হৈ ম ন্তী ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়
মোহনার দিকে
লুম্পেন হয়েছে রাত,
রাহাজানি করে নিয়ে গেছে মন
জ্যোৎস্নার গভীরদেশে ঘরবাড়ি তার
গাঢ় হলুদের মতো উচ্ছল হয়েছে পাতাজল
চুইয়ে পড়ছে মনে, আর কতদূর ঘরবাড়ি
তোমার হে প্রেমিক?
সর্বাঙ্গ জুড়ে গোলাপি শীতলতা।
এক-একটা স্পর্শ বহুজীবনের আরাধ্যের মতো মনে হয়, শুধু মন জানে অন্ধকারের
বুকেও থই থই জল প্রতিরাতে যেতে চায়
মোহনার দিকে…
*
মন ও অমলতাস
ছন্নছাড়া বাতাসের মতন—
অতিক্রান্ত সময়, মতিভ্রান্তি মুছে দিয়ে
দূরে তাকায়।
মধ্যবর্তী স্থান-কাল-পাত্র-চরিত্র ও
কল্পনায় ছোপ ছোপ দাগ জাগে, গভীরে
জীবন্ত হয় বন।
কেউ কোথাও রাখেনি জন্মচিহ্ন—
কেউ কোথাও ফেলেনি নির্যাস—
নিশ্বাসে উগ্রতার গন্ধ ওড়ে ইতিউতি।
কে কবে মানুষ হয়েছে পৃথিবীতে
কে কোথায় রেখে গেছে নিরাময় গুণ
জানতে চাই না।
সংগোপনে জেগে উঠলে শুদ্ধ কলতান
সমস্ত দূরত্ব আজও শূন্য মনে হয়—
ছন্নছাড়া বাতাসে বসে মন ও অমলতাস…
*
আমি ও আমার আয়না
শেষ বিকেলের পর সন্ধ্যার প্রথম চরণে
মুখোমুখি বসেছি দু’জন—
আমি ও আমার আয়না।
হাত আমার মুখশ্রী সাজায়, যা খুশি
সে করতে পারে নিজের শরীরে,
সবকিছু নিখুঁত হলে চোখ তা দেখে
তারও অনেক পর পায় অনুমোদন।
আমি ও আয়না আমার পরস্পর মুখোমুখি
এখন, বাহ্যিক সমস্তকিছু পরিপাটি হলে
তারপর পরবর্তী কাজ।
মন কি মুখ বা দেহের মতোই পরিপাটি?
উত্তর জানতে চায় না মন, বারবার এড়িয়ে যায়, সব ভুল, অন্যায়, অপরাধ ঠিকঠাক
করে নিতে কতক্ষণ?
সমস্ত চলতে থাকে নিজের নিয়মে,
ভুলের ওপর ভুল বাড়ে, অন্যায়,
অপরাধের ওপর অপরাধ জমা হয়।
দিনশেষে—
সন্ধ্যার প্রথম চরণে মুখোমুখি আমরা দু’জন
আমি ও আয়না আমার…
*
ঘাম
আদ্যাক্ষর থেকে খসে যাচ্ছে জন্মভুক রিপুদল, এখন কেবল বিরতিহীন স্তব্ধতা
ক্রমশ শূন্যস্রোতে মিশে যেতে চায়।
সম্পর্কের গল্পগুলো এখন সংক্রমণের মতো
নাভিমূলে বারুদ জড়ো হয়, বৃন্তদ্বয়ে তৃষ্ণা গাঢ় হলে আগল তাচ্ছিল্য করে বেরিয়ে পড়ে গরম গরম ঘাম।
আদ্যাক্ষরে জন্মভুক রিপু এসে বসে
চুষে খায় গভীরের সবটুকু ঘাম।
যুগলের সবটুকু জল খসে গেলে
উড়ে যায় আদ্যাক্ষর, জেগে ওঠে জীবনের নাম…
*
পালককথা
শব্দগুলো উড়ে যাচ্ছে এখন
স্বপ্নকোষে জীবন্ত মড়ক
ধিকিধিকি আগুনের মতো দেখায়,
তুমি এখনও প্রেমে মশগুল– মন?
উড়ছে পালক জীবনের দোতারায়।
তৃষ্ণাগুলো থিতু হয়ে গেছে কবেই
জীবন এক আশ্চর্য দৃষ্টান্ত
মশালে মশালে জীবনের ক্ষুধা
পথ জুড়ে প্রিয়রং…
°°°
চিত্রণ: দেবাশিস সাহা





