Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

আবু রাইহানের বিশেষ নিবন্ধ

জীবনানন্দ থেকে বিনয়

আ বু  রা ই হা ন

বিশ্বের সব দেশের সাহিত্যকর্মে অগ্রজদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় সূক্ষ্মতম মাধ্যম কবিতায় প্রভাবের মাত্রা সঘন। বাংলা কবিতায় বিদেশি কবিদের প্রভাবের পাশাপাশি বাংলা ভাষার অগ্রজ কিংবা সমকালীন কবিদেরও সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা ব্যাপকতর। হোমার, শেক্সপিয়র-সহ ইউরোপীয় নানা লেখকের প্রভাব যেমন পাওয়া যায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনায়; তেমনি অডেন, শেলি, কিটস, প্রমথ চৌধুরী, গগন হরকরা, লালনের প্রভাব রয়েছে রবীন্দ্রনাথে। আল্লামা ইকবাল, রবীন্দ্রনাথ, জালালউদ্দিন রুমি, হাফিজ, শেখ সাদীর স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে কাজী নজরুল ইসলামের রচনায়। তিরিশের বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বিষ্ণু দে, সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিতায়ও বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এলিয়ট, বোদলেয়র, মালার্মে, পাউন্ড, রিলকে, ভ্যালেরি, র‌্যাঁবো, হপকিন্স-সহ অন্যান্য ইংরেজ কবি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নজরুলের প্রভাব। কবিতার বিষয়াংশ এবং প্রকরণ প্রকৌশল উভয় ক্ষেত্রেই তিরিশের কবিগোষ্ঠী প্রবলভাবে আকৃষ্ট ছিলেন পাশ্চাত্যের কবিদের প্রতি। অন্য দিকে, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বিমলচন্দ্র ঘোষ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, উৎপলকুমার বসু, বিনয় মজুমদারের কবিতায় রয়েছে জীবনানন্দ দাশ ও কাজী নজরুল ইসলামের লঘু-গুরু প্রভাব। তবে জীবনানন্দের কবিতার উত্তরসূর পাওয়া যায় বিনয় মজুমদার, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-সহ অনেক প্রতিষ্ঠিত কবির কবিতায়। এ তিনজনের মধ্যে জীবনানন্দের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিনয় মজুমদারের নাম ব্যাপকভাবে উচ্চারিত। শুধু কবিতা নয়, বিনয়ের চিন্তাশীল গদ্যেও জীবনানন্দের সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে, বিনয় মজুমদারও তা স্বীকার করেছেন। জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি; কবি— কেননা তাদের হৃদয়ে কল্পনার এবং কল্পনার ভেতরে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার স্বতন্ত্র সারবত্তা রয়েছে এবং তাদের পশ্চাতে অনেক বিগত শতাব্দী ধরে এবং তাদের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জগতের নব নব কাব্য-বিকীরণ তাদের সাহায্য করছে। সাহায্য করছে; কিন্তু সকলকে সাহায্য করতে পারে না; যাদের হৃদয়ে কল্পনা ও কল্পনার ভেতরে অভিজ্ঞতা ও চিন্তার সারবত্তা রয়েছে তারাই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়; নানা রকম চরাচরের সম্পর্কে এসে তারা কবিতা সৃষ্টি করবার অবসর পায়।’ অপর দিকে, বিনয় মজুমদার ‘আত্মপরিচয়’-এ বলেছেন, ‘চারিপাশে যে সকল দৃশ্য দেখি, আমরা সকলেই দেখি, তার হুবহু বর্ণনা লিখলে কবিতা হয় না। সেই দৃশ্য আদৌ কেন আছে, কী কারণে বিশ্বে তার থাকার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে, বিশ্বের নিয়মাবলী ও গঠন প্রকৃতি ওই দৃশ্যে কতটুকু প্রকাশিত হয়েছে— এইসব বর্ণনার সঙ্গে যুক্ত করে না দিলে আধুনিক কবিতা হয় না। কিন্তু যুক্ত করতে হলে ওই-সব জানা থাকা দরকার।’

