Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ধর্ম কেন নিজেকে ‘বিজ্ঞান’ প্রমাণে মরিয়া

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহ, মঞ্চের পেছন অদ্বৈতবাদের আধুনিক পুরুষের বিরাট ছবি, বক্তা বিদেশি নোবেল পুরস্কার জেতা বিজ্ঞানী, মঞ্চে সভাপতির আসনে কোনও সর্বত্যাগী গেরুয়াবসনধারী। বক্তৃতার বিষয়, বিজ্ঞান ও ধর্মর সমন্বয়। এখনকার একটা চেনা ছবি। ধর্ম এখন মরিয়া বিজ্ঞানের সঙ্গে একটা সমঝোতা করতে। কিন্তু নিষ্ফল চেষ্টা। ও হবে না। ধর্ম আর বিজ্ঞানের সম্পর্ক বৈরিতার, বিরোধের। আর সে বিরোধের শুরু করেছিল ধর্মই। ধর্মগ্রন্থর অভ্রান্ততা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তগুলির ওপর, বিজ্ঞানীদের ওপর নানান আঘাত, নানান অত্যাচার ধর্ম করেছে। কিন্তু সে-লড়াইতে হেরে ভূত হয়ে ধর্মগ্রন্থগুলি এখন প্রায় নির্বাসনে। জগৎ-জীবনের কোনও বিষয়ে জানতে এখন আর কেউ ধর্মগ্রন্থগুলি খুলে বসেন না। মানুষের জ্ঞানচর্চা দিনদিন যত সেকুলার হয়ে উঠেছে জ্ঞানের জগৎ থেকে ততই পাততাড়ি গুটিয়ে সরে পড়তে হয়েছে ধর্মকে। অবশ্য ধর্মগ্রন্থগুলি একেবারেই নির্বাসিত তা-ই বা বলি কী করে? স্বর্গে কতজন হুরিপরির হারেম পাওয়া যাবে, পাপতাপ করলে কোন নরকে সেদ্ধ বা ভাজা হতে হবে, কিংবা নীচুজাত, কাফের বা ইনফিদেল-দের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে— এইসব গুরুতর বিষয়গুলো জানতে এখনও ধর্মগ্রন্থর কোনও বিকল্প নেই।

আর্যভট, কোপারনিকাস, গালিলেও— বিজ্ঞান-ধর্মর বিরোধের তিনটে ক্লাসিকাল ঘটনা। এই পরিপ্রেক্ষিত নিয়েই রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্যর বই ‘ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক বিসংবাদ’। বইটি অবশ্যই শুধুই বিজ্ঞান-ধর্মর বিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘উৎস মানুষ’ পত্রিকায় এই লেখাটি ধারাবাহিকভাবে বেরিয়েছিল ১৯৮৬ সালে। তাতে সম্পাদকীয় কারণে কিছু কাটছাঁট করা হয়েছিল। পুরো বইটির প্রথম সংস্করণ বেরোয় ১৯৯৪ সালে। বেশ কিছু সংযোজন নিয়ে হালে বেরিয়েছে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ। সম্ভবত এই মুহূর্তেই বইটি সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক ।

গঠনের দিক দিয়ে বইটি বিসংবাদের আকারে লেখা। প্রধান চরিত্রগুলো হলেন একজন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত, এক রোমান ক্যাথলিক, তিনটে তুলনায় কমবয়সি ছেলে— বাচাল, জিজ্ঞাসু আর সবজান্তা। এছাড়াও আছেন আরও কয়েকজন ছোট চরিত্র। সংলাপের মাধ্যমে আলোচনা এগোয়। প্রথমে গালিলেও, তারপরে কোপারনিকাস এবং আর্যভটকে নিয়ে। বইটি পড়তে পড়তে মনে হবে যেন কোনও সিরিয়াস আড্ডায় পাঠক বসে আছেন। প্রায় প্রতি লাইনেই নতুন কথা শোনা হচ্ছে। আর ছবির কোলাজের মত পাঠকের সামনে ফুটে উঠছে ধর্ম আর বিজ্ঞানের বিরোধের নানান ঘটনা।

বইটি তথ্যর খনি। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যর সঙ্গে এমনিতেই বাঙালি সাধারণের পাঠকের পরিচয় একটু কম, বিশেষ করে অ-ইংরেজি খ্রিস্টীয় ঐতিহ্য জানতে বুঝতে গেলে ভাষার একটা সমস্যা হয়। এই বইতে গালিলেও আর কোপারনিকাসের ঘটনা ভালভাবে বুঝতে নানান লাতিন, ইতালীয় বই কিংবা ডিক্রি বা সনদের কথা এসেছে। অত্যন্ত প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় সেগুলো জানার সুযোগ পাঠক এই বইতে পাবেন।

