Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

স্বপনকুমার মণ্ডলের ছোটগল্প

জিতকা

স্ব প ন কু মা র  ম ণ্ড ল

১

হাটবারে বিদ্যাখাড়ির পাড়ে রাস্তা জুড়ে জমাটি ভিড়। মোরগ লড়াই চলছে। কাঁতিদার লড়াইয়ের তাগদ দেখে জোড় স্বীকার করে। অস্ত্র বাঁধা হয় দুই মোরগের পায়। বিপিন পেল্লায় পাখরা মোরগের মাথায় চুমু খেয়ে ছেড়ে দেয় মাঠে। অন্য দিকে, বাহারি লালি মোরগ ছাড়ে হাবুল। বিপিন নিশ্চিত এ লড়াইয়ে জয় হবে তার। কারণ দুটো মাস ধরে পাখরা মোরগটাকে লড়াইয়ের জন্য তৈরি করেছে সে। একটা মোরগ তৈরি করা খেলা কথা নয় তো। ভাল-মন্দ খাওয়াতে হয়েছে, লড়াই শেখাতে হয়েছে, মাথার ফুল কেটে দিয়ে বাহার কমাতে হয়েছে। বাহার বাড়লে তাগদ কমে যায় যে। অনেক ধৈর্য, অনেক পরিশ্রম। একটাই লক্ষ্য তার, একবার সে অন্তত হাবুলকে হারাবে। এ লড়াইটা আসলে তার নিজের লড়াই। বিদ্যানদীর পাড়ে বিপিন আর পাখরা এক হয়ে গেছে আজ।
ইঞ্জিন ভ্যান চালিয়ে যা পায় সবই যায় মদে আর সংসারে। হাতখরচা বাঁচিয়ে তার থেকে পাঁচশো টাকায় এই মোরগটিকে কেনে বিপিন। মোরগটা জোয়ান হয়েছে আর বিপিনের আশা বেড়েছে। হাবুলের বাইক দেখলে বিপিনের মাথায় আগুন ধরে যায়। সে বলে, ‘জেল খাটিয়া আসিছে। বিলিতি মদের লাইসেন্স জুটাইচে আবার। এখনে পাটির হোমরাচোমরা বনিয়ে গেল। উয়ার মাতবরি মাইনতে নারব হামি।’
বিপিন নিশ্চিত আজকের মাঠে জিতকা হবে তার মোরগ। হতেই হবে। দুটো মোরগ নিয়ে বাড়ি ফিরবে সে। লাল মোরগটার রক্তাক্ত শরীর ঝুলবে তার হাতে। হাবুলকে উদ্দেশ্য করে জোর গলায় বলতে থাকে, ‘সাত কেলাসে দুইবার ফেল মারিচিস তুই। আর হামি মাইধ্যমিক পাশ। লেতা মারাইছিস হামার সুঙ্গে!’
কিছুক্ষণ আগে ছাপাছাপি একবাটি হাঁড়িয়া খেয়েছে বিপিন। এখন তাই মুখে যা আসে বলছে। কিন্তু অন্য সময় ও হাবুলকে ভয় পায়। হাবুল শুনতে পাচ্ছে ওর সব কথাই। কিন্তু সে এখন পার্টির একটা দায়িত্ব পেয়েছে। মাতালের কথার জবাব দিয়ে ঝামেলায় জড়াতে চাইছে না।
মোরগদু’টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মাঠে। বিপিনের পাখরা মোরগ রাজার মতো হেঁটে চলেছে। ওদিকে এগিয়ে আসছে হাবুলের ফুলকাটা লালি মোরগ। কিন্তু লড়াইটা জেতার আগেই মাঠের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিপিন। ন্যাড়া মাঠে মুখ থুবড়ে পড়ে তার রক্তারক্তি অবস্থা। এখানে কেউ কাউকে তুলে ধরে না। নিজেকেই উঠতে হয়। বিপিন ওঠার চেষ্টা করছিল। সেই সময় ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি নিয়ে হাত বাড়ায় হাবুল। কিন্তু সেদিকে তাকিয়ে থু থু ছোড়ে বিপিন। বলে, ‘লড়াই হামি ছাড়বক নাই রে। ভয় পাইচিস না?’