কবি জীবনানন্দ দাশ।

কবি বিনয় মজুমদার গভীর নিমগ্নতায় কবি জীবনানন্দ দাশকে পড়ে আত্মস্থ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। ফলে তাঁর কবিতার ভাষায় জীবনানন্দের প্রত্যক্ষ প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। পাশাপাশি এটাও বলতে হয় যে, কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম কবিতার বই ‘অনন্ত নক্ষত্র বীথি তুমি, অন্ধকারে’ও জীবনানন্দের গাঢ় রঙে নিমজ্জিত। এমনকী বইটির শীর্ষক ও জীবনানন্দের ‘মাঘ সংক্রান্তির রাতে’ কবিতার প্রথম পঙক্তি থেকে নেওয়া। কবি বিনয় মজুমদার জীবনানন্দীয় চেতনার রংগু লি তুলে নিয়ে তাঁর কবিতার বিজ্ঞানমনস্ক হৃদয় ও মস্তিষ্ককে পরিপুষ্ট করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, জীবনানন্দ লেখেন— ‘বিজ্ঞানের ক্লান্ত নক্ষত্রেরা/ নিভে যায়,— মানুষ অপরিজ্ঞাত সে আমায়, তবুও তাদের একজন/ গভীর মানুষী কেন নিজেকে চেনায়!’ (সূর্য নক্ষত্র নারী/ বেলা অবেলা কালবেলা) প্রজ্ঞার নাভিকেন্দ্র থেকে নক্ষত্রের অনুপাতে মানুষকে দেখা। তবুও বিজ্ঞানের নক্ষত্রেরা কি ঠিক বিজ্ঞানের নক্ষত্র? ৭১ পঙতির গোটা কবিতাটা পড়ার পর এই প্রশ্ন পাঠক করবেন। পাশাপাশি বিনয় মজুমদারকে লক্ষ্য করা যাক— ‘তাঁবুর ভেতরে শুয়ে অন্ধকার আকাশের বিস্তার দেখেছি,/ জেনেছি নিকটবর্তী এবং উজ্জ্বলতম তারাদের প্রকৃত প্রস্তাবে/ সব গ্রহ, তারা নয়, তাপহীন আলোহীন গ্রহ।’ (শিশুকালে শুনেছি যে)
জাজ্বল্যমান যে সমস্ত তারাদের রাতের তাঁবু থেকে দেখা যায় তাদের অনেকেই যে মৃত গ্রহ ঠান্ডা আলোহীন স্রেফ দূরত্বের কারণে ওই আলো আজও আমাদের এই চোখে বাস্তব, বিনয় মজুমদারের কবিতা সেই সত্যকে প্রধানত উদঘাটন করে। কবি জীবনানন্দের প্রকৃতিবোধ এক ঐতিহাসিক চিত্রকলার গভীরে প্রথিত। আর কবি বিনয় মজুমদারের প্রকৃতির রিপোর্তাজ, অনেকটা একটি সায়েন্টিফিক ফিল্ড জার্নাল রচনার মতো। প্রকৃতির বিবিধে লুকিয়ে থাকা নানা ছোট-বড় দৈনন্দিন সত্যকে আবিষ্কার করা হচ্ছে। তাকে তার পারিপার্শ্বিকের আলোয় দেখা হচ্ছে এবং জার্নালে লিখে রাখা হচ্ছে উপাত্তের মতো। এ প্রসঙ্গে কবি বিনয় মজুমদারের সূর্যগ্রহণের কালে কবিতাটির কথা বলা যায়। ‘সূর্য গ্রহণের কালে কিছু লেখা ভালো— এই ভেবে/ আজ লিখি। আজ হলো তেসরা ফাল্গুন শনিবার তেরোশো ছিয়াশী সাল।/ কিছুক্ষণ আগে দেখলাম সূর্যের অর্ধেক ঢেকে ফেলেছে চাঁদের ছায়া।/ এই লিখে ফের উঠলাম, গ্রহণ আবার দেখে আসি।’ কবিতাটির মূল চেহারা রিপোর্তাজের। যা ঘটেছে আকাশের বিম্বে তাই শোনানো হচ্ছে সরল গদ্যে। সূর্য গ্রহণের কালে বিনয় মজুমদারের একটি অনুল্লেখযোগ্য কবিতা বললে একেবারেই ভুল হয় না। তবুও এই কবিতাটিকে আগে চিনে নেওয়া দরকার। লিরিসিজম, বাকপ্রতিমা ও চেতনা রক্ত-মাংস-ছাল ছাড়িয়ে নিলে যে গাণিতিক যুক্তির কাঠামো বিনয় মজুমদারের কবিতাকে গড়ে, তার এক তুমুল নিদর্শন এই কবিতাটি। এই ধরনের একটি বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিসন্ধানেই গড়ে ওঠে বিনয়ের কবিতার কাঠামো। তাঁর কবিতার বৈজ্ঞানিকতা তাঁর পরিলক্ষণ গুণে, যা এক প্রকৃত বিজ্ঞানের দৃষ্টি। এটা দেখার চোখ বাংলা কবিতায় কখনওই ছিল না। প্রকৃতিকে জীবনানন্দ অনুভব করেন, উপলব্ধি করেন। তাঁর ইতিহাস-চেতনা ও সমাজবোধের ভেতরে তার রসকে টানার চেষ্টা করেন। বিনয় মজুমদার প্রকৃতিকে পরিলক্ষণ করেন এমনভাবে, যা পৃথিবীর আর কোনও কবিতায় পরিলক্ষিত হয় না। এসকল অনিশ্চিত অস্থিরতা, দণ্ডভেদ করে তবুও পাইনি গাছ ঋজু হয়ে ক্রমে বেড়ে ওঠে, প্রকৃত লিপ্সার মতো, আকাশের বিদ্যুতের দিকে। (আমাদের অভিজ্ঞতা)
‘প্রকৃত’ শব্দটি বাংলা কবিতায় বিনয় মজুমদার যেভাবে ব্যবহার করেছেন আর কাউকে সেভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। কেননা এই ব্যবহার এক প্রখর গাণিতিক গণ্ডির বাসিন্দা না হলে বোঝা যায় না। ‘প্রকৃত’ শব্দটি বিনয় মজুমদারের কবিতায় একটি সমীকরণ চিহ্নের মতো। যখন জীবনানন্দ লিখলেন— ‘কোথাও জলকে ঘিরে পৃথিবীর অফুরাণ জল র’য়ে গেছে’, সেই তিনভাগ জলের গায়ে ঠিক সমীকরণ চিহ্ন বসে না। জলকে তখনও কারও রূপক মনে হতে থাকে। কিন্তু বিনয় মজুমদার যখন লেখেন— ‘মানুষ নিকটে এলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়’, সেই সারসের মধ্যে ‘প্রকৃত’ শব্দটি নিয়ে আসে এক গাণিতিক অকাট্যতা।
জীবনানন্দের কবিতা সম্বন্ধে বিনয় মজুমদারের কিছু মজার পর্যবেক্ষণ আছে। যা পরিসংখ্যাকীয় প্রমাণিত নয়। বিনয় মজুমদার মনে করেন জীবনানন্দের কবিতায় অন্যতম বহুব্যবহৃত শব্দ তাঁর নিজের নামেরই গোড়াটুকু (জীবন)। এই শব্দের কতগুলো ব্যবহার জীবনানন্দে রয়েছে তার একটা লম্বা ফিরিস্তি বিনয় মজুমদার দেন ‘ধূসর জীবনানন্দ’ (কবিতীর্থ) বইতে। সেখানে দেখা যাচ্ছে জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা (ভারবি, দ্বিতীয় সংস্করণ, সপ্তম মুদ্রণ ১৯৮৮) কাব্যগ্রন্থের ১১ থেকে ১১১ নম্বর পাতা পর্যন্ত যত কবিতা আছে, সেখানে ‘জীবন’ শব্দের সুপ্রচুর ব্যবহার। তার একটা পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করেছিলেন কবি বিনয় মজুমদার। এই ‘জীবন’ শব্দটাকে সহজাত পদ্ধতিতে দ্ব্যর্থবোধে ব্যবহার করা হয়েছে। নিজের নামের দ্ব্যর্থবোধক ব্যবহার রবীন্দ্রনাথ ও মধুসূদনেও পাওয়া যায়। কিন্তু কবি বিনয় মজুমদারের মতে ‘জীবন’ শব্দটাই এমন ব্যপ্ত একটা শব্দ জীবনানন্দকে এ নিয়ে বিশেষ কসরত করতে হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন— ‘এবং কবি জীবনানন্দ দেখলেন দ্ব্যর্থবোধক কবিতা ও বাক্য লেখার জন্য কবিকে বিশেষ কসরত করতে হয় না— দ্ব্যর্থবোধক বাক্য লিখব না ভাবলেও বাক্য দ্ব্যর্থবোধকই রয়ে যায়— ‘জীবন’ শব্দটি এমনই শব্দ। ‘জীবন’ শব্দটি এমনই এক শব্দ যাকে দ্ব্যর্থবোধক না করাই এক সমস্যা। খুব কচিত কদাচিৎ একার্থবোধক বাক্য হয়, ‘জীবন’ শব্দটি থাকা সত্ত্বেও। যেমন ‘মোদের জীবনে যবে জাগে পাতাঝরা হেমন্তের বিদায় কুহেলি’। এই বাক্যে ‘জীবনে’র দুই মানে করা যায় না। উপরলিখিত চিন্তাগুলি কবি জীবনানন্দ নিশ্চয় করেছিলেন। নিজের নাম দিয়ে জীবন (জীবনানন্দ) কাজটি সহজে হাসিল করেছেন। তাঁর নাম জীবনানন্দ না বলে জীবন বাবুও বলা যায়।’

