Search
Generic filters
Search
Generic filters

ছবিবৃত্তান্ত

পুরো নাম ছায়াছবি, ছোট করে ছবি। সেই ছবিকে আজকের স্তরে তুলে ধরতে যুগ যুগ ধরে মানুষের যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রম জড়িয়ে আছে, তা ভাবতে বসলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। এর পেছনে আছে কত সাফল্য, ব্যর্থতা, সুখদুঃখ ও নানান মজার কাহিনি। ছবির দুনিয়ার সেইসব অনবদ্য গল্পকাহিনি নিয়ে ধারাবাহিক ‘ছবিবৃত্তান্ত’।

ষষ্ঠ কিস্তি

স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়ে গেল আলাস্কার স্বর্ণসন্ধানের উত্তেজনা। ক্যামেরা ছুটল স্বর্ণসন্ধানীদের পিছন পিছন। এডিসনের দুই কর্মী রবার্ট বনাইন ও টম ক্যারাহান দুজনেই চলচ্চিত্রকার। ক্যারাহানের পারিশ্রমিক ছিল ফুট প্রতি ৫ ডলার।

১৮৯০-এর ৩ ডিসেম্বর Coney Island Sporting Club-এ রাত্রিবেলা মুষ্ঠিযুদ্ধের ছবি তোলার আয়োজন করা হল। ক্যামেরায় বিজারা। তিনি প্রায় চারশোটি আর্কল্যাশ ঝোলান। তার ফলে, উত্তাপে মুষ্ঠিযোদ্ধাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। আবার বৈদ্যুতিক তার প্রচণ্ড উত্তাপে গলে যাওয়ার উপক্রম হলে বরফ চাপা দিয়ে সুইচগুলোর উত্তাপ কমানো হল। মুশকিল হল, আগুন লাগার হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া গেলেও মুষ্ঠিযোদ্ধাদের ওপর শুরু হল গরমজলের বৃষ্টি। তবে এত কাণ্ডের পরও ছবি উঠেছিল ভাল। সবচেয়ে বড় ঘটনা হল, ছবি তোলা আর সূর্যালোকের উপর নির্ভরশীল রইল না।

অস্কার মেস্টার (১৮৬৬-১৯৪৩) তাঁর স্টুডিওতে কৃত্রিম আলোয় ছবি তুলতে সমর্থ হন ১৮৯৭ সালে।

বিংশ শতাব্দীতে চলচ্চিত্র ভুগতে লাগল বৈচিত্র্যের অভাবে। সেই সময়েই জেমস এইচ হোয়াইট এবং পোর্টার, দুজনে মিলে তুলে ফেলেন ‘Life of an American Fireman’। পুরোপুরি না হলেও এতে একটা নির্দিষ্ট গল্প বলার চেষ্টা দেখা গেল। গল্পটা জানানো যাক।

প্রথমেই দমকল বাহিনীর প্রধান দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এর বিভিন্ন বিভাগ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে। দৃশ্যান্তরে দেখা যায়, একটি সাধারণ বাড়ি, ভিতরে দোলনায় ঘুমোচ্ছে একটি বাচ্চা, জানালার পর্দা উড়ছে হাওয়ায় আর ঠিক তার নিচেই উনুনে জ্বলছে আগুন। হঠাৎই হাওয়ায় দোলা পর্দায় আগুন ধরে যায়, ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘর। দৃশ্যান্তরে দমকল কেন্দ্রে বিপদসঙ্কেত বাজে। কর্মীরা গাড়িতে ওঠে। গাড়ি দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকে গন্তব্যস্থলের দিকে। আবার দৃশ্যান্তরে দোলনায় বাচ্চা, অসহায় মা। নাটকীয়তার চূড়ান্ত পর্যায়, জানা যায় আগুন লাগা বাড়িটি দমকল প্রধানেরই। আগুন নিভিয়ে মা ও শিশুকে বিপন্মুক্ত করার পরেই ক্লোজআপ শটে ছবি শেষ হয়।