হাবুল একটা ফ্যাসফ্যাসে হাসির সঙ্গে হাততালি দিয়ে ওঠে। মজা লেগেছে তার। পান-জর্দায় লাল টকটকে ঠোঁট। বিপিন গোঙাতে গোঙাতে উঠে দাঁড়ায়। মালভূমির গোঁয়ার রক্ত শুখা মাটিতে পা ঠোকে বারবার। ধুলো উঠে যায়। ওদিকে পাখরা দু’পায়ের অস্ত্র বাগিয়ে উড়ে ওঠে মাথার উপর। কিন্তু লালি শয়তানের মতো পা চালায় তার পেটের দিকে। যদিও আঘাত গুরুতর না হওয়ায় দু’জনই দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। গলার কাছের পালকগুলিকে চক্রাকারে ফুলিয়ে একে অপরের দিকে ফুঁসতে থাকে। এবারে আকাশের দিকে অনেকটা উড়ে উঠে পা চালায় লালি। রক্তপাত হয় পাখরার। কিন্তু সে হাল ছাড়ে না। তীব্র বেগে কয়েক পাক ঘুরে আবারও স্থির চোখে তাকায়। ঘাড়ের চক্রাকার খাড়া পালকগুলো কাঁপাতে থাকে। তারপর আচমকাই আঘাত হানে সে লালির ডানায়। মাটিতে চিত হয়ে পড়ে সে। পাখরা এই সুযোগটা নিল। বুকের ওপর উঠে ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরল তার টুঁটি। বামদিকে হল্লা ওঠে তখন। কিন্তু মোরগ লড়াইয়ের মাঠে মৃত্যু ছুঁয়েও জয়লাভ বাকি থাকে। মাটিতে পড়ে থেকেও লালি লড়াই ছাড়েনি। ফলাফল ঘোষণা করতে আরও খানিক অপেক্ষা করে কাঁতিদার। আর ঠিক তখনই মোক্ষম মারটি দেয় লালি। ওর পায়ের অস্ত্রাঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দাঁড়িয়ে থাকা পাখরার শরীর। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এভাবে জয়লাভ হবে ভাবতে পারেনি হাবুল। লাফিয়ে আকাশ ছোঁয় সে। তার সাঙ্গোপাঙ্গরা কাঁধে তুলে নেয় তাকে। পাখরা তখন পাউড়। ধুলোমাটির মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে ক্রমে। রক্ত গড়াচ্ছে শরীর বেয়ে। এক তাল মাংস বই অন্য কিছু নয় সে আর। মাটির গায়ে মুখ ঠেকিয়ে শেষবারের মতো পাখরাকে দেখে নিল বিপিন। তারপর নেশার ঘোরে চক্ষু বন্ধ হয়ে এল তার।
রবিউল দেখেছে এ সব। প্রথম থেকেই দেখেছে। কী মনে হতে এগিয়ে গিয়ে হাত ধরে দাঁড় করায় সে বিপিনকে। বলে, ‘আরে ভাই! আগেই তো হেরে বসে আছ। সোজা হয়ে দাঁড়াও। এইভাবে জেতা যায় না কি?’
এ গাঁয়ে নতুন সে। বিপিনের ডাকেই মোরগ লড়াই দেখতে এসেছে। কিন্তু লড়াইটা যে এমন হবে ভাবতে পারেনি। বিপিনের হারটা যেন তার গায়ে লেগেছে। ওর ভ্যানটা দু’দিনের জন্য সে ভাড়া নিয়েছে। সেই সূত্রে মোরগ লড়াই দেখতে এসেছে। কিন্তু লড়াইটা যে শুধু মোরগদের নয় জানা ছিল না তার। হেরে যাওয়া বিপিনকে হাত ধরে মাঠের বাইরে আনে সে। তারপর চোখেমুখে জলের ছিটে দেয়। বলে, ‘উঠে বসো ভাই। চলো, লজে ফিরতে হবে।’
বিপিন জানে না রবিউল কে। কত ট্যুরিস্ট আসে, গাড়ি ভাড়া নেয়, অত জানার দরকার পড়ে না তার। কিন্তু রবিউলকে যেন আপন ভেবে ফেলেছে সে। ছ’শো টাকার জায়গায় আটশো দেবার কথা বলেছে বলে নয়। লোকটা যেন তার মনের মতো। মনের মতো ট্যুরিস্ট তো সব সময় মেলে না।

২

‘ওই যে হুঁকা খাচ্চে বুড়হা, ওই হচ্চে নগেন বাছাড়, যান। আমি কইয়া দিচ্চি। …দাদু, হামার এই দাদার সঙ্গে এট্টু কতা কও দিন।’
মুদি দোকানদার নগেন হুঁকো টানছিল। রবিউল সামনে গিয়ে নমস্কার জানায়। নগেন হুঁকো রেখে বলল, ‘বসো বাবা, তা কোন জায়গার তে আসা হচ্চে? ট্যুরিস?’
রবিউল মাথা নাড়ে। গীতা স্টোর্সের মালিক নগেন বাছাড় গুছিয়ে বসল। আলাপ জমে ওঠে ক্রমে। সে বলে, ‘বুইলে বাবা, আমার এই ব্যবসা তেমন চলে না। ওই হাটবার আলি আর গোনমুখ আলি কিছু বেচা-কেনা হয়। জেলে-মাঝিরা কাঁকড়া মারা নৌকোয় চাল-ডাল নে যায়। ত্যেবে, ব্যবসা করে আমার নাতিরা। ট্যুরিস এলাকায় পোলটি আর মদের দোকান রমরমিয়ে চুলতেছ। পয়সা ছাঁকে তুলে নেচ্ছে এক্কেরে!’
রবিউল নগেন বাছাড়ের কথা বলার ধরনে প্রথমে একটু ঘাবড়ে যায়। কিন্তু গল্প এগুতে সেটি আর সমস্যা হয় না। নগেন বলে, ‘হাবুল, রামু আর ফটাং— বানিখালির তে টিপলিঘেরি পয্যন্ত এই তিনজনরে চেনবে না, এরম মানুষ পাবা না বাবা। সক্কুলি চেনে। পাড়াসুদ্দু কেন বলছি, পাড়ার বাইরি গে-ও তুমি জিজ্ঞেস করতি পার। …আমার নাতি।’
নগেন বাছাড়ের মুখে তৃপ্তির হাসি। রবিউল বুঝতে পারল, গতকাল মোরগ লড়াইয়ের মাঠে যে হাবুলকে দেখেছে, নগেন বাছাড় তার কথাই বলছে। সে মাথা নেড়ে বলল, ‘আচ্ছা। বেশ বেশ।’
নগেন বাছাড় বলল, ‘এট্টা মাইয়ের ঘরের, আর দুটো দুই ছাবালের। ও, পোধান-পঞ্চায়েত সব ঠান্ডা উগো কাছে। পাটি করতি গিলি তো টাকা নাগে, পাওয়ার নাগে, নাকি বাবা? …টাকা দেয়, আবার টাকা আসে।’
চোখে-মুখে রহস্য ফুটিয়ে বেশ খানিকটা হেসে নেয় নগেন। বলে, ‘এখন আবার পঞ্চায়েত উল্টে দ্যাবে বুলে নাগেছ। ও পাটিতে আর পোষাচ্চে না, …সে অনেক ব্যাপার। এসব তুমি আবার নিকো না যেন।’
নগেন বাছাড়ের চোখদুটো হঠাৎ যেন কিছুটা সাবধানি। লোকে বলে বাছাড়ের দোকান। কিন্তু নগেন বলে বর্মন তারা।
‘বাছাড় কলি আমাগো খারাপ লাগে বাবা। এপারে আসে আমরা তো বর্মন হইছি। আমরা কেন বলতিছি, সব বাছাড় এখন বর্মন। এই যে বানিখালি হুয়ে পাথরপাড়া পয্যন্ত গেরাম দিখতেছ, এর এট্টা পাড়া জুড়ে আমাগো বর্মনেরা।’
নগেন বাছাড় এক দমে কথাগুলো বলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠে।
‘উরে বাপরে! দুপুর গড়িয়ে গেল যে! না বাবা, এইবার ঝাঁপ টানব।’