Advertisement
কবি বিনয় মজুমদার।

জীবনানন্দ দাশ ‘কল্পনা’, ‘অভিজ্ঞতা’, ‘চিন্তার সারবত্তা’ এবং ‘চরাচরের সম্পর্ক’ উল্লেখ করে ‘কবি’ মনস্তত্ত্বের ওপর আলোক প্রক্ষেপণের চেষ্টা করেছেন আর বিনয় মজুমদার ‘কবিতা’র করণকৌশলের ক্ষেত্রে ‘বিশ্বের নিয়মাবলী ও গঠন প্রকৃতি’ কী কারণে রয়েছে তার তল অন্বেষণের কথা বলেছেন। প্রকৃতির দ্বারস্থ হয়ে নিজ নিজ ব্যাখ্যা দাঁড় করালেও জীবনানন্দ ও বিনয়ের চিন্তা সম্পূরক, যা দু’জনের মানসিক ঐক্যের সাক্ষ্যবহ। তিরিশের পঞ্চকবি অগ্রজ কবিদের ধারা, বিশেষ করে রবীন্দ্রসৃষ্ট ধারা পাশ কাটিয়ে কবিতায় যে নতুনতর ধারার সূচনা করেন, তা কালক্রমে আধুনিক বাংলা কবিতায় ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে বলে স্বীকৃত। এ পর্বে বাংলা কবিতার শরীরে যেমন ইউরোপীয় কবিতার প্রভাব স্পষ্ট হয়, তেমনই প্রকরণ-প্রবণতায়ও আমূল পরিবর্তন ঘটে। বাংলা কবিতার চলমান ভাব ‘ঈশ্বরবন্দনা’ থেকে কবিতায় সূচিত হয় ‘মানবতার জয়গান’। যদিও এ ধারা মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ’ মহাকাব্য এবং নজরুলের বিভিন্ন রচনায় স্পষ্ট। তবে সামগ্রিক অর্থে তিরিশে ‘ঈশ্বরবন্দনা’ নির্বাসিত হয় কবিতার মূলস্রোত থেকে। বিষয়বস্তু, ভাব-বর্ণনা, উপমা-চিত্রকল্প, প্রকরণ-সহ তিরিশের কবিতা স্বতন্ত্র বিভা নিয়ে আবির্ভূত হয়। এ ধারা বিনির্মাণে অন্যান্য কবিদের তুলনায় জীবনানন্দ দাশ এগিয়ে রয়েছেন। তিরিশের কাব্যধারা এতই প্রভাবসঞ্চারী যে, একবিংশ শতাব্দীতেও এ ধারা ব্যাপকভাবে চর্চিত, বিশেষ করে জীবনানন্দচর্চা ও তার প্রভাবের বিষয়টি জোর দিয়ে বলা যায়। বিনয় মজুমদার প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন জীবনানন্দের প্রভাব কী অমোঘ হয়ে উঠেছিল তাঁর কাব্যচর্চায়। পাশাপাশি এ-ও বুঝেছিলেন, ‘জীবনানন্দের কবিতা নকল করার মতো ক্ষমতা আমার নেই। জীবনানন্দকে নকল করা এত সহজ ব্যাপার নয়।’ বিনয়ের কবিতায় ‘প্রকৃত প্রস্তাবে’, ‘দৃশ্যত’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার জীবনানন্দের স্বতন্ত্র কাব্যভাষা থেকে আহরিত বলে মনে হওয়াও অসঙ্গত নয়। উভয়ের কবিতা থেকে পাঠ নেওয়া যেতে পারে— ‘…ধূসর ঘোড়া চরিতেছে নদীর কিনারে কোনো এক বিকেলের জাফরান দেশে। কোকিল কুকুর জ্যোৎস্না ধুলো হয়ে গেছে কত ভেসে? মরণের হাত ধরে স্বপ্ন ছাড়া কে বাঁচিতে পারে?’ জীবনানন্দের ‘স্থবির যৌবন’ কবিতাটির এ পর্বের ‘মূল চাবি’ স্বপ্ন। বিকেলে নদীর কিনারে ‘ধূসর ঘোড়া’ রূপক প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি সম্ভবত কুয়াশাকে চিত্রিত করেছেন, যেখানে ‘কোকিল কুকুর জ্যোৎস্না’ ধুলো হয়ে ভেসে গেছে। চিত্রকল্পটি গভীর হতাশাদ্ব্যর্থক হলেও জীবনের একটি বিশেষ সময়ের ব্যঞ্জনা ধরে আছে। আবার মরণের কাছাকাছি এসেও মানুষ যে স্বপ্ন সঙ্গী করে বেঁচে থাকার সাহস পায়, তাও ফুটে ওঠে। জীবনানন্দের এই আশাবাদ যাপিত জীবনেরই পরিপূরক। অপর দিকে, বিনয় মজুমদারের ‘ফিরে এসো, চাকা’র ‘২৯ জুন, ১৯৬২’ সংখ্যক কবিতার একটি পর্বে— ‘কবিতা বুঝিনি আমি; অন্ধকারে