এরপর পোর্টার বিখ্যাত মঞ্চসফল নাটক ‘The Great Train Robbery’-র চলচ্চিত্রায়ণ করে পৃথিবীতে সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় মানুষ হয়ে গেলেন।

১৯০৩ সালে শুরু হয় ছবির কাজ। একটা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে, নিউ জার্সির প্যাটারসন নামে এক জায়গায় ট্রেনের দৃশ্যগুলো তোলা হয় ও ঘোড়দৌড়ের দৃশ্যগুলি নেওয়া হয় এসেক্স কাউন্টি পার্কে। নতুন নতুন পদ্ধতি সহযোগে ছবিটি প্রবল জনপ্রিয়তা পায়। ছবিটি দেখানো হয় Eden Musée, Huber’s Museum ও Hammerstein’s Victoria প্রেক্ষাগৃহে।

১৯০৭ সালে ডেভিড লিউয়েলিন ওয়ার্ক গ্রিফিথ (১৮৭৫-১৯৪৮) নিউ ইয়র্কে আসেন, পকেটে ‘La Tosca’-র চিত্রনাট্য। জীবিকার জন্য বই বিক্রি, অভিনয় ও লুই ভিলের খবরের কাগজে রিপোর্টারের চাকরি করেছেন। তিনি দেখা করলেন এডিসনের লোকজনের সঙ্গে। পোর্টার তখন ‘Rescued from an Eagle’s Nest’ করার পরিকল্পনা করছেন। গ্রিফিথের চিত্রনাট্যের কিছু হল না ঠিকই, তবে পোর্টারের ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান। এলেন বায়োগ্রাফ কোম্পানিতে। গ্রিফিথের সঙ্গে সঙ্গে মিশেল সিনোট (১৮৮০-১৯৬০)-ও ভাগ্য ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পরবর্তীকালে ইনি ম্যাক সিনোট নামে বিখ্যাত হয়েছিলেন। বায়োগ্রাফ-এর আলোকচিত্রী তথা মালিকের ভাই আর্থার মার্ভিন ও দাদা এইচ এন মার্ভিনের সঙ্গে কথাবার্তা বলে গ্রিফিথকে ছবি করার সুযোগ দিলেন। ‘The Adventures of Dollie’ ছবি করে আত্মপ্রকাশ করলেন যুগান্তকারী পরিচালক ডি উব্লিউ গ্রিফিথ। জিপসিরা একটা বাচ্চাকে কীভাবে অপহরণ করল, তাই নিয়ে মাত্র ৯ মিনিটের একটি ছবি, যার অধিকাংশই বাইরে তোলা, তবে কিছু অন্তর্দৃশ্যও গৃহীত হয়েছিল। চলচ্চিত্র জগতে গ্রিফিথের স্থান পাকা হয়ে গেল।

হোরেস প্লিম্পটন নামে এক কার্পেট ব্যবসায়ী এডিসনের চলচ্চিত্র বিভাগে যোগ দিলে, পোর্টার কাজ ছেড়ে দেন, কারণ পোর্টারের প্লিম্পটনের অধীনে কাজ করা সম্ভব ছিল না। পোর্টার উইলিয়াম সোয়ানসন নামে এক ভদ্রলোকের সহযোগিতায় তৈরি করেন Rex নামক প্রতিষ্ঠান, যার ট্রেডমার্ক ছিল অর্ধবৃত্তাকার তারার মালা। পরবর্তীকালে এই রেক্স-ই ‘প্যারামাউন্ট পিকচারস’ নামে বিখ্যাত হয়।

১৯১০। চলচ্চিত্রের নামকরণের জন্য The Essanay Film Company একটা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে। যদিও Kinetoscope, Nickelette, Theatorium, Nickelshow নামগুলি এবং ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি ছাড়া Cinema নামটি এবং ১৯০৯ সাল থেকেই আমেরিকার কাগজপত্রে Movie শব্দটি চালু ছিল। তবু এডগার স্ট্রাকোশ নামক জনৈক সঙ্গীতজ্ঞ ‘Photoplay’ নাম দিয়ে প্রথম পুরস্কারের ২৫ ডলার জিতে নেন ঠিকই, তবে Movie নামকে ছাপিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