দোকান বন্ধ করে জামার পকেট থেকে ফোন বের করল নগেন। ‘হ্যালো, এই শোন হাবুল, দশটা বিলিতি পাঠা। ও, বিয়ার কেউ খাতি চাচ্চে না। জালেরা পয্যন্ত আসে বিলিতি চাচ্চে, বুইচিস?’
রবিউল বললে, ‘তা হলে আমি আসি নগেনবাবু।’
ফোন পকেটে ঢুকিয়ে নগেন বাছাড় খপ করে তার হাত ধরল। বলল, ‘তাই বললি হয় বাবু, অতিথ নারায়ণ। এই ভরদুপুরে আমি অতিথ ছাড়তি পারি? চলো বাবা, আমার বাড়ি চলো। দুটো ডাল-ভাত খাইয়ে বিকেলের দিকে যাইয়োকন। চলো।’
রবিউল আপত্তি করে। কিন্তু নগেন নাছোড়। সে জিজ্ঞাসা করে, ‘কতটা হাঁটতে হবে?’
নগেন বাছাড় বলে, ‘কতটা আবার! এক বিড়ির পথ। ইকেনে বিড়ি ধরালি ফুরোবে আমাগো বাড়ির সুমকি।’
নদীর রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে দু’জনে। রবিউল সুযোগ পেয়ে বাকি কথায় ঢোকে। ‘আচ্ছা নগেনবাবু, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আপনাদের কেন এদেশে আসতে হয়?’
নগেন বাছাড়ের চোখদুটো হঠাৎ যেন জ্বলে ওঠে। সে বলে, ‘সেকতা কতি গিলি চোকি জল আসে। নিজিগো সাজানো ভিটে-মাটি ছাড়ে কেউ অন্য দেশে আসে? … রাত্রি হলি মোল্লারা মশাল জ্বালিয়ে মিছিল কুরত। সায়রি কুরে ছোলোগান দিত। গরু চুরি হুয়ে যাচ্চে, মাইয়ে-ছালেগো দিকি কু-নজর দেচ্চে, সে অনেক কতা। সব কুয়ে পারব না। কম দুঃখি কি নোক নিজির মাটি ছাড়ে!’
নগেন বাছাড় আকাশের দিকে তাকিয়ে বুকের গভীরে জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস মুক্ত করে দেয়। একদিকে নদী, অন্য দিকে, রাস্তার গা-ঘেঁষে গ্রাম। ঘন বাইনের জঙ্গল জোয়ারে আধডোবা। নদীর জল ভেড়ির কূলে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ করে। রবিউল চুপ হয়ে থাকে কিছুক্ষণ। নগেন বাছাড় বলতে থাকে, ‘আসগার আমার ঘুনশি বদল করা বন্ধু। অথচ ওর চাচাই আমাগো গইলি ঘরে আগুন দেল। আমার বাবা এইসব কুতো আর চক্কু দে জল পুড়ত। …আমার ঠাকমা এপারে আসে আর বাঁচিনি। বনগাঁর থে শিয়ালদায় নামে রিফুজি ক্যাম্পের মদ্যি দেহ রাকে। সব গেল, তাতে কিচ্চু না। বুড়ি ফলন্ত নারকেল গাছ আর গমনো ছাগলের শোক সহ্য করতি পাললে না!’
ফোকলা দাঁতে অদ্ভুত ভাবে হাসে নগেন। তারপর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ‘হিংসে-বিদ্বেষির তো চক্ষু নি বাবা! ছোট কষ্টগুনো দেখতি পায় না।’

