Search
Generic filters
Search
Generic filters
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ইয়ং বেঙ্গল এবং স্ত্রীশিক্ষা

উনিশ শতকে আধুনিক প্রগতিশীল পাশ্চাত্য ধ্যানধারণার প্রসারের পর আগুয়ান বাঙালি অনেকগুলি বহাল সামাজিক প্রথাকে মনে করল অচল। তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে জনমত গঠনের পাশাপাশি তাই দেখা গেল সেসব বাতিলের সক্রিয় প্রচেষ্টা। এ ব্যাপারে অবশ্য তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য চাওয়া ছিল দস্তুর। এ ছাড়া দেশীয় সমাজব্যবস্থার জড়ত্ব যে ঘোচানো সম্ভব নয়— তা নিজেদের বাস্তব বুদ্ধি দিয়ে বুঝেছিলেন তাঁরা। প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে এভাবেই লড়েছিল বাংলার ক্ষুদ্র প্রগতিশীল সম্প্রদায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিদেশি সরকারের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল দ্বান্দ্বিক— ব্রিটিশ বৈষম্যনীতি সম্পর্কে সচেতন হলেও সমাজসংস্কারের জন্যে তাঁরা অনেকখানি নির্ভর করলেন সরকারের ওপর।
উনিশ শতকের প্রায় সবক’টি সামাজিক সমস্যা নিয়ে ভেবেছিলেন রামমোহন। বলা চলে, মুক্তমনা বাঙালির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি তিনিই নির্দিষ্ট করে দেন। সে-পথেই হাঁটেন ইয়ং বেঙ্গল ও বিদ্যাসাগর। নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি স্ত্রীশিক্ষার জন্যে আন্দোলন এমনই একটি ক্ষেত্র। সহমরণ বিষয় প্রবর্ত্তক ও নিবর্ত্তকের দ্বিতীয় সম্বাদ (১৮১৯)-এ স্ত্রীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন রামমোহন। এমনকি, প্রাচীনকালের সেই চালু রীতি যে সমকালে অবলুপ্ত— তা-ও তিনি উল্লেখ করেন সেখানে। তর্কর এই নির্দিষ্ট ধারা পরবর্তীকালে স্ত্রীশিক্ষার স্বার্থে হয়ে উঠল প্রধান হাতিয়ার। নিজেদের দরকারমত অতীতকে ব্যবহার ছিল প্রগতিশীল বাঙালির লড়াইয়ের পরিচিত কৌশল।
বাঙালি মেয়েদের শিক্ষাদানে মিশনারিরা অবশ্য রামমোহনের সময়েই তৎপর হয়েছিলেন। প্রথমে ‘ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি’ (১৮১৯), পরে ‘লেডিজ সোসাইটি’ (১৮২৪) আর ‘লেডিজ অ্যাসোসিয়েশন’ (১৮২৫)-র মত সংগঠন বেশ কয়েকটি অবৈতনিক স্কুল খোলে কলকাতায়; চার্চকে এ ব্যাপারে নানাভাবে সাহায্যও করেন রাধাকান্ত দেব আর বৈদ্যনাথ রায়। এমনকি, সে-উদ্যোগে সামিল হয়ে গৌরমোহন বিদ্যালঙ্কার লেখেন স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক (১৮২২)— যেখানে স্ত্রীশিক্ষাকে প্রাচীন রীতি-সম্মত বলার পাশাপাশি সাম্প্রতিককালের বেশ কিছু বিদুষী মহিলার দৃষ্টান্ত দেওয়া হল। সেটির বর্ধিত তৃতীয় সংস্করণে (১৮২৪) স্ত্রীশিক্ষার বিভিন্ন সুবিধে আর তা নিয়ে চলতি কিছু কুসংস্কার খণ্ডন করলেন গৌরমোহন। একইসঙ্গে শিক্ষার সুফল বোঝাতে তিনি আনলেন ইংরেজ মহিলাদের প্রসঙ্গ। অন্যদিকে, স্ত্রীশিক্ষার ব্যাপারে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরাও পিছিয়ে থাকলেন না। তবে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সরাসরি যোগ থাকায় সম্ভ্রান্ত হিন্দু ঘরের মেয়েদের এই প্রকল্পে সামিল করতে পারেনি চার্চ। স্কুলগুলিও বন্ধ হয়ে যায় ধীরে ধীরে।
