কবিতাগুচ্ছ
শু ভ দী প রা য় চৌ ধু রী
দৃষ্টি
অন্ধের যষ্টির মতো ধরতে চেয়েছি
অন্ধ আসলে কী ধরে? প্রতিবিম্ব? ছায়া?
নাকি শান্ত অন্ধকারে নিজের আত্মাটি
এ ভ্রান্ত বাদানুবাদে ভারী হয়ে আছি
যে চোখে তোমাকে দেখি, সেই চোখ তুমি
ধাত্রীবিদ্যা জানা কোনো গ্রামীণ বধূর
গোধূলি আলোর মুখে অসময়ে ফুল
ফোটার খবর আনে বায়ু ধীরগামী।
এ প্রস্তাব লিখিত হোক, লেখা থাক এই
লিখন প্রয়াস, চেষ্টা, রক্তপাত, রাত
দেহটি ক্ষতর জন্য নাকি ক্ষতটি দেহের
অমীমাংসা পুড়ে যায়, স্পর্শ করলেই
অন্ধের আকুতি শোনো, আর কত সয়?
দু’চোখে যেটুকু ধরি, সে তো দেখা নয়
°°°
শ্রুতি
শোনো ঐ সমুদ্রশব্দ, দূরে ঝাউবনে
নৌকার খসড়া এবং কাঁকড়ার ঘর
কেউ যেন মন্ত্র পড়ে সাগর প্রদেশে
স্মৃতি জমে মুক্তো হয় প্রতিটি জীবনে
অনন্তশঙ্খটি কানে চেপে ধরে শুনি
বিন্দুর গভীরে সিন্ধু আছড়িয়ে পড়ে
জেলেবস্তি, মাছ, মদ… ডেকে আনে মনে
অন্যজীবনে শোনা সে প্লুতস্বরখানি।
শ্রুতিটুকু রয়ে গেছে সেই জীবনের
ঝাউবন ছিঁড়ে ফেলা বাতাসের রাতে
মধুক্ষর বাক্যগুলি বিনিময় ছলে
নুন, বালি, জিভে নিই, তোমার দেহের।
ভূতে পায় এর পর, আজীবন, হায়!
ব্যর্থ রতিগানখানি স্পষ্ট শোনা যায়।
°°°
ঘ্রাণ
মানুষের স্মৃতি মানে ঘ্রাণের স্মৃতি সে
রাঙাকাকিমার স্মৃতি: পায়েসের দুধ
ফুটে ফুটে ফেঁপে উঠে সাদাটে ফুলের
মতো পড়ে আছে উনুনের চারপাশে
দীপ্তিদির স্মৃতিগুলো রোগাটে সাবান
ক্যাডবেরির জিঙ্গল যেন ফানুসের
আয়ুটুকু পেয়ে ভেসে ওঠে আচমকা
প্লাস্টারহীন বাড়ি, বাবা পেনশান
ঘ্রাণ নিয়ে কথা বলি, বলি স্মৃতি নিয়ে
অথচ তোমার কথা বলা হয়নি তো
স্মৃতি ভেঙে গলে যায় ঘ্রাণ মরে আসে
চোরে গায় কবিগান ইনিয়ে বিনিয়ে
আসলে তোমার স্মৃতি, জলের, জলের
ঘ্রাণ নেই, বয়ে যাওয়া আছে এই ঢের
°°°
স্বাদ
চালতার টক তোমায় ফেরায় মনে
মাদুর বেছানো শীত দুপুরের ছাদে
কৈশোরে, বিস্ময়ে তুমি দীক্ষা দিয়েছিলে
জিভ, স্বেদ, প্রেমে স্বাদ পাল্টায়, এ জ্ঞানে।
লবণের মতো দ্রব জিভের ওপরে
কে ছড়ায়, কী ছড়ায়, কেউ কী তা জানে?
কবিতাবই ছড়িয়ে একা বসে থাকি
মৎস্যস্বাদ ঘন হয় সন্ধ্যার প্রহরে
পায়েস রাঁধার ছলে জন্মদিন ভ্রমে
একা ডেকে নিয়েছিলে ভাঁড়ার আড়ালে
এলাচের মতো দেহ নাকি দারুচিনি
মশলা জন্মের পাপ ঘিরে আসে ক্রমে।
দৈবরান্না, জন্মক্ষত, হৃদয়ে রেখেছি
ফিরে এসো রাকা তুমি, আকুল ডেকেছি
°°°
স্পর্শ
সামান্য দূরত্বে থেমে আঙুল দু’খানি
এ-আঙুল ও-আঙুল মাঝে চার চাঁদ
স্পর্শের ঈঙ্গিতে কাঁপে জলের শরীর
গর্ভপাপ তিনি দেন, তাঁকে গুরু মানি
প্রত্যহ প্রত্যক্ষ করো জীবন সরস
চাঁদে-চাঁদ লেগে আছে সমুদ্র প্রদেশে
ভাবের ঘরেতে বাঘ গুড়ি মেরে থাকে
আঁচড়ে কামড়ে নেই, শুধু ছুঁয়ে বশ
অনায়াসে করে তাকে প্রগাঢ় কামিনী
দুর্বলের জানু যেন মহাবশ্যতায়
জ্যোৎস্নায় গড়ায় ঘাসে, মায়াডাক ডাকে
বাসনা সীমানা আলো, ওঠে চাঁদখানি
বায়ু করে, জল করে, স্পর্শ করে গাছ
স্পর্শ-ই সাধনা জেনো, চাঁদের উবাচ
°°°
চিত্রণ:





