Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ভারত ও মহাভারত: জাতের ঠিক নেই

গীতা হল ধর্মগ্রন্থ। আর মহাভারত কাহিনি। বেশ জনপ্রিয় কাহিনি। ব্রাহ্মণ্য ধর্মর পাণ্ডারা যুগে যুগে মহাভারত-এর কাহিনির মধ্যে ধর্মমাহাত্ম্য গুঁজে দিয়েছেন। মূল কাহিনির সঙ্গে সেগুলোর তেমন কোনও সম্পর্ক নেই। সেগুলো না থাকলেও মহাভারত-এর গল্পর তেমন হেরফের হত না। গীতা-ও তেমনি এক গুঁজে দেওয়া ধর্মমাহাত্ম্য।

গীতা-র অর্জুন হঠাৎ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধর আগে বিবশ হলেন। তিনি যুদ্ধ চান না। কেন? যুদ্ধ হলে আত্মীয়স্বজন-বন্ধু বধ করতে হবে। সমাজ উৎসন্নে যাবে। আর নরহত্যার দায়ে তাঁর নরকবাস হবে— তা-ই। এইখানে অর্জুনের আর-এক নাম গুড়াকেশ। বাংলায় গীতা-র অন্যতম ভাষ্যকার শশীশেখর বসুর মতে, এখানে গুড়াকেশের অর্থ যিনি নিদ্রা ও আলস্যত্যাগ করেছেন যিনি। তা অর্জুন কীসের জন্যে ঘুম বিশ্রাম ত্যাগ করলেন। না, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আয়োজনের জন্যে। তবে কি তিনি জানতেন না যে যুদ্ধ কাদের সঙ্গে করতে হবে? অবশ্যই জানতেন। সারাজীবন যুদ্ধ আর হত্যা করে হঠাৎ নরকবাসের ভয়ও বেশ অমূলক। আসল কথা হল, সমাজের অবক্ষয় হবে ভেবে অর্জুন বিবশ হলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ হলে বহু বহু ক্ষত্রিয়র মৃত্যু হবে আর ক্ষত্রিয়দের অভাবে তাঁদের কন্যা ও বিধবারা জৈবিক তাড়নাতেই অন্য বর্ণর মানুষদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সন্তান উৎপাদন করবেন। সে সন্তান হবে বর্ণসংকর। আর বর্ণসংকরদের জন্ম মানেই সমাজের সর্বনাশ। ব্রাহ্মণ্যধর্মর ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী, বর্ণসংকর আসলে বর্ণাশ্রম বা জাতপাত থেকে বিচ্যুতি। ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য এবং শূদ্র— ধর্মশাস্ত্রর মতে এই চার জাতের মধ্যে কোনওভাবেই বৈবাহিক সম্পর্ক করা যাবে না। শুধু নিজের জাতের মধ্যেই বিয়ে করতে হবে। নচেৎ বর্ণসংকরের জন্ম ও সমাজের অধঃপতন। ধর্মশাস্ত্র গীতা-তে অর্জুনের বর্ণসংকরদের জন্ম নিয়ে এই দুশ্চিন্তাকে দূর করতে শ্রীকৃষ্ণকে আঠেরো অধ্যায় ধরে ‘বেদবিরোধী’ জ্ঞান দিতে হয়।

এবার কাহিনি মহাভারত-এ অর্জুনের বংশর জাতবিচার করা যাক। বৈশম্পায়নীয় মহাভারত-এর মূল গল্প শুরু হয় সত্যবতীর জন্ম থেকে। উপরিচর (আকাশে আকাশে ঘুরত) নামে এক পুরু বংশীয় ক্ষত্রিয় বিয়ে করেন কোলাহল পর্বত ও শুক্তিমতি নদীর মেয়ে গিরিকাকে। একদিন স্নানের সময় উপরিচর-এর কাম জাগে ও বীর্যস্খলন হয়। সেই বীর্য যাতে বৃথা না যায় তাই উপরিচর এক বাজপাখির ঠোঁটে করে সেই বীর্য গিরিকার কাছে পাঠান। বীর্য নিয়ে যাওয়ার পথে সেই বাজপাখির সঙ্গে আর-একটি বাজপাখির লড়াই বাধে। বীর্য পড়ে যমুনাতে। সেই নদীতে অদ্রিকা নামে এক অপ্সরা তখন শাপগ্রস্ত হয়ে মাছের জীবন অতিবাহিত করছিলেন। সেই মাছটি ওই বীর্য খেয়ে ফেলে ও গর্ভবতী হয়, পরে এক ধীবরের জালে সেই মাছ ধরা পড়ে। পেট থেকে দুটি সন্তান পাওয়া যায়। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ছেলের নাম হয় মৎস্য, মেয়ের নাম হয় সত্যবতী। ধীবরদের কাছেই তিনি বড় হন। তাঁর গায়ে ছিল মাছের তীব্র গন্ধ।