স্ত্রীশিক্ষাকে অ-ধর্মীয় সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলার কৃতিত্ব ইয়ং বেঙ্গলের। মানবিক ও যুক্তিনির্ভর শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ডিরোজিওর ছাত্ররা বুঝেছিলেন, নারী-পুরুষের সমানাধিকার অত্যন্ত জরুরি। তাই যেসব সামাজিক রীতির জন্যে নারীর জীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছিল, মানুষ হিসেবে তাদের সম্ভাব্য বিকাশ স্তব্ধ হয়েছিল— সেসবের সমালোচনা নিয়মিত জায়গা পেল ইয়ং বেঙ্গলের আলোচনা আর লেখাজোখায়। পারথেনন (১৮৩০)-এর প্রথম সংখ্যায় (গোঁড়া হিন্দুদের বিরোধিতায় আর কোনও সংখ্যা বেরয়নি) হিন্দুদের মূর্তিপুজো ও অন্যান্য কুসংস্কারের নিন্দে ছাড়াও স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্যে হিন্দু কলেজের তরুণ ছাত্ররা সওয়াল করলেন। সে-প্রসঙ্গ ফিরে এল জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১)-এর ডিসেম্বর ১৮৩৭ সংখ্যার এক নিবন্ধে:
জগদীশ্বর স্ত্রীপুরুষ নির্মাণ করিয়া এমত মনে করেন নাই যে একজন অন্যজনের দাস হইবে কিম্বা একজন অন্যকে নীচ বলিয়া গণ্য করিবেক।… স্ত্রীলোকেরদিগকে অবশ্য মানুষ বলিয়া গণনা করিতে হইবেক ইহারা সর্বতোভাবে পুরুষের সঙ্গে সমান।… কিন্তু যদ্যপি আমরা অনুমান করি, যে বিদ্যা দ্বারা মনের দৃঢ়তা ও মতের বিচক্ষণতা এবং ন্যায়-অন্যায়ের যথার্থ বোধ জন্মে তদ্দ্বারা আমারদিগের সুখ্যাতি ও অখ্যাতি হয় ইহা জানিয়া শুনিয়া আমরা স্ত্রীলোকেরদিগকে এবিষয়ে বঞ্চিত করিয়া রাখি তবে এজন্য আমরা দোষী আছি।… আমরা স্পষ্ট কহিতেছি বিদ্যা দ্বারা কখন মন্দ ফল জন্মে না ও ইহাতে কদাচ পরস্পরের বিচ্ছেদ করে না!
মনে রাখার ব্যাপার, রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে ইয়ং বেঙ্গলের আপসহীন লড়াই চলল অবিরাম; সীমিত পরিসরে হলেও বিভিন্ন পত্রিকা আর সভা-সমিতি মারফত গড়ে উঠল একটি আন্দোলন। রামমোহন লড়েছিলেন একা; ইয়ং বেঙ্গলের বেলায় দেখা গেল দলগত প্রতিরোধ। লক্ষ্য এক হলেও সদস্যদের আলাদা-আলাদা বিষয় নিয়ে ভাবনার (এমনকি, একই বিষয় ভিন্ন মত) জন্যে সার্বিকভাবে ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন আরও ব্যাপক হল।
সত্যর খাতিরে বলা দরকার, শুধু ইয়ং বেঙ্গল নয়, সামগ্রিকভাবে শিক্ষিত বাঙালির মধ্যেই তখন স্ত্রীশিক্ষা নিয়ে দাবি উঠেছিল। রামমোহনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রসন্নকুমার ঠাকুর (১৮০১-৮৬)-এর সম্পাদনায় ১৮৩৩-এ রিফরমার (১৮৩১)-এ বেরল সে-বিষয় একাধিক চিঠি আর সম্পাদকীয় মন্তব্য। যুক্তি আর মানবিক আবেদনের পাশাপাশি সেখানে পত্রলেখকরা তুলে ধরলেন স্ত্রীশিক্ষার নানা ব্যবহারিক উপযোগিতা— যেমন শৈশবে সন্তানকে শিক্ষাদান। রাধাকান্ত দেব আর রামকমল সেনের মত প্রসন্নকুমারও ছিলেন গোঁড়া হিন্দু। হিন্দু কলেজ থেকে ডিরোজিওকে বরখাস্তর পেছনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অথচ তিনিই আবার রিফরমার-এ স্ত্রীশিক্ষা সহ অন্যান্য ব্যাপারে নারীর বিকাশে তৎপর হলেন। তাঁর কন্যা ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত প্রথম বাঙালি নারী। উনিশ শতকের বহু বাঙালির মধ্যেই এমন বৈপরীত্য ছিল। ভুললে চলবে না, বাংলায় আধুনিকতার জন্ম হয় ঔপনিবেশিক পরিবেশে— বাইরে থেকে আসা ধ্যানধারণার ভিত্তিতে। ইওরোপের মত জৈবিকভাবে বুর্জোয়া শ্রেণি গড়ে ওঠেনি এখানে। স্বাভাবিক যে, এই পরিস্থিতিতে পুরনো ও নতুন মতাদর্শর মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেবে।