১৯১৩-র ১ অক্টোবর গ্রিফিথ বায়োগ্রাফ কোম্পানির কাজে ইস্তফা দিয়ে মিউচুয়াল ফিল্ম কর্পোরেশন-এ মোটা মাইনে, মালিকানার অংশ ছাড়াও নিজে বছরে দু’খানা ছবি তৈরির শর্তে চুক্তিবদ্ধ হলেন। চিত্রনাট্য বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক উডস গ্রিফিথকে থমাস ফ্রেডরিক ডিক্সন জুনিয়র-এর লেখা ‘The Clansman’-এর চিত্রনাট্য দেখালেন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এই চিত্রনাট্য গ্রিফিথকে আকর্ষণ করে এবং তিনি সিদ্ধান্ত নেন ছবিটি তিনি করবেনই। তখনকার দিনে বিপুল অঙ্কের ছবিটি নির্মাণ করতে গিয়ে অর্থাভাবে কাজ ছ’বার বন্ধ হয়ে যায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে ১৯১৪-র জুলাই থেকে অক্টোবর অবধি ছবি তোলা হয় ও পরবর্তী তিন মাস চলে সম্পাদনার কাজ।

১৯১৫-র ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে বারো রিলের ‘The Clansman’-এর প্রথম প্রদর্শনী হয় Clune’s Auditorium-এ। বিস্ময়ে হতবাক দর্শককুল। শঙ্কিত রাজনৈতিক নেতারা। পুলিশকে সতর্ক করা হয় দাঙ্গার আশঙ্কায়।

হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রপতি উইলসন-এর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা, বিচারপতিরাও মুগ্ধ ও স্তব্ধ। উইলসনের মন্তব্য, ‘It is like writing history with lightning’।

১৯১৫-র ২০ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের রোজ গার্ডেনে ছবিটি দেখার পর ডিক্সন গ্রিফিথকে ছবির বলিষ্ঠ প্রয়োগকুশলতার চাহিদানুযায়ী ‘The Clansman’-এর বদলে ‘The Birth of a Nation’ নামকরণের আবেদন জানান।

৩ মার্চ, ১৯১৫-য় নিউ ইয়র্কের লিবার্টি থিয়েটারে ‘The Birth of a Nation’ মুক্তি পেল। টিকিটের দাম ২ ডলার। এযাবৎ মুক্তিপ্রাপ্ত সমস্ত ছবিকে ম্লান করে দেয় এই ছবি। এমনকি ছবি তৈরির ৯ বছর পরও এই ছবির টিকিট বিক্রির হার ওই প্রেক্ষাগৃহের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বিতর্কিত ছবি হিসেবে ঝড় তুলল এই ছবি। সামাজিক, রাজনৈতিক, সেন্সর সব ব্যাপারেই সমস্যা। সে এক হুলুস্থূল কাণ্ড। মেয়রের অনুরোধে গ্রিফিথকে দাঁড়াতে হল বিশেষ কমিটির সামনে। ছবি থেকে বাদ দেওয়া হল ১৭০টি ফ্রেম। বাকি ১৩৭৪টির প্রদর্শন সময় রইল ১৬৫ মিনিট।

এই ছবি তৈরি করতে খরচা হয়েছিল ১,১০,০০০ ডলার। আর কিছু দিনের মধ্যেই আয় হয় ১,৮০,০০,০০০ ডলার। বর্ণনাধর্মী দৃশ্যগ্রহণ (panning), সম্পাদনার বিপরীত ও অনুষঙ্গ সুরের মিশ্রণ (Contrapuntal editing), সত্যি রাতের দৃশ্যগ্রহণ, স্বপ্নদৃশ্যের ব্যবহার, বিশেষ মেজাজের জন্য বিভিন্ন বর্ণ ব্যবহার এই ছবিকে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসাল।