৩

বিঘে খানেক জমির ওপর অবিন্যস্ত চার-পাঁচখানা খড়ের ঘর। সবগুলির সামনে সবজিবাগান। দক্ষিণ আর পূর্ব দিকে নিকোনো বারান্দা। সামনে উঠোন। উত্তর দিক ঘেঁষে লম্বা রান্নাঘর। ভিতরে রান্না চলছিল। নগেন বাছাড় হাঁক পাড়ল, ‘এই শুনতেছ? তোমার হলি এদিক আসপা একবার?’
রান্নাঘর থেকে জবাব এল, ‘চানে যাও আমাগো হুয়ে গেচে।’
নগেন বলল, ‘আরে আসপা তো এট্টু নাকি, বৌমা আচে তো!’
নগেনের স্ত্রী বেরিয়ে আসতে সে বলল, ‘এই বাবু কলকাতার তে আসতেছেন। অতিথ, তেল-গামছা দেও, আর খাবার ব্যবস্থা করো।’
নগেন বাছাড়ের স্ত্রীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করল রবিউল। তার স্ত্রী বলল, ‘থাক, থাক বাবা। ভাল থাকো। তা, বাবাজির বাড়ি কোনে?’
রবিউল বললে ‘ব্যারাকপুর থাকি।’
নগেন বাছাড় সরিষার তেল কানে নাকে দিয়ে সারা গায়ে মাখতে শুরু করে। রবিউলের দিকে পিতলের ঘটি এগিয়ে বলল, ‘তেল নেও বাবা।’
সকালে স্নান করে বেরিয়েছে রবিউল। সে কথা জানাতে এক গাল হেসে নিল নগেন বাছাড়। তারপর তড়িঘড়ি বেরিয়ে গেল পুকুরের দিকে। বারান্দায় বসে নগেন বাছাড়ের ভিটে দেখে সে। ঘরের চারিদিকের সবজি খেত থেকে একটা সোঁদা গন্ধ উঠছে ভরদুপুরে। বাগানের মধ্যে ঘুরছে কয়েকটা মুরগি। রান্নাঘরের বাসনের আওয়াজ ছাড়া সমস্ত বাড়িটাই প্রায় চুপচাপ। বিধবা বৌমা আর নাতি-নাতবৌ নিয়ে পাঁচজনের সংসার নগেন বাছাড়ের। এক ছেলে এবং মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িও পাশাপাশি। কিন্তু তারা আলাদা শরিক। নগেন বাছাড় স্নান সেরে ফেরার পথে তুলসী গাছে জল দেয়, ঠাকুরঘরে প্রণাম করে। তারপর বারান্দায় উঠে গুনগুন করতে করতে পাতলা চুলে চিরুনি বুলায়। এবারে রান্নাঘরের দিকে কয়েকটি শব্দ ছুড়ে দিয়ে চাটাই পাতে বারান্দায়। বলে, ‘আসো বাবা, গা তোলো। দুটু নুনভাত খাও। তোমরা শওরের মানুষ, আমরা তো সেরম আয়োজন করতি পারব না!’
রবিউল আপত্তি করে, ‘না না, কী বলছেন! আমিও গ্রামের।’
নগেন বাছাড় নুনভাত বলল, কিন্তু খাওয়ার পাতে আয়োজন বেশ। শুক্তো, ডাল, শাকভাজা, মাছের ঝোল পর্যন্ত গিয়ে অবস্থা খারাপ। এরপরে আবার এল একবাটি দুধ আর সাদা ভাত। রবিউল বলে, ‘আর পারব না মাসিমা।’
কিন্তু নগেন বাছাড় নাছোড়, খেতেই হবে। ওর স্ত্রী এইসময় রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে চালের বাতা ধরে দাঁড়ায়। জিজ্ঞেস করে, ‘বাবাজির বাড়িতে কে কে আছে?’
রবিউল উত্তর করে, ‘আব্বা, আম্মি, দাদা, ভাবি, ওদের একটা বাচ্চা আর আমার স্ত্রী।’
নগেন চোখ তুলে তাকায়। বলে, ‘বাবাজির নাম তো রবি?’
সে উত্তর করে, ‘আমার ডাক নাম। আসল নাম রবিউল ইসলাম মণ্ডল।’
নগেন বাছাড়ের হাত থেমে যায় থালায়। রান্নাঘরে ঝনঝন শব্দ। কারও হাত থেকে পড়ে গেল কিছু। খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। হঠাৎ অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। নগেন বাছাড়ের স্ত্রী অস্বস্তি চাপা দিতে চায়। সে ব্যস্ত ব্যস্ত হাত ধোয়ার জল এগিয়ে দেয়। রবিউল বলে, ‘মাসিমা, আমি বোধহয় আপনাদের বেশ অসুবিধায় ফেললাম। বাসনগুলো কি ধুয়ে দেব?’
নগেন বাছাড় নীরব, কিন্তু তার স্ত্রী বলল, ‘ছি ছি, এ কী কথা! আমারে তুমি মাসিমা ডেকেচ।’ সে হাত বাড়িয়ে বাসন নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু এই সময় রান্নাঘরের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল তার বৌমা। ঘোমটা সরিয়ে চোখ তুলে তাকাল একবার। তারপর এঁটো বাসন তুলে পুকুরের দিকে পা বাড়াল।

