কবিতাগুচ্ছ
ম ণি শং ক র বি শ্বা স
কুদৃষ্টি
রাস্তার চোখগুলি মনে পড়ে
স্নানঘরেও মেয়েটি ভয় পাচ্ছে নগ্ন হতে
°°°
ক্ল্যাইম্যাক্স
মুনমুনকে খুঁজছি সকাল থেকে। দক্ষিণ মেরুর দিকে মিনিবাস যাচ্ছে।
স্মৃতির ভিতরে বক, অটো ও মিথিলা ইত্যাদি উড়ছে।
সেখানেও মুনমুন নেই।
ইতস্তত রাবার, চুলের যত্ন, বাংলা লিরিকের ভেজা ত্বক
বাথটবে ফেনার ঔজ্জ্বল্য।
অথচ হোটেলের ঘরে ফিরে এসে জানা গেল মুনমুন এখানেও নেই
জানালার পর্দায় খানিকটা রক্ত অথবা টম্যাটো সস লেগে আছে
°°°
নেশা
ধোঁয়ার অন্য প্রান্তে মাধুরী আসে
এই নেশা অনুজপ্রতিম
আরও ভাল হবে না কখনও
কী ভাবে ব্যথার ফুলে ঢলে পড়ে সব অস্থিরতা, ২বি বাসের জানালা
আমি যাব অশ্রুতরুমূলে
জলযুক্ত ল্যাব অ্যাসিট্যান্ট
দেখতে তেমন ভাল নয়, কিন্তু খুব সুন্দর
আমি ওর বুকের গন্ধ নেব
আমি জানি, এই ইচ্ছেটাই ওর বুকের গন্ধ
°°°
মুহূর্তে
এমনভাবে থেকে যেতে হবে যে একটা পাখিও যেন
উড়ে না যায়— সাগরিকা সিনেমাহলের ধ্বংসস্তূপের
কাছে আমি হয়ে উঠি পুরনো তামার মতো
সাধারণ জনজীবন আর সেই সাথে
মাইকে গম্বুজ আকৃতির আর ডি বর্মণের মিউজিক
রোদের ভিতর থেকে ফুটে উঠল মেয়েটি
মেয়েটির রূপের দুধ ও লিপগ্লস
°°°
১৯৯৮
রাত ১২টা ১৫-তে মনে পড়ে রাজকুমারদার কথা।
‘নীলিমা ও নির্বাসন’, ‘অন্যভুবন’-এর রাজকুমার মুখোপাধ্যায়
কেন রাজকুমারদা আজ আর কোথাও নেই?
কেন রাজকুমারদা ওঁর বাড়িতে নেই, ড্রয়িং রুমে নেই,
ব্যালকনিতে সিগারেট খেতে খেতে নেই
কেন নেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাতব্বরদের হাতে?
রাজকুমারদা যে স্কুলে পড়াতেন সেখানেও কী কারও মনে আছে?
অথবা যে বইগুলি লিখেছিলেন, সেগুলির?
অনেক আগের এক বইমেলায় কৌরবের স্টলে দাঁড়িয়ে থেকে
রাজকুমারদা আমার একটা ছবি এঁকে দিয়েছিলেন
ছবিতে শুধু আমার দুল-পরা কানটাকেই দেখা যাচ্ছিল
ছবির নিচে রাজকুমারদা লিখেছিলেন—
‘যার এক কান নেই, সেই দু’কানওয়ালাকে’
একটা দরকারে পড়ে ছবিটা কিন্তু রাজকুমারদা’কে মনে রেখেছে
একটা কান ছাড়া, ১৯৯৮ সালের সেই ছেলেটা
কিছুতেই আর বাড়ি ফিরে যেতে পারছে না!
°°°
চিত্রণ: সৌজন্য চক্রবর্তী