বর্ণসংকরের মাত্রাটা একবার ভাবুন। ক্ষত্রিয়র বীর্য, ধারণ করছে অপ্সরা, যে কিনা আবার মাছ। মানে, বর্ণসংকর শুধু মানুষে সীমাবদ্ধ নয় অপ্সরা আর মাছের মিশ্রণ সেখানে।

যাঁরা অলৌকিক এই গালগল্প মানতে চান না, তাঁরা বোঝেন সত্যবতী আসলে ধীবরদের মেয়ে। ধীবর মানে শূদ্র। জাতে কৈবর্ত। কৈবর্ত আবার কোনও বিশুদ্ধ জাত নয়। বর্ণসংকর। নিষাদ পিতা ও আয়োগবি মাতার সন্তান। নৌকর্ম, মাছ ধরাই এঁদের জীবিকা। বৃহদ্ধর্মপুরাণ অনুযায়ী এঁরা অসৎ শূদ্র মানে জল-অচল শূদ্র। পশ্চিমবঙ্গে এখন কৈবর্তদের দুটি ভাগ জালিয়া (জেলে) ও হালিয়া (চাষি বা কৃষক)। তার মধ্যে জালিয়ারা তপশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত।

এখন জল-অচল শূদ্রর মেয়ে সত্যবতীর সঙ্গে ব্রাহ্মণ পরাশর ঋষির প্রেম হল। আর কুমারী অবস্থায় সত্যবতী এক সন্তানের জন্ম দিলেন। তাঁর নাম কৃষ্ণ। দ্বীপে জন্মেছিলেন বলে পরিচয় হলো কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। তিনি বর্ণসংকর। তিনিই মহাভারত নামক মহাকাব্যর আদি রচয়িতা। আর বেদকে চারভাগে ভাগ করেছিলেন বলে তাঁর নাম বেদব্যাস। ব্রাহ্মণ্যধর্ম পালন ইত্যাদিতে তিনি এত জ্ঞান লাভ করেন যে, অমর বা চিরঞ্জীবী হয়ে যান। ভারতে সাধারণত সাত চিরঞ্জীবীর কথা আসে, ব্যাস, কৃপ, বলী, অশ্বত্থামা, পরশুরাম (ইনি আবার এক অবতারও। কিন্তু এঁর বাবা জমদগ্নি ছিলেন ব্রাহ্মণ, মা রেণুকা ক্ষত্রিয়। অর্থাৎ ইনি বর্ণসংকর। মানে ব্রাহ্মণ্য ধর্মর অবতারও বর্ণসংকর), বিভীষণ ও হনুমান। বেদব্যাস শুধু মহাভারত-এর রচয়িতাই নন, এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রও বটে।

পরবর্তীতে সত্যবতীর বিয়ে হল কুরু বংশীয় শান্তনুর সঙ্গে। শান্তনুর বংশবৃত্তান্ত ঘাঁটলে জানা যাবে, তাঁর পূর্বপুরুষদের কারুর স্ত্রী শূদ্রা, কারুর বা দেবী। মানে এঁরাও বর্ণসংকর। শান্তনু ও সত্যবতীর দুই ছেলে চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য। চিত্রাঙ্গদ অকালে মরলেন। বিচিত্রবীর্য দুই স্ত্রীয়ের গর্ভেই সন্তান উৎপাদন করতে পারলেন না। ওদিকে ওঁদের সৎদাদা ভীষ্ম ভীষণ প্রতিজ্ঞা করে বসে আছেন বিয়ে তিনি করবেন না। কুরুবংশ লোপ পাওয়ার দশা। তখন সত্যবতী তাঁর পুত্র ব্যাসদেবকে ডেকে পাঠালেন। ব্যাসের ঔরসে বিচিত্রবীর্যর দুই স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিলেন যুধিষ্ঠির ও পাণ্ডু, আর এক শূদ্রের গর্ভে জন্ম নিলেন বিদুর। পাণ্ডু হলেন অর্জুনের পিতা। তাহলে গীতা-য় বর্ণসংকর নিয়ে চিন্তিত অর্জুনের বংশর জাতবিচার করতে বসলে কী বেরোবে? ব্রাহ্মণ (পরাশর), ক্ষত্রিয় (কাশীরাজের দুই কন্যা বিচিত্রবীর্যের স্ত্রী ছিলেন), অসৎ শূদ্র (সত্যবতী)— সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ি। আক্ষরিক অর্থে জাতের ঠিক নেই। তা ছাড়া অর্জুনের বায়োলজিকাল ফাদার ইন্দ্র। সেখানেও মানুষে দেবতাতে মিলন। বর্ণসংকর।