৪

খাওয়ার পর নগেন বাছাড় হুঁকো সেজে ঘরের ভিতর ঢুকে যায়। ওর স্ত্রীও যায় ভিতরে। স্বামী-স্ত্রী কী যেন আলোচনা চলল ফিসফিসিয়ে। রবিউল বসেছিল বাইরেই। এই সময়ে রাস্তায় মোটর সাইকেলের শব্দ শোনা যায়। সেই শব্দ শুনে নগেন বাছাড়ের স্ত্রী তড়িঘড়ি বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। তাকে ডেকে নেয় ঘরের ভিতরে। ভিতরে একটা চৌকিতে বসল সে। ভাবছিল কী করা উচিত এখন। এর মধ্যে বাইরে হাবুল এবং তার স্ত্রীর গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। রবিউল নগেনের উদ্দেশে বললে, ‘আমি আপনাকে বেশ একটা অস্বস্তির মধ্যে ফেললাম!’
কিন্তু নগেনের চক্ষু বন্ধ। কোনও উত্তর এল না। ঘুমে ঢলতে ঢলতে হুঁকোর গড়গড় শব্দ কমে আসে। রবিউল দেখল আড়ষ্ট হাতেই খুঁটির গায়ে হুঁকো ঝুলিয়ে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল নগেন বাছাড়। কিছুক্ষণের মধ্যেই নাকে আওয়াজ হতে থাকল।
ঘণ্টাখানেক কেটে গেল। সমস্ত বাড়ি প্রায় নিস্তব্ধ। হঠাৎ রবিউলের কানে এল, বাইরের বারান্দায় কারা যেন ফিসফিস শব্দে কিছু বলছে। রবিউল সচেতন। ফিসফিস ক্রমে কলরবে পরিণত হচ্ছে। নেতা গোছের একজনের গলার স্বর কানে এল, ‘হাবুল, খাতা-মোবাইল সব আটকে দিবি। পুরো ব্যাপারডা না জেনে ছাড়বি নে। এসব ষড়যন্ত্র কিন্তু। তুই যেহেতু একেনে দলের মাথা হচ্ছিস, তোর ইমেজ ডাউন করার জন্য এসব… বুঝদি পারলি? ছাড়বিনে।’
বক্তা মোটরবাইক স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে গেল। কলরব চলতে থাকে। রবিউল বুঝতে পারে বিষয়টা বিপদের দিকে এগুচ্ছে। বিপিনকে ফোন করল সে। কিন্তু ফোন রিং হয়ে যায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল বিকেল সাড়ে চারটে। না, আর নয়। এবার বেরুতে হবে। ব্যাগ কাঁধে উঠে পড়ে সে। নগেন বাছাড় শুয়ে তেমনই। নাকের আওয়াজটা নেই, তবে চক্ষু বন্ধ। রবিউল বলল, ‘নগেনবাবু, এবার আসছি। বিকেল হয়েছে।’
কিন্তু কোনও উত্তর এল না। অগত্যা সে বেরিয়ে যাওয়াই স্থির করে। দরজা খুলে বারান্দায় পা রাখে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে তার বুক শুকিয়ে যায়। বারান্দায় একদল তরুণ। ওদের চোখেমুখে অদ্ভুত এক হিংস্রতা। এগিয়ে এল এক যুবক। কপালে তার লাল তিলক। বলল, ‘আচ্ছা দাদা, দু’দিন ধুরে আপনি এই এলাকায় ঘুরতেছেন, লিখতেছেন, রেকর্ড করতেছেন, সব আমরা শুনতি পাচ্ছি। তা আপনার কি পারমিশন আছে?’
রবিউল মাথা নাড়ে। যুবকটি আরও কিছুটা কাছে এসে বলে, ‘আপনি কী লিখেছেন, আর কী রেকর্ড কুরেছেন আমাদের দেখাতি হবে।’
রবিউল বলল, ‘হ্যাঁ, দেখুন।’
পাতা উলটাতে থাকে যুবক। ঝুঁকে পড়েছে আরও কয়েকজন। খাতা দেখতে দেখতেই যুবক জিজ্ঞেস করে, ‘আপনার নাম কী?’
রবিউল ইতস্তত করে। এইসময় উঠোন টপকে দ্রুত বেগে এগিয়ে এল নগেন বাছাড়ের স্ত্রী। সঙ্গে বিপিন। সে বলল, ‘এই তোরা এত লোক ইকেনে কী করতিচ রে?’
কেউ কোনও উত্তর করে না। একজন মুখ বাড়িয়ে বলতে গেল, ‘কাকি, তোমার বাড়ি এইসব হচ্চে! পাটিতে আমরা মুখ দেখাতি পারব?’
নগেন বাছাড়ের স্ত্রী গর্জে ওঠে, ‘কী হচ্চে আমার বাড়ি? শোন সন্তোষ, পাটিবাজি করবি অন্য জায়গায় গে করগে যা। আমার বারান্দায় তোগো আসতি বুলেচ কেডা? এই হাবুল রবিবাবুর খাতা ফেরত দে।’
হাবুল বলে, ‘না ঠাকমা, খাতাডা পাটি অফিস একবার দেখতি চাইয়েচে।’
নগেন বাছাড়ের স্ত্রী বলে, ‘তোর নেতাগিরি ঘুচিয়ে দেব। এই কেডা বুলেচ রে এই ছাবাল মোচনমান? আমার জাত-ধর্ম নি?’
হাবুল বলল, ‘তবে যে শোনলাম…।’
নগেন বাছাড়ের স্ত্রী তড়পে ওঠে, ‘কী শুনলি? কেডা কী বুলেচে তোরে? তোর মা’র কতায় নাচতিছিস, ওর মাথার ঠিক আছে?’
ঠাকুর্মার তড়পানিতে ঘাবড়ে যায় হাবুল। তাড়াতাড়ি খাতা ফেরত দেয়। রবিউল খাতাটি ব্যাগে ভরে দ্রুত এগোয়। রাস্তার পাশে তেঁতুলতলায় দাঁড়ানো ছিল বিপিনের ভ্যান। রবিউল বসতেই স্টার্ট দেয়। ঝড়ের বেগে ছুটে চলে গাড়ি।
