁরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তাঁদের পারস্পারিক নৃত্য প্রদর্শন করেন। রথযাত্রা উপলক্ষে মেলা বসে। প্রাচীন এই মেলা বর্তমানে ১১ দিন ধরে চলে। স্থানীয় হস্তশিল্প ও বনজ দ্রব্যের জন্য এই মেলা প্রসিদ্ধ।
বারিপদায় যখন রথযাত্রা শুরু হয়, তখন প্রায় সমগ্র উৎকলভূমি পাঠান অধিকারে। ১৫৬৮-৮০ সাল পর্যন্ত পুরীর মন্দিরে জগন্নাথদেবের পূজার্চনা বন্ধ ছিল। সেই সময় মন্দির প্রতিষ্ঠা ও রথযাত্রার সূচনার ফলে বারিপদা ‘দ্বিতীয় ‘শ্রীক্ষেত্র’র মর্যাদা পায়। জগন্নাথ সংস্কৃতি চর্চায় আজও বারিপদার সে মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
চিত্র: লেখক