গ্রিফিথের ‘Intolerance’ (১৯১৬) এবং জার্মানিতে তৈরি ‘Isn’t Life Wonderful’ (১৯২৪) সৃষ্টি করেছিল নয়াবাস্তববাদের (Neorealism), যা রাজনৈতিক গোঁড়ামি, ধর্মীয় সংস্কার ইত্যাদির উত্তরস্বরূপ হয়েছিল।

চার্লস চ্যাপলিন (১৮৮৯-১৯৭৭) ১৯১০ সালের অক্টোবর মাসে ইংল্যান্ড থেকে আমেরিকা আসেন একটি নাট্যদলের সঙ্গে। ফ্রেড কার্নো-র এই দলের সঙ্গে চ্যাপলিন আমেরিকা আসার আগেই, সতেরো বছর বয়সেই তিনি মোটামুটিভাবে স্টেজ কমেডিয়ান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। The Keystone Film Company-র অধিকর্তা ম্যাক সেনেট-এর নজর পড়ল চ্যাপলিনের ওপরে। সেনেটের অনুরোধে, সপ্তাহে দেড়শো ডলার পারিশ্রমিক দিতে রাজি হয়ে যায় অ্যাডাম কেসেল ও চার্লস বাউম্যান-এর কোম্পানিটি। ১৯১৩-র শেষ দিকে মঞ্চ ছেড়ে চলচ্চিত্রে যোগ দেন চ্যাপলিন। ম্যাক সেনেট শুধুমাত্র চ্যাপলিনের আবির্ষ্কতা হিসেবেই নন, স্ক্রিন কমেডির জনক হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছেন তিনি। Keystone-এ থাকাকালীন চ্যাপলিন পঁয়ত্রিশটি ছবি করেন। সেনেট বিচক্ষণতার সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নেন, চ্যাপলিনের ছবির সব দায়িত্বই চ্যাপলিনের।

তথ্য সহায়তা: চলচ্চিত্রের আবির্ভাব— জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

।।। সমাপ্ত ।।।

কভার: Rescued from an Eagle’s Nest।/ চিত্র : গুগল

ছবিবৃত্তান্ত প্রথম কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত দ্বিতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত তৃতীয় কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত চতুর্থ কিস্তি

ছবিবৃত্তান্ত পঞ্চম কিস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =

Recent Posts

মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

নারায়ণগঞ্জের দুর্গাপুজো

বাংলাদেশের নানা জেলার‌ রামকৃষ্ণ মিশনে ঘোরার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সব জায়গাতেই আচারপরায়ণ মহারাজ ও ব্রহ্মচারীদের সুমধুর ব্যবহার। এখানে এসেই যখন এখানকার অধ্যক্ষ মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজির সঙ্গে আলাপ হল, মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অন্তরঙ্গ হয়ে উঠলেন। আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে তাঁর কাছে বসালেন। ষষ্ঠীর রাতে নববস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান‌ ছিল। আমাকে দিয়েও বস্ত্রদান করালেন। এই যে আচরণ, এতে করে আমি যে কী পরিমাণ সম্মানিত বোধ করলাম, তা বলার‌ নয়। কেবল‌ তাই নয়, সমবেত দর্শক-শ্রোতার সামনে আমাকে কিছু বলার আমন্ত্রণ-ও জানালেন। আমাকে আপ্লুত করল তাঁর এই আহ্বান।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

দুর্গাপূজা ও প্রসঙ্গত

এতদিন ধরে অন্য কোনও দেবদেবীর পুজো কোথাও হয় না। দুর্গাপুজোর এটি একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আরও একটি বৈশিষ্ট্য, এই পুজো উপলক্ষে কত যে পত্রপত্রিকা বেরোয়, তার কোনও সীমা নেই। কলকাতা যেহেতু এ-পুজোর প্রাণকেন্দ্র, স্বভাবতই এখান থেকে সবচেয়ে বেশি পুজোসংখ্যা পত্রিকা বেরোয়। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা বিরাট আকারে পুজোর অর্ঘ্য সাজায়। প্রসঙ্গত, সত্যজিৎ রায় তাঁর যে দু’টি ভিন্নধারার লেখার মাধ্যমে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের ওপর জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তা কিন্তু এই পুজোর ‘দেশ’ আর’ আনন্দমেলা’-র সূত্রেই।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মহালয়া

এই চণ্ডীপাঠকে অভাবিত মাত্রা দিয়েছে কলকাতার আকাশবাণী কেন্দ্র। ১৯২৭ সালে স্থাপিত হওয়া এই বেতার প্রচারকেন্দ্র থেকে (তখন নাম ছিল ‘Indian State Broadcasting Service’) ১৯৩১-এর ১১-ই অক্টোবর সর্বপ্রথম মহালয়ার অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। স্তোত্রপাঠে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। পরিকল্পনা বাণীকুমার, প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। সঙ্গীত পরিচালনায় রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক। অচিরেই এটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। অদ্যাপি, প্রায় শতবর্ষ হতে চলল, অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পীর পরিবর্তন হয়েছে, মহালয়ার প্রাক্-সূর্যোদয়ে এখনও কী কলকাতা, কী কানপুর-ঢাকা-ম্যাসাচুসেটস-আগরতলা-আন্দামান-মেহেরপুর-টোকিওর বাঙালি এটা শুনতে ভোলেন না।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

চিরজীবী বিদ্যাসাগর

বিদ্যাসাগর ‘বর্ণপরিচয়’ লেখার মাধ্যমে শিশুশিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৮৫৫-র ১৪-ই এপ্রিল, অর্থাৎ ১২৬২-র পয়লা বৈশাখ এর প্রথম খণ্ড, ও সে বছরের-ই পয়লা আষাঢ় বইটির দ্বিতীয় খণ্ড বেরোয়। এর আগেও শিশুদের অক্ষর পরিচয় ও বাক্যগঠনের বেশ কিছু বই থাকলেও বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ উপযোগিতার দিক দিয়ে সেগুলিকে, ও পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের ‘সহজপাঠ’-কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর জীবিতকালেই বইটির ১৫০-এর ওপর সংস্করণ হয়, আর ছাপা হয়েছিল তিরিশ লাখের-ও বেশি। এখন-ও ও বইটির উপযোগিতা শেষ হয়ে যায়নি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

অজানা বিভূতিভূষণ

নিতান্ত দারিদ্র্যের মধ্য থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন বলে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতা নিয়ে তাঁর নিজস্ব এক দর্শন ছিল। তাই দেখি, ডায়েরির এক জায়গায় তিনি লিখছেন, ‘দুঃখ জীবনের বড় সম্পদ, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা বড় সম্পদ— Sadness ভিন্ন profundity আসে না।’ অতীত দারিদ্র্যময় জীবনের কথা মনে করে নিজে সপ্তাহে একদিন শুধু নুন আর ভাত খেতেন।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

উত্তম উত্তম

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কম মহা-অভিনেতা জন্মাননি। তাঁদের মধ্যে খুব সামান্য কয়েকজন আল পাচিনো, মার্লোন ব্র্যান্ডো, রবার্ট ডি নিরো, লরেন্স অলিভিয়ার, গ্রেগরি পেক, জিন-পল বেলমন্ডো, ব্রুস লি, ইনোকেন্তি স্মোকতুনভস্কি, জিন গ্যাবিন, মাইকেল কেইন প্রমুখ। কিন্তু কতজন মৃত্যুর প্রায় পঞ্চাশ বছর পরেও জনপ্রিয়তা বাড়িয়েই চলেছেন? সম্ভবত চার্লি চ্যাপলিনের পর একমাত্র উত্তম। এলিজাবেথ টেলর ‘নায়ক’ দেখে আপ্লুত হয়ে যে উত্তমের সঙ্গে ছবি করতে চেয়েছিলেন, উত্তমের অভিনয়ের এ-ও তো এক অনিবার্য স্বীকৃতি!

Read More »