একটি জোনাকি যৎসামান্য আলো দেয়, নিরুত্তাপ, কোমল আলোক। এই অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পরে অধিক নীলাভ সেই প্রকৃত আকাশ প’ড়ে আছে এই বোধ সুগভীরে কখন আকৃষ্ট ক’রে নিয়ে যুগ যুগ আমাদের অগ্রসর হয়ে যেতে বলে’। জীবনানন্দের মতো বিনয়ের কবিতাটির গভীরেও রয়েছে প্রবল ‘আশাবাদ’, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়। এছাড়া অন্ধকারে একটি জোনাকির যৎসামান্য নিরুত্তাপ আলোক এবং ‘অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পরে’, ‘প্রকৃত আকাশ’ বলতে কবি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেন। পরিশেষে ‘আমাদের অগ্রসর হয়ে যেতে বলে’ ভাবগত অর্থে জীবনানন্দের স্বপ্নই পুনর্ব্যক্ত করেন। ফলে দু’টি কবিতার বোধগত এবং পাঠগত একই অভিঘাতে স্পন্দিত হন পাঠক।
বিনয়ের কবিতা কোনও অজানা পাঠকের কাছে জীবনানন্দের কবিতা বলে ভ্রম হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। আবার উপমা প্রয়োগের ক্ষেত্রে জীবনানন্দের সঙ্গে বিনয়ের সাদৃশ্য রয়েছে। ‘করুণ চিলের মতো’ উপমা প্রয়োগে জীবনানন্দের কথা স্মরণ করতে হয়। অন্য দিকে, ‘এই অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পরে’, ‘তবু তুমি পৃথিবীতে আছো’র মতো পঙক্তিগুলো জীবনানন্দের পঙক্তির সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। এসব পঙক্তি পাঠকালে একই অভিঘাত সৃষ্টি করে অনুভূতিতে। জীবনানন্দের সাদৃশ্যবাচক এরকম বহু উপমা রয়েছে বিনয়ের কবিতায়। ‘জীবনানন্দের কবিতার সূত্রে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন কবিতার ‘সৌন্দর্যতত্ত্ব’। সেই সৌন্দর্য হচ্ছে এলিমিনেশনের, আলোকচিত্র ধর্মিতার চ্যুতির, চিত্রকল্প, রূপকল্প এবং উপমার ব্যবহার, উপমার বদলে বিকল্প হিসেবে প্রতীকের ব্যবহার, রসাত্মক বাক্য নির্মাণ, কবিতাকে স্মৃতিস্থ করার ব্যবস্থা, গভীরতা, সংযম আর বহুমাত্রিক ভাবের উপস্থিতির। জীবনানন্দ যে স্বতন্ত্র ভাষার স্রষ্টা, তাও বিনয় মজুমদারের দৃষ্টি এড়ায় নি।’ ‘জীবনানন্দের অধিকাংশ কবিতা লিখিত হয়েছে অক্ষরবৃত্তে। আর বিনয় মজুমদার প্রায় সব কবিতা অক্ষরবৃত্তে লিখেছেন। অক্ষরবৃত্তের মাত্রার বাঁট এবং চলনও জীবনানন্দীয় ঘরানার।’ ফলে ছন্দসাম্যের কারণেও দু’জনের কবিতা পাঠে একই ঝোঁক অনুরণন তোলে। আবার জীবনানন্দের কবিতার শান্তরস, অন্তর্মুখীনতা, আঁধার, নির্জনতা, ব্যাপকভাবে প্রবহমান বিনয়ের কবিতায়। কয়েকটি পঙক্তি তুলে ধরলেই এটি স্পষ্ট হতে পারে— জীবনানন্দের পঙক্তি: ‘তবু এই পৃথিবীর সব আলো একদিন নিভে গেলে পরে, পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন, মানুষ র’বে না আর, র’বে শুধু মানুষের স্বপ্ন তখন সেই মুখ আর আমি র’বো সেই স্বপ্নের ভিতরে।’ (স্বপ্ন) ‘আমার বুকের পরে সেই রাতে জমেছে যে শিশিরের জল তুমিও কি চেয়েছিলে শুধু তাই! শুধু তার স্বাদ তোমারে কি শান্তি দেবে! আমি চ’লে যাব তবু জীবন অগাধ তোমারে রাখিবে ধরে সেই দিন পৃথিবীর প’রে; আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য ক’রে!’ (নির্জন স্বাক্ষর) অপর দিকে, বিনয়ের ‘ফিরে এসো, চাকা’র পঙক্তি: ‘চিৎকার আহ্বান নয়, গান গেয়ে ঘুম ভাঙালেও অনেকে বিরক্ত হয়; শঙ্খমালা, তুমি কি হয়েছো? আজ তাই মনে হয়; তবু তুমি পৃথিবীতে আছো।’ (২২ জুন, ১৯৬২) ‘করুণ চিলের মতো সারাদিন, সারাদিন ঘুরি। ব্যথিত সময় যায়, শরীরের আর্তনাদে, যায় জ্যোৎস্নার অনুনয়; হায়, এই আহার্যসন্ধান।’ (৩০ মে, ১৯৬২)
‘বাংলা কবিতা প্রকৃতিসম্ভূত’— বলেছেন কাব্যবোদ্ধারা। সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানবহৃদয়ের ভাব ও উপলব্ধি উদ্বোধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে প্রকৃতি। প্রকৃতির কাছে এসে মানুষ বুঝতে পারে তার সম্ভাবনা, সীমাবদ্ধতা কিংবা প্রমাণ পায় পরিমিতিবোধের। অর্থাৎ প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসেই জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পায় মানুষ। ফলে কবিতায় প্রকৃতির উঠে আসা স্বাভাবিক ঘটনা। জীবনানন্দও বাংলার প্রকৃতি অবলোকনে মোহিত হয়ে সৃষ্টি করেছেন তাঁর অমর কাব্য ‘রূপসী বাংলা’। জীবনানন্দকে ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামেও আখ্যায়িত করা হয়। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ষড়ঋতুর নানা ব্যঞ্জনা চোখে পড়ে। তবে ‘হেমন্ত ঋতু’র সার্থক উপস্থিতি রয়েছে তাঁর কবিতায়। অন্য দিকে, বিনয় মজুমদার লিখেছেন— ‘অঘ্রাণের অনুভূতিমালা’ কাব্য। বিনয় মজুমদার এক সাক্ষাৎকারে ‘অঘ্রানের অনুভূতিমালা’ সম্পর্কে বলেছেন— ‘অঘ্রানের অনুভূতিমালা’র মূল বিষয় ছিলো অঘ্রান মাস, মানে হেমন্ত ঋতু। কবিতাগুলো পড়লে যেন পাঠকের মনে একটা হেমন্তের অনুভব জাগে, এই ছিলো উদ্দেশ্য সে চৈত্র মাসে পড়লেও যেন জাগে, কি বৈশাখ মাসেও।’ বলার অপেক্ষা রাখে না, জীবনানন্দ দাশ প্রবল প্রতাপে উঠে এসেছেন বিনয় মজুমদারের প্রকৃতিদর্শনে, কবিতায়। সাহিত্যে প্রভাবের বিষয়টি ‘ঋণগ্রহণ প্রবণতা’ বলে আখ্যায়িত করেন কাব্য আলোচকরা। কেউ ঋণস্বীকার না করলে তাকে চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত করা যেতে পারে। কিন্তু বিনয় তা করেননি। তিনি অকপট ঋণস্বীকার করেছেন জীবনানন্দের, পাশাপাশি তাঁর আগেও কবিতায় গণিত কিংবা বিজ্ঞানের অনুষঙ্গ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেছেন। যা বিনয়ের সাহিত্যিক সততা হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। সুতরাং, ‘সাহিত্যে ঋণ গ্রহণ করবার ক্ষমতাকে গৌরবের সঙ্গে স্বীকার করা যেতে পারে’। আধুনিক বাংলা কবিতায় অপ্রাপ্তির যন্ত্রণা, সুদূরের আকাঙ্ক্ষা, অকারণ বিষাদময়তা, প্রেমভাবনা, প্রকৃতিচেতনা, বিরহভাবনা-সহ যেসব বৈশিষ্ট্য চিত্রায়িত হয়েছে তা ইংরেজি রোমান্টিক কবিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। রোমান্টিক কবিতার এসব কুললক্ষণ বাংলাভাষাভাষী কবিদের চেতনাতেও গভীর রোমান্টিক ইন্দ্রজাল নির্মাণ করেছে। জীবনানন্দের চেতনায়ও এই লক্ষণ প্রবল, তেমনই এই গাঢ় বেদনার চিত্রায়ণ বিনয়ের কবিতায়। ‘বিনয় মজুমদারের ব্যক্তিগত জীবনে বহু অন্তরঙ্গ বেদনা ও অদ্ভুত ব্যর্থতা ছিল। তাঁর কবিতা অনেকটা ‘শিল্পিত প্রলাপ’ এর মতো। আমাদের অনেকের জীবনেই গোপন ব্যর্থতা বা ব্যর্থতাবোধ আছে। যে কারণে বিনয়ের কবিতা আমাদের নিবিড়ভাবে স্পর্শ করে যায়।’
জীবনানন্দ দাশ আর বিনয়ের মানসিক যন্ত্রণার সাযুজ্য থেকেও এ ধারণা জন্মানো অমূলক নয় যে, বিনয় তাঁর অপ্রাপ্তির যন্ত্রণাকে জীবনানন্দের ধাঁচে ফেলেই কবিতায় রূপ দেওয়ার অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। বিনয়ের কবিতা পাঠে স্পষ্ট যে, তাঁর কবিতার অন্যতম প্রধান বিষয় প্রেমের অচরিতার্থ রূপ ও বিরহের ব্যাপ্তি। যা তাঁর ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে জীবনানন্দের কবিতায়ও নানাভাবে প্রতিভাত হয়েছে বিরহযন্ত্রণা। বিনয়ের ভালবাসা পুঞ্জীভূত গায়ত্রীর জন্য, যাকে তিনি ‘চাকা’ সংকেতে আহ্বান করেছেন আর জীবনানন্দের মানসপটে ‘বনলতা’, ‘আকাশলীনা’, ‘সুরঞ্জনা’ নামে দূরতমার রহস্য ঘনীভূত। জীবনানন্দ বলেন, ‘নারী, শুধু তোমাকে ভালোবেসে/ বুঝেছি নিখিল বিষ কী রকম মধুর হতে পারে।’ আর বিনয়ের উচ্চারণ, ‘আমি এতদিনে চিনেছি কেবল/ অপর ক্ষমতাময়ী হাত দুটি ক্ষিপ্র হাত দুটি/ ক্ষণিক নিস্তারলাভে একা একা ব্যর্থ বারিপাত’। এভাবে কবিতা পরম্পরায় উভয়ের উপলব্ধি আর চেতনার যোগসূত্র স্থাপিত হতে দেখা যায়। তবে পরবর্তীতে বিনয় তাঁর কবিতায় স্বকীয় দর্শন, নৈঃসঙ্গ্য, হতাশা ও ব্যর্থতার রূপায়ণে ভিন্নমাত্রা সংযোজন করতে সমর্থ হন। একজন কবি মূলত সমাজের অগ্রসর চিন্তার মানুষ এবং অতিমাত্রায় সংবেদনশীল। সমাজের যে-কোনও পরিবর্তন, অভিঘাত সবার আগে স্পর্শ করে কবিকে। একজন কবি তাঁর চিন্তা-দর্শন, অভিজ্ঞতা পাঠকের মননে সঞ্চালন করতে চান, তেমনই পাঠকও মিলিয়ে নিতে চেষ্টা করেন কবির সঙ্গে তার চিন্তার যোগসূত্র। বলা যায় কবিতার মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে কবির সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ঘটে। সমাজ-রাষ্ট্র, প্রকৃতি-পরিবেশের নানা বিবর্তন-পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তার পরিকাঠামোতে যে পরিবর্তন ঘটে তা কবি পরম্পরায় সঞ্চারিত হতেই পারে। আবার তা চেতন-অবচেতন উভয় প্রক্রিয়ায়ই ঘটতে পারে। ফলে অগ্রজ কবির প্রভাবে অনুজ কবিরা প্রভাবিত হলেও তা সর্বক্ষেত্রে দোষের বিবেচনা করা হয় না। কবিতা ভুঁইফোঁড় বা অতিপ্রাকৃত কোনও বস্তু নয়। একজন প্রকৃত কবি জীবন ও প্রকৃতি সেঁচেই এই রস আহরণ করেন, আর তাতে মেশান প্রাচ্য-প্রতীচ্যের ভাবনা। জীবনানন্দ পাঠেও একই চিত্রের প্রতিফলন ঘটে। ফলে যাপিত জীবনের নানামাত্রিক ছায়া কবিতায় চিত্রিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। কবিতার ধারাবাহিক পাঠে একজন কবির চিন্তাক্ষেত্র উর্বর হয়, ফলে একজন প্রকৃত কবিই পারেন নিজের কবিতায় এর সফল রূপায়ণে, যা পেরেছিলেন বিনয় মজুমদার। পাশাপাশি, কবিতায় গাণিতিক সূত্র প্রয়োগ করে তিনি জীবনানন্দের কবিতার সম্প্রসারিত আধুনিক রূপের সৃষ্টি করেছেন বলেও মনে করা যেতে পারে।