আগেই বলেছি, রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনে নেমেছিলেন ইয়ং বেঙ্গলের সদস্যরা। কিন্তু খেয়াল করার ব্যাপার, সময়ের সঙ্গে নতুন-নতুন সমিতি গঠন আর ইংরেজি-বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করলেও মোটের ওপর তাঁদের চিন্তা আর কাজের জগৎ ছিল আগাগোড়া নির্দিষ্ট। পুরনো বিষয়গুলি বারবার তাঁদের কথা ও/ বা লেখায় ফিরে এসেছে ঠিকই, কিন্তু নিছক পুনরাবৃত্তির বদলে সেখানে নজরে আসে চিন্তার পরিপক্কতা। ‘সাধারণ জ্ঞানোপার্জিকা সভা’ (১৮৩৮-১৯৪৩)-র মাসিক ভাষণগুলি (পরে নির্বাচিত বক্তৃতাগুলি তিন খণ্ডে ছাপা হয়) থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় ততদিনে বিভিন্ন আপাত সম্পর্কহীন সমস্যাকে যুক্ত করতে শিখেছেন তাঁরা। এর পেছনে রয়েছে নিজেদের অখণ্ড বিশ্ববীক্ষা সম্পর্কে বাড়তে-থাকা ধারণা। তাই ১৮৩৯-এ বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহ আর বিধবার সমস্যা সমাধানে স্ত্রীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুললেন মহেশচন্দ্র দেব। অন্যদিকে, নাগরিক ও সামাজিক সংস্কারের জন্যে নিরলস সংগ্রামের প্রস্তাব দিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য: অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তিশীল ও উদারমনস্কদের এগোতে হবে নানা বাধা পেরিয়ে; বিদেশী দরদি ব্যক্তি/ সংগঠনের ওপর ভরসার পরিবর্তে আস্থা রাখতে হবে নিজেদেরই ওপর। অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনার পর স্ত্রীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে নানা তাত্ত্বিক যুক্তি এলো কৃষ্ণমোহনের ভাষণে। এমনকি, শিক্ষিত মা যে সন্তানের শিক্ষায় সাহায্য করবেন— তা-ও মনে করালেন তিনি। একইসঙ্গে কৃষ্ণমোহন জানালেন, স্ত্রীশিক্ষার বাস্তব রূপায়ণে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি— ফাঁক থেকে গেছে চিন্তা আর কাজের মধ্যে। বোঝা যায়, স্রেফ বৌদ্ধিক চর্চা নয়, সমাজে চাক্ষুষ পরিবর্তন দেখতে চাইছিলেন কৃষ্ণমোহন ও অন্যান্য ইয়ং বেঙ্গল সদস্যরা।
স্ত্রীশিক্ষা সহ নারী-সমস্যা সম্বন্ধে কৃষ্ণমোহনের সার্বিক চিন্তাভাবনা অবশ্য পাওয়া যাবে তাঁর দীর্ঘ প্রবন্ধ, ‘এ প্রাইজ এসে অন নেটিভ ফিমেল এডুকেশন’ (১৮৪০)-এ।১০ ভারতীয় নারীর শিক্ষা নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলেন বরোদার ক্যাপ্টেন জেমসন। সেই উপলক্ষ্যে লেখা কৃষ্ণমোহনের প্রবন্ধটি পায় প্রথম পুরস্কার। দেখার বিষয়, নারী-সমস্যার উৎস খুঁজতে গিয়ে সেখানে প্রাচীন ভারতের সামাজিক বিধিনিষেধকে দায়ী করলেন তিনি। বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে নমুনা দিয়ে কৃষ্ণমোহন বললেন, ভারতে বরাবরই পুরুষের চেয়ে নারীর