Search
Generic filters
Search
Generic filters

প্রসঙ্গ বাংলা নববর্ষ

‘‘রাত্র যেমন আগামী দিবসকে নবীন করে, নিদ্রা যেমন আগামী জাগরণকে উজ্জ্বল করে, তেমনি অদ্যকার বর্ষাবসান যে গত জীবনের স্মৃতির বেদনাকে সন্ধ্যার ঝিল্লিঝঙ্কারসুপ্ত অন্ধকারের মতো হৃদয়ের মধ্যে ব্যাপ্ত করিয়া দিতেছে, তাহা যেন নববর্ষের প্রভাতের জন্য আমাদের আগামী বৎসরের আশামুকুলকে লালন করিয়া বিকশিত করিয়া তুলে। যাহা যায় তাহা যেন শূন্যতা রাখিয়া যায় না, তাহা যেন পূর্ণতার জন্য স্থান করিয়া যায়। যে বেদনা হৃদয়কে অধিকার করে তাহা যেন নব আনন্দকে জন্ম দিবার বেদনা হয়।’’— রবীন্দ্রনাথ। ‘বর্ষশেষ’, ‘ধর্ম’ গ্রন্থ থেকে।

নতুন বছরের আগমনীকে এরকম দৃষ্টিতেই দেখেছেন রবীন্দ্রনাথ। কাজী নজরুল ইসলামের একটি গানেও রয়েছে বাংলা নববর্ষের অনুরূপ গূঢ় বার্তা, ‘যে মালা নিলে না আমার ফাগুনে/ জ্বালাব তারে তব রূপের আগুনে/ মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব হে/ মোর উদাসীন, যেও না ফেলে।’

ছয় ঋতুচক্রে বৈশাখ নির্ধারিত হয়েছে নববর্ষের আবির্ভাবরূপে। রুদ্র বৈশাখ তার তপ্ত চরণরেখা ফেলে চরাচরে, কালবৈশাখীর মত্ত ঝাপটা চরাচরকে করে তোলে ক্ষুব্ধ ও মাতাল, দারুণ দহনবেলা যেন ত্রাহি রবে হাহাকারে ভরিয়ে তোলে দিগন্ত; এই মহালগ্নই যেন নতুন বছরের আহ্বান জানিয়ে আমাদের বলে, এই আমি ঝরাপাতার আয়তন মাড়িয়ে এলাম তোমার দ্বারে, আমায় বরণ করো। আম্রমুকুলের গন্ধ-অতিক্রান্ত পৃথিবীতে আমি ফুটিয়েছি কত পুষ্প কত ফল, এসবের স্বাদে ও গন্ধে আনন্দিত আহ্লাদিত হয়ে ওঠো। বৎসরের আবর্জনা ধুয়েমুছে যাক, অশ্রুবাষ্পকে সুদূরে মিলাতে দাও। অগ্নিস্নানে ধরণী শুচি হোক, ‘পুরাতন বরষের সাথে/ পুরাতন অপরাধ যত’, তা হয়ে উঠুক ক্ষমার্হ।

নতুন বছর যেন প্রাণের উৎসব, নিজেকে নতুন করে নতুন উদ্যোগে জাগিয়ে তোলা। পৃথিবীর প্রত্যেক জাতির মধ্যেই দেখা যায় নববর্ষ পালনের দেশীয় ঐতিহ্যজাত আবাহনী। ভারতবর্ষে, মিশরে, ইউরোপে, আমেরিকার দেশে দেশে।