চিত্র: গুগল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + 12 =

Recent Posts

আবু রাইহান

আবু রাইহানের বিশেষ নিবন্ধ

জীবনানন্দ থেকে বিনয় আ বু  রা ই হা ন বিশ্বের সব দেশের সাহিত্যকর্মে অগ্রজদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় সূক্ষ্মতম মাধ্যম কবিতায়

Read More »
অমিতাভ ভট্টাচার্য

অমিতাভ ভট্টাচার্যের প্রবন্ধ

একদিকে আমাদের ঐতিহ্য— ব্রহ্ম সৎ না অসৎ, এক না অনেক, চিৎ না অচিৎ সে নিয়ে তুমুল তক্কবিতক্ক, জগৎ মায়া বা শূন্য কি না সে নিয়ে বিবাদ-বিসংবাদ, তাল ঢিপ করিয়া পড়ে না পড়িয়া ঢিপ করে তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ। আবার অন্য দিকে, ভারতেই প্রথম শূন্য আবিষ্কার হয়েছিল, তুলো থেকে সুতো তৈরি হয়েছিল, আহ্নিক গতির ধারণার জন্ম হয়েছিল। সম সময়ের তুলনায় ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্র বেশ উন্নত ছিল। চরক ও সুশ্রুত সংহিতা তার প্রমাণ।

Read More »
রুহ

রুহের বিশেষ নিবন্ধ

বিশিষ্ট গবেষক, যুক্তিবাদী নিরঞ্জন ধর তাঁর ‘বিবেকানন্দ: অন্য চোখে’ বইতে লিখছেন— ‘বিবেকানন্দ স্বভাব সন্ন্যাসী ছিলেন না, ছিলেন অভাব সন্ন্যাসী।’ ফলত ওই গেরুয়া পোশাকের মধ্য দিয়েই উঁকি দিত তাঁর ভোগবাদী মন। নিবেদিতার মতো আর এক অনুরাগী ইসাবেলাকে তিনি চিঠিতে লিখছেন— ‘কিছু একটা করে দেখাও। মাদ্রাজে আমার জন্য একটা গৃহ নির্মাণ করতে না পারো তো আমি থাকব কোথায়?’ বিদেশ থেকেই আর এক চিঠিতে লিখছেন— ‘গতকাল ১৩ ডলার দিয়ে একটা মীরশ্যাম পাইপ* কিনেছি। ফাদার পোপকে যেন আবার বোলো না। কোটের দাম পড়বে ৩০ ডলার। আমি বেশ ভালই আছি। খাবার দাবার জুটছে, যথেষ্ট টাকাকড়িও। আগামী বক্তৃতাগুলো হয়ে গেলে ব্যাঙ্কে কিছু রাখতে পারব আশাকরি।’

Read More »
শুভ্র মুখোপাধ্যায়

শুভ্র মুখোপাধ্যায়ের বিশেষ প্রতিবেদন

আঞ্চলিক জীববৈচিত্রের সুরক্ষা শু ভ্র  মু খো পা ধ্যা য় প্রতিদিনের জীবনে একসঙ্গে জড়িয়ে থাকা অজস্র জীব আমাদের জীবনযাত্রার সহযাত্রী। চারপাশের এই জীববৈচিত্র প্রতিনিয়ত আমাদের

Read More »
সোমা দত্ত

সোমা দত্তের প্রবন্ধ

পিতৃতন্ত্র আসলে নারীপুরুষ নিরপেক্ষ গঠনতন্ত্র। দেবতা বা দেবী যেই হোন, ক্ষমতার কেন্দ্রে নারী বা পুরুষ যে কেউ থাকুক না কেন, তার প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্যই এর মূল বিষয়। গুরুশিষ্য পরম্পরাও আসলে এই গঠনতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্যই নির্মিত। যৌনতা এক্ষেত্রে ভোগের বিষয়, ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যবহৃত। শাস্ত্রীয় নৃত্য সুচারু উপায়ে এই অভিপ্রায় পূর্ণ করে চলেছে দীর্ঘকাল ধরে। প্রেমের উদযাপন না, কামের পরিতৃপ্তি এর লক্ষ্য।

Read More »
নন্দিনী কর চন্দ

নন্দিনী কর চন্দের বিশেষ প্রতিবেদন

বৌদ্ধধর্মে ধ্যান ন ন্দি নী  ক র  চ ন্দ ধ‍্যান হল মনকে শান্ত ও একাগ্রতার সাথে মনোনিবেশ করার একটি বিশেষ অনুশীলন। এর মাধ‍্যমে আবেগীয় স্থিতিশীলতা

Read More »