এমনিতে গালিলেও আর কোপারনিকাসের কথা সারা বিশ্বেই পরিচিত। কিন্তু আর্যভটকে নিয়ে আলোচনা তুলনায় কমই হয়। এই বইয়ের সবচেয়ে বড় পাওনা আর্যভটর ভূভ্রমণবাদ তত্ত্ব ও তাকে অস্বীকার করতে বৈদিক পণ্ডিতদের নানান প্রচেষ্টা।

ধন্য ভাটিকান। কোপারনিকাস তো বই প্রকাশের পরে পরে মারা গিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিয়াত্তর বছর পরে বইটি নিষিদ্ধ হয়। গালিলেওকে সহ্য করতে হয়েছিল অসীম নির্যাতন, মানসিক এবং অবশ্যই শারীরিক। সেগুলো নিয়ে এই বইতে বিস্তৃত আলোচনা আছে। কীভাবে ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা সূর্যকেন্দ্রিক পৃথিবীর ধারণাকে জনগণের মধ্যে বিস্তৃত হতে বাধা সৃষ্টি করেছিল আছে তার ইতিহাস। পোপের ভয়ে ক্যাথলিকরা তো বটেই মার্টিন লুথারের ঘোষণায় প্রটেস্ট্যান্টরাও কোপারনিকাসীয় ধারণাকে বাইবেল-বিরুদ্ধ ঘোষণা করে ব্যাহত করেছিলেন বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে। এমনকি পোপের হাতার বাইরে থাকা ইংল্যান্ডেও কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিক ধারণা মোটেও আমল পায়নি সমসময়ে। শেক্‌স্‌পিয়র, মিলটন এঁরা কোপারনিকাসের সমসাময়িক হলেও, তাঁর তত্ত্ব সম্বন্ধে জানলেও নিজেদের কাব্য-নাটকে কিন্তু পৃথিবীকেন্দ্রিক ধারণার বাইরে আসতে পারেননি। এমনকি ফ্রান্সিস বেকন পৃথিবীকেন্দ্রিক চিন্তাই করতেন যদিও সেটি একেবারেই অধর্মীয় কারণে।

বইটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করে। বিজ্ঞানের কোনও সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হলেই ধর্মের পাণ্ডারা বলতে থাকেন এ তো আমাদের ধর্মগ্রন্থে বহুদিন ধরেই আছে। তাঁরা অবশ্য সবসময়ই কোনও বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার পরেই দাবিটা তোলেন। ডারউইন বিবর্তনবাদের কথা তোলার পরে ভারতের কিছু লোক বলেছিলেন, আমাদের অবতারের ধারাটা দেখুন, মাছ, কচ্ছপ আর শুয়োর এবং তারপরে মানুষ। আমাদের এখানে প্রাচীনকালেও বিবর্তনের ধারণা ছিল। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে ডারউইনের বিবর্তনবাদ বাজারে আসার আগে তাঁরা এটা কেউ বুঝতে পারেননি। তেমনই এখন হচ্ছে, প্লাস্টিক সার্জারি আসার পরে গণেশের কথা তোলা কিংবা মিসাইল দেখে ‘মহাভারত’-এর কোনও অস্ত্রর সঙ্গে তুলনা। উৎকল্পনা আর বিজ্ঞান-প্রযুক্তি যে আলাদা বিষয় সেটা বুঝতে বিশেষ বুদ্ধি খরচ না করলেও চলে, কিন্তু ধর্মবিশ্বাস বড় কঠিন। কোপারনিকাস, গালিলেও এবং আর্যভট-র ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। যখন আর কোনওভাবেই সূর্যকেন্দ্রিক ধারণাকে অস্বীকার করার উপায় নেই, তখন খ্রিস্টান ধর্মর পাণ্ডারা বলেছিলেন, আগেকার লোকজন বুঝতে ভুল করেছিলেন। বাইবেলে আসলে পৃথিবী গতিশীল আর সূর্য স্থিরই লেখা আছে— এই বলে তাঁরা আজগুবি ব্যাখ্যা নামান। আমাদের দেশেও পৃথিবী যে নিজের চারদিকে ঘোরে, স্থির নয়— আর্যভটর এই সিদ্ধান্ত যে ঋগ্‌বেদেও আছে তা প্রমাণ করতে একদল উঠেপড়ে লাগেন। স্থির, নিশ্চলা, ধ্রুবা নামে বেদ-বেদান্তে পৃথিবীকে ডাকা হলেও ওগুলোর মানে নাকি ঠিক অচল কিছু নয় এমন কুতক্কোও চলে।