নববর্ষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৃথিবীর আহ্নিক গতি-বার্ষিক গতির হিসেব ও সালতামামি। প্রাচীন পৃথিবীতে জ্যোতির্বিদ্যার প্রাগ্রসরতা লক্ষ্য করি যে-সব দেশে, সেগুলির মধ্যে মিশর, মোসোপটেমিয়া এবং ভারত অন্যতম। টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস নীল নদ আর সিন্ধু-গঙ্গার বাৎসরিক নদীচারিত্র্যের বৈশিষ্ট্য ও নিশ্ছিদ্র ছন্দ কৃষকের চাষবাসকে পরিচালনা করতে ভূমিকা রাখত। হ্যাঁ, চিনের হোয়াংহো নদীর বার্ষিক আবর্তনও কৃষিকাজে সহায়ক ভূমিকা রাখত। এই যে নৈসর্গিক নদীর ছন্দ, তার ফলেই কৃষি, তার জন্যেই সভ্যতা, জাতীয় পর্ব, ধর্মানুষ্ঠান। সংস্কৃতির কাঠামো গড়ে ওঠে কৃষিনির্ভর সভ্যতার হাত ধরে। নদীর জোয়ার-ভাটা তাকে উৎসুক ও উদগ্রীব করে তুলল পূর্ণিমা-অমাবস্যার রহস্যমোচনে। বর্ষার গুরুত্ব যেহেতু কৃষিকাজে অতীব গুরুত্বপূর্ণ, তাই আদিম মানুষ ঋতুপর্যায় সবিশেষ অনুধাবনে তৎপর হল। শুরু হল বর্ষপঞ্জি রচনা। প্রাথমিক উদ্দেশ্য কৃষিকাজকে সহায়ক করে তোলা। আর পরবর্তী উদ্দেশ্য জাতিবিশেষের ধর্মীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনকে সংস্কৃতির যৌগে বাঁধা। সেই অভিপ্রায়ের সূত্র ধরেই নববর্ষের ধ্যান ও ধারণা মানুষের। এবং আদিতে তা ফসল ঘরে তোলার আনন্দ উৎসবকে শিরোধার্য করেই পরিকল্পিত হয়েছিল।

মনুষ্য সভ্যতার আদি থেকেই দেখা যায়, যাবতীয় উৎসব-অনুষ্ঠানের পেছনে ফসল ঘরে তোলার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তারপর মানুষের বৈজ্ঞানিক চেতনাবৃদ্ধির ফলে অন্যান্য অনেক শাস্ত্রের মত জ্যোতির্বিদ্যা মানুষকে গ্রহনক্ষত্রের গতি ও কার্যক্রম জানতে শেখাল। পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি সম্পর্কে অবহিতি ঋতুসমূহের আবর্তন-পুনরাবর্তনের ব্যাখ্যা দিল, আর এর ফলেই গ্রন্থিত হল পঞ্জিকা। উৎসব-অনুষ্ঠানের নির্ঘণ্ট এল এরই হাত ধরেই। এল নববর্ষের ধারণাও। দেখা যাচ্ছে, দেশে দেশে নববর্ষ পালন মূলত সৌরজগতের গ্রহনক্ষত্রের সংস্থান মেনেই পালিত হয়। এবং যুগপৎ এর সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা করে কৃষিজ ফলন।

আমরা প্রাথমিকভাবে বাংলা নববর্ষ নিয়েই আলোচনা করব, যদিও এর পাশাপাশি ভারতবর্ষ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে নববর্ষ পালনের তাৎপর্য, ধারাবাহিকতা বৈশিষ্ট্য-বৈচিত্র্য নিয়েও অনুসন্ধিৎসু হব।

বাংলা নববর্ষ

ভারতবর্ষে নববর্ষ পালনের বিচিত্র ইতিহাস রয়েছে। বাঙালির নববর্ষ পালনও বৈচিত্র্যময়। নববর্ষ এবং অন্যান্য উৎসবানুষ্ঠান আর সামাজিক-ধর্মীয় বিধিনিষেধ বিধৃত হয় যে পঞ্জিকায়, অঞ্চলভেদে তারই তো সংখ্যা প্রায় অনির্ণেয়। এদেশে কমবেশি চল্লিশ রকম পাঁজির ব্যবহার ও প্রচলন। এর মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক ও গার্হস্থ্য অনুষ্ঠানে পঞ্চাঙ্গ পঞ্জিকার শরণাপন্ন হয় হিন্দু বাঙালির বৃহদংশ। পঞ্চাঙ্গ অর্থাৎ বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ। এই পঞ্চাঙ্গেরও রকমফের আছে, গুপ্ত প্রেস এক বলে তো বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত অন্য, আবার জগজ্জ্যোতির সঙ্গে পি এম বাগচীর সর্বদা মিল হয় না। তবে এ-সব পঞ্জিকা পয়লা বৈশাখকেই নববর্ষরূপে মান্য করে। যদিও অতীতে বৈশাখ নয়, নববর্ষ হত অগ্রহায়ণে। কেন এবং কখন থেকে এই পরিবর্তন?