কদর কম। পুত্রর জন্মর পর মা আঁতুরঘরে থাকেন তিন সপ্তাহ অথচ কন্যার বেলায় একমাস; পুত্র জন্মানোর ছ’দিনে তার মঙ্গল কামনায় ষষ্ঠী পুজোর রেওয়াজ থাকলেও কন্যার ক্ষেত্রে তা হয় না। একই ব্যাপার দেখা যায় শিক্ষার সময়— পাঁচ বছর বয়েসে সরস্বতী বন্দনা সমেত ছেলের লেখাপড়া শুরু হয়, কিন্তু মেয়েকে নিয়ে শাস্ত্র বিলকুল চুপ। এছাড়া, শূদ্র ও নারীর বেদ, এমনকি, বেদাঙ্গচর্চাও নিষিদ্ধ ছিল; প্রাকৃতেই তাঁদের ভরসা রাখতে হত। কৃষ্ণমোহন এও মনে করালেন, লীলাবতী ও মৈত্রেয়ী (যাঁদের দোহাই দিয়ে প্রাচীন ভারতে নারীর মর্যাদা প্রমাণের চেষ্টা চলে) আদতে ব্যতিক্রমী। শুধু শিক্ষা নয়, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারী যে দমনপীড়ণের শিকার, তা বোঝাতে বাল্য, গান্ধর্ব ও রাক্ষসবিবাহ তো বটেই, এমনকি স্বয়ম্বরার প্রসঙ্গও আনা হল। পাশাপাশি ‘অসূর্যস্পর্শ্যা’ শব্দ দিয়ে কৃষ্ণমোহন তুলে ধরলেন প্রাচীন ভারতে নারীর সীমাবদ্ধ জীবনযাপনের করুণ কাহিনি। পরে মুসলমান আমলে এই প্রথা আরও জোরদার হয়েছিল। এছাড়া, বহুবিবাহ আর বিধবার অশেষ ভোগান্তি বিশদে আলোচনা করলেন কৃষ্ণমোহন, বোঝলেন কীভাবে হিন্দু শাস্ত্রর জাঁতাকলে পড়ে তাঁর সমকালেও নারীর দুর্দশা আগের মতই বহাল আছে। তাই স্রেফ ঐতিহাসিক বিচার নয়, দরকার প্রতিকার।
সন্তান লালনপালন, স্বামীকে বৌদ্ধিক সাহচর্য আর দুঃসময় নিজেকে রক্ষা— উপযুক্ত শিক্ষা এভাবেই পাল্টাতে পারে বাঙালি নারীর নিজের ও তার পরিবারের জীবন। কিন্তু সে-পথ মোটেই মসৃণ নয়; কুসংস্কার ও ধর্মানুশাসন পেরিয়ে সামাজিক পরিবর্তন ঘটানো রীতিমত দুষ্কর। কৃষ্ণমোহনের তাই মনে হল, তৎকালীন পরিস্থিতিতে কোনও সম্ভ্রান্ত হিন্দুর অন্দরমহলে একসঙ্গে বেশ কিছু মেয়ের লেখাপড়া শুরু হলে সুদিন আসবে। সে-দায়িত্ব নিতে পারেন এক ইওরোপীয় শিক্ষিকা। এছাড়া, যত বেশি পুরুষ পাশ্চাত্য শিক্ষায় দীক্ষিত হবে ততই বিস্তার পাবে মেয়েদের শিক্ষা। স্বাভাবিক যে, নিজেদের স্ত্রী-কন্যার শিক্ষা চাইবে তারা। মিশনারি স্কুল খোলা অথবা সামগ্রিকভাবে সরকারের সচেতন প্রকল্পর কথাও বলতে ভুললেন না কৃষ্ণমোহন। তাঁর মতে ভারতে ইংরেজ শাসন ছিল এক আশীর্বাদ, আফগান-মোঘল আমলে চেয়ে তা ঢের ভাল। তবে একথাও ঠিক, কিছু বিষয় (যেমন শিক্ষিত ভারতীয়দের উচ্চ প্রশাসনিক পদে নিযুক্ত না-করা) নিয়ে কৃষ্ণমোহনের ক্ষোভ ছিল যথেষ্ট।
ব্রিটিশদের সংস্পর্শে এসে বোঝা গেছিল, ভারতীয় নারীর তুলনায় শিক্ষা-সংস্কৃতিতে ইওরোপীয় মহিলারা অনেকখানি এগিয়ে। কৃষ্ণমোহনের প্রত্যয় জাগল, যেহেতু বাইবেল-এ পুরুষের সঙ্গীরূপে নারীর জন্ম হয় (একইসঙ্গে বলা হয় তারা একে অপরের থেকে অবিচ্ছেদ্য) সেইহেতু পাশ্চাত্যে কখনওই নারী অবহেলিত নয়। লক্ষ্য করার বিষয়, কৃষ্ণমোহন সমগ্র ব্যাপারটি দেখলেন ধর্মর নিরিখে। তাঁর মনে হল খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলে বাঙালি তথা ভারতীয় সমাজেও আমূল পরিবর্তন হবে। যে ধর্মীয় অনুশাসন প্রগতির পথে প্রধান সমস্যা, তা মিটে যাবে অনায়াসে। মনে রাখা দরকার, কৃষ্ণমোহন নিজে খ্রিস্টান হয়েছিলেন ১৮৩২-এ। তাঁর স্বাদেশিকতার সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা (হিন্দু ধর্ম)-র কোনও সম্পর্ক ছিল না। বলা চলে, ধর্মর নিরিখে স্বদেশপ্রেমের বিচার করা যে ঠিক নয়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ কৃষ্ণমোহন। হিন্দু ধর্মর সংস্কারের পথে না-গিয়ে, তিনি চেয়েছিলেন খ্রিস্টধর্ম হোক বাঙালি সমাজের মুক্তির উপায়।
মজার ব্যাপার, কৃষ্ণমোহনের প্রবন্ধর জবাবে ১২ জানুয়ারি ১৮৪২-এ সাধারণ জ্ঞানোপার্জিকা সভায় একটি ভাষণ দিলেন প্যারীচাঁদ মিত্র।১১ ইতিমধ্যে তিনি প্রাচীন ভারতের সভ্যতা নিয়ে বেশ কিছু বইপত্র পড়েছেন; কয়েকবার সে-বিষয়ে আলোচনাও করেছেন। ইতিহাসচর্চায় প্যারীচাঁদের প্রধান সহায় ছিল ইওরোপীয় প্রাচ্যবিদদের গবেষণা। সেসবের ভরসায় আর অন্যান্যদের (তারাচাঁদ চক্রবর্তী ও মুক্তারাম বিদ্যাবাগীশ) দেওয়া তথ্যর সাহায্যে এবার নিজের বন্ধুর মত খণ্ডনে নামলেন তিনি। দেখার ব্যাপার, কৃষ্ণমোহনের মতো প্যারীচাঁদও আন্তরিকভাবে স্ত্রীশিক্ষার প্রসার চাইতেন, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহর বিপক্ষে আর বিধবাবিবাহর পক্ষে লড়তেন। কিন্তু প্রাচীন ভারত সম্বন্ধে কৃষ্ণমোহনের বিশ্লেষণ তিনি মানতে পারেননি। তাই শিষ্টাচার বজায় রেখে প্যারীচাঁদ তাঁর যাবতীয় যুক্তি মেলে ধরলেন নিজের বক্তব্যে। বোঝা যায়, লক্ষ্য আর জ্ঞানচর্চায় ইয়ং বেঙ্গলের সদস্যরা ছিলেন সর্বদা আপসহীন। মতের অমিল হলেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকত অটুট। অন্যদিকে, প্যারীচাঁদের দুটি মন্তব্যকে কৃষ্ণমোহন তাঁর প্রবন্ধর দ্বিতীয় সংস্করণ (১৮৪৮)-এর পাদটীকায় দু’বার স্বীকৃতি দিয়েছেন; সেখানে তাঁকে বন্ধু বলে তিনি সম্বোধন করেছেন।১২
সূতিকাগৃহে জননীর থাকার মেয়াদ আর ষষ্ঠী পুজোর উল্লেখ করে পুত্রর তুলনায় কন্যার মূল্য নেহাত মামুলি— তা বুঝিয়েছিলেন কৃষ্ণমোহন। একইভাবে শাস্ত্রবচন দিয়ে প্যারীচাঁদ বললেন, কন্যা নয়, পুত্র জন্মানোর পর পিতার স্নান অবশ্য কর্তব্য; উপনয়ন বাদে পুত্র-কন্যা দুজনের বেলায়ই সব আচার-অনুষ্ঠান পালনীয়। প্রাচীনকালে যে মেয়েদের শিক্ষাকে ছেলেদের সমান মর্যাদা দেওয়া হত, তা জানাতে প্যারীচাঁদ উদ্ধার করলেন মহানির্বাণ তন্ত্র-র শ্লোক (অষ্টম উল্লাস, শ্লোক ৪৭): ‘কন্যাপ্যেবং পালনীয়া শিক্ষণীয়াতিযত্নতঃ।’
শুধু লীলাবতী আর মৈত্রেয়ী নন, প্যারীচাঁদ তুলে ধরলেন কালীদাস ও কর্ণাট রাজার স্ত্রী, গার্গী, খনা প্রমুখের কীর্তি। একইসঙ্গে নাট্যসাহিত্য বিচারের পর তাঁর সিদ্ধান্ত: যেহেতু মহিলাদের জনসংযোগের মাধ্যম ছিল প্রাকৃত সেইহেতু বলা যায় না যে, তাঁদের সংস্কৃতচর্চায় অধিকার নেই। এছাড়া, বেদ আর বেদাঙ্গর মধ্যে স্পষ্ট রেখা টানলেন প্যারীচাঁদ। অন্যদিকে, বাল্যবিবাহর প্রাচীন রীতির যৌক্তিকতা খুঁজতে তিনি যেমন ভারতের আবহাওয়াকে দায়ী করলেন তেমনি স্বয়ম্বরার পাশে হাজির ধাত্রীকে উপদেষ্টা হিসেবে ধরলেন। এও দেখার, প্রাচীনযুগে নারী বদ্ধ জীবনে অভ্যস্ত ছিল— এ কথা প্যারীচাঁদ মানতে রাজি হননি। মিতাক্ষরা, মনুসংহিতা, মহাভারত, রামায়ণ, বিষ্ণুপুরাণ ইত্যাদির প্রসঙ্গ আনার পাশাপাশি নিজস্ব মত প্রতিষ্ঠার জন্যে প্যারীচাঁদ উপস্থাপন করেছেন বিভিন্ন ঐতিহাসিক বয়ানও। তাঁর প্রতিপাদ্য: মুসলমান যুগের আগে যথেষ্ট স্বাধীন ছিল ভারতীয় নারীর জীবনযাত্রা।
প্রাচীন ভারতের গৌরবময় অতীতে প্যারীচাঁদ কোনও সীমাবদ্ধতা খুঁজে পাননি— এমন অবশ্য নয়। বাল্যবিবাহর বয়েস তাঁর মতে ছিল নেহাতই কম। প্যারীচাঁদ এও উপলব্ধি করেছিলেন, অনেকগুলি প্রতিক্রিয়াশীল নিয়মাবলি পরবর্তীকালে চালু হয় (যেমন ষষ্ঠী পুজো আর বহুবিবাহ)। বোঝা যায়, তিনি ভারতীয় ইতিহাসকে শাশ্বত নয়, বরং দেখেছিলেন সময়ের ভিত্তিতে। তাই নানা যুগে ও প্রয়োজনে লেখা শাস্ত্রবচন যে পরস্পরবিরোধী হবে— এ তো স্বাভাবিক। প্যারীচাঁদ ছিলেন আদ্যোপান্ত একজন আধুনিক চিন্তাবিদ।
ইওরোপীয় সভ্যতাকে নিখুঁত মনে করেন কৃষ্ণমোহন; ভারতকে সেই পর্যায় তুলতে আগ্রহী হন তিনি। কিন্তু প্যারীচাঁদ দেখালেন, পাশ্চাত্য সমাজেও খামতি ছিল যথেষ্ট। প্রাচীন গ্রিসে নারীদের জীবন কাটত অন্দরমহলে; শিক্ষা থেকে তারা ছিলেন বঞ্চিত। প্রাচীন রোমেও মহিলার স্থান ছিল পুরুষের অনেক নীচে; তাকে সর্বদা থাকতে হত পুরুষের তত্ত্বাবধানে। এছাড়া, শুধু প্রাচীনকাল নয়, আধুনিক যুগের ইংল্যান্ডেও নারীকে সবসময়ে পুরুষের সমান মনে করা হয়নি। তাই প্রাচীন ভারতে নারী-পুরুষের বৈষম্য থাকা অস্বাভাবিক নয়— এমনই প্যারীচাঁদের ধারণা।
গোঁড়া হিন্দু সমাজের হাত থেকে রেহাই পেতে খ্রিস্টান হয়েছিলেন কৃষ্ণমোহন। তিনি ভেবেছিলেন, প্রতিক্রিয়াশীল বাঙালি হিন্দু সমাজ থেকে মুক্তির একমাত্র স্থায়ী পথ হল খ্রিস্টধর্ম। সেই সূত্রেই এসেছিল প্রাচীন ভারত সম্বন্ধে তাঁর নানা বিরূপ মন্তব্য। উল্টোদিকে, প্যারীচাঁদ তুলে ধরলেন হিন্দুদের উজ্জ্বল অতীত; সেই নিরিখে চারপাশের আমূল সংস্কার করতে সকলকে প্রেরণা যোগালেন। স্বাদেশিকতা যে কৃষ্ণমোহন ও প্যারীচাঁদের চালিকা শক্তি ছিল— তা সহজেই বোঝা যায়।
স্ত্রীশিক্ষার প্রসারে বরাবর বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চেয়েছেন ইয়ং বেঙ্গলের সদস্যরা। তা প্রথম ঘটল ১৮৪৭-এ যখন নানা বাধা ঠেলে প্যারীচরণ সরকার আর কালীকৃষ্ণ মিত্রর উদ্যোগে বারাসতে প্রতিষ্ঠিত হল মেয়েদের স্কুল। তার পরে ১৮৪৯-এ, যখন একই ভাবনা নিয়ে নর্মান বেথুন এগিয়ে এলেন তখন রামগোপাল ঘোষ যোগালেন সাহায্যর হাত। ‘ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল’-এ বাংলায় অ-ধর্মীয় লেখাপড়া শুরু হল দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের বাগানবাড়িতে। ১৮৫০-এ এখনকার জায়গায় স্কুলের (১৮৫১-য় বেথুন-এর মৃত্যুর পর ‘বেথুন স্কুল’) নতুন ভবন উঠল; স্ত্রীশিক্ষা নিয়ে সর্ব্বশুভকরী পত্রিকা-য় লিখলেন মদনমোহন তর্কালঙ্কার। সেখানে আবার ফিরে এল সবক’টি বিরোধী প্রশ্নর উপযুক্ত পুরনো জবাব।১৩ বিদ্যাসাগর স্কুলের সাম্মানিক সম্পাদক হলেন সেই সময়। দূর থেকে ছাত্রীদের আনার জন্যে বেথুন যে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করেছিলেন, তার পাশে বিদ্যাসাগর লিখে দিলেন মহানির্বাণ তন্ত্র-র সেই শ্লোক যা আট বছর আগে ব্যবহার করেন প্যারীচাঁদ মিত্র। কুড়ি বছর আগে পারথেনন-এ ইয়ং বেঙ্গলের সদস্যরা যে আন্দোলন শুরু করেন, তা এভাবেই বাস্তব রূপ পেল। অন্যদের সহায়তায় অক্লান্ত লড়াইয়ের মাধ্যমে তাঁরা বাংলায় নিয়ে এলেন নতুন যুগ।

টীকা
১ রামমোহন রায়, রামমোহন রচনাবলী, হরফ প্রকাশনী, ১৯৭৩, পৃ ২০২ দ্র.।
২ স্ত্রীশিক্ষা নিয়ে নানা খবরাখবরের জন্যে ইন্দ্রমিত্র, করুণাসাগর বিদ্যাসাগর, আনন্দ, ২০১৬, পৃ ১৮১-২০৩; বিনয় ঘোষ, বিদ্যাসাগর ও বাঙালী সমাজ, ওরিয়েন্ট লংম্যান, ১৯৯৯, পৃ ২১১-২৩৮ দ্র.।
৩ চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে প্রবন্ধটি লেখেন স্বয়ং রাধাকান্ত দেব। চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিদ্যাসাগর, আনন্দধারা প্রকাশন, ১৩৭৬ ব., পৃ. ১৬২-৬৩ দ্র.।
৪ ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পা., সংবাদ পত্রে সেকালের কথা, প্রথম খণ্ড (১৮১৮-১৮৩০), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, ১৩৪৭ ব., পৃ. ১৩-১৪ দ্র.।
৫ Gautam Chattopadhyay, ed., Bengal: Early Nineteenth Century (Selected Documents), Calcutta: Research India Publications, 1978, p. vi দ্র.।
৬ শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়, ‘বিদ্যাসাগর ও ইয়ং বেঙ্গল’, সংবর্তক, বিদ্যাসাগর বিশেষ সংখ্যা, জানুয়ারি ২০২০, পৃ. ২২১ দ্র.।
৭ Gautam Chattopadhyay, ed., টীকা ৫, pp. 143-160 দ্র.।
৮ Gautam Chattopadhyay, Awakening in Bengal in Early Nineteenth Century (Selected Documents), Calcutta: Progressive Publishers, 1965, p. 105 দ্র.।
৯ ঐ, pp. 182-198 দ্র.।
১০ K M Banerjea, A Prize Essay on Native Female Education, Calcutta: R C Lepage & Co. British Library, 1848 দ্র.।
১১ Gautam Chattopadhyay, ed. টীকা ৮, pp. 273-297; Peary Chand Mittra, State of Hindoostan under the Hindoos, Radiance, 2018, pp. 129-151 দ্র.।
১২ K M Banerjea, টীকা ১০, p. 14, 15 দ্র.।
১৩ ইন্দ্রমিত্র, টীকা ২, পৃ ১৮৯-৯৭ দ্র.।

চিত্রণ : চিন্ময় মুখোপাধ্যায়
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

Recent Posts

সাবিনা ইয়াসমিন

শিলং ঘোরা

নদীর মাঝখানে একটা মস্ত পাথরের চাঁই। তারপরে সিলেট, বাংলাদেশের শুরু। কোনও বেড়া নেই। প্রকৃতি নিজে দাঁড়িয়ে দুই পারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

পয়লা আষাঢ় বলতে অবধারিতভাবে যে কবিকে মনে না এসে পারে না, তিনি হলেন মহাকবি কালিদাস। তিনি তাঁর ‘মেঘদূত’ কাব্যে পয়লা আষাঢ়কে অমরত্ব দিয়ে গেছেন।

Read More »
উত্তম মাহাত

কল্পোত্তমের দুটি কবিতা

দশাধিক বছরের সূর্যোদয় মনে রেখে/ শিখেছি সংযম, শিখেছি হিসেব,/ কতটা দূরত্ব বজায় রাখলে শোনা যায়/ তোমার গুনগুন। দেখা যায়/
বাতাসের দোলায় সরে যাওয়া পাতার ফাঁকে/ জেগে ওঠা তোমার কৎবেল।// দৃষ্টি ফেরাও, পলাশের ফুলের মতো/ ফুটিয়ে রেখে অগুনতি কুঁড়ি/ দৃষ্টি ফেরাও সুগভীর খাতে/ বুঝিয়ে দাও/ তোমার স্পর্শ ছাড়া অসম্পূর্ণ আমার হাঁটাহাঁটি।

Read More »
মলয়চন্দন মুখোপাধ্যায়

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: অনন্যতাসমূহ

বিভূতিভূষণ, বনফুল, সতীনাথ ভাদুড়ীর মতো তিনিও ডায়েরি লিখতেন। এ ডায়েরি অন্য এক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে এনে দাঁড় করায়। মদ্যাসক্ত মানিক হাসপাতালে লুকিয়ে রাখছেন মদের বোতল। ডাক্তার-নার্সকে লুকিয়ে মদ খাচ্ছেন। আর বাঁচার আকুলতায় মার্ক্সবাদী মানিক কালীর নাম জপ করছেন! তবু যদি শেষরক্ষা হত! মধুসূদন ও ঋত্বিক যেমন, ঠিক তেমন করেই অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর অকালমৃত্যু ডেকে আনল!

Read More »
মধুপর্ণা বসু

মধুপর্ণা বসুর দুটি কবিতা

ভয় পেলে ভয়ংকর সত্যি ধারালো ছুরির মতো/ খুব সন্তর্পণে এফোঁড়ওফোঁড় তবুও অদৃশ্য ক্ষত,/ ছিঁড়ে ফেলে মধ্যদিনের ভাতকাপড়ে এলাহি ঘুম/ দিন মাস বছরের বেহিসেবি অতিক্রান্ত নিঃঝুম।/ গণনা থাক, শুধু বয়ে চলে যাওয়া স্রোতের মুখে/ কোনদিন এর উত্তর প্রকাশ্যে গাঁথা হবে জনসম্মুখে।/ ততক্ষণে তারাদের সাথে বুড়ি চাঁদ ডুবেছে এখন,/ খুঁজে নিতে পারঙ্গম দুদণ্ড লজ্জাহীন সহবাস মন।

Read More »
নন্দদুলাল চট্টোপাধ্যায়

ছোটগল্প: জমির বিষ

বিষয় মানেই বিষ। তালুকেরও হুল ছিল। বছরে দু’বার খাজনা দিতে হতো। আশ্বিন মাসে দুশ’ টাকা আর চত্তির মাসে শেষ কিস্তি আরো দুশ’ টাকা। এই চারশ’ টাকা খাজনার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। সে বছর বাবার ভীষণ অসুখ। বাতে একদম পঙ্গু, শয্যাশায়ী। অসুস্থ হয়ে জমিদারের ছুটি মিলল। কিন্তু খাজনা জমা দেবার ছুটি ছিল না। চত্তির মাসের শেষ তারিখে টাকা জমা না পড়লেই সম্পত্তি নিলাম হয়ে যেত।

Read More »