ভারতে যখন সভ্যতার বিকাশ হয়েছিল তখন ইউরোপের লোকজন হরিণ চরাত। ভারত সবেতেই উন্নত ছিল। তাই ভারতে ধর্মবিরুদ্ধ বেদবিরুদ্ধ বৈজ্ঞানিক মতবাদকে খুবই কায়দা করে ঘায়েল করা হত। তিনটি পন্থা, এক, বৈদিক পণ্ডিতেরা এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলিকে মিথ্যেজ্ঞান বলে প্রচার করতেন, দুই, শ্লোক বিকৃত করে অর্থ পাল্টে দেওয়া হত, তিন, বেদবিরুদ্ধ পুথিগুলো হাপিশ করে দেওয়া হত। চার্বাকদের ক্ষেত্রেও যা ঘটে আর্যভটের সঙ্গেও তাই ঘটে। ভাস্করাচার্য, বরাহমিহির প্রভূত পণ্ডিতের বিদ্বেষাগার, টীকাকারদের শ্লোকবিকৃতি (যেমন আহ্নিকগতির ভারতীয় নাম ভূভ্রমণ, আর্যভটীয় তত্ত্ব তাই ভূভ্রমণবাদ নামেই পরিচিত। একজন টীকাকার খালি ভূ-টাকে ভ করে দিলেন। ভ মানে নক্ষত্র। তত্ত্বটা আর ভূভ্রমণ না থেকে ভভ্রমণ হয়ে গেল। বেদের অচলা পৃথিবী তত্ত্বর সঙ্গে তা মানানসই)। আর পুথি হাপিশ তো অন্য গল্প। মধ্যযুগেও আর্যভটর লেখা পুথি পাওয়া যায় না বলে তখনকার ঐতিহাসিকরা জানিয়েছিলেন।

আসলে ধর্মগ্রন্থগুলোর মত অসার জায়গায় বিজ্ঞান খুঁজতে গিয়ে আমরা আমাদের প্রকৃত বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যকে অবহেলা করি। সেই সুযোগে ভারতে আবিষ্কৃত শূন্য ও ডেসিমাল পদ্ধতিকে সায়েবরা দিব্বি ‘আওয়ার নিউমেরাল’ বলে চালিয়ে দেন। শঙ্করাচার্যরা জনপ্রিয় হন, সম্রাট জগন্নাথরা হন প্রায় বিস্মৃত। কোন রাজা কোন মন্দির গড়েছিলেন সেই নিয়ে চর্চা হয়, অনেকগুলো মানমন্দির তৈরি করা সোয়াই জয় সিংহ থাকেন ইতিহাসে উপেক্ষিত। আর যখন দেশপ্রেমের জোয়ারে বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যর খোঁজ করতে যাই তখন সব তালগোল। আর্যভট নাকি পৃথিবীর বার্ষিক গতির ধারণা দিয়েছিলেন— এমন ভিত্তিহীন কথাও বিজ্ঞানের ইতিহাসের বইতে জায়গা পায়। ঔপেনিবেশিক মানসিকতা আমাদের বাধ্য করে আর্যভটকে ভারতের কোপারনিকাস বলতে অথচ কাজের নিরিখে কোপারনিকাসই হলেন ইউরোপে আর্যভটের উত্তরসূরি, পোলান্ডের আর্যভট।

আর একটি কথা স্মরণ করা এখানে অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বিজ্ঞান আর ধর্মর সম্পর্ক কি শুধুই বিরোধের? এমন প্রশ্ন কেউ কেউ তোলেন। কোপারনিকাস তো আমরণ একজন পাদ্রিই ছিলেন। আসলে একজন মানুষের নানান সত্ত্বা থাকতে পারে। কোপারনিকাসের বৈজ্ঞানিক সত্ত্বাই তার বৈপ্লবিক আবিষ্কারের মূলে, তাঁর পাদ্রি সত্ত্বা নয়। তিনি যদি ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কিছু বলে থাকতেন তবে সেটা হত তাঁর পাদ্রি সত্ত্বার অবদান, বৈজ্ঞানিক সত্ত্বার নয়। ঠিক তেমনভাবেই আমরা ইতিহাসে দেখব অনেক ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে পুরোহিত ইত্যাদি ধর্মীয় মানুষেরা অবদান রেখেছেন। কিন্তু সে অবদান তাঁরা রেখেছেন বৈজ্ঞানিক হিসেবে পুরোহিত হিসেবে নয়। অনেকেই ধর্মবিশ্বাসী বিজ্ঞানীদের একটা তালিকা নিয়ে নাচানাচি করেন। তাঁরা ভুলে যান ধর্মে অবিশ্বাসী বিজ্ঞানীদের তালিকাটাও দীর্ঘ। কারও ধর্ম তাঁর বিজ্ঞানচর্চায় কাজে লাগে না, বরং ধর্মবিশ্বাস কাউকে কোনও ধর্মবিরোধী সিদ্ধান্তে পৌঁছতে দ্বিধাগ্রস্ত করতে পারে। বিজ্ঞান আর ধর্মর একটাই সম্পর্ক হতে পারে, সেটা নেউল আর সাপের।