পুরনো বাংলা ছড়াতে দেখি অগ্রহায়ণে বর্ষ শুরুর সমর্থন, ‘অঘ্রানেতে বছর শুরু নবান্ন হয় মিঠে।/ পৌষেতে আউলি বাউলি ঘরে ঘরে পিঠে।’ বর্ষ শেষ হত কার্তিক মাসে। এজন্য বাংলার মেয়েদের কার্তিকে পিত্রালয়ে না যাওয়ার বিধান ছিল,— ‘কার্তিক মাস বছরের শেষ, না যেও পিতার দেশ।’

আবার বৈদিক আমলে সম্বৎসরের গোড়ায় রয়েছে মধুমাস, অর্থাৎ বসন্তকাল। সে-যুগে মাসগুলির নাম ছিল মধু, মাধব (বসন্ত), শুক্র, শুচি (গ্রীষ্ম), নভঃ, নভস্য (বর্ষা), ইষ, উর্জ (শরৎ), সহঃ, সহস্য (হেমন্ত), তপঃ, তপস্য (শীত)। ষড়ঋতু বৈদিক যুগ থেকেই লক্ষ্যযোগ্য ছিল ভারতবর্ষে। প্রাচীন ভারতে যে শকাব্দ, সেখানেও পয়লা চৈত্র থেকে নববর্ষের সূচনা। আমরা পরে দেখব, ভারতের বহুস্থানে আজও পহেলা চৈত্রকেই নববর্ষরূপে গণ্য করা হয়।

বরাহমিহিরের ‘সূর্য সিদ্ধান্ত’, আর্যভট্টের ‘আর্ধরাত্রিকা’, ব্রহ্মগুপ্তের ‘খণ্ডখান্দক’ হাজার বছরেরও পূর্বে পৃথিবীর বার্ষিক গতি প্রায় নির্ভুল নির্ধারণ করে দেখিয়েছে। অন্যদিকে, খ্রিস্টীয় একাদশ শতকে ওমর খৈয়ামের মত গণিতজ্ঞ (হ্যাঁ, ইনিই আবার রুবাইয়াৎ-রচয়িতা) বার্ষিক গতির আরও অনুপুঙ্খ নির্ঘণ্ট বার করেন, যা পরবর্তীকালে কোপার্নিকাসের গণনার সঙ্গে মিলে যায়।

মেঘনাথ সাহা চৈত্র ও বৈশাখ মানের দুই নববর্ষের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বরাহমিহির ও আর্যভট্টের গণনা ছিল প্রায় নির্ভুল, কিন্তু কিঞ্চিৎ ত্রুটিযুক্ত। বছরে ৩৬৫.০১৬৫৬ দিন করে এগিয়ে আছে হিসেব। তাই ১৪০০ বছরে ২৩.২ দিনে এগিয়ে এসে পয়লা বৈশাখ ২২-এ মার্চ আরম্ভ না হয়ে ১৩ বা ১৪-ই এপ্রিল শুরু হচ্ছে। ড. সাহা তাঁর নবশকাব্দের তারিখ তাই পুনরায় পয়লা চৈত্র থেকে শুরু করেছেন।

কিন্তু পয়লা বৈশাখ নববর্ষ হল কেমন করে? কবে থেকেই বা? আমরা এখন সে-প্রসঙ্গেই যাব।

পয়লা বৈশাখ থেকে নববর্ষ গণনার সূচনা আকবরের। ৯৬৩ হিজরি সনে সম্রাট আকবর দিল্লির মসনদে বসেন। বাংলাদেশ তখন মুঘলদের অধীনে। হিজরি সন হচ্ছে চান্দ্র বৎসর, ৩৫৪ দিনের। এতে করে খাজনা আদায় বিড়ম্বিত হয়, কেন-না হিজরি সনে ঋতুর বৈষম্য ঘটে যায়। তাই নির্দিষ্ট দিনে খাজনা আদায়ে অসুবিধে হয়। হিজরি সন অনুসরণ করলে নির্দিষ্ট মৌসুমে নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ অসম্ভব। সম্রাটের দরবারে কোনও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির পরামর্শে আকবর একটি নতুন সনের প্রবর্তনে আগ্রহী হন। সম্রাটের কাছেও তা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছিল, বিশেষ করে খাজনা আদায়ের দিক থেকে বিচার করে।