আসলে কাহিনি তুলে ধরে সমাজের ছবিকে। আর ধর্মশাস্ত্রগুলো তুলে ধরে আদর্শর ছবিকে। মহাভারত কাহিনি। সেই সময়ের সমাজ এই বর্ণসংকর ব্যবস্থা বা বর্ণাশ্রমকে খুব বেশি পাত্তা দিত বলে মনে হয় না। বেদব্যাস, পরশুরাম তার প্রমাণ। মহাভারত ঘাঁটলে এইরকম অজস্র উদাহরণ পাওয়া যাবে। বিদুর আজীবন বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। এমনকি পঞ্চপাণ্ডব যখন বাণপ্রস্থে যাচ্ছে তখন পরীক্ষিৎ নেহাত ছেলেমানুষ। যুধিষ্ঠির রাজ্য দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান ধৃতরাষ্ট্র ও এক বৈশ্যার সন্তান যুযুৎসুকে।

মহাভারত-এর সমাজ বুঝেছিল বিভিন্ন জনগোষ্ঠী থাকলে বর্ণসংকর ব্যবস্থাকে আটকানো যাবে না। ফলে সে নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা ছিল না। কিন্তু ভারতের মানুষদের পেছনদিকে এগিয়ে চলার এক অদ্ভুত উৎসাহ। পরবর্তীতে তাঁরা মনু ইত্যাদি ধর্মশাস্ত্রকারগণ যে আদর্শ জাতপাতভিত্তিক সমাজ তৈরির কথা বলে গেছেন, সেই দিকে পা বাড়ালেন এবং এখনও হাঁটছেন। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। ভারতীয়রা সকলেই এখন বর্ণসংকর। বিশুদ্ধ ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য বা শূদ্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। নামের পরে পদবি ছাড়া জাত আর কোত্থাও নেই। চারবর্ণ ছাড়াও ভারতীয়দের রক্তে মিশে আছে ম্লেচ্ছ আর যবনদের রক্তও। বুখারা সমরখন্দ পারস্য পর্তুগাল ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের রক্তও যে ভারতীয়দের মধ্যে মিশে নেই, এমন কথা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবেন না। অথচ জাতপাত নিয়ে এখানে প্রতিদিন কী নিষ্ঠুরতা। একটি দলিত মেয়ের ধর্ষণ হলে সে নীচুজাত অর্থাৎ ধর্ষণের যোগ্য বলে অভিহিত করা হয়। শরীরের সব বর্ণর মিশ্রিত রক্ত নিয়েও ব্রাহ্মণ পদবির জোরে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেন। কিন্তু সত্যিটা অন্যরকম। আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয়দেরও এখন জাতের ঠিক নেই।

চিত্রণ: মুনির হোসেন

মহাভারত : চিরায়ত সাহিত্য বনাম ধর্মগ্রন্থ

অনধিকার চর্চা

One Response

  1. khub delicately apnar lekhay ekta point apni focus korechen . varotiyo bolte apni kebolmatro hindu der bapare alochona kore hoyto etai bojhalen je varote bosobaskari onno dhormer lokera varotiyo non . varotiyo bolte hindu der mark kore , evabe onno dhormer lokeder indirectly o-varotiyo bolar ortho ki ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + eighteen =

Recent Posts

কাজী তানভীর হোসেন

চেতনার বিবর্তন ও ঈশ্বরের নৃবিজ্ঞান

মানুষের অজ্ঞানতা ও ভুলের গর্ভেই ঈশ্বরের জন্ম হয়েছিল; আর মানুষের জ্ঞান ও সভ্যতার ঐতিহাসিক অগ্রগতিই একদিন ঈশ্বরের কবরে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। জ্ঞানতাত্ত্বিক আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তাত্ত্বিকভাবে বিনাশ করবে অলৌকিক সৃষ্টিকর্তার ধারণা, আর সম্পদের সুষম বণ্টন ও সাম্যবাদ (Communism) বিলুপ্ত করবে প্রাচীন টোটেমীয় কুসংস্কারকে। একদিন ধর্মের এই অন্ধ খোলস ভেদ করে স্থান করে নেবে উচ্চতর গণিত, আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিজ্ঞানসম্মত মানবিক কর্তব্যবোধ।

Read More »
গৌতম চক্রবর্তী

ব্রিটিশ ছোটগল্প

আমি আগে থেকেই আমেরিকার পাখি বইটি সম্পর্কে জানতাম, কিন্তু কখনও বইটির সঙ্গে তেমনভাবে সময় কাটাইনি। ঠিক যেভাবে কেউ নদীর ধারে বসে সময় কাটায়। বাবার হাসপাতালের শয্যার পাশে বসে থাকতে থাকতে আমি যেন ধৈর্যের অর্থ শিখে নিয়েছিলাম। অপেক্ষা করতে শিখেছিলাম। এডি ঠিকই বলেছিল— আমিও মাছ ধরতে যেতে চাইছিলাম। জলের ধারে বসে থাকতে চাইছিলাম। কিন্তু বাবাকে দেখতে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনও কাজে বাড়ি থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। তাই আমি অডুবন-এর সরোবরসম বইয়ে আমার জাল ফেললাম।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের বিস্ফোরণ: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব পূর্বাভাস

পণ্যের এই ভয়াবহ সঞ্চালন সংকটে পড়ে পুঁজিপতিরা এখন আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাই অবিক্রীত পণ্য গছিয়ে দেওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এই সুযোগেই বিশ্বজুড়ে ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েশন’ বা আধেয় নির্মাণের এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। যখন বিশ্বের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ দু’বেলা অন্নসংস্থানে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইন্টারনেটে ছোটখাটো ভিডিও প্রচার করে ক্রিয়েটররা বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এটি আসলে জমে যাওয়া শ্রম ও পণ্যের এক অস্বাভাবিক বণ্টন প্রক্রিয়া। যে পণ্যের রিভিউ করে একজন ক্রিয়েটর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন, সেই পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী শ্রমিক হয়তো আজ কর্মহীন কিংবা নিম্নতম মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চন্দ্রাবতী: বঙ্গের প্রথম পদকর্ত্রী

চন্দ্রাবতীর জীবনের যেটি শ্রদ্ধেয় দিক, তা হল গরলকে অমৃতে পরিণত করা। ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোককে কাটিয়ে উঠে একাগ্রতা নিয়ে পঠনপাঠন‌ ও সৃষ্টিকর্মে মন দেন। পিতাকে সহায়তা করেন কাব্যরচনায়। ১৫৭৫ নাগাদ, যখন চন্দ্রাবতীর বয়স মাত্র পঁচিশ, সেসময় তিনি পিতার লেখা মনসার ভাসান-এ সহযোগিতা করেছিলেন। তারপর একের পর এক নিজস্ব রচনায় ভাস্বর হয়ে থাকে তাঁর কারুবাসনা।

Read More »
কাজী তানভীর হোসেন

মহাজনী সভ্যতা

অর্থের লোভ আজ মানবিক অনুভূতিগুলোকে সম্পূর্ণ গিলে ফেলেছে। আজ আভিজাত্য, ভদ্রতা আর গুণের একমাত্র মাপকাঠি হল টাকা। যার কাছে টাকা আছে, তার চরিত্র যত কালোই হোক, সে-ই দেবতা। সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প— সবই আজ টাকার পায়ে মাথা ঠুকছে। এই বিষাক্ত বাতাসে বেঁচে থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ডাক্তাররা মোটা ফিজ ছাড়া কথা বলেন না, আইনজীবীরা মিনিটের হিসাব করেন মোহর দিয়ে। গুণ ও যোগ্যতার বিচার হয় তার বাজারমূল্য দিয়ে। মৌলভি-পণ্ডিতরাও আজ ধনীদের কেনা গোলাম, আর সংবাদপত্রগুলো কেবল তাদেরই গুণগান গায়।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে ইসলাম

হিন্দুকে মুসলমানদের আপন বলে মনে করতে হবে, একথা তিনি ‌বারবার উচ্চারণ করে গেছেন। ‘যদি ভাবি, মুসলমানদের অস্বীকার করে একপাশে সরিয়ে দিলেই দেশের‌ সকল মঙ্গলপ্রচেষ্টা সফল হবে, তাহলে বড়‌ই ভুল করব’— বলেছেন তিনি। বাউলদের সাধনার মধ্যে তিনি হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলন আবিষ্কার করেন, অনুবাদ করেন মারাঠি সন্ত কবি তুকারামের ‘অভঙ্গ’ যেমন, ঠিক তেমনই কবীরের দোহা। মধ্যযুগের মরমী সুফি কবি কবীর, জোলা, রজব, দাদু প্রমুখের জীবনবৃত্তান্ত উৎসাহের সঙ্গে জেনে নেন ক্ষিতিমোহন সেনের কাছ থেকে, আর সত্তরোর্ধ্ব কবি পারস্যে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন কবি হাফেজকে।

Read More »