বিপিন কোনও কথা বলছে না। মিনিট পনেরো গাড়ি ছোটানোর পরে দম ছাড়ল সে। তারপর একহাতে গামছা নিয়ে মুখ মুছতে মুছতে দু-দু’বার অশ্লীল দুটি শব্দ ছুড়ে দিল আকাশের দিকে। রবিউল বুঝতে পারল এসব হাবুলের উদ্দেশে। সে আর কথা বাড়াল না। বিপিন বলে, ‘আর কুনো সমস্যা নাই দাদা। হেইটা হামাদের ইলাকা।’
কিন্তু একটা বাঁক ঘুরতেই রবিউল খেয়াল করে মোটরসাইকেল চালিয়ে পিছনে দ্রুত এগিয়ে আসছে দু’জন। একজন হাত উঁচু করছে বারবার। বিপিনকে বলতে সে পিছন ফিরে তাকাল। বলল, ‘শক্ত কুরে ধইরে বসেন। হাবুল আর ফটাং পিছু নিচে।’
যতটা সম্ভব গাড়ির গতি বাড়াল সে। কিন্তু মোটরসাইকেলের সঙ্গে ইঞ্জিন ভ্যান পারবে কেন। তার মধ্যে রাস্তা জুড়ে জটলা। মিটিং চলছে। হাবুলের গাড়ি ওদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারপর স্টার্ট বন্ধ করে বিপিনকে সজোরে এক থাপ্পড় মারল হাবুল। বলল, ‘তোকে তখন থে দাঁড়াতি বলতিচি, তুই গাড়ির গতি বাড়াচ্চিস কেন?’
বিপিন চড় খেয়েও কোনও কথা বলল না। অপলক ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকল হাবুলের দিকে। রাগে কাঁপতে থাকে তার শরীর। এইসময় হাবুল রবিউলের কাছে এগিয়ে যায়। বলে, ‘মানিব্যাগটা ফেলে এয়েচেন দাদা। এই নেন। ঠাকমা মাথা খারাপ কুরে দেচ্চে। এদিকি দোকান খোলার টাইম হুয়ে যাচ্চে আমার।’
হাবুল ব্যাগটি ফেরত দিয়ে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু রবিউল তার হাতটি ধরে ফেলে। বলে, ‘শুনুন ভাই।’
হাবুল জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায়। রবিউল বলল, ‘একটু চা খেয়ে যান।’
সে হাত ধরে চায়ের দোকানে নিয়ে এল হাবুলকে। বিপিন কিছুটা বিরক্ত। হাবুলকে খাতির করে চা খাওয়ানোটা ভাল লাগছে না তার। তবু সে-ও এগিয়ে গেল দোকানের দিকে। পয়সা মিটিয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে রবিউল বলে, ‘আমি কলেজে পড়াই। একটা গবেষণার কাজে ঘুরছি। অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই।’
হাবুল বলল, ‘না, আমার মায়ের এট্টু মাথার গোলমাল তো ছার, কী শুনতি কী শুনেচে!’
রবিউল হাবুলের হাত ধরে। বলে, ‘আপনার মা ঠিকই শুনেছেন। আমার নাম রবিউল, আমরা মুসলিম।’
হাবুলের রক্তবর্ণ চক্ষু হঠাৎ স্থির হয়ে যায়। বিপিন তাকিয়ে দেখে, ওর হিংস্র চাহনির মধ্যে একটা বিষাক্ত ছোবল ঘুরছে। সে আধখুলি চা ফেলে দিয়ে মাথা উঁচু করে। তারপর কিছু একটা অনুমান করে রবিউলকে গার্ড করে দাঁড়ায়। মারামারির আশঙ্কা করে রবিউল। সে হাত উঁচু করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু হাবুলের চোখের চাহনি দেখে কিছু উচ্চারণ করতে সাহস হল না। এর মধ্যে হঠাৎ দু’পা পিছিয়ে গেল হাবুল। গুড়ি মেরে বিপিনের গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দিল। তারপর মুখে অদ্ভুত এক হাসি ফুটিয়ে ফচ করে খানিকটা পিক ফেলে দিল রাস্তায়।
মাথায় রক্ত উঠে যায় বিপিনের। অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে শুরু করে সে। হাতে তুলে নেয় আধলা ইট। কিন্তু ফটাংকে পিছনে বসিয়ে ঝড়ের গতিতে বাইক ছোটায় হাবুল।
রবিউল স্তম্ভিত। সে ভাবে, এমনি হাজার হাবুল গ্রামে গ্রামে। ওরা জানে না, কোনটা ভুল কোনটা ঠিক। গ্রাম শূন্য হয়ে মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে শহর-নগরের পথে। দোষ তো ওর নয়। ভাল পথ দেখিয়ে দেওয়ার মানুষ কই? রবিউল এবার ধীর পায়ে এগিয়ে যায় বিপিনের কাছে। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল সে। পরাজয়ের একরাশ গ্লানি নিয়ে ফুঁসছিল। সে বলে, ‘আমার জন্য তোমার অনেক হেনস্থা গেল বিপিন। এটুকু আমি হেঁটে যেতে পারব। রাগারাগি করো না। বাদ দাও।’
কিছু টাকা ওর পকেটে গুঁজে দিল রবিউল। কিন্তু, বিপিন কোনও সাড়া করল না। তার দু’চোখ বেয়ে অশ্রুধারা তখন। রবিউল বুঝতে পারল, এ পরাজয় মানতে সময় লাগবে বিপিনের। সে তার কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিল। তারপর ব্যাগ কাঁধে ধীর পায়ে হাঁটতে থাকল নদীর ভেড়ি ধরে।

৫

সূর্য নেমে এসেছে নদীর সীমানায়। ভাটি স্রোতের মুখে রঙের খেলা। অবয়বের ছায়াগুলি ক্রমশ কালো হয়ে যাচ্ছে নীল স্বচ্ছ জলে। নিস্তব্ধ শেষ বিকেলে রবিউল একাকী এগিয়ে চলে ভেড়িবাঁধ বরাবর। হঠাৎ তার মনে হল মোটরবাইক চালিয়ে পিছনে আসছে কেউ। ফিরে তাকাল সে। দেখল, হাবুল আবার ওর পিছু নিয়েছে। শক্ত পায়ে ফিরে দাঁড়ায় সে। এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল একবার। না, কোথাও কেউ নেই। যা করার তাকেই করতে হবে। হাবুল গাড়ি দাঁড় করাল ওর গা বরাবর। তা দেখে এক পাশে সরে গেল রবিউল। সে তাকিয়ে দেখল, হাবুলের চোখদুটো রক্তজবার মতো লাল। হিংস্র শ্বাপদের মতো চাহনি। এখন কী করা উচিত বুঝে পায় না সে। হঠাৎ হাবুল বলল, ‘পিছনে বসেন।’
অনুনয়ের সুরে উত্তর করে রবিউল, ‘আমি তো চলে যাচ্ছি ভাই। আর কেন?’
হাবুল গলা চড়ায়। বলে, ‘আমি বলছি বসেন। অতিথ আপনে। আপনারে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়াডা আমার দায়িত্ব।’
রবিউল ইতস্তত করে। হাবুল বলে, ‘শোনেন ছার, আপনি মানী মানুষ। গাঙের রাস্তায় বিপদ হলি ওই বিপিন আপনেরে রক্ষে করতি পারবে? ওর সে খ্যামতা আছে? কিচ্ছু করতি পারবে না। এলাকার অবস্থা ভাল না দাদা। তাড়াতাড়ি বসেন। সাড়ে পাঁচটার খেয়া মিস হলি আপনি কিন্তু ওদিকে বাস পাবেন না।’
খানিকটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল উত্তর থেকে দক্ষিণে। হাবুলের চোখের দিকে তাকিয়ে একরাশ নির্ভরতা পেল যেন রবিউল। তারপর ওর কাঁধে হাত রেখে বাইকের পিছনে বসল। শক্ত করে চেপে ধরল তাকে।
গুনগুনিয়ে গান ধরেছে হাবুল। রবিউলের মনে হল, ওর বুকের মধ্যে একটা মজবুত তাজমহল চাঁদের জোছনা কুড়িয়ে যাচ্ছে। সেই জোছনায় একাকার হয়ে যাচ্ছে গঙ্গা-যমুনা। মিশে যাচ্ছে পদ্মা-ভাগীরথী। ঠিক তখনই যেন লাল টুকটুকে সূর্য আধখানা হয়ে বিদ্যা-মাতলার মোহনায় ডুবে গেল। সন্ধ্যার শীতার্ত ডানা কুয়াশায় ভর দিয়ে জড়িয়ে ধরল ধুলোমাটির গ্রাম। হাবুল আর রবিউল সেই আলো-আঁধারে মিলিয়ে গেল খেয়াঘাটের দিকে।

°°°

চিত্রণ: শুভ্রনীল ঘোষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × one =

Recent Posts

অরিজিৎ চক্রবর্তী

অরিজিৎ চক্রবর্তীর ছোটগল্প

ট্রমা-চিহ্নিত সেলফিগুলি অ রি জি ৎ  চ ক্র ব র্তী অজ্ঞাত পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধারকৃত দু’টি টীকা (লেখকের নাম অনুপস্থিত। পাণ্ডুলিপির শেষ কয়েকটি পৃষ্ঠা বহু আগেই

Read More »
পিয়াস মজিদ

পিয়াস মজিদের কবিতা

পি য়া স  ম জি দ অনিমিখ তোমার ভেতর যত ময়ূরতা, কেকা; আমি বন থেকে তার দিকে লক্ষ করে আছি। আমার চোখের সবুজ লোকালয়ের বাকি

Read More »
স্বপনকুমার মণ্ডল

স্বপনকুমার মণ্ডলের ছোটগল্প

জিতকা স্ব প ন কু মা র  ম ণ্ড ল ১ হাটবারে বিদ্যাখাড়ির পাড়ে রাস্তা জুড়ে জমাটি ভিড়। মোরগ লড়াই চলছে। কাঁতিদার লড়াইয়ের তাগদ দেখে

Read More »
সুদীপ্ত মাজি

সুদীপ্ত মাজির কবিতা

সু দী প্ত  মা জি মেঘ জংলা হাওয়ার গন্ধে জাগা নেশার মতো উড়িয়ে দিচ্ছ ওড়না তোমার, দিদিমণি এখন কি আর তেমন সবুজ বয়স আছে কুড়িয়ে

Read More »
চম্পা রায়

চম্পা রায়ের ছোটগল্প

ডিঙি চ ম্পা  রা য় ‘ও যদু… জাল নিয়া এগাও।’ মাঝ-নদীতে কারেন্ট জাল পাতছিল কালিচরণ। যদুকে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাঁক দিল। যদিও কালিচরণ জানে,

Read More »
হৈমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়

হৈমন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতাগুচ্ছ

হৈ ম ন্তী  ব ন্দ্যো পা ধ্যা য় মোহনার দিকে লুম্পেন হয়েছে রাত, রাহাজানি করে নিয়ে গেছে মন জ্যোৎস্নার গভীরদেশে ঘরবাড়ি তার গাঢ় হলুদের মতো

Read More »