এদিকে ভারতীয় বর্ষগণনার অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, বছর হল সৌরপদ্ধতির, কিন্তু মাসগুলি চান্দ্র। আকবর চেয়েছিলেন মাসগুলোকেও সৌরপদ্ধতিতে নিয়ে আসতে। এখানেও উল্লেখযোগ্য, চান্দ্রমাসকে সৌরবৎসরের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ভারতের জ্যোতির্বিদরা মলমাসের নিদান রেখেছিলেন। তাতে বছরের হিসেব শেষ পর্যন্ত ৩৬৫ দিনেই দাঁড়ায়। কিন্তু আকবরের আদেশে বিজাপুরের সুলতানের প্রাক্তন সভাসদ আমীর উল্লাহ্ শিরাজী নতুন ‘ইলাহী সাল’-এর বাংলা মাসগুলো পারস্য দেশীয় মাসের অনুকরণে সৌরমাসে পরিণত করলেন। আকবর-প্রবর্তিত নতুন বাংলা সনকে আদিতে ‘ইলাহি সাল’ বলা হত, তাঁর প্রবর্তিত ‘দীন-ই ইলাহী’ ধর্মের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। একে নামান্তরে বলা হয় ‘ফসলি সাল’, যার সূচনা ৯৬৩ হিজরি। অর্থাৎ বাংলা সনকে ইসলামি সনের সঙ্গে এক করে দেওয়া হল। সম্রাটের সিংহাসন আরোহণের এক মাস পরের তারিখ থেকে অর্থাৎ ১১-ই এপ্রিল ১৫৫৬ থেকে বাংলা নববর্ষের সূচনা। খ্রিস্টাব্দের সঙ্গে তাহলে বাংলা সনের সম্পর্কটা দাঁড়াল কীরকম? খ্রিস্টীয় সন থেকে বাংলা সন ৫৯৩ বছর ৩ মাস ১১ দিন কম। আজ পর্যন্ত তা বহাল আছে। কিন্তু ৯৬৩ হিজরি বাংলা ৯৬৩ সন হলেও আজকের হিসেবটা অন্যরকম। এ বছর বাংলা ১৪৩০, কিন্তু হিজরি ১৪৪৪। কেন এমন পার্থক্য? কারণ হিজরি বছর চান্দ্রমাস অনুযায়ী হয় বলে ৩৫৪ দিনে বছর হয়, ইসলামী বছর তাই এই প্রায় ৪৬৮ বছরে দুটি ক্যালেন্ডারে ঘটে গিয়েছে ১৬ বছরের পার্থক্য! আকবরের কল্যাণে আমরা একদিকে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ পেলাম, অন্য দিকে পেলাম ইংরেজি গ্রেগোরিয়ান ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সাযুজ্য।

আকবর-প্রবর্তিত বাংলা সন যে দ্রুত জনপ্রিয় এবং গ্রহণীয় হয়ে উঠেছিল তার প্রমাণ মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যপ্রণেতা কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘অভয়ামঙ্গল’ কাব্যেই পাওয়া যায়। ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে শেষ হয়েছে এ কাব্য। কাব্যে ফুল্লরার বারোমাস্যা শুরু হয়েছে বৈশাখের বিড়ম্বিত জীবন দিয়ে— “ভ্যারেণ্ডার খাম ওই আছে মধ্য ঘরে।/ প্রথম বৈশাখ মাসে নিত্য ভাঙ্গে ঝড়ে।।/ বৈশাখে অনলসম বসন্তের খরা।/ তরুতল নাহি মোর করিতে পসরা।।/ পা পোড়ায় খরতর রবির কিরণ।/ শিরে দিতে নাহি আঁটে খুঞার বসন।।/ বৈশাখ হৈল বিষ গো, বৈশাখ হৈল বিষ।/ মাংস নাহি খায়— সৰ্ব্বলোক নিরামিষ।।’

>>> ক্রমশ >>>
চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়

পড়ুন, দ্বিতীয় পর্ব

বাঙালিজীবনে নববর্ষ

পড়ুন, তৃতীয় পর্ব

নববর্ষ: ভারতের নানা রাজ্যে

পড়ুন, চতুর্থ পর্ব

নববর্ষ: দেশে দেশে

2 Responses

  1. তথ্যময় ও স্বাদু রচনা…লেখককে অভিনন্দন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − eight =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »