দুই বয়াম চিৎকার-চেঁচামেচি
পথের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি, দীর্ঘ পথ।
পা হয়তো অক্ষম গন্তব্যে পৌঁছাতে; তাই
মাথা দিয়ে হাঁটছি। চোখও হয়তো
ক্লান্ত হয়ে পড়বে; অগত্যা কলমই চোখকে
দিয়েছে দর্শনশক্তি।
পথ হাঁটছি আমি। পথ।
শূন্যে লাথি ছুড়ে সরাচ্ছি— প্রতিবন্ধকতার
বল্লার সারি। হাঁটতে হাঁটতে লোমকূপগুলো
চমকিত হচ্ছে, পথের দু’পাশে এত ডাল্লা ও
পিঁপড়ের গবেষণাগার!
জ্যোতির্বিজ্ঞানী পিঁপড়ে তো আমায় ঝড়-বৃষ্টির
ইঙ্গিত জানার দীক্ষা দান করল মৃত্তিকা বিজ্ঞানী
উপহার দিল কেঁচোর মহাগ্রন্থ— ‘মাটি’।
পথ চলছি। এখনও চলছি। হুট্টিটি পাখি
তাঁর সদ্য লেখা দর্শন গ্রন্থখানি আমায় উপহার দিল
অর্ধজাগ্রত সকালবেলায়। প্রথম পাতা ওল্টাতেই— দেখি
কুসুম চট্কা ঝলমলে রোদ কালো চিন্তার পর্দায়
খেলা করছে; মৃদু বাতাসে পর্দাটা সরে যেতেই
দেখতে পেলাম একটি নদী। তার পাড়ে কলার জাড়ে
মোচার ফুলে মৌ খাচ্ছে একটি ‘দুধরাজ পাখি’,
বাঁশের বন্দুকে কুচিকদম ফুলের টোটা ভরে
পাখিটাকে তাক করে আছে দুষ্টু কয়টি খোকা ও খুকি।
রোদটা একটু খড়খড়ে হতেই দেখলাম,
তোলোই পেতে ভরতনাট্যম নাচের ভঙ্গিমায়
‘হৃদয়’ নাড়ছে— মা, জেঠিমা, খুড়ি।
বারান্দায় ঠাকুমা একটি বগি থালায়
মৌ-ঝোলা গুড়ে মাখছে ‘নোনাকচি’ ধানের
‘খই ও মুড়ি’।
ঠাকুমার মাথার উপর ঝুলছে—
একটি রামদা, দুই পাশে দুটি বয়াম ভরা
চিৎকার–চেঁচামেচি।
চিত্রণ: চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