Advertisement

সব মিলিয়ে বলা যায়, আজ যখন আবার নতুন করে ভারতীয় বিজ্ঞান, আরবের বিজ্ঞান, ইউরোপের বিজ্ঞানকে হিন্দুবিজ্ঞান, মুসলিমবিজ্ঞান কিংবা খ্রিস্টবিজ্ঞান বলে ধর্ম একটা বাঁচার রাস্তা খুঁজছে, তখন রামকৃষ্ণবাবুর এই বইটি একটি আলোকবর্তিকার কাজ করতে পারে। সংগঠিত ধর্মর পেছনদিকে এগিয়ে দেওয়ার বাইরে আজ আর কিছু দেওয়ার নেই। তার সেই চেষ্টাকে আটকাতে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে ‘ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক বিসংবাদ’।

ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক বিসংবাদ ।। রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য ।। অনুষ্টুপ ।। ২০০ টাকা

‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ’ বিকৃতি, চার্বাকদের হেয় করতে

সুকুমার অনুরাগীরা প্রবন্ধগুলি পড়লে উপকৃতই হবেন

মার্কসীয় নন্দনতত্ত্ব কোন মাপকাঠিতে শিল্পসাহিত্যকে বিচার করে

শুধুই প্রকৃতিপ্রেমী নন, বাস্তববাদেরও নিখুঁত শিল্পী বিভূতিভূষণ

‘গালিলেও-র জীবন’-কে যেভাবে দেখাতে চেয়েছেন বের্টল্ট ব্রেশট্

ভারতের ঐতিহ্যর অন্যতম শরিক বস্তুবাদী চার্বাক দর্শন

হে মহাজীবন, আর এ তত্ত্ব নয়

বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের এক বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 2 =

Recent Posts

গৌতম চক্রবর্তী

স্প্যানিশ ছোটগল্প: পুতুল রানি

সত্যিকারের আমিলামিয়া আবার আমার স্মৃতিতে ফিরে এসেছে, আর আমি আবার— সম্পূর্ণ সুখী না হলেও সুস্থ বোধ করছি: পার্ক, জীবন্ত সেই শিশুটি, আমার কৈশোরের পঠনকাল— সব মিলিয়ে এক অসুস্থ উপাসনার প্রেতচ্ছায়ার ওপর জয়লাভ করেছে। জীবনের ছবিটাই বেশি শক্তিশালী। আমি নিজেকে বলি, আমি চিরকাল আমার সত্যিকারের আমিলামিয়ার সঙ্গেই বাঁচব, যে মৃত্যুর বিকৃত অনুকরণের ওপর জয়ী হয়েছে। একদিন সাহস করে আবার সেই খাতাটার দিকে তাকাই— গ্রাফ কাগজের খাতা, যেখানে আমি সেই ভুয়ো মূল্যায়নের তথ্য লিখে রেখেছিলাম। আর তার পাতার ভেতর থেকে আবার পড়ে যায় আমিলামিয়ার কার্ডটি— তার ভয়ানক শিশুসুলভ আঁকাবাঁকা লেখা আর পার্ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার মানচিত্র। আমি সেটা তুলে নিয়ে হাসি।

Read More »
যদুনাথ মুখোপাধ্যায়

বিজ্ঞানমনস্কতা কারে কয়?

শ্রদ্ধেয় বসুর বইতে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কিত অধ্যায়টি তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্কদের, বিশেষ করে মুদ্রা-মূর্ছনায় মজে থাকা, বা রাজনীতিজ্ঞ হিসেবে স্বীকৃতির দাবেদার-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসকদের বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকরই মনে হবার কথা। কেননা, উল্লিখিত দুটি বিষয় নিয়ে তাদের মনের গহীন কোণে প্রোথিত বিজ্ঞানবাদিতার শেকড় ওপড়ানোর সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। প্রশ্ন হল, তাঁর উপরিউক্ত বইটির কারণে তথাকথিত বিজ্ঞানমনস্ক বন্ধুদের চোখে ব্রাত্য বলে চিহ্নিত হবেন না তো? হলে আমি অন্তত আশ্চর্যচকিত হব না। দাগিয়ে দেবার পুরনো অভ্যাস বা পেটেন্ট এই মহলের বাসিন্দাদের প্রধান অস্ত্র, তা ভুক্তভোগীরা হাড়ে হাড়ে জানেন।

Read More »
প্রসেনজিৎ চৌধুরী

অগ্নিবীর: বন্দুকের মুখে ঈশ্বর

১৯৫০ দশকে নেপালের রাজতন্ত্র ও রাজার মন্ত্রিগোষ্ঠী রানাশাহী শাসনের বিরুদ্ধে সফল সশস্ত্র বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন অনেক ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে বাঙালি। নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সেই প্রথম সংঘর্ষ সে-দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত। ভারত ও চীনের মধ্যে একফালি দেশ নেপালের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুই পথ ধরে চলেছিল। ডান-বাম-অতিবাম— ত্রিমুখী রাজনৈতিক ঘাত-প্রতিঘাতের চূড়ান্ত সফলতা আসে ২০০৮ সালে রাজার শাসনের অবসানে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারী: এক দৈবী আখর

আমরা ৮-ই মার্চের আন্তর্জাতিক নারীদিবসে আবহমান নারীবিশ্বকে সামান্য একটু ছুঁয়ে যেতে চাইলাম মাত্র। হাজার হাজার বছর ধরেই তাঁদের ওপর কড়া অনুশাসন, জবরদস্ত পরওয়ানা আর পুরুষতন্ত্রের দাপট। সে-সবের ফল ভুগতে হয়েছে আন্তিগোনে থেকে সীতা, দ্রৌপদী; জোয়ান অফ আর্ক থেকে আনারকলি, হাইপেশিয়া; রানি লক্ষ্মীবাঈ থেকে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বেগম রোকেয়া; রোজা পার্কস থেকে মালালা ইউসুফজাই— তাঁদের মতো হাজারো নামহীন নারীকে।

Read More »
তন্ময় চট্টোপাধ্যায়

মাতৃভাষা: অবিনাশী হৃৎস্পন্দন ও বিশ্বজনীন উত্তরাধিকার

প্রতিটি ভাষার নিজস্ব একটি আলো আছে, সে নিজের দীপ্তিতেই ভাস্বর। পৃথিবীতে আজ প্রায় সাত হাজার ভাষা আছে। ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শতাব্দীর শেষে তার অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ তথ্য সত্যিই বেদনাদায়ক। একটি ভাষার মৃত্যু মানে কেবল কিছু শব্দের মৃত্যু নয়— সে মানে একটি জগৎদর্শনের অবলুপ্তি, একটি জাতির স্মৃতির চিরকালীন বিনাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে তাই আমাদের অঙ্গীকার হোক বহুমাত্রিক। নিজের মাতৃভাষাকে ভালবাসা, তাকে চর্চায় রাখা, তার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার সাথে অন্য সমস্ত ভাষার প্রতি আরও বেশি করে শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

শংকর: বিচিত্র বিষয় ও আখ্যানের কথাকার

শংকরের জনপ্রিয়তার একটি কারণ যদি হয় সাবলীল ও সহজ গতিচ্ছন্দময় ভাষা, অন্য আরেকটি কারণ হল, নিজ সময়কে করপুটে ধারণ করা। তার সঙ্গে মিশেছে আমাদের পরিকীর্ণ জগতের বহুকিছু, আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে, অথচ আমরা এ-পর্যন্ত যার হদিশ পাইনি, তাকে পাঠকের দরবারে এনে হাজির করা। ১৯৫৫-তে যে উপন্যাসটি দিয়ে বাংলা-সাহিত্যে তাঁর আবির্ভাব, সেই ‘কত অজানারে’ হাইকোর্টের জীবনযাপন, সেখানকার আসামি-ফরিয়াদি, উকিল-ব্যারিস্টার প্রমুখের চিত্র। লেখকের নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত রচনা এটি। তিনি প্রথম জীবনে হাইকোর্টের সঙ্গে চাকরিসূত্রে যুক্ত ছিলেন।

Read More »